এখনও পাটনা মেডিক্যাল কলেজে গেলে দেখবেন যে সদর দরজায় সশস্ত্র সান্ত্রীরা অত্যাধুনিক অটোমেটিক রাইফেল হাতে সতর্ক চোখে পাহারা দিচ্ছে, একসঙ্গে অনেক মহিলা ঢুকলে কড়াকড়িটা কিছু বেশিই হয়। এখন আপনি যদি সেই রাতের ঘটনার সঙ্গে এই সতর্ক সাবধানী এন্ট্রি চেকিং এর কোনও কার্যকারণ খুঁজতে চান তো আমি নাচার!
পুরুষ মাত্রেরই বুড়ো হওয়ার দোরগোড়ায় এসে ছ্যেঁকছোঁকানি বেড়ে যায়, এ কথা সর্বনারীবিদিত। কথাটা প্রথম শুনি আমার মেজদির এক বান্ধবীর কাছে। এখানে বলে রাখা ভালো যে আমার বড় হয়ে ওঠাটা সম্পূর্ণ নারীবেষ্টিত, পাঁচজন দিদি আর তিনটি বোনের মধ্যে একমাত্র ভাই হিসেবে বেড়ে উঠলে যা হয়। সেই থেকে মেয়েলি আড্ডা, মেয়েলি কূটকচালি (কথাটা সম্পূর্ণ ভুল। পরনিন্দা পরচর্চায় ছেলেদের উৎসাহ কিছুমাত্র কম না, এ আমি হলফ করে বলতে পারি) এসবে আমার তুমুল উৎসাহ। মেজদির সেই বান্ধবী স্পষ্টই বলেছিলেন যে বাসে ট্রামে যারা মেয়েদের সঙ্গে অসভ্যতা করে তাদের বেশীরভাগই আধবুড়ো পুরুষ। বরং ইয়ং ছেলেপিলেরা তুলনায় অনেক ভদ্র ব্যবহার করে। কথাটা খুব সম্ভবত সত্যি। আমার দেখা যে কটি নারীঘটিত কর্পো-কেলেঙ্কারি আছে, তার সব কটিতেই টপ লেভেলের পঞ্চাশোর্ধ বসেদের নবযৌবনসুলভ ছল্লিবল্লি দেখে কম আমোদ পাইনি। তবে যেটা স্বীকার না করলে নেহাত অন্যায় হবে, সেটা হচ্ছে যে এর প্রতিটি কেসে উল্টোদিকে যে মহিলাটি ছিলেন, এসবের মধ্যে তাঁরও অবদান কিছু কম ছিলো না। কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের অনেকবারই এক্সপ্লয়েটেড হতে দেখেছি, নারীলোভী দাপুটে বসের নির্লজ্জ হিংস্র যৌন আগ্রাসনও দেখেছি। কিন্তু যেখানে পারস্পরিক সম্মতিতে অবাধ লীলাখেলা চলছে সেখানে কেবল একপক্ষকে দায়ী করাটা বোধহয় ঠিক নয়।
কর্পো লাইফে ইন্টুমিন্টু নিয়ে তিনটে প্রায় প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা আছে। বারো বছর হয়ে গেলো , এই হাটে করেকম্মে খাচ্ছি। এই তিনটেই দেখলুম। অন্য ইন্ডাস্ট্রির ব্যাপারে জানি না বললেই চলে।
কর্পো লাইফে তিন ধরনের ইয়ে চলে, (১) বসের সংগে, এক্সট্রা সুবিধার বিনিময়ে (২) যৌন হেনস্থা (৩) বহুদিন একসংগে কাজ করতে করতে এক্সট্রা সখ্য গড়ে ওঠে। কখনোসখনো সেটা একটু বেএক্তিয়ার হয়ে পড়ে। প্রেমের ফাঁদ পাতা ভুবনে, কখন কে.. ইত্যাদি ইত্যাদি। ইহাদিগকে আমরা অফিস স্পাউস বলিয়া থাকি।
১. যে কম্পানির কথা বলছি, তখন সে কম্পানি আমি ছেড়ে দিয়েছি। আমারই এক বন্ধু ইস্টে রিজিওনাল ম্যানেজার হয়ে এসেছে। কম্পানি ছাড়লে কি হবে, সেলস অনেকটা আর্মির মতন, ওয়ান্স আ কমান্ডার, অলওয়েজ আ কমান্ডার। তা আমার টিমের লোকজন মাঝেমাঝেই ফোন করে আমার খোঁজখবর নিতো। আমি একদিন জিজ্ঞেস করলুম, নতুন আর এস এম চালাচ্ছে কি রকম? ওপারে যিনি ছিলেন, তিনি খ্যাঁক করে হেসে বললেন, ‘অফিসটা পুরো মধু বৃন্দাবন হয়ে গেলো স্যার’। কেচ্ছাকাহিনী শুনতে আমার চিরকালই হেবি ইন্টারেস্ট। সোৎসাহে বল্লুম ”বল বল, বেশ গুছিয়ে বল তো বাপু”।
