আমাদের দেশে কোনো কোনো পরিবারের স্ত্রী স্বামীর কর্মের কোনো খবর রাখতে ভালোবাসেন না, এসব নারীর জীবন বড় ছোট।
কোনো কোনো নারীর বাল্যকাল হতে কতগুলি বদভ্যাস থাকে। সেগুলি দেখে স্বামী যদি কোনোরকম বিরক্তি প্রকাশ না করে, তাহলে সে কু-অভ্যাসগুলি পরিহার করতে সচেষ্ট। হবে জেনো, একই ভুল পুনঃপুনঃ হওয়া দোষের। মনের মতো বউ না হলে স্বামী মনে কড় কষ্ট অনুভব করেন। স্বামীকে সুখ দেওয়া নারী জীবনের প্রধান উদ্দেশ্যে। স্ত্রীর স্বভাবে বিরক্ত হয়ে অনেক স্বামী দ্বিতীয় বিয়ে করেন এবং কখনও স্ত্রীকে একদম বর্জন করেন। স্ত্রী বর্জন করা অত্যন্ত হীন নরপিশাচের কাজ। ভদ্রলোক এরূপ কাজ করে না; দ্বিতীয় বার বিয়ে। করাও পুরুষের বোকামি।
স্বামী তো বন্ধু। বন্ধুর হৃদয়ে যত সুখ দেওয়া যায় ততই ভালো। তার বিরুক্তি উৎপাদন করলে গোনাহ হয়। বিবাহিত জীবনের কর্তব্য সর্বাংশে পালন করবেন বলেই স্ত্রী বিবাহ দিনে খোদাকে সাক্ষী করে স্বামী গ্রহণ করেন; কেমন?
কুলসুম পুনরায় বললেন-কোনো স্ত্রীলোক যদি তোমার খুব তোষামোদ আরম্ভ করে, তাহলে আহ্লাদে গদগদ হতে নেই। স্তাবককে বন্ধু মনে না করে, উচিতবাদীকে বন্ধু মনে করাই ভালো। মানুষ তোষামোদে নিজের শক্তি হারিয়ে ফেলে–অন্ধ হয়ে যায়। শঠ ও দুষ্ট লোক অনেক সময় তোষামোদ করে করে নিজের কাজ আদায় করে। তোষামোদ ও আহ্লাদে আটখানা হওয়া অনুন্নত স্বভাব। কোনো কোনো হৃদয়বান সরল মনে তোমার কোনো গুণের কথা উল্লেখ করে সন্তোষ প্রকাশ করতে পারেন, তার উপর অবশ্য লাগবে। না। বস্তুত তোষামোদ করা বা তোষামোদ গ্রহণ করা, উভয়ই দুর্বল হৃদয় ব্যক্তির কাজ।
রেল স্টীমারে ভ্রমণকালে অনেক পাজী মেয়ে অভদ্র ব্যবহার করে। এদের মুখের উপর চড়া কথা শুনিয়ে দেওয়াই বিধি। নিজের অন্যায় কথা সহ্য করা বোকামি ও কাপুরুষের কাজ। দুষ্ট ও অন্যায় কথা শুনে বিরক্তি প্রকাশ করা উচিত। রেল স্টীমারে ভ্রমণকালে রাস্তার যদি রুটি গোস্ত নিয়ে যেতে হয়, তাহলে প্রয়োজনমতো, বের করে খাবে, কে কী ভাববে একথা ভাববার কোনো দরকার নেই। সঙ্গে ভাত নিয়ে গেলে ছেলেপেলেকে খেতে দেবে; তাতেও কোনো সঙ্কোচবোধ করবার নেই। খোকারা যাতে কারো গায়ে ভাত ছুঁড়ে না মারে। সেদিকে লক্ষ্য রাখবে।
যাদের সঙ্গে কোনো সম্বন্ধ আছে, অত্যধিক ভক্তির সঙ্গে তাদের ডাকবার কোনো দরকার নেই। সম্বোধনের শেষে ‘জান’ শব্দ ব্যবহার করবে না। মামাজান, খালুজান, চাচাজান, এরূপ না বলে মামা, খালা, চাচা, বলাই ভালো। কাউকেই অতিরিক্ত ভক্তি দেখানো ভালো নয়। অত্যধিক ভক্তি দেখাতে গিয়ে অনেক সময় মন বিদ্রোহী হয়ে ওঠে এবং অগোচরে আত্মীয়-স্বজন কুৎসা গ্লানি প্রচার করবার প্রবৃত্তি জাগে।
