রেমির হাত-পা হিম হয়ে যাচ্ছিল গল্প শুনে। বলল, কী সাংঘাতিক!
সাংঘাতিক আর কী শুনলেন! এর পরের ঘটনা আরও সাংঘাতিক। রাজ যখন বলল যে, ফোন করে কাউকে পাওয়ার উপায় নেই তখন লালু কী বলল জানেন? বলল, ঠিক আছে, তোমার গার্লফ্রেন্ডকে রেখে দিচ্ছি। রাত দশটার মধ্যে যদি টাকা নিয়ে না আসতে পারো তবে রাত্রিবেলা উই ক্যান এনজয় হার।
রেমি ককিয়ে ওঠে, মাগো! আপনি কী করলেন?
ধারা একটু হেসে বলে, আপনি ভয় পাচ্ছেন। কিন্তু ইটস অল ইন দি গেম। এসব তো ঘটতেই পারে। তবে আমার যেটা ভয় হচ্ছিল সেটা বাজুকে নিয়ে। আমি জানতাম রাজু ইজ এ কাওয়ার্ড এবং আমার প্রতি সফটনেস থাকলেও হি ইজ অলওয়েজ ইন টু মাইন্ডস। ও হয়তো আমাকে রেসকিউ করতে আসবে না।
তবু গুন্ডাদের সঙ্গে থাকতে রাজি হলেন?
আমি রাজি হয়েছিলাম কে বলল? বাট দে ডিডনট কেয়ার টু আসক মি। আমার মতামতের তোয়াক্কা করেছিল নাকি ওরা!
আপনি কিছু করলেন না?
ধারা হেসে ফেলে বলে, একজন মেয়ের পক্ষে যা সম্ভব সবই করেছিলাম। চেঁচিয়েছি, কামড়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছি, জানালা দিয়ে লাফিয়ে পড়ার চেষ্টা করেছি। রাজুও আপত্তি করছিল মিনমিন করে। বন্ড লিখে দিতে চাইছিল। কিন্তু কিছুতেই কিছু হল না।
রেমি উদ্বেগের গলায় বলে, রাজু চলে গেল?
যেতে চাইছিল না। কিন্তু লালু এবং তার বন্ধুরা শিকারের গন্ধ পেয়ে গেছে। তাই রাজুকে একটু ম্যানহ্যান্ডেল করে বের করে দিল। তখন সন্ধে সাড়ে সাতটার মতো বাজে। ওরা বলে দিল, রাত দশটা পর্যন্ত ডেডলাইন। তারপর আমাকে ওরা যা খুশি করবে।
রাজু পুলিশে খবর দিতে পারত তো!
পারত। তবে লাভ ছিল না। পরে ওকে হয়তোওরা খুন করত, আর পুলিশও কি কিছু করত ভাবেন?
তারপর কী হল?
ধারা খুব হাসতে লাগল। একদম প্রাণখোলা হাসি। তারপর হাসি থামিয়ে বলল, আপনি হলে বোধহয় মূৰ্ছা যেতেন!
শুধু মূৰ্ছা! ভয়ে হার্টফেল করতাম।
আমারও ভীষণ ভয় করছিল। তবে ওরা কথা রেখেছিল কিন্তু। রাজুকে বের করে দিয়ে ওরাও ঘর থেকে বেরিয়ে গেল। আমাকে একা রেখে।
আপনি পালালেন না?
কী করে পালাব? দরজা বন্ধ করে গেল যে!
তারপর?
আমাকে অবশ্য দশটা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়নি। ঘণ্টা খানেক পরেই দরজা খুলে দারুণ স্মার্ট একটা ছেলে ঘরে ঢুকল। দেখে আমি অবাক। ওরকম একটা বিচ্ছিরি জায়গায় এরকম ভদ্র আর অ্যারিস্টোক্র্যাট চেহারার একজন ইয়ংম্যানকে দেখব ভাবতেই পারিনি।
সেই কি ও?
ধারা খুব হেসে ওঠে। মাথা নেড়ে বলে, হি ইজ রিয়েলি স্ট্রাইকিং, তাই না?
রেমি বিরস মুখে বলে, আমি তো তাই শুনি। মেয়েরা বলে। তারপর?
আমার দিকে কিছুক্ষণ চেয়ে থেকে জিজ্ঞেস করল, আপনি কি লালুর হোস্টেজ? আমি তখনও ভয়ে সিঁটিয়ে আছি। বললাম, হ্যা। কাইন্ডলি আমাকে ছেড়ে দিতে বলবেন? ও একটু হাসল। বলল, লিবারেশন কি এত সোজা? জুয়া খেলতে অচেনা জায়গায় যখন আসতে পেরেছেন তখন বাকিটাও পারতে হবে।
বলল?
বলল, তবে একটু হাসি ছিল মুখে। বুঝতে পারছিলাম, ইয়ার্কি করছে। হি ইজ নট সিরিয়াস।
তারপর কী হল?
বললে আপনি বিশ্বাস করবেন না। ওর সঙ্গে আমার আরও কিছু কথাবার্তা হয়েছিল। আজ আর ডিটেল মনে নেই। তবে কাটা কাটা কথা, ডিবেটের মতো। কিন্তু কয়েক মিনিটের মধ্যেই আমার ভিতরে সামথিং ওয়াজ টিকিং।
কী সেটা?
একটা আর্জ। আকুতি। লোকটাকে আমার ভীষণ ইন্টারেস্টিং লাগছিল। আমাকে অনেক প্রশ্ন করল। কোথায় থাকি, কার সঙ্গে থাকি, কী করি, উড়নচণ্ডী কেন, এসব। আমিও জবাব দিচ্ছিলাম। কিন্তু খুব হাসি পাচ্ছিল আর মজা লাগছিল।
ভয় করছিল না?
একদম না। একটু আগেও যে সাংঘাতিক ভয় পাচ্ছিলাম তা ওকে দেখে একদম উবে গেল। বললাম না, সামথিং ওয়াজ টিকিং ইনসাইড মি!
ওরা কিছু করল না?
না। ওদের আর দেখতেই পেলাম না। ধ্রুব আমার ইন্টারভিউ নিয়েছিল মিনিট পনেরো ধরে। তারপর বলল, চলুন পৌঁছে দিয়ে আসি। আমি ওর পিছু পিছু নেমে এলাম। ও আমাকে একটা ট্যাকসিতে তুলে দিয়ে চলে যাচ্ছিল। আমি ওকে বললাম, আমার ফ্ল্যাট পর্যন্ত চলুন, প্লিজ।
ও রাজি হল?
কেন হবে না?
শুনেছি ও মেয়েদের বেশি পাত্তা দেয় না।
আমাকেও দিয়েছিল নাকি প্রথমে? বলে ধারা খুব হাসল। মাথা নেড়ে বলল, মোটেই ভাববেন না যে এক কথায় পৌঁছে দিতে রাজি হয়েছিল। আমাকেই বেশ খানিকটা সাধাসাধি করতে হল। বললে বিশ্বাস করবেন না। অন্য মেয়ে হলে ওই জায়গা থেকে পালানোব প্রথম চান্স পেলেই আর পিছু ফিরে তাকাত না। কিন্তু আমি একটু অন্যরকম। পালানোর চেয়ে ইনভলভমেন্ট আমার বেশি ভাল লাগে।
রেমি করুণ গলায় বলে, আপনার খুব সাহস।
তা বলতে পারেন। তবে সাহস করে আমি ঠকিনি। আলটিমেটলি দেখেছি, মেয়েরা স্বাধীন হয়ে থাকতে চাইলে থাকতে পারে। একটু-আধটু অসুবিধে যা হয় তার তুলনায় লাভই বেশি।
আপনি কি একা থাকেন?
একদম একা। একটা সরকারি ফ্ল্যাট আছে আমার। ওনারশিপ।
চাকরি করেন?
নিশ্চয়ই।
বাড়ির কেউ নেই?
সবাই আছে। মাঝে মাঝে যাই। আমার বাবা অবশ্য গত বছর মারা গেছেন। কিন্তু তিনি আমাকে কোনও কাজে বাধা দেননি। ইন ফ্যাক্ট লিবারেশনের প্রথম পাঠটা তার কাছেই শেখা।
ওর সঙ্গে কি আপনার খুব ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক?
ধ্রুব?
হ্যাঁ।–বলে রেমি লজ্জায় লাল হয়।
ধারা সামান্য একটু হেসে গম্ভীর হয়ে গিয়ে বলে, প্রসঙ্গটা খুব সেনসিটিভ।
ধারা এই প্রথম সত্যিকারের গম্ভীর হল। রেমি দেখল, গম্ভীর মুখ ধারাকে মানায় না। সৌন্দর্যটা যেন অর্ধেক কমে যায়।
