আমার উপন্যাস ‘অশ্বচরিত’ কল্যাণীর কিশোর সেনগুপ্ত মঞ্চে আনেন। উনি যখন টেলিফোনে প্রস্তাব দেন, আমি বলেছিলাম হয় না। কী করে হবে? উনি ভানু দাস ছন্দক আর ঘোড়া কন্থকের কাহিনি মঞ্চে এনে আমাকে মুগ্ধ করেছিলেন। অশ্বচরিতের পর কিশোর ধ্রুবপুত্র করতে চেয়েছিলেন। নাটক লিখে ফেলেছিলেন। কিন্তু শেষ অবধি হয়নি। সেই সময় ধ্রুবপুত্রের একটি বড় আলোচনা বেরিয়েছিল চতুরঙ্গ পত্রিকায়। লিখেছিলেন কুমার রায়। কোনো এক পয়লা মে একাডেমিতে বহুরূপীর জন্মদিনে আমাকে যেতে বলেছিলেন অমিয় হালদার। তিনি তখন বহুরূপীর সঙ্গে জড়িত। অভিনেতা। আমি গিয়ে কুমার রায়কে প্রণাম করতে তিনি আমার হাত ধরে বলেছিলেন, তিনি তাঁর শেষ প্রযোজনাটি করতে চান ধ্রুবপুত্র নিয়ে। আমাকে নাটক লিখে দিতে বলেছিলেন। লিখেছিলাম কয়েকটি দৃশ্য, কুমারদার বাড়িতে শোনাতে গিয়ে টের পেয়েছিলাম হয়নি। হবে না। না, আমি তখন বুঝেছিলাম নাটক এক আলাদা আর্ট ফর্ম। আমি তা পারি না লিখতে। আর সব উপন্যাসে নাটক হয় না। ধ্রুবপুত্র হয়নি। হ্যাঁ, তখন হয়নি। পরে ২০১৭ সালে আবার কল্যাণী নাট্যচর্চা কেন্দ্র সেই উপন্যাস মঞ্চস্থ করেন। কিশোর সেনগুপ্ত। ধ্রুবপুত্র চমৎকার প্রযোজনা।
মেঘনাদ ভট্টাচার্য এক রাতে টেলিফোন করে বলেছিলেন ‘বালিকা মঞ্জরী’ নাটক করতে চান। তখন ওঁর সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ পরিচয় ছিল না। ওই গল্প যে নাটক হতে পারে আমি ভাবিনি। ওঁকে নিরস্ত করতে চেয়েছিলাম টেলিফোনে। উনি নিরস্ত না হয়ে তো করলেন। তারপরেও আবার আবার। মেঘনাদ ভট্টাচার্য যে নাটক কটি করেছেন, প্রতিটি আমার বাড়িতে এসে শুনিয়েছেন। বালিকা মঞ্জরী বা পিঙ্কি বুলি যে কতবার পড়া হয়েছে। ইন্দ্রাশীস লাহিড়ী নাট্যরূপ দিয়েছিলেন। ছমাস আটকে ছিল সেই নাট্য রূপায়ন। মেঘনাদের সঙ্গে দেখা এক অনুষ্ঠানে। জিজ্ঞেস করলাম, হবে না তাহলে? উনি বললেন, হবে। আপনার মতামতও চাই। একটা গিট ছাড়াতে হবে। আমার বাড়িতে এলেন তিনি। পড়া হলো নাটক। আমি আমার মতামত জানিয়ে জড়িয়ে গেছি নাটক নির্মাণে। দামিনী হে নাটক বা পাসিং শো-নাটকেও একই ব্যাপার। তবে দামিনী হে নাটকে একটি গল্প নয়, আমার অন্য গল্প ও তার সংলাপ এসে মিশেছে। আর একটি উপাদান নাট্যকার চন্দন সেন নির্মিত। ফোটোগ্রাফার বিডিও এবং ঐ বিষয় আমার গল্পে ছিল না। আমার গল্পের বাইরে। কিন্তু তা বাদে আমার অন্য গল্পের সংলাপও এই নাটকে ব্যবহৃত। নাটককার, পরিচালক আমাকে এত পড়েছেন ভেবেই আমি