কারো সঙ্গে অতিরিক্ত ভদ্রতার আদান প্রদান করবে না, এতে জাতির জীবন ভুলময় হয়ে ওঠে। মনের অসন্তোষ মুরুব্বীর সামনে প্রকাশ করবার অভ্যাস থাকা চাই–অগোচরে কুৎসা রটনা করা দোষের। অত্যধিক ভক্তি দেখানোতে মন শক্তিহীন ও অবশ হয়ে যায়।
একশ’বার মুরুব্বী বা গুরুজনকে দেখে চেয়ার ছেড়ে ওঠা আর বসায় বৃথা সময় নষ্ট হয়। কোনো কাজের বাড়াবাড়ি ভালো নয়। অবশ্য মুরুব্বী সামনে এলে আসন ছেড়ে ওঠা ভাল। চকিত-ভীতি বিহ্বল ভাব দোষের।
আলাপ রহস্য করা জীবনের একটা আব্যশক কাজ। তবে যে সমস্ত মানুষ ভিতরে হীন, তাদের সঙ্গে সংযমের কথা বলবে, নইলে অপদস্ত হতে হবে।
বৈকাল বেলা পান খাচ্ছ এমন সময় কোনো মেয়ে বন্ধু এসে উপস্থিত হলেন। তার সঙ্গে খানিক গল্প করার যদি, যদি অন্য জায়গায় যাবার দরকার হয়, তবে চলে যাব। অনিচ্ছায় বন্ধুর সঙ্গে বসে থেকে তাকে অপদস্থ করবে না। কিংবা নিজের ক্ষতি করবে না। মিষ্ট কথায় তার কাছ থেকে বিদায় নিলেও চমৎকার হয়।
দাম্পত্য-জীবনে একটা গুরুতর বিপদ আছে। অনেক সময় স্বামী আপন মনে স্ত্রীর সম্বন্ধে অনেক কথা ভাবেন। স্বামীর মুখ ভার দেখলে, ডেকে তাকে কারণ জিজ্ঞাসা করবে। লজ্জায় সঙ্কোচে তুমিও আপন মনে মুখ ভার করে বেড়াবে না। স্বামীকে দুঃখিত করে কোনো কাজে মন দেওয়া উচিত নয়। নিজের যদি কোনো অপরাধ হয় তবে স্বামীর কাছে ত্রুটি স্বীকার করবে। স্বামীর পা ধরবার কোনো দরকার নেই। জোড় হাত করে দাঁড়াবার কোনো দরকার নেই। বলবে মাপ কর। এই মাপ কর কথাটি বড় মধুর! এ বললে নিজের সম্মান স্বামীর কাছে খুব বেড়ে যায়।
কোনো কথা পুনঃপুনঃ বলা নিষেধ। এতে কথার মূল্য নষ্ট হয় এবং নিজের হালকামির পরিচয় দেওয়া হয়।
নিতান্ত বন্ধুদের সঙ্গে ভদ্রতার আদান-প্রদানের কোনো দরকার নেই। তাদের দেখে উঠে দাঁড়াবারও কোনো দরকার নেই।
দুর্বল, শক্তিহীন প্রতিবেশী যেন তোমার ব্যবহারে নিজেকে বেশি করে দুর্বল ও শক্তিহীন মনে না করে সেদিকে লক্ষ রাখবে।
কথা সর্বদা মিষ্টি ও মধুর হওয়া উচিত। সর্বদা যেন রেগে আছে, কথায় অসন্তোষ ও রাগ ভরা এরূপ যেন কেউ না ভাবে। খোদা অহঙ্কার সহ্য করেন না। অহঙ্কারী মানুষের হাত পা আপনা আপনি ভেঙে যায়।
কারো উপর অসন্তুষ্ট হলে তোমার অসন্তোষের কারণ তাকে জানাবে। এতে ভয় বা লজ্জা করবে না। কারো কাছে তার নিন্দা করা ভালো নয়। নিজেরা গরিমা অন্যের উপর জোর করে চেপে দেওয়ার নাম অহঙ্কার।
