ওঃ, ইল্লি! দুঃখু যে উথলে উঠছে দেখছি! পড়েই ছিল! আহা-হা, মরে যাই, অথৈ জলে পড়ে থেকেছিল একেবারে!
সারদা ছুরি দিয়ে কেটে কেটে কথা বলে, আমি কিন্তু সাফ কথা কয়ে দিচ্ছি, ভাগাভাগির ইল্লুতেপনায় আমি নেই। আমায় চাও তো ওকে স্পশ্য করতে পারে না, আর ওকে চাও তো আমি
হঠাৎ কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে যায় সারদার। আর এই রুদ্ধ কণ্ঠই বড় ভয় রাসুর।
আরও হতাশ গলায় বলে সে, তার আমায় কি করতে বলো? মাথার ওপরকার গুরুজনরা যে ব্যবস্থা দেবে তাই মানব, না চেঁচামেচি করে তার প্রতিবাদ করব?
কি করবে সে তোমার নিজের বিবেচনা। তুমিও কিছু কচি খোকাটি নও। মাথার ওপরকার গুরুজন যদি বিষ খেতে বলে, খাবে? খুড়োঠাকুর ধম্ম করলেন, ভদ্রলোকের জাত রক্ষে করলেন আমার বুকে বাশ ডলে! এতই যদি ধম্মজ্ঞান, নিজেই কেন—
বড়বৌ! হঠাৎ ধমকে ওঠে রাসু, কি বলছ কি? উন্মাদ হয়ে গেলে নাকি?
সারদা ঝপ করে বিছানায় শুয়ে পড়ে গম্ভীর গলায় বলে, উন্মাদ হবার ঘটনা ঘটলে মানুষ উনাদ হবে, এ আর আশ্চয্যি কি? খুড়োঠাকুর যদি তখন আমার ঘর না ভাঙতেন, তা হলে বরং আজ ওনার ভাঙা ঘর ভরত।
বড়বৌ! কাকে নিয়ে তুলনা? এসব অকথা কুকথা মুখে উচ্চারণ করলেও মহাপাতক হয় তা জান?
মুখে উচ্চারণ করলে মহাপাতক, কিন্তু মনে? মনকে কেউ শাসিয়ে রাখতে পারে? যাগ গে, ভাল-মন্দ কিছুই বলব না আমি। আমার যা বলবার বলেছি।
রাসু আপসের সুরে বলে, অতই বা খাপ্পা হচ্ছ কেন বড়বৌ? তুমি ঘরণী গিন্নী, বলতে গেলে জোয়ান ব্যাটার। তোমার জায়গা কে কাড়ে? তবে লোকদ্যাখতা একটা কথা আছে তো? ওকে একেবারে ভাসিয়ে দিলে
সারদা গম্ভীরভাবে বলে, মা সিংহবাহিনীর নামে দিব্যি গেলেছিলে, সে কথা বোধ হয় ভুলেই গেছ?
ভুলে যাব কেন রাসু অসন্তুষ্ট স্বরে বলে, কিন্তু লোকে কি বলবে, সেটাও তো চিন্তা করতে হবে?
সারদা আবার ঝপ করে উঠে বসে। বলে, কেন, লোককে বোঝাবার উপায় নেই? লোককে বোঝাতে কত কল-কাঠি আছে! লোককে বলতে পার না, কোনও সাধু-ফকির তোমার হাত দেখে বলেছে, ওই দ্বিতীয় পক্ষের পরিবারকে স্পর্শ করলে তোমার পরমায়ুক্ষয় যোগ আছে?
