তুমি কেমন আছ?
ধ্রুব অবাক হয়ে বলে, তার মানে?
আমি জানতে চাই তুমি কেমন আছ?
আমার কি খারাপ থাকার কথা?
আমি কাল সারা রাত তোমাকে নিয়ে খারাপ সব স্বপ্ন দেখেছি। বলো না কেমন আছ!
ভালই আছি তো!
ধারা একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল। তারপর বলল, তুমি আমার একটা কথা বিশ্বাস করবে?
কী কথা?
আই অ্যাম রিয়েলি সরি!
ধ্রুবর একটু ওলট-পালট লাগছিল ব্যাপারটা। কাল রাতে যা ঘটে গেছে তাতে ধারার দুঃখ পাওয়ার কিছু নেই। দুঃখিত হওয়ার কথা তো তার।
ধ্রুব বলল, সরি ফর হোয়াট?
আমি পুলিশে খবর দিয়েছিলাম।
ধ্রুব একটু হাসল। বলল, তাই নাকি?
হ্যাঁ। আজ সকালে উঠে তাই ভীষণ খারাপ লাগছে।
খবর দিয়ে তো ঠিক কাজই করেছ।
পুলিশকে কী বলেছি জানো?
কী করে জানব?
বলেছি, হি ট্রায়েড টু মার্ডার মি।
কথাটা কি মিথ্যে?
যাঃ! কী যে বলো! আজ সকালে আমার মাথা পরিষ্কার হয়ে গেছে। কাল আমি ভীষণ বোকার মতো কাজ করেছি।
কেন? বোকার মতো কেন?
আমি তো জানতাম তোমার ভিতরে একজন স্যাডিস্ট আছে। যাকে তুমি ভালবাসো বা পছন্দ কররা তাকে কষ্ট দিয়ে আনন্দ পাও। আজ সারাদিন ধরে এসব ভেবেছি আর হেসেছি। কাল রাতে যে কী ছেলেমানুষি কাণ্ড করেছি! আচ্ছা, পুলিশ তোমার কাছে যায়নি?
ধ্রুব মৃদু একটু হাসল। বলল, না। তবে কাল রাতেই সল্ট লেক-এর রাস্তায় আমি পুলিশের হাতে ধরা পড়েছিলাম।
সত্যি?
তারা আমাকে একরকম গ্রেফতারও করেছিল।
তারপর?
তুমি তাদের কাছে যে স্টেটমেন্ট দিয়েছিলে তার কথাও শুনেছি।
পুলিশগুলো ভীষণ অসভ্য, জানো?
কেন? কী করেছে?
এমন ছোঁক ছোঁক করে তাকাচ্ছিল। আর কেবল ব্যক্তিগত প্রশ্ন। কবার বিয়ে করেছি, কী করে চলে, কারা কারা ফ্ল্যাটে আসে। আশ্চর্য কী জানো, তোমার সম্পর্কে কোনও প্রশ্নই করছিল না।
তাই নাকি?
কেন বলো তো!
ওরা যে আমাকে চেনে।
তাই মনে হচ্ছিল। যে লোকটা আমার ফ্ল্যাটে এসেছিল সে বার বার বলছিল, কী করে বুঝলেন যে উনি আপনাকে খুন করতেই চেয়েছিলেন। আমি বললাম, বাঃ, আমার গলা টিপে ধরেছিল যে। তখন কী বলল জানো?
কী বলল?
বলল, গলায় আঙুলের দাগ তো দেখছি না! আমি তখন ওকে দাগ দেখালাম। তখন বলল, এ তো আপনি নিজেই নিজের গলা চেপে ধরে তৈরি করে থাকতে পারেন! বোঝো কাণ্ড!
সদানন্দর কথা ভেবে ধ্রুব আপনমনে হাসছিল। বলল, তুমি বোধহয় কাল রাতে আমাকে ফাঁসিতে ঝোলানোর জন্য উঠে পড়ে লেগেছিলে!
ফোনে ধারার একটু উচ্ছ্বসিত হাসি শোনা গেল, বললাম তো কাল রাতে আমার মাথাটা ভারী বোকা-বোকা ছিল। একটুও বুদ্ধি খেলছিল না।
আজ খেলছে তো!
আজ বুদ্ধিও খেলছে আর লজ্জাও লাগছে।
ফ্ল্যাটের সবাই বোধহয় ঘটনাটা জেনে গেছে!
