সঞ্জয় বলল, সঞ্জয়ের স, রাজুর রা, রূপার রূ, মিম্মির মি আর সোহলের সো, তা হলে হয় সরারমিসো–কেমন হল এটা?” জাপানি জাপানি শোনা যায়!”
রাজু বলল, “পাঁচজনের পাঁচটা অক্ষর, সব মিলিয়ে মনে হয় ফ্যাক্টরিয়াল পাঁচভাবে সাজানো যাবে। ফ্যাক্টরিয়াল পাঁচ হচ্ছে একশ বিশ। কাজেই একশ বিশটা থেকে একটা বেছে নেওয়া যায়।”
মিম্মি মাথায় হাত দিয়ে বলল, “এখন বসে বসে একশ বিশটা নাম লিখতে হবে?”
রাজু বলল, “উঁহু, আমি এর মাঝে একটা বের করেছি। রূমিসোরাস।”
“রামিসোরাস?”
“হ্যাঁ। এই নামের মাঝে একটা ডাইনোসর ডাইনোসর ভাব আছে। ডাইনোসরের নামের পিছনে সোরাস থাকে দেখিসনি? টাইরানোসোরাস, স্টেগোসোরাস, ব্রন্টোসোরাস-”
মিম্মি আবার বলল, “রূ-মি-সো-রা-স? তার মানে রূপার নামটা আগে?”
“সমস্যা কী? কোনো একজনের নাম তো প্রথমে থাকতে হবে।”
“তা হলে মিরূসোরাস না কেন?”
রূপা বলল, “ঠিক আছে, ঠিক আছে মিম্মির নামটাই আগে থাকুক। মিরূসোরাস।”
মিম্মি বলল, “আমি মোটেও আমার নামটা আগে দিতে চাচ্ছি না। মিরূসোরাস শুনতে ভালো শোনায় সেই জন্যে বলছি।”
সঞ্জয় বলল, “রামিসোরাস আর মিরূসোরাসের মাঝে কোনো পার্থক্য নাই। তুই নিজের নামটা আগে দেওয়ার জন্যে মিরূসোরাস করতে চাচ্ছিস।”
মিম্মি মুখ শক্ত করে বলল, “মোটেও না।”
সঞ্জয় বলল, “অবশ্য অবশ্য অবশ্যই।”
“না, না, না!”
আরেকটু হলে দুজনে মারামারি শুরু করে দিত, রূপা তখন ধমক দিয়ে সঞ্জয়কে থামাল, “আমি যদি আপত্তি না করি তা হলে তুই ঘ্যান ঘ্যান করছিস কেন?”
“আমি মোটেও ঘ্যান ঘ্যান করছি না। আমি যুক্তি দিয়ে কথা বলছি।”
“থাক, থাক। এত যুক্তির দরকার নাই।”
রাজু বলল, “ব্যস অনেক আলাপ-আলোচনা হয়েছে। এখন সবাই থাম। তা হলে আমাদের টিমের নাম হচ্ছে টিম মিরূসোরাস।”
রূপা বলল, “হ্যাঁ। টিম মিরূসোরাস।”
অন্যেরা মাথা নাড়ল।
.
পরের বিজ্ঞান ক্লাশে বিজ্ঞান ম্যাডাম আবার ক্লাশে বেঞ্চগুলো দেয়ালের কাছে সরিয়ে মাঝখানে জায়গা করে নিলেন। তারপর সবগুলো গ্রুপের নাম লিখে নিলেন। শুধু একটা গ্রুপের নাম বদলাতে হল–তারা নাম রেখেছিল টিম ধুরন্ধর, বিজ্ঞান ম্যাডাম সেটাকে বদলে করে দিল টিম সহজ-সরল। ধুরন্ধর কোনো টিমের নাম হতে পারে না। রূপাদের টিমের নামটা শুনে প্রথমে সবাই অবাক হল, যখন সেটা কীভাবে তৈরি হয়েছে বুঝতে পারল তখন সবাই মাথা নাড়তে লাগল, কেন তাদের মাথায় এই আইডিয়াটা আগে আসেনি সেটা নিয়েও কেউ কেউ আফসোস করল।
বিজ্ঞান ম্যাডাম তারপর কিছুক্ষণ কথা বললেন, তারপর সবাইকে জিজ্ঞেস করলেন কে কী নিয়ে কাজ করতে চায়। মাসুক তড়াক করে লাফ দিয়ে উঠে বলল
সে রোবট বানাতে চায়।
ম্যাডাম বললেন, “তোমার গ্রুপের অন্যেরা কী বলে?”