রোমাঞ্চিত। সায়ক এখন অবধি যে শেষ নাটকটি প্রযোজনা করেছে, তা পুনরুত্থান উপন্যাসটি নিয়ে। ২০১৮-র প্রযোজনা। এই ধরণের উপন্যাস নিয়ে নাটক মঞ্চে আনার দুঃসাহস মেঘনাদ ভট্টাচার্যই দেখাতে পারেন। ২০১২ সাল নাগাদ নাটককার অভিনেতা নির্দেশক ব্রাত্য বসু তার ব্রাত্যজন পত্রিকায় আমাকে একটি নাটক লিখতে বলেন। লিখেছিলাম ‘শেষ পাহাড় অশ্রুনদী’। এই নাটক পরে অনেক পরিমার্জনা করেছি। ২০১৮-র ডিসেম্বরে কল্যাণী নাট্যচর্চা কেন্দ্রর নাট্টোৎসবে করিম- পুরের নাট্যদল সেই নাটক ‘অশ্রুনদী’ অভিনয় করেছে। আরো নানা উৎসবে করছে। একই নাটক শেষ পাহাড় নামে বেঙ্গালুরুর স্মরণিক নাট্যদল করছে সায়নদেব ভট্টাচার্যর নির্দেশনায়।
নাটক আমাদের জীবনে জড়িয়ে থাকে সবসময়। কবিতা গল্পও। চিত্রকলাও। গান। বাজনা। কিন্তু এর ভিতরে নাটক থাকে বেশি জড়িয়ে। অভিনয় তো করতেই হয় প্রতি পদক্ষেপে। যাপিত জীবনে অভিনয় করতে হয়, মিথ্যে বলতে হয়। জীবন তো অভিনয়ে, অভিব্যক্তির বৈচিত্রে পূর্ণ। তাইই মঞ্চে আসে। কিন্তু সত্যই কি তাই? একেক সময় তা অন্য রকম হয় না কি? অভিনয় করতে করতে ‘পরবাস’ নাটকের গজমাধব শেষে তো নিজের নিরালম্ব রূপ প্রকাশ করে ফেলে সত্য উচ্চারণ করে। নাটক এখন নাটক নয়, জীবন ভাষ্য। অভিনয় নয়, সত্য কথন। আর এই সত্য কত নিরাভরণ। চাঁদ বণিকের পালা পড়তে গিয়ে তা মনে হয়। ডাকঘর পড়তে গিয়ে বন্দী বালকের ভিতরে সভ্যতাকে বন্দী দেখি। কিন্তু একটা কথা ঠিক, সব শেষে তা বুঝি, না বুঝি, আমার কাছে আমোদ। বিভূতিবাবুর সেই চাষার মতো আমি তুচ্ছতেই বিশালত্বকে টের পাই। অভিনেতার অভিব্যক্তি আর সংলাপ উচ্চারণ অনেক কল্পনার দুয়ার খুলে দেয়। খুলে দিয়েই অভিনেতা চিরকালের মতো মাথার ভিতরে আসন পেতে বসেন। উৎপল দত্ত, অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়। মায়া ঘোষ। অরুণ মুখোপাধ্যায়। মনোজ মিত্র। মেঘনাদ ভট্টাচার্য। নীলকন্ঠ সেনগুপ্ত। ব্রাত্য বসু। বাংলা মঞ্চ চিরদিনই বড় অভিনেতাকে বরণ করে নিতে পেরেছে।
মেঘনাদ ভট্টাচার্যকে নিয়ে দু’এক কথা
গত শতকের ৯০ এর দশকের প্রথম দিকে দায়বদ্ধ দেখে আমি মেঘনাদ ভট্টাচার্য মশায়ের অনুরাগী হয়ে গিয়েছিলাম। যেমন অভিনয় তেমনি নাটক। তারপরেই বোধ হয় দুই হুজুরের গপ্পো দেখেছিলাম। কিন্তু আলাপ ছিল না। আমি নাটক দেখি, নাট্যকলার অনেক মানুষকেই পারিবারিক সূত্রে চিনতাম, কিন্তু মেঘনাদ ভট্টাচার্যকে চিনতাম না। আলাপ হয়নি। তিনি প্রতিভাবান, সুখ্যাত এবং