ভারী লাজুক গলায় ধারা বলে, কী করব বলো! বললাম যে, কাল রাতে ভারী বোকার মতো কাণ্ড করেছি সব। পাশের ফ্ল্যাটে টেলিফোন করতে গিয়েছিলাম। তাইতেই জানাজানি হয়ে গেল কিছুটা।
এরপর আর তোমার ওখানে যাওয়াটা নিরাপদ রইল না, ধারা। দেখলেই সবাই ধরে ঠ্যাঙাবে।
না, না। এরা কেউ সেরকম নয়। কেউ কারও ব্যাপারে নাক গলায় না।
ভাল।
পুলিশ তোমাকে অ্যারেস্ট কবে কী করল বললে না তো!
কী আবার করবে! বাড়ি পৌঁছে দিয়ে গেল। বলল, ওরা তোমাকে বুঝিয়ে দেবে যে, গলা টেপার ব্যাপারটা ছিল নিছক রসিকতা। তার বেশি কিছু নয়।
তাই বলল! ও মা!
ধ্রুব একটু হেসে বলে, আমার বাবার কথা ভুলে যাচ্ছ কেন, ধারা? জানো না হি ওয়াজ এ মিনিস্টার? তোমাকে খুন করলেও আমার কিছু হত না।
হত না?
একেবারে রেড-হ্যান্ডেড ধরলে বা আই-উইটনেস থাকলে একটু ঝামেলা হত ঠিকই। কিন্তু তা নইলে কিছুই হত না।
আর এদিকে আমি ভেবে ভেবে মরছি যে, ধ্রুবকে পুলিশ বাধহয় হ্যারাস করে মারছে।
না। বরং কাল তারা আমার অশেষ উপকার করেছে। সল্ট লেকের মরুভূমি থেকে জিপে করে পোঁছে দিয়ে গেছে।
বাঁচলাম। ওরা ঠিক কাজই করেছে।
তুমি কেমন আছ, ধারা?
ভালই তো।
আজ অফিসে যাওনি?
না। শরীরটা ভাল নেই। গলায় ব্যথা।
খুব ব্যথা?
তেমন কিছু নয়। ডাক্তার দেখিয়েছি। হয়তো একটা কলার নিতে হবে।
আই অ্যাম সরি।
সরি? যাক, তোমার মুখ থেকে যে কথাটা বেরিয়েছে সেই আমার ভাগ্য। তবে সরি হওয়ার দরকার নেই।
কেন?
আই অ্যাম এনজয়িং দা পেইন।
বটে! ব্যথা কেউ এনজয় করে?
আমি তো করছি। ব্যথাটা যেন তুমিই। সারাক্ষণ সঙ্গে আছ। ভাল লাগছে ধ্রুব, বিশ্বাস করো।
করলাম! আজকাল পাগলের সংখ্যা খুব বেড়ে যাচ্ছে।
আমি একাই পাগল? তুমি নও?
আমিও বোধহয়। কিন্তু আমি আমার সম্ভাব্য হত্যাকারীর সঙ্গে তোমার মতো এরকম আকুলতা নিয়ে কথা বলতে পারতাম না। এ যে এক গালে মারলে আর-এক গাল পেতে দেওয়ার চেয়েও মারাত্মক মনোভাব!
ইয়ার্কি কোরো না। আজ একবার আসবে?
আজ! কী যে বলো! আজ আসতে আমার লজ্জা করবে না?
প্লিজ!
কেন?
কী জানি! আজই তোমাকে দেখার জন্য পাগল-পাগল লাগছে। কোনও কাজ নেই তো!
একটু আছে।
ওঃ সরি। তোমার বউ যে নার্সিংহোমে তা একদম খেয়াল ছিল না। কেমন আছে রেমি?
খবর পেয়েছি ভালই।
আর বাচ্চাটা?
সেও ভাল।
তা হলে আসতে পারবে? কাল খেতে চেয়েছিলে। খাওনি। আজ এসো, খাওয়াব।
তুমি নিজেই তো এক খাদ্য। অন্য খাবার লাগবে না।
আমি খাদ্য না অখাদ্য তা তো কখনও চেখে দেখোনি। বুঝবে কী করে ব্রহ্মচারীমশাই?
আজ থাক, ধারা। আর-একদিন হবে।
কেন সংকোচ করছ? কালকের ঘটনায় তোমার চেয়ে আমার লজ্জা ঢের বেশি। বিশ্বাস করো।
তুমি প্রলাপ বকছ কি না জানি না। কিন্তু যদি সত্যিই তোমার এরকম অদ্ভুত ইচ্ছে হয়ে থাকে তবে শিগগির একদিন যাব। কিন্তু আজ নয়। আজ আমার ধ্রুবর সঙ্গে একটু বোঝাপড়া আছে।
