-জি।
-বাতাইয়ে।
-সুরৎ আঈনহ্মে টুক দেখ তো কেয়া সুরৎ হয়!
বদজবানী তুজে উস মুহপে সজাবার নহীঁ।
-মীরসাব; হ্যায় না?
-জি, মেরি জান।
-বহ তো কল দের তলক দেখতা ইধর কো রহা
হমসে হী হাল-এ তবাহ্ অপনা দিখায়ে নহ্ গয়া।
মাশআল্লা। আমি ঝুঁকে পড়ে তার পায়ে চুম্বন করি।
-এ কী করছেন, মিঞা?
-মহব্বত থাকে পায়ে। আমি হেসে বলি।
-কিঁউ?
-দেখেননি, মীরার গিরিধরলাল কেমন শ্রীরাধার পদসেবা করেন? আমরা, মানুষেরা নামি ওপর থেকে, ওষ্ঠচুম্বন করতে করতে, আর মোহনজি শ্রীরাধার পদচুম্বন করতে করতে ওপরে ওঠেন।
আমাদের প্রেম তাই একদিন হারিয়ে যায়, তাঁর প্রেম লীলা হয়ে ফুটে ওঠে।
-শোভানাল্লা, হিরামান্ডিমে এ কৌন ফরিস্তা আয়া আজ!
বারিসাব হা-হা করে হেসে ওঠেন। -দ্যাখো বলবন্ত, কাণ্ড দ্যাখো, হিরামান্ডিতে এসে ইবলিশ হয়ে গেল ফরিস্তা।
পয়ত্রিশ বছরের রেন্ডিটা তখন আমার হাত চেপে ধরেছে, তার দুই চোখে কুয়াশা, যেন আমিই মীরার গিরিধরলাল। গলা খাঁকারি দিয়ে বললাম, মাল কোথায়?
সে কথা বলতে পারে না তার চোখে ফুটে ওঠে অবিশ্বাস।
-মাল তো দিখাইয়ে। রাত এইসি গুজর জায়েগা? আমি এক চুমুকে গ্লাস শেষ করে বলি।
মালকিন পাঠান দালালের দিকে তাকাতেই সে উঠে চলে গেল। কিছুক্ষণ পরে গোলাপী জর্জেট শাড়ি পরা একটা মেয়ে নিয়ে এল। আমি তাকে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখলাম। লক্ষ করলাম, বলবন্তও আড়চোখে মেয়েটাকে দেখছে। মেয়েটা বেশ রোগা, মুখে বহুৎ রং মেখে এসেছে, চোখে গাঢ় কাজল। আমার দিকে তাকিয়ে চোখ মটকে জিজ্ঞেস করল, কিছু একটা বলতে হবে তো, তাই বলল, কোথা থেকে আসছেন?
-তোমার আম্মিজানের গাঁও থেকে।
-জি? সে চোখ বড় বড় করে তাকাল।
-তুমি কোত্থেকে এসেছে?
-জি-
এইসব মেয়ের সঙ্গে কথা বলা তো দূরের কথা, শোওয়াও যায় না। আমি বাতিল করে দিলাম। পাঠান দালাল পরপর বেশ কয়েকজনকে নিয়ে এল, কাউকেই পছন্দ হল না আমার। বারিসাব এজন্য প্রতিবারই আমার ওপর রেগে যেতেন। -ব্যাপার কী মান্টো, বিছানায় গিয়ে তো শোবো, তার জন্য এত কথার কী আছে?
-আপনি যান না কাউকে নিয়ে।
কিন্তু আমি মত না দিলে বারিসাবও যে বিছানায় যাবেন না তা আমি জানতাম। এরপর যে-মেয়েটা এল, সে বেশ লম্বা, ঝকঝকে, তার মুখের হাসিটি উত্তেজকই বলা যায়। তবে তার দুচোখ কালো কাচের চশমায় ঢাকা। নামাজ আদায়ের ভঙ্গিতে সে এসে আমাদের সামনে বসল। আমার বেশ পছন্দই হয়েছিল তাকে। এর আগে যাদের আনা হয়েছিল, তাদের সবাইকে কিছু না কিছু প্রশ্ন করেছি, উত্তর দিতে পারেনি, সব মাথামোটার দল। মনে হল, এ মেয়েটা পারবে। জিজ্ঞেস করলাম। একটা ধাঁধার উত্তর দিতে পারবে?
