কে আবার, আমার পেট। আরে হ্যাঁ মশাই, আমারই পেট। স্তম্ভিত হয়ে পেটের দিকে তাকিয়ে রইলাম। হ্যাঁ রে, এই মাত্র সাতপ্লেট প্রণফ্রাই বুকে টেনে নিলি, তার ওপর আবার এখনই এসব কিসের আবদার?
কিন্তু ভবা ভুললেও ভবী ভোলে না। তাকে অনেক তুইয়ে বুইয়েও যখন বাগে আনা গেলো না, তখন আমাদের টিমের একমাত্র মহিলা সদস্যাটিকে বললাম, ‘হ্যাঁ রে, খাওয়ার কিছু আছে?’
টের পেলুম ছ”জোড়া চোখের অবাক অবিশ্বাসী দৃষ্টি আমার দিকেই তাক করা। স্বাভাবিকভাবেই পাত্তা দিলাম না। অত লাজলজ্জা থাকলে মশাই এ বডি টেঁকানো মুশকিল, দেখছেনই তো মাগ্যিগণ্ডার বাজার…
খুঁজেপেতে একটা পট্যাটো চিপসের প্যাকেটই এলো। বুভুক্ষুর মতো সেই ছোট্ট প্যাকেটটার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লুম বললেই চলে।
কিন্তু না, হাতে তখনও সেই প্রণফ্রাইয়ের তৈলাক্ত সুবাস লেগে। যতবারই হাত দিয়ে প্যাকেট খোলচেষ্টা করি, সে শুধুই পিসলাইয়া পিসলাইয়া ত্থয় দেহি! অনেকক্ষণ কসরৎ করার পরেও ব্যাটা যখন বাগে এলো না, গান্ধীজির কথাটা মাথায় এলো। মহাত্মা বলেই গেছিলেন করেঙ্গে ইয়া মরেঙ্গে! ফলে খুবই হিংস্রভাবে চোখমুখ পাকিয়ে দাঁত বার করে প্যাকেটটা ছিঁড়তে যাচ্ছি, এমন সময় সেই ভদ্রমহিলা খুবই বিরক্তি সহ বললেন, ‘ আমাকে দাও, আমি ছিঁড়ে দিচ্ছি।’
আমিও তৎক্ষণাৎ গ্যালগ্যালে হাসি হেসে প্যাকেটটা তেনার হাতে দিয়ে বললাম, ‘হ্যাঁ ভাই ছেঁড় তো, তুই ভালো ছিঁড়িস!’
তারপর?
তারপর আর কী! হোটেলে এসে চুপচাপ বসে আছি আর মশার কামড় খাচ্ছি। দু একজনকে ব্লেণ্ডার্স প্রাইডের লোভ দেখিয়ে ডাকলুম বটে, বিশেষ পাত্তাটাত্তা দিলো না।
আচ্ছা, এরা অমন কচ্ছে কেন বলুন তো? আমি কী তেমন ভুল কিছু বলেছি, অ্যাঁ?
