বাইরে বের হবার সুবিধা না থাক; স্ত্রীরা যেন তাদের চরিত্রের এই কলঙ্ক দূর করতে চেষ্টা করেন।
নিজের কানে শোনা এবং নিজের চোখে দেখা ব্যতীত কোনো গুজবে বিশ্বাস করবে। এই কথাটি স্বর্ণাক্ষরে প্রাণের পাতায় লিখে রেখো। অনুমান ও কল্পনার দ্বারা পরিবারের পনেরো আনা অনর্থ সৃষ্টি হয়। বালকের কথা যাচাই না করে সব সময় বিশ্বাস করতে নেই।
রমণীরা অনেক সময় অভিশাপ দেয়। অভিশাপ দেওয়া অন্যায়, এরূপ করা নীচ ব্যক্তির কাজ। ব্যথিত আর্তের মুখ দিয়ে যে অভিশাপ বের হয় তা স্বতন্ত্র। কথায় কথায় পাগলের মতো অভিশাপ দেওয়া নীচতা।
অনেক সময় বাইরের স্ত্রীলোকেরা সম্বন্ধ পাতিয়ে আসে। বালিকা বয়সেও অনেকে সই পাতায়। সম্বন্ধ পাতান কাজটা খারাপ। কেউ বলে, ‘তুমি আমার মা’, কেউ বলে তুমি আমার বুবু। এছাড়াও ধর্মের মা-বোন বা অন্য কোনো সম্বন্ধ পাতিয়ে ঘনিষ্ঠ হয়। এসব ভালো নয়। বুবু বা মা ডাকতে দোষ নেই। ঘটা করে সম্বন্ধ করা দোষের। এর শেষ ফল মনোমালিন্য ছাড়া আর কিছু নয়। স্ত্রীলোকেরা সরলা কুলবধূদের সঙ্গে ‘মা’ বা ‘বোন’ পাতিয়ে অনেক সময় অনেক ক্ষতি করে। ইসলামের সবাই ভাই-বোন, এর উপর আবার সম্বন্ধ পাতাবার ঘটা কেন?
প্রতি বৈকাল বা সন্ধ্যাকালে পরিবারের সবাইকে ডেকে এক জায়গায় খানিক বসা মন্দ নয়। মেলামেশা, আলাপ ও হাস্য-পরিহাসে পরিবারের সকলের মধ্যে মনোমালিন্য দূর হয়। শুধু শুধু সকলকে এক জায়গায় ডেবে বসান একুট বিরক্তিকর। কিছু নাস্তার বন্দোবস্ত করা উচিত। দু’চামচ দুধ আর কিছু চিনি আর আর মুড়িতে বিশেষ খরচ হয় না। গুড় হতে নিজেরাই চিনি তৈরি করে নেয়া যায়। পরিবারের বারে বারে ভাত খাবার ব্যবস্থা না করে একবার নাস্তা আর দুবার ভাত খাবার ব্যবস্থা থাকা উচিত। চা ব্যবহার করাও মন্দ নয়।
বেলা ১টা হতে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ করা যেতে পারে। কোনো কোনো অত্যাচারী পরিবার আছে, যেখানে দিবারাত্রি কাজ করতে হয়। অর্থের লোভে স্বাস্থ্যের প্রতি উদাসীন হওয়া ঠিক নয়।
কুলসুম পুনরায় বলিলেন–পরিবারের কারো কোনো ভুলের সমালোচনা পুনঃ পুনঃ করবে না। এতে উদ্দেশ্য পণ্ড হয়।
পরিচিত সকলের কাছে চিঠিপত্র লেখা চাই। এজন্য ঘরে কতক ভালো চিঠির কাগজ রাখা উচিত। মানুষের সঙ্গে আদান-প্রদান হওয়া একান্ত বাঞ্ছনীয়। ভাত, মাছ ও কাপড়ের জন্য যেমন পয়সা ব্যয় হয়, তেমিন পোষ্ট কার্ড অর্থাৎ চিঠিপত্র লেখার জন্যে কিছু পয়সা রেখে দিও। সামান্য ক’টি পয়সার মাথায় কি একটা বন্ধু হারান উচিত? সর্বদা