পাছায় দুটো লাথ কষালে তোর দুঃখ এখন কোথায় যাবে রে গেঁড়ে?
তুই কি মদ্যপান নিবারণী সভা তৈরি করতে লাগবি রে শেষ অবধি, ধ্রুব? আমি তোর লক্ষণ যে ভাল দেখছি না।
আমার ভিতরে এখন অনেক দুশ্চিন্তা।
আবার দুশ্চিন্তা কী? ছেলে ভূমিষ্ঠ হয়েছে, দি ক্যাট ইজ আউট অফ দি ব্যাগ। বউ টিকিট কাটতে বসেছিল, শেষ অবধি ব্যাক করানো গেছে। ইউ আর এ হ্যাপি ম্যান।
আই অ্যাম নেভার এ যাপি ম্যান।
সেই জন্যই তো বলি, ধ্রুবটা কি শেষ অবধি ফিলজফার হয়ে যাবে? তোর জন্য বড্ড ভাবনা হয় রে।
লাথি খাবি।
মাইরি তুই-ই বল দোস্ত, তোর হ্যাপি না হওয়ার কারণটা কী? একে তো রাজা-গজার বংশ, তার ওপর খোদ একটা মিনিস্টারের ছেলে, লেখাপড়া শিখেছিস, চাকরি ধড়াধ্বড় ছাড়ছিস ধরছিস, মেয়েছেলে চাইলেই পাস, তোর শালা দুঃখ-টুঃখ কি সইবে রে?
তুই মাল খাওয়া ছাড়া দুনিয়ার আর কী বুঝিস বল তো? দুনিয়ায় বহুরকম দুঃখ আছে। তোর মতো মাতাল সেটা বুঝবে না।
মাতালও লোকে দুঃখ থেকেই হয়। দেবদাসের কথা ভুলে যাচ্ছিস দোস্ত! তবে আমি অনেক ভেবে-টেবে দেখেছি ফিলজফার হওয়ার কোনও মানে হয় না, নেতা হওয়ার মানে হয় না, কিছু হওয়ারই কোনও মানে হয় না। কারণ, কেউ কিছু করতে পারবে না এই দেশের। চারদিকে মাইরি এত দুঃখ ঢেউ দিচ্ছে যে আমার সারাক্ষণ বুকটা হু হু করে। তাই ঝুম হয়ে থাকি। মাল খেয়ে যাওয়া। ছাড়া কারও কারও কিছু করার নেই, বুঝলি?
বুঝলাম। তুই তো দেখছি আমার চেয়ে ঢের বড় ফিলজফার।
ফিলজফারও কি মালের কথা বলে মাইরি?
কেন? তুই তো একসময়ে ফিলজফিতে এম এ চমকেছিলি। তুই জানিস না?
ওসব বাত ছোড়ো দোস্ত। মরা ইতিহাস। কবে ঘি খেয়েছিলাম তার গন্ধ কি আজও লেগে আছে আঙুলে? ব্ল্যাক নাইটটা কি হবে, দোস্ত?
কালও আমার পেটে একটা বিচ্ছিরি ব্যথা হয়েছিল। তুই তো জানিস মদ জিনিসটা আমার কোনওকালে সয় না। জোর করে খেয়ে যাই মাত্র। না খেলে কোনও কিছু ফিলও করি না।
দ্যাখ ধ্রুব, তুই কিন্তু আমাকে রাগিয়ে দিচ্ছিস।
কেন? তোর রাগের কী হল?
আমি মালের বিরোধিতা সইতে পারি না।
তুই খা না!
আমি তো খাবই। আমি মাল খেয়ে মরার জন্যই জন্মেছি। কিন্তু তুই শালা কি ভাল হয়ে যাবি, ধ্রুব? এরকম তো কথা ছিল না।
আমার ভাল হওয়ার কোনও চান্স নেই।
কেন নেই, দোস্ত? এই যে দেখছি মাল খেতে চাইছিস না। এ তত ভাল লক্ষণ নয়! আমারও যে শালা এসব দেখলে কনফিডেন্স নষ্ট হয়ে যাবে।
আরে আমি ভাল হবটা কী করে? জন্মেছি সামন্ততান্ত্রিক পরিবারে, গরিবের রক্তচোষা পয়সা খেয়ে বড় হয়েছি। তার ওপর বাপ মিনিস্টার, সে আর-এক কেলো। মিনিস্টার মানেই করাপশন। আমার রক্তে সেইসব বীজ কিলবিল করছে। আমার ভাল হওয়া কি সোজা?
