একটু চুপ করে থেকে বলেন, তবে আর কি করব বল দাদাভাই! যাতে লোকে নিন্দে করতে পারে, এমন কাজ কি করে করা যায়!
মেজঠাকুরদ্দা, তুমি তো লোকনিন্দেকে ডরাও না?
লোকনিদেকে ডরাই না!
রামকালী যেন হঠাৎ অদ্ভুত অজানা একটা রহস্যের রাজ্যের সামনে এসে দাঁড়িয়েছেন। এরা সব রামকালীকে ভাবে কি? রামকালী সম্পর্কে রামকালীর অপরিচিত যে একটা জগৎ আছে, তাদের ধারণাটা কি? একটা কৌতুকের বিস্ময়ে স্বল্পবাক রামকালী আজ একটু বেশী কথাই বলে ফেলেন।
লোকনিন্দকে ডরাই না একথা কে বলে দাদু? ডরাই বৈকি। সত্যি নিন্দের কাজ করলে– রামকালীও কথা সমাপ্ত করতে করতে ভাবেন–শেষ করতে গিয়ে থামেন। এই অবসরে এতক্ষণের নম্র আর মৃদু চাপা কণ্ঠস্বরটা প্রায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে, খোকা বল, আপনার যদি একটা দুঃখিনী মেয়ে থাকত, তাকে তীর্থে নিয়ে গেলে লোকে নিন্দে করত?
রামকালী স্তব্ধ হয়ে যান!
অনেকক্ষণ চুপ করে থেকে বলেন, আচ্ছা দাদু, তোমরা ভেতরে যাও। আমাকে একটু ভাবতে দাও।
হ্যাঁ, ভাববেন রামকালী। অনেক কিছু ভাববেন। এইটুকু মেয়েটা কুড়ি বিঘে ধান জমির মোহ ত্যাগ করে তীর্থে যেতে চায় কোন্ মানসিক অবস্থায় তা ভাববেন, আর ভাববেন মোক্ষদাকে সঙ্গে নিয়ে রাসুর বৌয়ের প্রার্থনাটা পূরণ করা যায় কিনা! মোক্ষদার হাত ভেঙেছে, পা-টা-তে মজবুত আছে। তার জীবনেও তো কখনো কিছু হয়নি। এ কর্তব্যটা করা উচিত ছিল রামকালীর।
রান্না-ভাঁড়ার ঘরের জীবগুলো সম্পর্কে এত বেশি করে কখনও ভাবেন নি রামকালী।
একটা মেয়ে তাকে মাঝে মাঝেই ভাবাত। অনেক দিন সে রামকালীর কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আছে। আশ্চর্য হয়ে ভাবছেন রামকালী, কতদিন তার কথা ভাবি নি!
সে পাছে ভাবে বলে রামকালীর অসুখের খবর দেওয়া হয় নি। কিন্তু তীর্থযাত্রার খবর! সেটাও কি না দিলে চলবে?
