গাল ফুলিয়ে থাকা, সর্বদা রাগে রাগে কথা বলা, দাম্ভিকজনেরই কাজ! অহঙ্কার ও দাম্ভিকতার পরিচয় দিলে, পেটের ছেলেপিলে জগতে উচ্চাসন লাভ করতে পারে না।
ছোট ও নিম্নশ্রেণীর লোক যদি তুমি করে বলে তাহলে রাগ করো না, তারা যদি এসে বাড়ির চেয়ার বা বিছানায় বসে তাহলেও ক্রুদ্ধ হয়ো না। তাদের সঙ্গে এক বিছানায় বসতে অনেকে লজ্জা বোধ করেন, এও অন্যায়।
বাড়ির দাসীকে বা দরিদ্র রমণীকে কঠিন ভাষায় গালি দিও না। খানকী ও নটি পেশাকার বলে গালি দেওয়া অনেক মেয়ের অভ্যাস। এরূপ কঠিন কথা মুখ দিয়ে বের করে মানুষের অভিশাপ মাথায় নিও না। অভিশাপ ভয় করা উচিত। সেয়ানা, ছোটকে কঠিন ভাষায় গাল দিও না। ইতর ও নিচ ভাষায় কোনো তাম্বি, কোনো ফল হয় না বরং যাদের উদ্দেশ্যে সেইসব ইতর ভাষা প্রয়োগ করা হয়, তাদের আরও নৈতিক অধঃপতন হয়। কখনও বংশগৌরব করো না। এতে আত্মার ও বংশের অধঃপতন হয়।
কোনো কোনো স্ত্রীলোক বাড়ির মধ্য হতে বা বুঝে সামান্য কারণে ভদ্রলোকদের অযথা জঘন্য ভাষায় গালি দিয়ে থাকেন। এটা খুবই অন্যায় কথা।
নৈতিক বলে ছোট যারা, তাদের সঙ্গে বাচালতার পরিচয় দিতে নেই; তারা তোমাকে শ্রদ্ধার চোখে দেখেন না; তোমার কথাকে তারা শ্রদ্ধার সঙ্গে শুনবে না। তবে নির্দোষ রসিকতায় কোনো দোষ নেই।
তোমার কথার মূল্য যদি কেউ না বুঝে তাহলে হঠাৎ অগ্নিশর্মা হয়ে যাওয়া ভালো নয়। মানুষের মূর্খতাকে সহানুভূতির চোখে দেখা মনে হয় ভাল। শান্ত, স্থিরচিত্তে মানুষের সঙ্গে কথা বলা উচিত।
কোনো কোনো মেয়ের অভ্যাস আছে পরের কথা নিয়ে খুব করে আলোচনা করা। পরনিন্দা করা, কথা লাগান মেয়েদের চরিত্রের বড় খারাপ দোষ। শশুর শাশুড়ী বা দেবরদের নিন্দা করে স্বামীর ভালবাসা লাভ করতে যেও না। অগোচরে অনেকে অনেক কথা বলে, সেইসব কথা কুড়িয়ে নিয়ে স্বামী ও শাশুড়ীর কাছে বলা দোষ।
কথা লাগালে নিজের সম্মান নষ্ট হয়, এ জানা উচিত। যার কাছে পরের কথা বলা যায় সে সেই সময়ের জন্য তোমার উপর কিছু সন্তুষ্ট হতে পারে, কিন্তু জেনো, তার কাছে তোমার আর সাবেক সম্মান রইল না। যার নিন্দা করা গেল সেও তোমার স্বভাব বুঝতে পারলে তোমাকে ঘৃণা করবে।
পরের নিন্দা করে কারো সঙ্গে ভাব করতে যাওয়া মূর্খতা।
যুবতী বয়সে স্বামী ছাড়া অন্য কোনো পুরুষের সঙ্গে হেসে কথা বলতে নেই। কি দেবর, কি শ্বশুর, কি দেবরপুত্র, কারো সম্মুখে হাসবে না। দেবরের সঙ্গে রসিকতা করা একান্ত বর্জনীয়। দেবরকে ছোট ভাইয়ের মতো মনে করবে।