কিন্তু তুই তা হলে এরকম করছিস কেন? মাল খাবি, রাজা উজির সাজবি, নর্দমায় ফুটপাথে মুখ থুবড়ে পড়ে থাকবি, তবে না লাইফ! ভাল হোস না ধ্রুব, প্লিজ। তোর পা ধরতে রাজি আছি।
তা ধর। কিন্তু ভয় পায় না। আমার মাথাটা আজ টিপটিপ করছে।
বাঃ! তা হলে তো ভাল লক্ষণ। দুফোঁটা পড়লে টিপটিপ একদম নেমে যাবে।
তা নামবে। কিন্তু আরও কথা আছে।
কী কথা?
আমার ব্রেনটা ভাল কাজ করছে না।
সে কীরকম?
ওলটপালট হয়ে যাচ্ছে। কাল আর-একটা কেলো করতে বসেছিলাম।
কী কেলো?
তা তোকে বলা যাবে না। কাল রাতেও অনেকক্ষণ টেনেছি। কিন্তু দেখছি গোলমাল হচ্ছে।
গোলমাল না হলে মাল খায় কোন বুরবক, এত দাম দিয়ে কিনে খাওয়ার মানেটা কী? সব গোলমাল করে দাও, মা কারণেশ্বরী! দুঃখ ভুলিয়ে দাও মা, জ্বালা জুড়িয়ে দাও মা, চারদিকটা স্বপ্নের মতো করে দাও, মা।
আমার কেসটা একটু অন্যরকম।
তুই নিজেই অন্যরকম রে, ধ্রুব। তোর সঙ্গে মেশা আমার উচিত হয়নি।
দেখ প্রশান্ত, আমার প্রবলেম অনেক সিরিয়াস।
তোর কোনও প্রবলেম নেই, ধ্রুব। কেন ওসব বানাচ্ছিস? দেশের দিকে চেয়ে দেখ। চারদিকে দেখ কী দুঃখ! লোকে খেতে পাচ্ছে না, পরতে পাচ্ছে না, মাগ-ভাতারে বনিবনা হচ্ছে না, ভিখিরি, খরা, লোডশেডিং, করাপশন, আবর্জনা, অসুখ। মাইরি দম বন্ধ হয়ে আসছে। ওঃ।
লাথিটা এবার ঝাড়ব? নে শালা পিছু ফের।
লাথি আজকাল আর লাগে না রে। ইমিউনিটি এসে গেছে তো! ভাগ্যের লাথি, পুলিশের লাথি, বউয়ের লাথি, কুকুর ইঁদুরের লাথি, লাথিতেই তো আমার জীবনটা ভরা। লাথি মেরে কিছু শেখাতে পারবি না রে বাপ।
মাজাটা তো ভাঙতে পারব।
মাজা নেই, মেরুদণ্ড নেই, ওসব নেই রে ধ্রুব। কে যেন বলছিল তোর মিনিস্টার বাবা তোকে পুনা না বরোদা না নাসিক কোথায় যেন পাঠাবে!
কথা একটা আছে।
যাবি, ধ্রুব?
হয়তো যেতে হবে।
কলকাতার গা ছেড়ে যাবি? যা। শুনেছি, ওসব জায়গা নাকি অনেক ভাল হয়ে গেছে। ঝা-চকচকে রাস্তা, দারুণ ডিসিপ্লিন, ট্রামে বাসে ভিড় নেই, ট্যাকসি পাওয়া যায় আর অঁড়িরা মালে জল মেশায় না। যা। ভাল থাকবি।
ভাল থাকা অত সস্তা নয়। বিস্তর ঝঞ্ঝাট আছে।
কীসের ঝঞ্ঝাট?
সেসব ফ্যামিলি ম্যাটার। তোকে বলা যাবে না।
কে শুনতে চাইছে? ফ্যামিলি ম্যাটার শুনলেই আমার মাথা ধরে। ফ্যামিলি লাইনটা কী বল তো! যাচ্ছেতাই একেবারে।
আমারও তাই মনে হয়। কে বলে তুই ফিলজফার নোস?
আজ একটু হয়ে যাক, দোস্ত। তুই চলে যাচ্ছিস। একটা ফেয়ারওয়েল নিয়ে নে। ব্ল্যাক নাইট।
রে প্রশান্ত, আজ থাক। আমার আজকাল কেমন হাঁসফাস লাগে। কাল সকালে রাস্তায় অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেলাম হঠাৎ।
