বিশ্বকবির সোনার বাংলা নজরুলের বাংলাদেশ
জীবনানন্দের রূপসী বাংলা রূপের যে তার নাইকো শেষ
বাংলাদেশ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট আজ্জম ভূঁইয়ার আগরতলার ক্যাম্প হাফানিয়াতে পৌঁছানোর পর তাঁরা নিরাপদ জায়গায় পৌঁছাইলেন বলা যায়।
.
আজ্জম ভূঁইয়া তাদের শ্রমিকনেতা আবদুল মান্নানের কাছে পৌঁছে দেন। আবদুল মান্নান শেখ জামালকে পেয়ে যেন আকাশের চাঁদ হাতে পেলেন, এমনি রকম আবেগাপ্লুত হয়ে পড়লেন। তিনি তাঁকে পৌঁছে দিলেন শেখ মণির কাছে।
শেখ মণির আগরতলার আস্তানায় গিয়ে দরজায় কড়া নাড়েন জামাল।
শেখ মণি বললেন, কে?
গলা চিনে জামাল বললেন, মণি ভাই, আমি জামাল।
মণি ছুটে এলেন। লুঙ্গি পরা, ধূলিধূসরিত, এ কে? জামাল! জামাল!
দুজন দুজনকে ধরে কাঁদতে থাকলেন। গোবেচারার মতো তাকিয়ে রইলেন ফিরোজ।
শেখ মণি বললেন, তুই ক্যান আসছিস?
যুদ্ধ করতে।
যাহ। যুদ্ধ করতে হবে না।
না। আমি যুদ্ধ করব।
তোর বয়স ১৮ হয় নাই।
১৮ বছরের চেয়ে কম বয়সীরাও যুদ্ধ করতেছে।
ওকে। তাহলে তুই আমাদের মুজিববাহিনীতে যোগ দে।
ক্যান? আমি মুক্তিবাহিনীতে যোগ দিব।
আরে আমাদেরটাও মুক্তিবাহিনী। তবে আমাদেরটার নাম মুজিববাহিনী। আরেকটা নাম আছে। বিএলএফ। বাংলাদেশ লিবারেশন ফ্রন্ট। মুক্তিবাহিনীতে আর্মিরা আছে, তারা পাকিস্তানে ট্রেনিং নেওয়া। আর আছে চীনপন্থীরা। নকশালরা। আছে ভাসানী ন্যাপ, মোজাফফর ন্যাপ। এরা কোনো দিনও আওয়ামী লীগের নেতাকে নেতা মানে নাই। ভবিষ্যতেও মানবে না। ছয় দফাঁকে বলেছে, সিআইএর তৈরি কাগজ। স্বাধীনতাযুদ্ধকে বলছে, দুই কুকুরের মারামারি। কাজেই আমরা মুজিববাহিনী করছি। আমরাও যুদ্ধ করি। আমরাও পাকিস্তানিদের সঙ্গে লড়াই করি। কিন্তু আমরা শেখ মুজিবের ক্যাডার। বুঝলি?
জি। বুঝেছি।
তাহলে তুই কোনটাতে যাবি? মুক্তিবাহিনী না মুজিববাহিনী?
মুজিববাহিনী।
গুড।
.
শেখ শহীদও মুজিববাহিনীর ট্রেনিংয়ে গেলেন। হলেন মুজিববাহিনীর ফরিদপুর অঞ্চলের কমান্ডার।
শেখ জামাল মুজিববাহিনীর ট্রেনিং শেষে যশোর খুলনা অঞ্চলের ফ্রন্টে চলে গেলেন।
৫৪
ব্যাঙ্গমা-ব্যাঙ্গমি বলাবলি করতে লাগল :
কিসিঞ্জারের গোপন চীন সফরের পর ইয়াহিয়া খানের সবকিছু বেড়ে গেছে। তিনি এখন আরও বেশি করে মদ খান। আরও বেপরোয়াভাবে নারীসঙ্গ করেন। সকাল থেকেই নারীরা তার প্রেসিডেন্ট হাউসে ঢুকতে থাকে। সারা দিন থাকে। কেউ কেউ থাকে সারা রাত। হামুদুর রহমান কমিশন রিপোর্টে বলা হবে, ৫০০ নারী প্রেসিডেন্ট হাউসে যাতায়াত করেছেন ১৯৭১ সালে। এদের প্রত্যেকে প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে নানাবিধ রাষ্ট্রীয় সুবিধা গ্রহণ করেছেন। এঁদের মধ্যে আছেন জেনারেল নাসিম, হামিদ, লতিফ, খুদাদাদ, ইয়াকুব, রিয়াজ, পীরজাদা, মিয়া এবং আরও অনেকের স্ত্রীগণ। এরা ছিলেন নিয়মিত দর্শনার্থী। আরও আছেন বেগম জুনাগড়, নাজলি বেগম, মিসেস জয়নব ১, মিসেস জয়নব ২, আনোয়ারা বেগম, ঢাকার শিল্পপতি লিলি খান, লায়লা মোজাম্মিল, নায়িকা শবনম, শাগুফতা, নাগমা।
ব্যাঙ্গমা বলল, এটা তুমি কী কইতাছ? ৫০০ জন নারী?