মাসুক বলল, “তারাও চায় ম্যাডাম।”
“তাদের মুখ থেকেই শুনি।
তখন তাদের গ্রুপের অন্যেরা উঠে দাঁড়াল। ম্যাডাম জিজ্ঞেস করল, “তোমরাও কী রোবট তৈরি করতে চাও?”
একজন মাথা চুলকে বলল, “ইয়ে মানে, আমরা তো জানি না কেমন করে তৈরি করতে হয়।”
ম্যাডাম কিছু বলার আগেই মাসুক বলল, “আমরা শিখে নেব ম্যাডাম।”
“ঠিক আছে। ঠিক আছে!” ম্যাডাম একটু হাসলেন, “আমি হলে একটা কাজ করি। অনেকগুলো প্রজেক্ট নিয়ে তোমাদের সাথে কথা বলি। তারপর তোমরা নিজেরা নিজেরা ঠিক করো কে কোনটা করতে চাও!”
সবাই রাজি হল। ম্যাডাম তখন কথা বলতে শুরু করলেন। কোনটা কীভাবে তৈরি করা যায় সেটা নিয়ে আলোচনা করলেন, কোনটা সোজা কোনটা কঠিন, কোনটা তৈরি করতে কী লাগবে সেগুলো বোঝালেন। সঞ্জয় রূপার পাশে বসেছিল, ম্যাডাম যেই প্রজেক্টের কথা বলে সে সেটাই শুনে মাথা নেড়ে বলল, “এইটাই আমাদের তৈরি করতে হবে! এইটা হচ্ছে ফার্স্ট ক্লাশ! এইটা হচ্ছে এক নম্বরী।”
ক্লাশের শেষে ম্যাডাম বললেন, “তোমরা গ্রুপের ছেলেমেয়েরা স্কুলের পরেও নিজেরা তোমাদের প্রজেক্ট নিয়ে আলোচনা করো। বাসা কাছাকাছি থাকলে ছুটির দিনেও তোমরা কাজ করতে পার।”
রূপা তখন তার হাতে কিল দিয়ে মনে মনে বলল, “ইয়েস!” এখন তার সুযোগ হয়েছে স্কুল ছুটির পরে কিংবা ছুটির দিনে রাজুর সাথে পরামর্শ করা। সোহেল যেহেতু তাদের গ্রুপের একজন তার বাসাতে যেতেও এখন কোনো সমস্যা নেই। এক ঢিলে অনেকগুলো পাখি মারা গেল।
.
কাজটা অবশ্যি খুব সহজ হল না। রাতেরবেলা খেতে বসে রূপা প্রথমে কথাটা বলল। শুনে আম্মু ঝঙ্কার দিয়ে বললেন, “এইটা কোন ধরনের ঢং? বই পড়বে, বই মুখস্থ করবে তার বদলে প্রজেক্ট? প্রজেক্ট আবার কী?”
রূপা মুখ গম্ভীর করে বিজ্ঞান ম্যাডামের কাছে শোনা কথাগুলো বলার চেষ্টা করল, “আম্মু, আজকাল সারা পৃথিবীতেই লেখাপড়াটা অন্যরকম হয়ে গেছে। এখন আর কেউ কোনো কিছু মুখস্থ করে না। আগে স্যার-ম্যাডামরা পড়াত ছাত্র ছাত্রীরা শুনত। এখন ক্লাশে ছাত্র-ছাত্রীরাও কথা বলে-”,
আম্মু চোখ পাকিয়ে বললেন, “ক্লাশে ছাত্র-ছাত্রীরা কথা বলে? কী কথা বলে?”
“যেটা পড়ানো হয় সেটা নিয়ে আলোচনা করে। প্রশ্ন করে।”
“ক্লাশে আলোচনা করে? প্রশ্ন করে? বেয়াদবের মতো?”
“বেয়াদবী কেন হবে? ছাত্র-ছাত্রীদের নিজেদের কথা বলতে বলে।”
আম্মু টেবিলে থাবা দিয়ে বললেন, “হতেই পারে না। লেখাপড়া হতে হবে লেখাপড়ার মতোন। আমরা স্কুলে বেতন দেই রং-তামাশা করার জন্যে?