-জি বলুন।
-ভুরান নামে এক বাই ছিল। তার মেজাজ মর্জি সবার থেকেই আলাদা। একদিন সে মির্জা মজহর জান-ই জন্নকে খত্ পাঠাল, আপনার জন্য আমি বেচায়েন হয়ে আছি। কিন্তু আপনি চারজনকে ভালবাসেন। আমি কখনও তেমন হতে পারি না। চারজনকে ভালবাসা মেয়েদের উচিৎ নয়। বলো তো, মির্জাসাব কী উত্তর দিয়েছিলেন?
-বারোজনের বদলে চারজনকে যে ভালবাসে, সে অনেক বেশী ধার্মিক।
উত্তর শুনে আমি চমকে গেলাম। -কী করে জানলে?
মেয়েটি হেসে বলল, চারজনকে যে ভালবাসে, সে সুন্নি-চারজন খলিফাঁকে সে মান্য করে। আর বারোজনকে যে ভালবাসে সে শিয়া-বারোজন ইমাম তাকে পথ দেখান।
-এ কিস্সাটা জানলে কোত্থেকে?
মেয়েটি হাসে উত্তর দেয় না। আমার তাকে পছন্দ হয়ে যায়। কথা বলতে পারব না, এমন কোন রেন্ডির সাথে সারা রাত কাটানো যায়? কিন্তু মেয়াটা সন্ধেবেলা চোখে কালো চশমা পরে আছে কেন? কথাটা জিজ্ঞেসও করলাম।
বেশ চোস্ত মেয়ে। সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিল, আপনার খুবসুরতি আমার চোখ ধাঁধিয়ে দিচ্ছে জনাব।
-কেয়া বাত। তোমার সঙ্গে শুলে তো বেহস্তে যাব মনে হচ্ছে, মেরি জান।
-আমি তবে আগে যাই। বারিসাব চেঁচিয়ে ওঠেন। মান্টোভাই, তোমার আগে জন্নতে যাওয়ার সুযোগটুকু আমাকে দাও।
-দেবো, দেবো, আর আগে সত্যিটা দেখি। বলতে বলতে আমি মেয়েটির চোখ থেকে কালো চশমা টেনে খুলে দিই। ট্যারা, এক্কেবারে ট্যারা একটা মেয়ে। আমি চশমাটা তার হাতে ফিরিয়ে দিয়ে বললাম, চশমা না পরে এলে, ট্যারা হলেও আমি তোমার সঙ্গে শুতে যেতে পারতাম। কিন্তু মিথ্যে আমি সহ্য করতে পারি না, মেরি জান। কাটো, এবার কেটে পড়ো দেখি। চালিয়াতি আমি বরদাস্ত করি না।
সে মেয়েটিও চলে গেল। রাত প্রায় এগারোটা বাজতে চলেছে। আবার নানারকম ভাজাভুজি, কাবাব এল। পাঁচ পেগ খতম হয়ে গেছে। ছ নম্বর গ্লাসে ঢালতে যাওয়ার সময় মালকিন আমার হাত চেপে ধরল, আর খাবেন না জনাব।
-কেন?
-মান্টোভাই, কথা শোনো। বলবন্ত বলল। – উনি তোমার ভালর জন্যই বলছেন।
-আমার ভালর জন্য? বলবন্ত তুমি এদের চেনো না। বাকি মালটা ও দালালের জন্য রাখতে চায়। আরে বাবা, দালালের জন্য চাই তো বলো, পুরো বোতল আনিয়ে দিচ্ছি। এসব হারামজাদিকে তুমি চেনো না।
আমি গ্লাসে চুমুক দিতেই মালকিন আবার হাত চেপে ধরল।-আল্লা কসম, আর খাবেন না, জনাব। আপনার মতো মানুষ আমি আগে কাউকে দেখিনি।
-তাই? আমার মতো খুবসুরতও এই দুনিয়াতে আর কেউ নেই। আমি তার পেটে হাত বোলাতে লাগলাম, সে একবারও বাধা দিল না। আমি তার গলায় চুমু খেতে খেতে বললাম, তুমি ক্লিওপেট্রা, তুমি জানো? জানো না। মান্টোর কাছে শুনে রাখো।
