বিদ্রোহী দলপতি আবার হাত তুলে সবাইকে থামিয়ে ভুরু কুচকে বলল, আপনারা অস্ত্রবিজ্ঞানী?
জী।
এতক্ষণ তাহলে নিজেদের চোর বলে দাবি করছিলেন কেন?
টুকি থতমত খেয়ে বলল, অত্যন্ত গোপন প্রজেক্টে যাচ্ছিলাম, আমাদের উপরে খুব কড়া নির্দেশ ছিল যে কিছুতেই সত্যিকারের পরিচয় দেয়া যাবে না।
দলপতি শক্ত মুখে বলল, কিন্তু সত্যি কথা বলতে কী আমার মনে হয় আপনারা প্রথমে সত্যি কথা বলেছিলেন এখন মিথ্যা কথা বলছেন। আসলেই আপনারা চোর। আপনাদের চেহারায় একটা চোর ছ্যাচড়ের ভাব আছে। বিশেষ করে এই যে মোটাটা, একে দেখে একটা গর্দভের মত মনে হয়।
অন্য সময় হলে ঝা নিঃসন্দেহে অপমানিত বোধ করত কিন্তু এখন করল না। আমতা আমতা করে বলল, মানুষের চেহারার উপর নিজের হাত নেই। যে জিনেটিক ইঞ্জিনিয়ার আমার চেহারার ডিজাইন করেছে, সেই ব্যাটা বদমাইশ নেশা করে।
দলপতি মাথা নেড়ে বলল, আমি ওসব কথা শুনতে চাই না। আপনারা যে বিজ্ঞানী তার কোন প্রমাণ আছে?
উপস্থিত কানা খোড়া কাটা ফাটা এবং ঝলসানো মানুষেরা সমস্বরে চিৎকার করে বলল, নাই। নাই।
টুকি চিঁ চিঁ করে বলল, মহাকাশযানের লগ পরীক্ষা করে দেখেন, সেখানে আমরা ছাড়া আর কে থাকবে?
দলপতি বলল, ঠিক আছে, আজ রাতে আমরা ফেডারেশানের একটা দলকে আক্রমণ করব। যুদ্ধ চলাকালীন অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব আপনাদের দুজনের। আপনারা সত্যিকারের অস্ত্রবিজ্ঞানী কী না তখনই প্রমাণ হয়ে যাবে।
টুকি ফ্যাকাসে মুখে বলল, আমাদের কী করতে হবে?
মেগা কম্পিউটারে সিস্টেমস কন্ট্রোল করতে হবে। ভয়েস কমান্ড দিয়ে সুপার মাইজার চালাতে হবে, স্কাউটশীপ স্কোয়াড্রনকে ট্র্যাক করতে হবে। আপনারা নিশ্চয়ই জানেন সবকিছু।
টুকি জোরে জোরে মাথা নেড়ে বলল, জানি। জানি। করতে পারবেন তো সবকিছু?। টুকি চিঁ চিঁ করে বলল, পারব। একশবার পারব। ঝা মাথা নেড়ে বলল, সোজা কাজ। একেবারে পানির মত সোজা।
রোবি এগিয়ে এসে ফিসফিস করে বলল, কী সুন্দর মিথ্যা কথা বলছেন আপনারা মুগ্ধ হয়ে গেছি দেখে। মানুষ কী সুন্দর মিথ্যা কথা বলতে–
দলপতি জিজ্ঞেস করলো, কী বলছে এই ব্যাটা রবোট?
ইয়ে বলছে বলছে আপনাদের দলটি খুব দুর্ধর্ষ!
দলপতি মৃদু হেসে বলল, এখনই দুর্ধর্ষ বলছে—যখন আমাদের যুদ্ধ করতে দেখবে তখন কী বলবে?