কেউ তোমাকে দেখে ভয় করুক, তোমাকে আগে আগে সালাম জানাক, তোমার পদচুম্বন করুক এরূপ আশা পোষণ করো না। যারা হীন প্রকৃতির লোক তারাই এরূপ আশা করে! সকলে তোমার বন্ধু হোক এইরূপ আশা করো না। সকলে তোমার গোলাম হবে, এরূপ ইচ্ছা করা পিশাচ ও যথেচ্ছাচারীদের কাজ। দুঃখের দিনে যারা তোমার মঙ্গলাকাঙ্ক্ষী ছিল, সুখের দিনে তাদের অপরাধের কথা মনে করে তাদের সঙ্গে অসদ্ব্যবহার করা নীচতা। যাকে এক সময় ন্যায় মত হোক, অন্যায় মত হোক সম্মান করেছ বা পিতার আসন দিয়েছ, সম্পদের সময় মনুষ্যত্বের খাতিরে তার সঙ্গে তেমনি ব্যবহার করাই উচিত। অন্যায় ও অপমানের বেদনা সয়ে চুপ করে থাকা অধর্ম, কিন্তু যখন একবার থেকেছ তখনই চিরকালই চুপ করে থাকা বোধ হয় ভালো। এ সম্বন্ধে ঠিক করে কিছু বলা শক্ত। সুযোগ পেলেই সাধারণত মানুষ প্রতিশোধ নেয়, পীড়িতের শ্রদ্ধা ভালবাসা ও ভক্তি-কথা মিথ্যা হয়ে যায়।
অবস্থাপন্ন ঘরের স্ত্রীরা ছোট লোক, বান্দীর বাচ্চা, গোলামজাদী বলে লোককে গালি দেয়। মানুষের উপর এরূপ অবিচার করলে মুসলমান জাতি শেষ যুগে রাজত্ব ও স্বাধীনতা হারিয়েছে।
স্ত্রীরা অনেক সময় গয়না দেখাবার জন্য মেয়েমানুষের সঙ্গে আলাপ করতে যায়, এটা বড়ই নীচতা। যার গয়না নাই তার সামনে পরো না। গয়না না পরলে রমণীর শোভা অনেকটা কম পড়ে কিন্তু গুণ ব্যতীত গয়নার কোনো মূল্য নেই। যার গুণ আছে তার গয়নার দরকার নেই।
কোনো কোনো মেয়ে মনে করেন ভালো রান্না করতে পারা; কাপড়ে ফুল তুলতে জামাই রমণী জীবনের শ্রেষ্ঠ গুণ! নারী বলে শুধু রান্না শিখলেই বা দুখানা রুমাল তৈরি করতে পারলেই তার জীবন সার্থক হয়ে গেল–এটা মূর্খের ধারণা। গরু, হাতী এবং অশ্ব রান্না করা অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ কাজ করে থাকে, তাদের সম্মান তাহলে নারী অপেক্ষা বেশি। ভালো রান্না করতে জানা খুব ভালো, কিন্তু এই কারণেই নিজেকে বড় মনে করা দোষ। বিদ্যা, চরিত্র ও বুদ্ধি ছাড়া আর কোনো জিনিসকে গুণ বলা উচিত নয়।
শ্বশুরবাড়িতে কখনও বাপের বাড়ির গল্প করবে না। স্বামীর বাড়িতে নিজের ভাই বোনকে রাখবে না, এতে নিজের অকল্যাণ হয়, স্বামীর কাছে এবং শ্বশুরবাড়ির আত্মীয় স্বজনের কাছে নিজের সম্মান নষ্ট হয়।
পুরুষেরা বলে থাকে স্ত্রীলোকে স্ত্রীলোকে কখনও প্রণয় হয় না। নিরন্তর ঝগড়া করা এবং পরস্পরের কুৎসা রটনা করাই তাদের স্বভাব–এ কথাটা প্রায় ক্ষেত্রে সত্য। এর একমাত্র কারণ, স্ত্রীলোকেরা সর্বদা ঘরের মধ্যে আবদ্ধ থাকে মুক্ত বাতাসে না বেড়ালে, অনেক মানুষের সঙ্গে না মিশলে, চরিত্র উন্নত হয় না, মন সঙ্কীর্ণ, অনুদার ও অহঙ্কারী হয়ে ওঠে। নারীর অধঃপতনের প্রধান কারণ শিক্ষার অভাব-ভালো কথা এবং বহির্জগতের খবর সম্বন্ধে একদম অনভিজ্ঞ থাকা।