বিখ্যাত। পরে জেনেছি তাঁর জীবনের অনেকটা অংশ কেটেছে আমার বসতির কাছে। পাইকপাড়ায় সায়ক নাট্যদলের জন্ম। মেঘনাদ নাকি এই অঞ্চলের নামী ফুটবল ক্লাব যুগের যাত্রী ফুটবল দলে খেলতেনও। পরে আমাকে বলেছেন আমার বন্ধু, অকাল প্রয়াত নাট্যপাগল অভিনেতা গৌতম লাহিড়ীকেও চিনতেন। এই মেঘনাদ ভট্টাচার্য এক রাত্তিরে ফোন করলেন। কোন বছর, ২০০৮ হবে, দিনক্ষণ মনে নেই। তিনি আমাকে বললেন আমার গল্প ‘বালিকা মঞ্জরী’ নাট্যরূপ দিয়ে মঞ্চস্থ করবেন। আমি অবাক। বললাম, এই গল্প কি নাটক হয়, আমার গল্প তো নাটকীয় নয়, এর কোনো নাটকীয়তা নেই, নাটকীয় অন্তিম নেই। কী করে হবে? একই কথা ২০০০ সালে কিশোর সেনগুপ্তকে বলেছিলাম, তিনি ফোন করেছিলেন ‘অশ্বচরিত’ উপন্যাস মঞ্চস্থ করবেন সেই কথা নিয়ে। পরে যা ঘটেছে তাতে আমি বুঝেছি, কোন গল্প বা উপন্যাস নাটক হয়, কোনটি হয় না, তা আমি জানি না, নাটকের লোক জানেন। মেঘনাদ ভট্টাচার্য সেদিন আমাকে বলেছিলেন, নাটক হয় কি হয় না, সেইটি বুঝেই তিনি প্রস্তাব দিচ্ছেন। বালিকা মঞ্জরী গল্প নিয়ে নাটক লিখেছিলেন প্রয়াত ইন্দ্রাশিস লাহিড়ী। তাঁর সঙ্গে আমার কোনোদিন দেখা হয়নি। মেঘনাদ ভট্টাচার্যর সঙ্গে সেই আমার প্রথম পরিচয়। তারপর তিনি আমার বাড়ি আসতে লাগলেন কয়েকটি কয়েকটি দৃশ্য নিয়ে। পড়া হতে লাগল। আমি আমার মতামত দিতে লাগলাম। এক একদিন এমন হয়েছে মেঘনাদ ফোন করলেন ইন্দ্রাশিসকে। বললেন কোনো দৃশ্য নিয়ে আমার প্রস্তাব। এমনি করে করে নাটক লেখা এবং পাঠ চলতে থাকে। অর্ধেক হলো। মানে বিরতি অবধি। তারপর দীর্ঘ ছ-মাস মেঘনাদ নিশ্চুপ। যোগাযোগ নেই। মনে হতে লাগল শেষ অবধি পারলেন না মেঘনাদ। সেই সময়ে দেখা সল্টলেকের ই.জেড.সি.সি-তে। আমি বললাম তাহলে হচ্ছে না বালিকা মঞ্জরী। তিনি বললেন, আমার বাড়ি আসবেন, একটি জায়গায় আটকে যাচ্ছেন মনে হচ্ছে। তাঁর পছন্দ হচ্ছে না। এলেন। দীর্ঘক্ষণ আলোচনা হলো। জট ছাড়ল। তারপর বালিকা মঞ্জরী গল্প মঞ্চে এল ‘পিঙ্কি বুলি’ নামে দুই কন্যার গল্প হয়ে। এবং সফল। আমি মিনার্ভা থিয়েটারে একদিন সকালে একটি নিভৃত মঞ্চায়ন দেখতে গেলাম। জনা তিরিশ কি তার একটু বেশি নির্বাচিত দর্শক। নাটক দেখতে দেখতে আমার চোখে জল এসে গিয়েছিল। দুই কিশোরী কন্যাকে দিয়ে যে অভিনয় করিয়েছিলেন মেঘনাদ তা যাঁরা ঐ নাটক দেখেছেন, অনুধাবন করতে পারবেন। আর বিরতির দৃশ্যটি বাংলা থিয়েটারে চিরকালীন। অমন অসম্ভব সুন্দর দৃশ্য আমি আর দেখিনি যেন। একা একা গ্রাম্-বালিকা