বায়োলজি শিক্ষক একটা কাবাব চিমটা দিয়ে ধরে বলল, এই যে ব্যঙটা দেখছ এটা এখন আমরা কাটব।
ছাত্রছাত্রীরা বলল, স্যার, এটা তো ব্যঙ নয়, এটা কাবাব।
স্যার চোখ কপালে তুলে বললেন, তাহলে আমি নাস্তা করলাম কী খেয়ে
কৌতুকটা শুনে হাসা এবং হাসি হা হা করে হেসে উঠে এবং সেটা দেখে টুকি বেশ উৎসাহ অনুভব করল। জিজ্ঞেস করল, বল দেখি কোন জায়গাটা হাসির?
হাসা বলল, খুব সহজ। যখন শিক্ষক বলল, তাহলে আমি কী খেয়ে নাস্তা করলাম?
টুকির চোখ উজ্জ্বল হয়ে উঠলো, বলল, ঠিক ধরেছ। হাসি তুমি এখন বল, কেন এই কথাটা হাসির।
কারণ শিক্ষক দুইটা কাবাব এনেছিল। একটা দিয়ে নাস্তা করেছে আর দু নম্বরটা চিমটা ধরে ছাত্রছাত্রীদেরকে দেখিয়েছে।
টুকির চোয়াল স্কুলে পড়ল। কোনমতে বলল, আর ব্যঙটা?
সেটা লাফ দিয়ে জানালা দিয়ে বের হয়ে গেছে। হা হা হা।
টুকি এবং ঝা খুব মন মরা হয়ে এক বেলা কাটিয়ে দিল। সময় শেষ হয়ে আসছে, যদি তারা রবোটগুলোকে হাস্য কৌতুক শেখাতে না পারে আক্ষরিক অর্থেই তাদের মাথা কাটা যাবে।
পরের তিনদিন টুকি আবার খাওয়া ঘুম ছেড়ে রবোটগুলোর পিছনে লেগে রইল। ঝা-ও সাহায্য করতে চাইছিল কিন্তু টুকি ঝাকে এত গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারে ঠিক বিশ্বাস করতে পারল না বলে কাছে ঘেষতে দিল না। মানুষ কেন হাসে, কেন হাসা উচিত, কোথায় কোথায় হাসা যায় এই সব বিষয় নিয়ে কথা বলল, উদাহরণ দিল নিজে নেচে কুদে অভিনয় করে দেখাল এবং সব শেষ করে আবার তাদেরকে একটা কৌতুক শোনাল। এবারের কৌতুকটা এরকম :
একজন এক পায়ে লাল অন্য পায়ে সবুজ মোজা পরে এসেছে। বন্ধু জিজ্ঞেস করল, কী হল দুই পায়ে দুরকম মোজা কেন?
কী করব বল। বাসায় আরো এক জোড়া মোজা আছে সেটাও এরকম।
কৌতুকটা শুনে রবোট দুটি অনেক জোরে জোরে হাসতে শুরু করল। টুকি একটু আশান্বিত হয়ে বলল, বল দেখি এই কৌতুকটা কেন হাসির?।
হাসা বলল, এটা বলা তো খুবই সোজা। মানুষটার বোকামী নিয়ে হাসা হচ্ছে।
টুকি হাতে কিল দিয়ে বলল, ঠিক বলেছে। এবারে বল দেখি বোকামীটা কী?
মানুষটার বুদ্ধি কম। বাজারে গিয়ে প্রত্যেকবারই দুই রংয়ের দুইটা মোজা কিনে ফেলে।
টুকি আবার তার মাথায় হাত দিয়ে বসে পড়ল। তার এতদিনের পরিশ্রম পুরোটাই বৃথা গেছে সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। আর মাত্র একটি দিন বাকি, গত ছয়দিনে যাকে এতটুকু শেখানো যায়নি সে বাকি একদিনে পুরোটুকু শিখে নেবে এটা আশা করা ঠিক নয়। টুকি তবু আশা ছাড়ল না, খাওয়া দাওয়া ছেড়ে সে রবোট দুটির পিছনে লেগে রইল, তাদের সে হাস্য কৌতুকের মর্মকথা বুঝিয়েই ছাড়বে। একটানা আঠারো ঘণ্টা পরিশ্রম করে সে হাসা এবং হাসিকে জিজ্ঞেস করল, এখন বুঝতে পেরেছ?