বন্ধু-বান্ধবের সঙ্গে চিঠিপত্র বিনিময় হওয়া আবশ্যক। মানুষের সংবাদ নেওয়া সভ্যতার লক্ষণ। মাসে এক ব্যক্তির কাছে একখানা পত্র লেখাই যথেষ্ট। পরপর দুই পত্র কারো কাছে লিখবে না। পত্রের উত্তর না পেলে পুনরায় পত্র লিখতে নেই। পত্রে-আদাব হাজার হাজার, বাদ কদম বুছি, পাক কদমে আরজ, এই যে ফিদবী, খাকছার, এসব না লেখাই ভালো। মোটের উপর লেখা জীবনের চমৎকার গুণ।
বিদার নেওয়ার সময় মেয়েরা সাধারণত কাদাকাদি করেন, এরূপ করা ছেলেমি। কোনো জায়গায় যাবার দরকার হয়েছে চলে যাও। কাদাকাদির বা বিদায় নেবার দরকার নেই।
অনেক দিন পরে অনেক দিনের জন্য কোথাও যেতে হলে যাবার সময় প্রীতি-উৎফুল্ল চিত্তে হাতের সঙ্গে হাত বা হৃদয়ের সঙ্গে হৃদয় মিলাবে। বিদায়কালে চোখের পানি ফেলবে না।
স্বামীর যদি পড়াশুনা থাকে, তাহলে তার কাজের সময় কখনও তার কাছে যাবে না। অন্য সময় যাবে। দিনের বেলায় স্বামীর খুব কাছে বসবে না। পুরাতন হলে, এ নিয়ম মানবার দরকার নেই। দূরে থাকবার কারণ স্বামীকে বুঝিয়ে বলবে, নইলে স্বামী মনে মনে কোনো কিছু ভাবতে পারেন। কখনো কোনো কাজে চুপ করে থাকতে নেই; চুপ করে। থাকাতে জীবনে অনেক বিপদ ঘটে। স্বামীর কাছে নিজের কাজের ব্যাখ্যা দিলে, তার মনে কোনো গোল আসে না।
কেউ যদি হঠাৎ কোনো অন্যায় কথা বলে ফেলে, তাহলে রেখো না। হতে পারে যে, কথাটা সে হঠাৎ ভুল করে বলে ফেলেছে। কোনো কাজে বা কথায় হঠাৎ লাগলে নিজের সম্মান নষ্ট হয়, এ যেন মনে থাকে।
বাড়িতে এক ডাকে চাকরে যদি উত্তর না দেয়, তাহলে তাকে যাচ্ছে তাই গালি দিও। চাকরকে বেত দিয়ে পিটান এবং শুয়রের বাচ্চা বলা বিদেশীদের ফ্যাসন। এ যেন মনে। থাকে যে যারা চাকর তারা আমাদেরই দেশের মানুষ। সদ্ব্যবহার ও যুক্তিতে মানুষ উন্নত হয়, ভয় দেখিয়ে মানুষকে শুধু দুর্মতি দাসে পরিণত করা হয়। দাস অর্থ চাকর নয়, নীচ ও হীন, সে সুযোগ ও ক্ষমতা পেলে মানুষকে জবেহ করে। ইংরেজিতে দাসকে টাইরেন্ট বলে।
মানুষের সহিত সদ্ব্যবহার করাই ভালো। এমন কি বাড়ির কুকুর বিড়ালের সঙ্গেও নিষ্ঠুর ব্যবহার করা অনুচিত।
স্বামীকে যদি নিজের পিতা মাতা অপমান করেন, খবরদার মাতাপিতার হয়ে স্বামীর বিরুদ্ধে কোনো কথা বলো না–কি সামনে কি অগোচরে। এটা স্ত্রীলোকদের জন্য শ্রেষ্ঠ উপদেশ। স্বামীর জন্য মাতাপিতার সঙ্গে যদি সম্বন্ধ ত্যাগ করতে হয়, তাও করবে।
হালিমা : জিজ্ঞাসা করিল-নারীর জীবন বড় নিঃসহায়। বাপ-মাকেই বা কি করে। অসন্তুষ্ট করবে? সে বিধবা হলে বাপ-মার বাড়িতে তো তাকে ফিরে আসতে হবে।