বুলি ইস্কুল ড্রেস পরে মঞ্চ দাপিয়ে দর্শকাসন অধিকার করে নেয়। মুগ্ধ বিস্ময়ে তাকিয়ে ছিলাম নির্দেশকের কল্পনার বিস্তার দেখে। নিম্নবর্গের মানুষের প্রতি তাঁর সহমর্মিতা তাঁর প্রতি আমার শ্রদ্ধা বাড়িয়েছে। বুলিকে আমি যেভাবে লিখেছিলাম বালিকা মঞ্জরী গল্পে মেঘনাদ যেন তারও অধিক কিছু করতে পেরেছিলেন নাটকে। নাটক যৌথ শিল্প নিশ্চয়। নাটককার, নির্দেশক, অভিনেতা, আলোক সম্পাত-শিল্পী, মঞ্চ শিল্পী – আরো অনেককে নিয়ে নাটক মঞ্চে আসে। কিন্তু নির্দেশকের ভূমিকাই সবচেয়ে বড়। নির্দেশক যেমন ভাববেন, কল্পনা করতে চাইবেন, তেমন ভাবেই আলোর কথা, আবহর কথা, মঞ্চের কথা ভাবেন শিল্পীরা। মেঘনাদের সঙ্গে আমার সম্পর্ক দশ বছর। দশ বছর তাঁর সঙ্গে মিশেছি খোলামনে। আমি আমার কথা বলেছি,তিনি মন দিয়ে শুনেছেন। যদি মনে হয় আমার কথার ভিতরে কোনো মৌলিক উপাদান আছে, তিনি তা গ্রহণ করেছেন। না হলে নিজের মতে স্থিত থেকেছেন। পিঙ্কি বুলি নাটকের পর মেঘনাদ করেন ধ্রুবতারা। উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়ের নাটক। আমার খুব ভাল লেগেছিল নাটক এবং প্রযোজনা। নাটকটি মধ্যবিত্ত চেতনায় ঘা দিয়েছিল মনে হয়। দর্শক ভালভাবে নেননি। আমার এখনো মনে হয় ধ্রুবতারা নাটকটি আরো দর্শক-আনুকুল্য পেতে পারত। ধ্রুবতারার পর আবার একরাতে ফোন। আকাল গল্পটি নিয়ে নাটকের কথা ভেবেছেন। আকাল হয়েছিল দামিনী হে। দামিনী হে শুধু আকাল গল্পটি নিয়ে নির্মিত হয়নি। আমি তো বলেইছি, মেঘনাদ নাট্যকারের সঙ্গে বসে নিজের ভাবনাকে বিনিময় করে নাটক নির্মাণ করিয়ে নেন। পিঙ্কি বুলি নাটকে তাই দেখেছিলাম। আকাল থেকে দামিনী হে নাটক লিখেছেন সুখ্যাত নাটককার চন্দন সেন। চন্দন সেনকে মেঘনাদ আমার আরো গল্প দিয়েছেন। আসলে আমি জানতাম না মেঘনাদ আমার কত গল্প পড়েছেন। দামিনী হে নাটকে আমার আরো চারটি গল্পের অংশাংশ আছে। যেমন অন্ন গল্পটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে আছে এই নাটকে। সাবলীল ভাবে মিশিয়ে দিয়েছেন নাটককার আকাল গল্পের সঙ্গে। আর অষ্টম বাউরির মেলা গল্পের একটুখানি বা পীরতলার সামান্য। মেঘনাদ গল্প পড়ে নিজে বুঝে নেন কীভাবে নাটকটি হবে। ছাপার অক্ষরে যে চরিত্রদের কথা লেখা হয়েছে মঞ্চে শুধু কি তারাই আসবে অবিকল? একটি নাটক কীভাবে নির্মাণ হয়, তা মেঘনাদ ভট্টাচার্যর সঙ্গে মিশে আমি জেনেছি। এই জানা আরো নিবিড় হয়েছে পাসিং শো গল্পটি নিয়ে নাট্য-নির্মাণে। মেঘনাদ ভট্টাচার্য