খবরে শুনলুম সেই লতুন লতুন রিজিওনাল ম্যানেজারের সঙ্গে নাকি রিজিওনাল এইচ আর এক্সিকিউটিভ বংগললনাটির ভাবভালোবাসা একটু অতিরিক্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। বক্তার দাবি, সে ও তার সংগীরা নাকি একাধিকবার মহিলাটিকে ম্যানেজারের কেবিনে বসে রিজিওনাল ম্যানেজারকে হামি খেতে দেখেছে। যথারীতি আমি গুল বলে উড়িয়ে দিই। তারপর শোনা গেলো সমস্ত আউটস্টেশন মার্কেট ভিজিটে নাকি এইচ আর না গেলে চলছেই না, যদিও সেলস ভিজিটে এইচ আরের কোন কাজই নেই। খবরে আরও প্রকাশ, প্রায়ই নাকি বিভিন্ন হোটেলে রুম বুক করে দুই জনের মধ্যে অত্যন্ত দুরূহ স্ট্র্যাটেজিক আলোচনা চলছে সারাদিন ধরে। মাঝেমাঝে সারা রাত ধরেও!
পাপ আর পেরেম গোপন থাকেনা, ওপন হতে বাইধ্য। ভদ্রমহিলা শেষে স্যাবাটিকাল নিতে বাধ্য হন। এখন ইউ এস এতে বরের কোলে হামি খাচ্ছেন বোধহয়। রিজিওনাল ম্যানেজারটিকে ট্রান্সফার করা হয়।
২. আমার প্রাক্তন কম্পানি, কেভিনকেয়ার। চার বছর আগে যখন জয়েন করি, এক দোর্দণ্ডপ্রতাপ এইচ আর হেড ছিলেন। সেলস বা মার্কেটিং হেডরা অব্ধি তাকে সমঝে চলতেন। ভদ্রলোক খুবই কাজের লোক ছিলেন সন্দেহ নেই। হঠাত একদিন শুনি তিনি নেই!! না না, দেহ রাখেননি, রেজিগনেশন লেটার রেখেছেন! কি ব্যাপার, চারিদিকে তীব্র কৌতূহল। কিন্তু টপ ম্যানেজাররা সব্বাই মুখ বুজে মৌনীবাবাসুলভ তুষ্ণীভাব অবলম্বন করেছেন। আমার বস,তৎকালীন সেলস হেড, তো আমার ফোন দেখলেই কেটে দিচ্ছেন। অতএব এইচ আরের এক জুনিয়ার ছোকরা কে পাকড়ালুম। সে মাল কিছুতেই কিছু বলে না। শেষে তাকে মিষ্টি দই দিয়ে বোঁদে মেখে খাওয়াবো, এই প্রতিশ্রুতি দিতে ছোকরা মুখ খুলল।
খবরে প্রকাশ, এইচ আর হেড ভদ্রলোকটি নাকি তেনারই ডিপার্টমেন্টের একটি কচি বয়েসী রূপবতী কন্যেকে বহুদিন ধরেই ছুটির দিনে তেনার ফাঁকা ফ্ল্যাটে গিয়ে সম্বর রসম ইত্যাদি খেয়ে আসার ঢালাও আমন্ত্রণ জানাচ্ছিলেন। মেয়েটি সংগত কারণেই এড়িয়ে চলছিল। প্রবলপ্রতাপ এইচ আর হেড, কাকে কি বলবে বেচারি? শেষে এক মন উচাটন বসন্তের বিকেলে ভদ্রলোক এই মেয়েটিকে নিজের কেবিনে ডেকে, খুব সম্ভবত নিষ্পাপ মনেই, শরীরের বিশেষ অংশে স্নেহপূর্বক সুড়সুড়ি দিয়ে ফেলেন। মেয়েটি কথা না বাড়িয়ে সোওওজা এমডি র কাছে (যিনি মালিকও বটে) কেঁদে হত্যে দেয়। মালিক ভদ্রলোকটির সংগে কাজ করেছি অনেকদিন।আদ্যন্ত প্রফেশনাল ভালোমানুষ। তিনি ওইদিনই এইচ আর হেডকে ডেকে রেজিগনেশন নেন। ফিনান্সকে বলেন সমস্ত দেনাপাওনা চব্বিশঘণ্টার মধ্যে মিটিয়ে দিতে।
