হ্যাঁ, বেঁচে ছিলাম, ঈশ্বর সিংয়ের মতোই বেঁচেচিলাম। তখনও ব্রহ্মাণ্ড পুড়ছে, আমি পুড়ছি। ঈশ্বর সিং কীভাবে বেঁচে থাকল, আমি ভেবেই পাই না, মির্জাসাব। ভাইজানরা, অনেকদিন। আগে কথা দিয়েছিলাম, ঠাণ্ডা গোস্ত-এর গল্প একদিন আপনাদের শোনাব।
সে এক মধ্যরাত্রির কাহিনি। ঈশ্বর সিং-এর জীবনের এক মধ্যরাত্রি, আর আমাদের জীবনেরও, যারা ভারতবর্ষ নামে একটা দেশের বুকেই বেঁচে ছিলাম, কিন্তু বুকটা দুফালি করে আমাদের আলাদা হয়ে যেতে হবে, কে জানত! সেই রাতে ঈশ্বর সিংকে ঘরে ঢুকতে দেখে কুলবন্ত কাউর বিছানা থেকে নেমে এসেছিল। ধারালো চোখে লোকটার দিকে তাকিয়ে দরজা বন্ধ করে দিল কুলবন্ত। বিছানায় এসে বসে কুলবন্ত দেখল, ঈশ্বর সিং কেমন থতমত খেয়ে দাঁড়িয়ে আছে, যেন কোনও সমস্যার সমাধান কিছুতেই খুঁজে পাচ্ছে না। হাতে কৃপাণ নিয়ে সে ঘরের এক কোণে মাথা নীচু করে দাঁড়িয়ে আছে। পাগরিটা ঢিলে হয়ে গেছে। কুলবন্ত দেখল, কৃপাণ ধরে থাকা হাতটা কাঁপছে।
বেশ কিছুক্ষণ চুপচাপ কেটে যাওয়ার পর নীরবতা সহ্য না করতে পেরেই কুলবন্ত ডেকে উঠল, ঈশ্বর সিয়াঁ।
ঈশ্বর সিং এক মুহূর্ত কুলবন্তের দিকে তাকিয়ে চোখ সরিয়ে নিল।
-ঈশ্বর সিয়াঁ, কদিন ধরে কোথায় থাকো, কী করো, বলো তো? কুলবন্ত চেঁচিয়ে ওঠে।
-জানি না।
-এ আবার কোন উত্তর হল!
কৃপাণটা ছুঁড়ে ফেলে ঈশ্বর সিং বিছানায় ঝাঁপিয়ে পড়ল। তাঁকে দেখে মনে হয়, বেশ কয়েকদিন ধরে সে অসুস্থ। ঈশ্বরের কপালে হাত রেখে কুলবন্ত বলল, কী হয়েছে জানি?
ঈশ্বর সিং সিলিংয়ের দিকে তাকিয়ে ছিল। কুলবন্তের দিকে তাকিয়ে সে গুমরে উঠল, কুলবন্ত।
-বোলো জানি।
পাগড়ি খুলে ফেলে ঈশ্বর সিং আবার কুলবন্তের দিকে তাকাল। তার চোখ দেখে মনে হয়, কুলবন্তের কাছে সে আশ্রয় পেতে চায়। তারপর একটা গোঙানি বেরিয়ে এল তার মুখ থেকে, আমি পাগল হয়ে যাব কুলবন্ত।
ঈশ্বর সিংয়ের চুলে বিলি কাটতে কাটতে কুলবন্ত বলল, কদিন ধরে কোথায় আছ বলো তো?
দাঁতে দাঁত চিপে ঈশ্বর সিং বলল, শালা মাদারচোদ্দ, আমার শত্তুরের মায়ের সঙ্গে বিছানায়। হঠাই সে কুলবন্তকে জড়িয়ে ধরে তার বুক টিপতেটিপতে হাসতে লাগল, কসম ওয়াহে গুরু কি, তোমার মত অওরৎ আমি আর দেখিনি কুলবন্ত।
কুলবন্ত বুক থেকে ঈশ্বর সিংয়ের হাত সরিয়ে দিয়ে বলে, মেরি কসম, সাচ্চা বলো, কোথায় ছিলে? শহরেই?
-না।
-আমার মন বলছে, শহরেই ছিলে। প্রচুর টাকা লুঠ করে এখন আমার কাছে লুকোতে চাইছ, তাই না?