বলেন আমার গল্প এবং উপন্যাসের ভিতর তিনি নিজের ভাবনাকে যুক্ত করতে পারেন। আমার সঙ্গে তাঁর রসায়ন মেলে। মেলে তো নিশ্চয়। গত পাঁচ বছরে মেঘনাদ আমার তিনটি গল্পকে মঞ্চে এনেছেন। এই ঘটনা কি আগে ঘটেছে? পাসিং শো গল্পের নাটক আর এক সুখ্যাত নাট্যকার উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়ের হাতে নির্মিত। পাসিং শো গল্প এবং ওই নামের একটি নভেল মেঘনাদ নিলেন প্রথমে, তারপর কোন গল্প নিয়েছেন আমি জানতাম না। গল্পের ভিতরে গল্প মিশিয়ে দিয়ে যে নাটক তৈরি হল, মঞ্চে দেখে আমি বিস্মিত। আমার কথা মেঘনাদ ভট্টাচার্য যেমন জানেন, যেমন বোঝেন, তা আর কেউ নন। আরো দুটি গল্প তিনি উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়কে দিয়ে নিশ্চয় বলেছিলেন, মিশিয়ে দিতে। মিশে গেছে। আসলে মেঘনাদ ভট্টাচার্য নিজে যেমন চান, তেমনি নাটক লিখিয়ে নেন নাটককারকে দিয়ে। যতক্ষণ না নিজের ভাবনার সঙ্গে মেলে, তিনি থামেন না। পাসিং শো নির্মাণ পর্বে একদিন আমাকে বললেন গানটি বড় করে লিখে দিতে। টেক্সট-এ যা আছে, তার চেয়ে কিছু বেশি। মেঘনাদ বললেন, এই গান আপনি ছাড়া কেউ লিখতে পারবে না। আমি লিখেছিলাম প্রবল সংকোচে। সেই লিরিকে সুর দিলেন গুণী সুরকার জয় সরকার। জয় সরকার আবহ করেছিলেন অসামান্য। পুরনো বাংলা গানের সুর আবহে যেমন ব্যবহার করেছিলেন তা আমি ভুলব না। আর মেঘনাদের অভিনয়। সে-ও বড় পাওয়া এই নাটকে। পিংকি বুলি নাটকে সুর করে ছিলেন শ্রদ্ধেয়া স্বাতীলেখা সেনগুপ্ত। নাটকে আবহ নাটককে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যায়। পিংকি বুলি নাটকে বুলির মুখের গান ভুলব না। মেঘনাদ জানেন কোন নাটক, কোন কাহিনিতে কোন সুর বসবে এবং কে তার জন্য যোগ্য। মেঘনাদের প্রেমকথা নাটক ফরাসী নাটককার মলিয়েরের নাটকের বঙ্গীকরণ। চন্দন সেনের নাটক। প্রথম শো দেখে আমার ততটা ভাল লাগেনি। জানিয়েছিলাম। পরে আবার দেখতে বললেন। বুঝলাম মেঘনাদের আত্মবিশ্বাস কত গভীরে। দেখে আবার আগের মত পরিবর্তন হয়েছে। দামিনী হে নাটকের রুদ্ধ দ্বার শো হয়েছিল মোহিত মৈত্র মঞ্চে। সুরঞ্জনা দাশগুপ্ত এবং অন্যান্য অনেকেই ছিলেন। শো শেষ হলে, মেঘনাদ আমার প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলেন। বিরতির আগের দৃশ্যটি আমার পছন্দ হয়নি। আমি বললাম। মেঘনাদ চুপ করে শুনলেন। কোনো মন্তব্য করেননি। আমার বন্ধু নাটক-পাগল সমীর চট্টোপাধ্যায় আমাকে বললেন, তুই বলে দিলি ওই ভাবে!