ব্যাঙ্গমি বলল, আমি কইতাছি না যে ৫০০ জনের প্রত্যেকের লগে তাঁর আকামের সম্পর্ক হইছিল, কিন্তু হ্যাঁগো অনেকেই প্রেসিডেন্টের কাছ থাইকা অনেক অবৈধ সুযোগ আদায় কইরা লইতে সক্ষম হইছিল।
এইটা অবশ্য বিশ্বাসযোগ্য।
ব্যাঙ্গমা বলল, ইয়াহিয়া ইসলামাবাদ আর লাহোরের রাজপথে খোলা জিপে চইড়া তাঁর বান্ধবীদের লইয়া ঘুরতেন। এমনকি গাড়িতে খাড়ায়া খোলা আকাশের নিচে প্রকাশ্যে তিনি বান্ধবীকে চুমাচুমি করতে লাগলেন। এইটা তিনি প্রতি রাইতে করতেন। একেক দিন একেকজন থাকত তাঁর পাশে। তাঁর পেছনে পেছনে যাইত নিরাপত্তারক্ষীরা। হ্যারা সবই দেখত।
.
পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের এসপি সরদার মুহাম্মদ চৌধুরী গেলেন ডিআইজি কাজী মুহাম্মদ আজমের কাছে।
স্যার।
বলুন।
প্রেসিডেন্টের সিকিউরিটি নিয়ে আমার একটা উদ্বেগ আছে, স্যার।
কী সেটা, বলুন।
স্যার, প্রেসিডেন্ট রোজ রাতে খোলা জিপ নিয়ে বের হন। ভোলা গাড়িতে দাঁড়িয়ে পাশের সঙ্গিনীকে প্রকাশ্যে চুম্বন করেন। এই নিয়ে নিরাপত্তারক্ষীদের মধ্যেই নানান গুঞ্জন। তারা নিজেরাই ক্ষুব্ধ। যেকোনো দিন কেউ যদি খেপে গিয়ে কিছু করে বসে, স্যার।
সরদার, দেশে কী হচ্ছে, আপনি জানেন। পূর্বে আমাদের সৈনিকেরা যুদ্ধ করছে। সেখানে আমাদের সৈনিকেরা মারা যাচ্ছে। প্রেসিডেন্টের ওপরে কত চাপ। তাঁর কত উদ্বেগ। তার তো একটু আমোদ-ফুর্তির দরকার আছে। তা না হলে তিনি রাষ্ট্রীয় কার্য চালাবেন কী করে।
তা তো বটেই, স্যার। তা তো বটেই, স্যার।
ইয়াহিয়া আর পারছেন না। আর ভালো লাগে না। পূর্ব পাকিস্তানে সৈন্যরা লড়াই করছে। ভালো খবর আসছে। খারাপ খবরও আসছে। খারাপ খবরের মধ্যে হলো ভারতীয়রা যুদ্ধে অংশ নিচ্ছে নানাভাবে। ইন্দিরা গান্ধী অনেক চিৎকার-চেঁচামেচি করছেন। তাঁর ওখানে নাকি ৭০ লাখ শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছে। এমনকি তিনি তাজউদ্দীনের নেতৃত্বে একটা প্রবাসী সরকারকেও ওই দেশে আশ্রয় দিয়েছেন। রাশিয়া ভারতকে অস্ত্র দিচ্ছে। আমেরিকা পাকিস্তানকে দিয়েছে অল্প কিছু অস্ত্র। এখন চীনের সাহায্য দরকার। নিক্সনকে চীনে পাঠিয়ে এই অঙ্গীকার আবারও পাওয়া গেছে। ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ লাগলে চীন পাকিস্তানের পক্ষে যুদ্ধ করবে।
