এই দলিল স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গে পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় সামরিক কমান্ড লেফটেন্যান্ট জেনারেল অরোরার নির্দেশের অধীন হবে। নির্দেশ না মানলে তা আত্মসমর্পণের শর্তের লঙ্ঘন বলে গণ্য হবে এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে যুদ্ধের স্বীকৃত আইন ও রীতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আত্মসমর্পণের শর্তাবলির অর্থ অথবা ব্যাখ্যা নিয়ে কোনো সংশয় দেখা দিলে, লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার সিদ্ধান্তই হবে চূড়ান্ত।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরা আত্মসমর্পণকারী সেনাদের জেনেভা কনভেনশনের বিধি অনুযায়ী প্রাপ্য মর্যাদা ও সম্মান দেওয়ার অঙ্গীকার ঘোষণা করছেন এবং আত্মসমর্পণকারী পাকিস্তানি সামরিক ও আধা সামরিক ব্যক্তিদের নিরাপত্তা ও সুবিধার অঙ্গীকার করছেন। লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার অধীন বাহিনীগুলোর মাধ্যমে বিদেশি নাগরিক, সংখ্যালঘু জাতিসত্তা ও জন্মসূত্রে পশ্চিম পাকিস্তানি ব্যক্তিদের সুরক্ষাও দেওয়া হবে।
(জগজিৎ সিং অরোরা)
লেফটেন্যান্ট জেনারেল
জেনারেল অফিসার কমান্ডিং ইন চিফ
পূর্ব রণাঙ্গনে ভারত ও বাংলাদেশ যৌথ বাহিনী
১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১
(আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজি)
লেফটেন্যান্ট জেনারেল
সামরিক আইন প্রশাসক অঞ্চল বি
অধিনায়ক পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ড (পাকিস্তান)
১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১
রাও বললেন, বাংলাদেশ বাহিনী কেন? এটা তো আমরা মানি না।
জ্যাকব বললেন, এটা মানানোর জন্যই তো যুদ্ধ। আপনারা না মানলে আমি বাংলাদেশ বাহিনীকে ছেড়ে দেব। আপনারা কি চান মুক্তিবাহিনী হেডকোয়ার্টারে ঢুকে পড়ুক? তারা ঢুকতে চাইছে। আমি তাদের ধমক দিয়ে এসেছি।
নিয়াজি বললেন, কথাটা তো আত্মসমর্পণ নয়। যুদ্ধবিরতি।
জ্যাকব বললেন, এটা দিল্লি থেকে পাঠানো হয়েছে। আপনাদের মানতে হলে এর প্রত্যেকটা অক্ষর মানতে হবে। অসম্মানের কিছু নেই। আমিও সোলজার আপনিও সোলজার। জেনেভা কনভেনশন অনুসারে মর্যাদা পাবেন।
নিয়াজি চুপ করে রইলেন।
তারপর বললেন, এখনো আমার ৩০ হাজার সৈন্য আছে। আমি যুদ্ধ করব। (মিথ্যা কথা। কুড়িয়ে বাড়িয়ে কয়েক হাজারও হয় না। তাও তাদের হাতে অস্ত্রশস্ত্র নেই)।
জ্যাকব বললেন, বাইরে রাস্তায় ১৫ হাজার মুক্তি দাঁড়িয়ে আছে। কাদের সিদ্দিকীর দল তৈরি। তারা ভারতে ট্রেনিংপ্রাপ্ত নয়। তারা বিপজ্জনক।
সৈন্যরা আমাদের চারপাশ ঘিরে রেখেছে। আমরা প্রথমে শুরু করব এয়ার অ্যাটাক। ওকে। আপনি যদি বলেন যুদ্ধের মাধ্যমে সমাধান করবেন, আমরা তা-ই করব। আমরা এখন চলে যাব। মুক্তিবাহিনী সদর দপ্তরে ঢুকবে। তারা দাউদকান্দি থেকে এসেছে, তারা টঙ্গী দিয়ে ঢুকেছে, তারা ভৈরব দিয়ে এসেছে, তারা সাভার দিয়ে এসেছে। তারা বুড়িগঙ্গা দিয়ে আসছে। হাজার হাজার। মুক্তি…
সবাই চুপ।
আমি আধা ঘণ্টা সময় দিলাম। সিদ্ধান্ত নিন। আপনাদের সবার পরিবার আছে। সন্তানেরা আছে। ভেবে বলুন।
আধা ঘণ্টা পেরিয়ে গেল। কেউ কোনো কথা বলছে না।
জ্যাকব বললেন, আপনারা চুপ করে আছেন। তার মানে আপনারা আমাদের ডিড মেনে নিচ্ছেন। ডিল ফাইনাল।
জ্যাকব কাগজ তুলে নিলেন।
নিয়াজি বললেন, আমাদের নিরাপত্তার কী হবে?
ভারতীয় সৈন্যরা আপনাদের প্রহরা দেবে। তার আগপর্যন্ত আপনারা আপনাদের পারসোনাল অস্ত্র নিজেদের কাছে রাখবেন।
নিয়াজির দুচোখ দিয়ে জল গড়াতে লাগল।
বাকি পাকিস্তানি জেনারেলরাও কাঁদতে লাগলেন।
বকর এসে বললেন, দুপুরের খাবার রেডি। চলুন মেসে যাই।