রবোট দুটি মাথা নাড়ল। বলল, পেরেছি। একেবারে পরিষ্কার হয়ে গেছে।
চমৎকার! টুকি আশা নিয়ে বলল, এবারে তাহলে পরীক্ষা করা যাক। একটা কৌতুক বলি : একজন আরেকজনকে জিজ্ঞেস করল, তোমার কুকুরটা নাকি এত বুদ্ধিমান যে তোমাদের সাথে তাশ খেলে! মানুষটা উত্তর দিল, বুদ্ধিমান না কচু! হাতে টেক্কা পড়লেই খুশীতে লেজ নাড়তে থাকে আর আমরা বুঝে ফেলি কী পেয়েছে!
হাসা এবং হাসি জোরে জোরে হাসতে শুরু করল। টুকি ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করল, এবার বল তো, কেন এটা হাসির?
খুবই সহজ। মানুষ ভাবছে কুকুরটা বুদ্ধিমান আসলে নেহায়েৎই বোকা! টেক্কা পেলেই লেজ নাড়ানো ঠিক নয়।
টুকি ফ্যাকাশে মুখে বিশাল এক দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, আমাদের জীবন এখানেই শেষ ঝা। এক সপ্তাহ চেষ্টা করে কোন লাভ হল না। গবেট রবোটগুলো গবেটই রয়ে গেল।
ঝা বলল, আমি একটু চেষ্টা করে দেখব?
দেখতে চাইলে দেখ, কী লাভ হবে আমি জানি না।
ঝা হাসা এবং হাসির দিকে এগিয়ে গিয়ে বলল, পৃথিবীতে হাসির জিনিসগুলো কী জান?
হাসা এবং হাসি দ্বিধান্বিত ভাবে বলল, জানি না।
ঝা এক গাল হেসে বলল, ঠিক বলেছ, আসলে কেউই জানে না। তাই কী করতে হয় জান?
কী?
যেটা দেখবে সেটা দেখেই হাসবে। একজন মানুষকে যদি দেখ মোটা হি হি করে হেসে বলবে মানুষটা কী মোটা! যদি দেখ শুকনো তাহলে হি হি করে হেসে বলবে, মানুষটা কী রোগা! রাগী মানুষকে দেখে হাসবে কারণ সে রাগী, হাসি খুশী মানুষকে দেখে হাসবে কারণ সে হাসিখুশী!
সত্যি?
একশভাগ সত্যি। এন্ড্রোমিডার কসম। হি হি হি করে হাসবে, হা হা হা করে হাসবে হো হো হো করে হাসবে, খিক খিক খিক করে হাসবে–খক খক খক করে হাসবে, খিল খিল খিল করে হাসবে—হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাবে।
এমনিতেই? কোন কারণ ছাড়া?
হ্যাঁ। এমনিতেই। কোন কারণ ছাড়া।
সত্যি?
সত্যি। হাসি পেলেও হাসবে, হাসি না পেলেও হাসবে। হাসির মত ভাল জিনিস এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে কিছু নেই। কোন কিছুকেই গুরুত্ব দিয়ে নেবে না, এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে গুরুতর কিছু নেই, সব কিছু নিয়ে হাসা যায়। যে যত বেশি হাসে তার তত আনন্দ! নাও শুরু কর।
হাসা এবং হাসি হাসতে শুরু করল, প্রথমে টুকির শুকনো শরীর দেখে হাসল, তারপর তার গোমড়া মুখ দেখে হাসল, ঝাকে দেখে হাসল—তার বিশাল শরীর দেখে হেসে গড়িয়ে পড়ল। ঠিক তখন দরজা খুলে গেল, বুদ্ধিজীবী রবোটগুলো হাস্য কৌতুকের কাজ কতটুকু অগ্রসর হয়েছে দেখতে এসেছে। বিশাল মাথা এবং লিকলিকে শরীর নিয়ে কোন মতে তাল সামলে দাঁড়িয়ে থাকা বুদ্ধিজীবী রবোটদের দেখে হাসা এবং হাসি অট্টহাসি দিতে শুরু করে, একে অন্যকে ধরে তারা হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খেতে থাকে। তারা একে অন্যকে দেখে হাসতে থাকে, হাসতে হাসতে তারা কাশতে থাকে, এবং কাশতে কাশতে তাদের চোখে পানি এসে যায়।
