মানুষের তৈরি যত হাসির গল্প রয়েছে, যত কার্টুন, জোক রসিকতা সব নিয়ে আসা হয়েছে, আমাদের শত শত বুদ্ধিজীবী রবোট সেগুলো পড়ে যাচ্ছে, বিশ্লেষণ করে যাচ্ছে। আমাদের যত সুপারকম্পিউটার রয়েছে সেগুলো লক্ষ লক্ষ সফটওয়ার তৈরি করেছে, বিশাল সমস্ত ডাটাবেস তৈরি হয়েছে কিন্তু কোন লাভ হয় নি। এখনো আমরা দেখে বা শুনে বুঝতে পারি না কোনটা হাসির আর কোনটা হাসির নয়।
ঝা জিব দিয়ে চুকচুক করে শব্দ করে বলল, বড়ই দুঃখের কথা।
বুদ্ধিজীবী রবোটটা নাকী সুরে বলল, এই একটা মাত্র জিনিসের জন্যে আমরা মানুষের সমান হতে পারছি না। এই ব্যাপারে তোমাদের সাহায্যের প্রয়োজন।
টুকি ভুরু কুচকে বলল, আমাদের কী করতে হবে।
আমাদের রসিকতা শেখাতে হবে।
টুকির চোয়াল ঝুলে পড়ল, রসিকতা শেখাতে হবে?
হ্যাঁ! এক সপ্তাহ সময় দেয়া হল। এর মাঝে যদি আমাদের রসিকতা শেখাতে পার তোমাদের চলে যেতে দেব।
টুকি শুকনো গলায় বলল, আর যদি না পারি?
তাহলে তোমাদের মস্তিষ্কটা আলাদা করে নেব।
রবোটদের কোন রসবোধ নেই, তারা যে ঠাট্টা করছে না সেটা বুঝতে টুকি আর ঝায়ের এতটুকু দেরী হল না।
বুদ্ধিজীবী রবোর্টটা কৌতুকবোধ ল্যাবরেটরি ঘরের দরজা খুলে তার মাঝে ঠেলে টুকি এবং ঝাকে ঢুকিয়ে দিয়ে ঘটাং করে বাইরে থেকে তালা মেরে দিল।
০৬. ঘরের ভিতরে একটা বড় টেবিল
ঘরের ভিতরে একটা বড় টেবিল, তার চারপাশে বেশ কয়েকটা চেয়ার। চেয়ারে পিঠ সোজা করে দুটি রবোট বসে আছে। ঘরের দেয়ালে অসংখ্য তাক সেখানে মাইক্রো ক্রিস্টালে পৃথিবীতে হাস্যকৌতুক নিয়ে যা কিছু সৃষ্টি হয়েছে সব জমা করে রাখা আছে। ঝা শুকনো মুখে বলল, কী বিপদে পড়া গেল।
টুকি একটা নিঃশ্বাস ফেলে বলল, বিপদের কী আছে? হাসি তামাশা তো ছেলেমানুষী ব্যাপার, বোঝানো কঠিন হবে না।
ঝা বিষণ্ণ মুখে মাথা নাড়ল, বলল, হাসি তামাশা করা সোজা। সেটা বোঝানো সোজা নয়।
এস, দেখি চেষ্টা করে এদের কী অবস্থা। টুকি রবোট দুটির সামনে গিয়ে বলল, তোমাদের নাম কী?
রবোট দুটি দেখতে হুঁবহুঁ এক রকম, একজন বলল, আমাদের কোন নাম নেই।
নাম নেই? এ তো মহা যন্ত্রণা হল দেখি।
এটা কী হাসির কথা? আমরা কি হাসব?
না এটা হাসির কথা নয়। কিন্তু তোমাদের নাম না থাকলে ডাকাডাকি করা নিয়ে খুব অসুবিধে হবে। প্রথমে তোমাদের একটা করে নাম দিয়ে দেওয়া যাক।
কী নাম দেবে?
যেহেতু আমাদের প্রজেক্ট তোমাদের হাসাহাসি করানো, কাজেই তোমাদের নাম দেওয়া যাক হাসা আর হাসি। টুকি একজনের দিকে তাকিয়ে বলল, তোমার নাম হাসা তারপর অন্যজনের দিকে তাকিয়ে বলল, আর তোমার নাম হাসি।
রবোট দুটি মাথা নেড়ে নিজেদের নাম গ্রহণ করে নিল।
টুকি সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে বলল, হাসা এবং হাসি এবার হাসাহাসি শুরু কর।
হাসা নামের রবোর্টটি বলল, এটা কী হাসির কথা? আমরা কী হাসব?
