খালেদ মোশাররফ উঠে বলেন, না, ওয়ার কাউন্সিল করা যাবে না। তিনি বলেন, সাংগঠনিক কিছু বদল দরকার। সেটা করলেই হবে। আর ওসমানী সাহেবকে সরানোর যেকোনো প্রয়াস আমি এবং আমার কমান্ডের সৈনিকেরা সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিরোধ করব।
লে. কর্নেল রব ওসমানীর প্রশংসা করে একটা বক্তৃতা দেন। তিনি বলেন, ওসমানী হলেন রূপকথার নায়ক।
ওসমানী পদত্যাগপত্র জমা দেন। প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীনের একটা দিন চলে যায় ওসমানীর গোস্বা ভাঙাতে।
সম্মেলন ১১ জুলাই থেকে ১৫ জুলাই। যত ধরনের সমস্যা আছে সব আলোচনা হয়।
.
ব্যাঙ্গমা বলে, ১২ জুলাই প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন এক আবেগময় বক্তৃতা করেন। তাতে সবার সমালোচনা স্তিমিত হইয়া যায়।
ব্যাঙ্গমি বলে, ঠিক হয়–সেনাপ্রধান হইবেন কর্নেল (অব.) এম এ জি ওসমানী। চিফ অব স্টাফ লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) এম এ রব। ডেপুটি চিফ অব স্টাফ উইং কমান্ডার এ কে খন্দকার। আর এগারোটা সেক্টর থাকব।
১ নম্বর সেক্টর হইব চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলা এবং নোয়াখালী জেলার মুহুরী নদীর পূর্ব এলাকা নিয়া। অধিনায়ক হইবেন মেজর রফিকুল ইসলাম। তিনি ১১ জুন থাইকা দায়িত্ব পালন করছিলেন। এর আগে ১০ এপ্রিল থাইকা ১০ জুন পর্যন্ত অধিনায়ক আছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান।
২ নম্বর সেক্টর হইব ফরিদপুর জেলার পূর্বাঞ্চল, ঢাকা শহরসহ ঢাকা জেলার দক্ষিণাংশ, আখাউড়া-আশুগঞ্জ রেললাইনের উত্তরাংশ বাদে কুমিল্লা। জেলা এবং মুহুরী নদীর পূর্বাঞ্চল বাদে নোয়াখালী জেলা নিয়া। অধিনায়ক হইবেন মেজর খালেদ মোশাররফ। পরে তিনি কে ফোর্সের অধিনায়ক হইলে মেজর এ টি এম হায়দার অধিনায়ক নিযুক্ত হন।
৩ নম্বর সেক্টর হইব কুমিল্লা জেলার একাংশ, সিলেট জেলার একাংশ, ঢাকা জেলার উত্তরাংশ ও ময়মনসিংহ জেলার কিশোরগঞ্জ মহকুমা নিয়া। অধিনায়ক হইবেন মেজর কে এম সফিউল্লাহ। পরে তিনি এস ফোর্সের অধিনায়ক হইলে মেজর এ এন এম নুরুজ্জামান অধিনায়ক নিযুক্ত হন।
৪ নম্বর সেক্টর হইব সিলেট জেলা সদরের অর্ধাংশ, মৌলভীবাজার মহকুমা ও সুনামগঞ্জ মহকুমার একাংশ নিয়া। অধিনায়ক হইবেন মেজর সি আর দত্ত।
৫ নম্বর সেক্টর হইব সিলেট জেলার সদর, জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ এবং সুনামগঞ্জ মহকুমার ছাতক, দোয়ারাবাজার, বিশ্বম্ভরপুর ও জামালগঞ্জ থানা নিয়া। অধিনায়ক হইবেন মেজর মীর শওকত আলী।
৬ নম্বর সেক্টর হইব দিনাজপুর জেলার একাংশ ও রংপুর জেলার একাংশ নিয়া। অধিনায়ক হইবেন উইং কমান্ডার এম কে বাশার।
৭ নম্বর সেক্টর হইব রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, দিনাজপুর জেলার একাংশ ও রংপুর জেলার একাংশ নিয়া। অধিনায়ক হইবেন মেজর নাজমুল হক। তিনি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হইলে এই সেক্টরের অধিনায়ক হন কাজী নূর উজ-জামান।
৮ নম্বর সেক্টর হইব কুষ্টিয়া, যশোর, ফরিদপুর জেলার একাংশ ও খুলনা জেলার সাতক্ষীরা মহকুমা নিয়া। অধিনায়ক হইবেন মেজর আবু ওসমান। চৌধুরী। পরে অধিনায়ক নিযুক্ত হন মেজর এম এ মঞ্জুর।
৯ নম্বর সেক্টর হইব বরিশাল, পটুয়াখালী, খুলনা জেলার একাংশ ও ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জ মহকুমার একাংশ নিয়া। অধিনায়ক হইবেন মেজর এম এ জলিল।
১০ নম্বর সেক্টর হইব নৌকমান্ডোগো লাইগা।
১১ নম্বর সেক্টর হইব ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল জেলা নিয়া। অধিনায়ক। হইবেন মেজর জিয়াউর রহমান। তিনি থাকবেন ১০ জুনের পর থাইকা ১২ আগস্ট পর্যন্ত। এরপর তিনি জেড ফোর্সের অধিনায়ক হইলে এই সেক্টরের অধিনায়ক হন মেজর আবু তাহের। তিনি একটা যুদ্ধে আহত হইলে ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট এম হামিদুল্লাহ অধিনায়ক হন।
ঠিক হয়, ট্রেনিং দেওয়ার গতি বাড়াইতে হইব, যাতে অনেক বেশিসংখ্যক গেরিলা তৈরি করা যায়। গেরিলা অপারেশন করতে ছোট ছোট দলরে দেশের ভিতরে পাঠানোর সংখ্যা আর তীব্রতা বাড়ানো হইব। পাশাপাশি কনভেনশনাল ওয়ার কইরা ঢাকা জয় করার পরিকল্পনা নিয়াও আগাইতে হইব। নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, গোলান্দাজ বাহিনী, সিগন্যাল কোরের যারা আসছেন, তাগো সমবেত ও সংগঠিত কইরা জলে-স্থলে-অন্তরিক্ষে যুদ্ধ করবার মতো উপযুক্ত বাহিনী গইড়া তোলা হইব।
