.
ব্যাঙ্গমা বলবে, ওই দিন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ যশোরে আসে। যশোরে তারা জনসভা করে। সভায় তারা ভাষণ দেয়। সভাপতিত্ব করেন যশোর আওয়ামী লীগের নেতা সোহরাব হোসেন। হাজার হাজার মানুষ যোগ দেয়। জয় বাংলা স্লোগানে আকাশ বাতাস কাইপা ওঠে। ভাষণ দিতে গিয়া সৈয়দ নজরুল, তাজউদ্দীন আবেগে চোখের পানি ধইরা রাখতে পারতেছিলেন না।
ব্যাঙ্গমি বলবে, সিডনি শনবার্গ নিউইয়র্ক টাইমস-এ লেখেন, জনতা আছিল সংযত। তারা আসলে শেখ মুজিবের ভাষণের সময়কার জনতার অনুজ্জ্বল সংস্করণ। কারণ, তারা সবাই জানে, তাগো নেতা শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগারে বন্দী।
.
সাংবাদিক, কবি, লেখক আবদুল গাফফার চৌধুরী কয়েকজন সাংবাদিকসহ মেজর জলিলের সঙ্গে গেলেন যশোরে।
আবদুল গাফফার চৌধুরী জয় বাংলা পত্রিকার সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করছিলেন।
মেজর জলিল বললেন, পাকিস্তানিদের বাংকার দেখবেন?
গাড়ি থামল। একটা বাংকারের কাছে গেলেন সাংবাদিকেরা।
তখন ওই বাংকার থেকে একে একে নগ্ন বাঙালি নারীরা চোখেমুখে বনপোড়া হরিণীর আতঙ্ক নিয়ে বের হচ্ছিলেন। তাঁদের মুখে, বুকে, হাতে, পায়ে আঘাতের চিহ্ন। তাঁদের চোখ শুকনো, কাঁদতে কাঁদতে তারা চোখের পানি এরই মধ্যে শেষ করে ফেলেছেন। তাদের মুখে ভাষা নেই, তারা কথা বলতেও যেন ভুলে গেছেন।
আবদুল গাফফার চৌধুরী তার ৩৭ বছরের জীবনে এর চেয়ে শকিং দৃশ্য আর দেখেননি।
শিখ সৈন্যরা তাদের মাথার পাগড়ির কাপড় খুলে মেয়েদের দিচ্ছিল। মেয়েরা সেই কাপড় শরীরে পেঁচিয়ে নিয়ে এগোচ্ছিলেন।
গাফফার চৌধুরী এগিয়ে গেলেন একজন নারীর কাছে। বললেন, নাম
কী?
তিনি খানিকটা দ্বিধা নিয়ে বললেন, ওরা তো আমাকে কোনো নাম দেয়। নাই। শুধু রোজ কলেমা পড়াত আর অত্যাচার করত।
আরেকজন নারী বললেন, আমার নাম সাহানা বেগম।
আপনি কী করতেন?
আমি টিচার। প্রাইমারি স্কুলে শিক্ষকতা করতাম। ভাই, আমি দেড় মাসের প্রেগন্যান্ট। আমাকে একটা হাসপাতালে নেবার ব্যবস্থা করতে পারেন। বুঝতেই পারছেন, আই নিড টু ডু অ্যাবরশন।
মেজর জলিলের চোখে পানি। মেজর উদম সিং হাউমাউ করে কাঁদছেন।
চোখের জল মুছতে মুছতে গাফফার চৌধুরী বললেন, মেজর সাহেব, এদের কোথায় নিয়ে যাবেন?
আপাতত আমাদের ফিল্ড হাসপাতালে নিই। তারপর সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এরা তো একজন-দুইজন নয়। হাজার হাজার।