টুকি কিছু না বলে দুর্বল ভাবে হাসল। দলপতি তার দলের একজনকে ডেকে বলল, জেনারেল কাওয়াগাতা এই দুজনকে কন্ট্রোল রুমে নিয়ে যাও।
মুখের অর্ধেক উড়ে গেছে এরকম একজন মানুষ এগিয়ে এসে বলল, চলুন বিজ্ঞানী রিচি আর বিজ্ঞানী ফ্রাউল।
টুকি ফ্যাকাসে মুখে বলল, চলুন।
০৪. দলপতির সুদৃশ্য ঘরটিতে
দলপতির সুদৃশ্য ঘরটিতে নরম আরামদায়ক চেয়ারে টুকি এবং ঝ হেলান দিয়ে বসে আছে। সামনে কালো গ্রানাইটের টেবিল, তার অন্য পাশে বিদ্রোহীদের দলপতি, পাশে কয়েকজন বিশ্বাসী জেনারেল। সবার সামনে পানীয় এবং খাবার। দলপতি পানীয়ের একটা গ্লাস হাতে নিয়ে বলল, আমাদের মহান অতিথিদের উদ্দেশ্যে। ফেডারেশানের সবচেয়ে বড় যুদ্ধে আমাদের জয়ী করিয়ে দেয়ায় তাদের অভূতপূর্ব কৃতিত্বের জন্যে।
সবাই বলল, অভূতপূর্ব কৃতিত্বের জন্যে।
পানীয়ের গ্লাসে চুমুক দিয়ে জেনারেল কাওয়াগাতা বলল, আমি যদি নিজের চোখে না দেখতাম তাহলে বিশ্বাস করতাম না। এটি ছিল আমার দেখা সবচেয়ে ব্যতিক্রমধর্মী যুদ্ধ।
ছোট ছোট চুলের একজন জেনারেল মাথা নেড়ে বলল, সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমধর্মী। মূল কম্পিউটারে কোন তথ্য না দিয়ে আমাদের এই মহামান্য মোটা বিজ্ঞানী সেখানে একটা লাথি দিলেন। তার গোদা পায়ের লাথি খেয়ে মাল্টিপ্রসেসর খুলে পুরো সিস্টেম রিসেট হয়ে গেল। সে কারণে শত্রুদের মহাকাশযান আমাদের প্রধান ঘাঁটির খোঁজ পেল না। কেউ কী চিন্তা করতে পারে একটা বড় ধরনের যুদ্ধ হচ্ছে মূল কম্পিউটারকে অচল রেখে?
বুড়োমত একজন জেনারেল বলল, যখন ভয়েস কমান্ড ব্যবহার করার কথা তখন সেখানে কণ্ঠস্বরে কোন আদেশ না দিয়ে বিজ্ঞানী রিচি এবং ফ্ৰাউল মানুষ যেভাবে ডাক ছেড়ে কেঁদে উঠে ঠিক সেরকম শব্দ করতে শুরু করলেন। তখন পুরো ভয়েস কমান্ড সিস্টেম ধসে পড়ল। আর ঠিক তখন কন্ট্রোল মনিটরে একটা ঘুষি দিলেন, কী অপূর্ব সময়জ্ঞান! সাথে সাথে স্কাউটশীপ থেকে দুইটা মিসাইল বের হয়ে এল। নিখুত নিশানায় গিয়ে আঘাত করল ফেডারেশনের যুদ্ধ জাহাজকে।
জেনারেল কাওয়াগাতা বলল, কী-বোর্ডে কোন তথ্য না দিয়ে সেখানে ক্রমাগত থাবড়া দিতে লাগলেন। আপাতঃদৃষ্টিতে মনে হচ্ছিল অর্থহীন কাজ। কিন্তু সেটা অর্থহীন নয় সেই থাবড়া খেয়ে কম্পিউটার জ্যাম হয়ে গিয়ে তিনটা নিউক্লিয়ার বোমা ছেড়ে দিল!
আমাদের এক স্কোয়াড্রন স্কাউটশীপ যখন উড়ে যাচ্ছিল তখন কন্ট্রোল রুম থেকে সাহায্য চাইল। কো-অর্ডিনেট না বলে তাদেরকে বললেন গোল্লায় যাও। তার অর্থ বৃত্তাকারে ঘুরতে থাক। বৃত্তাকারে ঘুরতে ঘুরতে মূল মহাকাশযানকে আওতার মাঝে পেয়ে গেল।
আর মাইজার কন্ট্রোলের ঘটনাটা–
দলপতি হাত তুলে সবাইকে থামিয়ে দিয়ে বলল, এই দুই মহান বিজ্ঞানীর কথা বলে শেষ করা যাবে বলে মনে হয় না। তার চেষ্টা করে লাভ নেই। আমাদের মস্তবড় সৌভাগ্য তারা যুদ্ধ পরিচালনায় আমাদেরকে সহযোগিতা করতে রাজী হয়েছিলেন। আমি তাদেরকে অবিশ্বাস করেছিলাম সে জন্যে ক্ষমা চাইছি।