-তোমাকে মিথ্যে বললে আমি বাপের পুত্তর না।
কুলবন্ত কিছুক্ষণ তার দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর ফুঁসে উঠল, সেদিন রাতে তোমার কী হল, আমি তো এখনও বুঝতে পারছি না। আমার পাশেই তো শুয়েছিলে। লুঠ করে আনা অত গয়না আমাকে পরিয়ে দিয়েছিলে। চুমু খেতে খেতে কত কথাই না বলছিলে। তারপর হঠাৎ কী হল তোমার। একটা কথাও না বলে জামাকাপড় পরে বেরিয়ে গেলে। কী-কী হয়েছিল বলো তো?
ঈশ্বর সিং কে দেখে মনে হচ্ছিল, কেউ তার মুখ থেকে সব রক্ত শুষে নিয়েছে।
-ঈশ্বর সিয়াঁ তোমার ভেতরে কিছু চলছে। আমাকে লুকোচ্ছ।
-কিছু না। তোমার দিব্যি কুলবন্ত।
-কিন্তু আটদিন আগে যে মানুষটাকে দেখেছি, সে তো তুমি নও। কেন? কী করেছ, বলো?
ঈশ্বর সিং কোন কথা না বলে কুলবন্তকে জড়িয়ে ধরে, পাগলের মতো চুমু খেতে খেতে বলে, জানি, আমি তোমার সেই ঈশ্বর সিয়াঁ।
-সেদিন রাতে কী হয়েছিল, সত্যি সত্যি বলো।
-শালা মাদারচোদের মাকে
-আমাকে বলবে না?
-কী বলব? কী বলার আছে?
-মিথ্যে বললে তুমি নিজের হাতে আমাকে পোড়াবে ঈশ্বর সিয়াঁ।
কুলবন্তকে আরো জোরে চেপে ধরে ঈশ্বর সিং, তার গলায় চুমু খেতে থাকে। কুলবন্ত হেসে ওঠে, ঈশ্বর সিং-ও হাসতে থাকে। তারপর সে জামা খুলে ফেলে বলে ওঠে এসো, এবার তা হলে তাস খেলা যাক।
কুলবন্ত ছদ্মরাগ দেখিয়ে বলে, জাহান্নামে যাও।
ঈশ্বর সিং কুলবন্তের ঠোঁট চুষতে শুরু করে। কুলবন্ত আর আর বাধা দিতে পারে না। ঈশ্বর সিং চেঁচিয়ে ওঠে, শালা এবার তুরুপের তাস। কুলবন্তকে নগ্ন করে তার শরীর চাটতে থাকে সে।
কুলবন্ত বলে ওঠে, তুমি একটা জন্তু।
-হ্যাঁ, জন্তুই তো।
কুলবন্তের ঠোঁট, কানের লতি কামড়াতে থাকে সে, বুক টেপে, চোষে, পেটে মুখ ঘষতে থাকে। কুলবন্তের শরীরও জ্বলে ওঠে। কিন্তু ঈশ্বর সিং টের পায়, এত কিছু করেও তার নিজের শরীর জাগছে না। কুলবন্ত একসময় গোঙাতে-গোঙাতে বলে, অনেক তাস ভেঁজেছো ঈশ্বর সিয়াঁ। তুরুপের তাস কোথায়?
না, তুরুপের তাস আজ তার হাতে নেই। অবসন্ন, হতাশ ঈশ্বর সিং বিছানায় মুখ ঢেকে শুয়ে। পড়ে। এবার কুলবন্ত তাঁকে নানাভবে জাগানোর চেষ্টা চালিয়ে যায়। শেষে বিরক্ত কুলবন্ত চেঁচিয়ে ওঠে, কোন ডাইনের সঙ্গে এই কদিন বিছানায় শুয়েছো ঈশ্বর সিয়াঁ? সে তো তোমাকে ছিবড়ে বানিয়ে দিয়েছে।
ঈশ্বর সিং হাফাতে থাকে। কুলবন্ত আরও চেঁচায়, বলো তো কোন ডাইন-তার নাম বলো
-কেউ না কুলবন্ত। আমার জীবনে আর কেউ নেই।
-আজ আমাকে সত্যিটা জানতেই হবে। ওয়াহে গুরুর নামে দিব্যি করে বলল, মাগীটা কে? মনে রেখো আমি সর্দার নিহাল সিংয়ের মেয়ে। মিথ্যে বললে তোমার মাংস কিমা করে ছাড়ব। এবার বলো, মাগীটা কে?