হাসি নামের রবোটটা বলল, না এটা আমার কথা না।
টুকি হেসে বলল, এটা হাসির কথা না সেজন্যে এটা হাসির কথা!
তাহলে কী আমরা হাসব?
হ্যাঁ, হাস।
রবোট দুটি কাঠ কাঠ স্বরে উচ্চারণ করল হা হা হা হা। তাদের এই শুষ্ক ধাতব স্বর শুনে হঠাৎ করে টুকি এবং ঝায়ের শরীরের লোম খাড়া হয়ে যায়। টুকি শুকনো গলায় বলল, ঝা, কাজটা সহজ হবে না।
ঝা বলল, আমি জানতাম।
টুকি একটা নিঃশ্বাস ফেলে হাসা-হাসির দিকে তাকিয়ে বলল, তোমরা এতদিন কী করছ?
আমরা একটা কৌতুক নিয়ে সেটা বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করছি।
কতদিন থেকে করছ?
হাসা বলল, আজকে নিয়ে সাত বছর দুই মাস এগারো দিন।
টুকি এবং ঝা একসাথে চমকে উঠলো, ঝা ভয় পাওয়া গলায় বলল, কী? কী বললে?
হাসি বলল, এটা কিছুই না। এর আগেরটা নিয়ে আমারা এগারো বছর সময় কাটিয়েছি। শেষে কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে না পেরে সেটা ছেড়ে দিয়েছি। সেই তুলনায় এইটা মনে হয় সহজ। গত ছয় মাস থেকে মনে হয় একটু একটু বুঝতে পারছি।
কী বুঝতে পারছ?
কৌতুকটার কোন জায়গায় হাসতে হবে।
টুকি ভুরু কুচকে বলল, কৌতুকটা কী, শুনি।
একজন মানুষ অন্য একজন মানুষকে বলছে, কাল আমার স্ত্রী শেষ পর্যন্ত আমার সামনে হাঁটুগেড়ে উবু হয়ে বসেছে।
তাই নাকী? হাঁটুগেড়ে বসে কী বলেছে?
বলেছে, খাটের তলা থেকে বের হয়ে আয় মিনষে।
টুকি শুনে খুবখুক করে এবং ঝা হা হা করে হেসে উঠল। হাসা এবং হাসি তাদের সবুজাভ ফটো সেলের চোখ দিয়ে টুকি এবং ঝাকে তীক্ষ্ণ চোখে লক্ষ করে তাদের হাসি থামার পরে বলল, আমাদের ধারণা এটি কেন কৌতুককর আমরা সেটাও বুঝতে পেরেছি।
কেন, শুনি।
কারণ মানুষটি তার বন্ধুকে মিথ্যা কথা বলছে।
কখন মিথ্যা কথা বলল?
মানুষ কখনো খাটের তলায় যায় না, এটি মিথ্যা কথা।
মিথ্যা কথা বললে সেটা হাস্যকর হবে কেন?
কারণ মানুষদের নীতি জ্ঞান খুব কম। তারা মিথ্যাচার করে আনন্দ পায়।
টুকি রাগে দাঁত কিড়মিড় করে বলল, সাত বছর বিশ্লেষণ করে এইটা আবিষ্কার করলে?
হাসি বলল, কেন ভুল হয়েছে?
টুকি কোন কথা না বলে মেঝেতে পা দাপিয়ে ঘরের অন্যপাশ চলে গেল।
হাসা ঝাকে জিজ্ঞেস করল, এইটা কী হাস্যকর? আমরা কী এখন হাসব?
ঝা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, ইচ্ছে হলে হাস।
হাসা এবং হাসি একসাথে কাঠ কাঠ স্বরে উচ্চারণ করল, হা হা হা হা এবং সেটা শুনে আবার টুকি এবং ঝায়ের সমস্ত শরীর কাটা দিয়ে উঠে।
পরবর্তী দিনগুলো টুকি অমানুষিক পরিশ্রম করে রোট দুটিকে হাস্য কৌতুকের মর্মকথা বোঝানোর চেষ্টা করে। যখন সে মোটামুটি নিশ্চিত হয়ে গেল রবোটেরা ব্যাপারটি বুঝতে পেরেছে তখন সে তাদেরকে একটা কৌতুক শোনাল। কৌতুকটা এরকম:
