কী, বলো!
গল্প করার জন্যই আজ এসেছিলে বুঝি!
রেমি অবাক হয়ে বলে, তুমি তো বললানি যে বাসায় দিদি আছেন, জয়িতা আছে।
ওরা থাকলেই বা কী?
ছিঃ রাজা, তোমার মাথার ঠিক নেই।
ঠিক নেই তা জানি। কিন্তু পাগলামি ছাড়া বাঁচাও তো যায় না। এত রেক্ট্রিকশন কি মানা যায়?
আচ্ছা, মানছি। কিন্তু আজ নয়। আজ আমি বাড়ি ফিরে যাচ্ছি।
তোমাকে আমি চিনি, রেমি।
মোটেই নয়। তোমার উচিত ছিল বাড়ির সিচুয়েশনটা আমাকে জানানো।
জানালে কী হত? তুমি আসতে না?
আসতাম। তবে অন্যরকম মন নিয়ে।
তোমার মনটা সবসময়েই সেই অন্যরকম। তুমি কখনও কুট্টিদাকে ভুলতে পারবে না।
কী করে বুঝলে?
জয়িতার সঙ্গে তোমার কথাবার্তা আমার কানে আসছিল।
তাতে কী প্রমাণ হল?
রাজা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, তোমার সহমরণ কে ঠেকাবে বলল তো!
সহমরণ! কী যে বলো!
ঠিকই বলছি। কুট্টিদাকে পেয়েছে মৃত্যুপ্রেম। তোমারও পরিণতি তাই।
মত্যুপ্রেম! সেটা আবার কী?
কুট্টিদাকে যে মরণে ধরেছে তা কি তুমি টের পাও না? নইলে কেউ ওরকম বেপরোয়া আর বেহেড হতে পারে! না কি ওরকম যা খুশি তাই করে বেড়ায়?
রেমি রাজার দিকে অপলক চোখে কিছুক্ষণ চেয়ে থেকে ক্লান্ত স্বরে বলল, তোমরা পুরুষরা মেয়েদের কাছে যে কী চাও তা সঠিক জানো না। মাঝে মাঝে চাওয়াটা আকাশে উঠে যায়।
তাই নাকি?
রেমি হাতের পিঠ দিয়ে চোখদুটো মুছে নিয়ে বলল, এরপর একদিন দেখবে আমাকে পাগলা গারদে পাঠানো হয়েছে।
রাজা একটু হেসে আচমকা রেমিকে বুকের মধ্যে টেনে নিয়ে বলে, না। তোমাকে পাগল হতে দেবই না আমি।
ছাড়ো ছাড়ো! ছিঃ। —বলে এক ঝটকায় সরে যায় রেমি। তারপর চাপা হিংস্র গলায় বলে, খবরদার আমাকে নিয়ে খেলা করতে চেয়ো না কোনওদিন।
কী বলছ, রেমি?
ওরকম করছ কেন? আমি কি দেহসর্বস্ব? শরীর ছাড়া আমার কিছু নেই? —রেমি রাগে গড়গড় করতে করতে বলে।
শরীর! শরীরের কথা উঠছে কেন? ভালবাসা–
ওটা মোটেই ভালবাসা নয়। শালীনতাবোধ বাদ দিয়ে ভদ্রতার ধার না ধেরে ও কী রকম ভালবাসা?
আমরা তো ভারচুয়ালি স্বামী-স্ত্রী, রেমি।
মোটেই নয়।
নয়?
না, আমি এখনও ওরকম করে ভাবতে পারি না।
তবে কী ভাবে?
রেমি একটা চেয়ার সামনে পেয়ে বসে পড়ল। তারপর একটু দম নিয়ে বলল, আমি খুব টায়ার্ড। এখন কোনওরকম জেদ বা জোর খাটিয়ো না। আমার ভাল লাগবে না।
বেশ। আর কী?
আর কিছু নয়। শুধু বলি, পুরুষের খেলার পুতুল হয়ে থাকার জন্য রেমি নয়। তোমার কুট্টিদা ক’দিন আগে আমাকে বলেছিল ডিভোর্স করে আবার আমাকে নিয়ে থাকবে। তবে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে নয়। ও নাকি বিয়েতে বিশ্বাসী নয়।
বলেছিল?
হ্যাঁ, ওটা ওর পাগলামি কিন্তু আমাকে তাতে সায় দিতে হবে। আবার তুমি আমাকে একঘর আত্মীয়স্বজনের ভিতর বাড়িতে নিয়ে এসেছ একটা চূড়ান্ত কিছু করতে। আমি এসব বুঝতে পারছি না। ভালও লাগছে না।
আচ্ছা রেমি, ক্ষমা চাইছি। তোমার মনের অবস্থাটা ঠিক জানতাম না।
রেমির যে মন আছে সেটা জানো তো! তা হলেই হবে।
যাচ্ছ তা হলে?
যাচ্ছি।–বলে রেমি উঠল।
একটা কথা শোনো, রেমি। রাগ পুষে রেখো না। যদি তোমার শরীর আর-কোনওদিন ছুঁতে না-ও দাও, মেনে নেব। কিন্তু ভুল বুঝাে না। আমি তোমাকে ভীষণ ভালবাসি।
জানি। বার বার ওকথা বলো কেন? ভালবাসার কথা অত বলতে নেই। তোমার কুট্টিদা আজ অবধি কখনও বলেনি।
কুট্টিদা তোমাকে ভালবাসেও না তো, রেমি।
কে বলল বাসে না? বাইরের লোক কি টের পায় কখনও? আমি পাই।
