কিন্তু আজ আছেন কি না জানতাম না। আন্দাজের ওপর এলাম।
বা, বা।
দুজনে মুখোমুখি বসল।
নাহিদ বলল, খবর কী বল। চাকুরি বাকরি করছিস না?
জ্বি করছি।
আগেরটাই?
জ্বি।
আজ অফিসে যাসনি?
না।
কেন?
ছুটি নিয়েছি।
তীক্ষ্ণচোখে আলীর দিকে তাকাল নাহিদ। তোকে এমন দেখাচ্ছে কেন? শরীর খারাপ না কি?
না শরীর ঠিকই আছে।
তাহলে?
টেনশনে ছিলাম।
কীসের টেনশন?
আপনাকে পাই কি না? না পেলে কীভাবে কী করব ওসব ভেবে চেহারাটা খারাপ হয়ে গেছে। তাছাড়া আমার ধারণাটা ঠিক কি না, যার নাম শুনেছি সে আপনার বন্ধুই কি না তাও বুঝতে পারছিলাম না।
আলীর কথা বুঝতে পারল না নাহিদ। বলল, কী হয়েছে?
আপনার একজন বন্ধু আছে না শুভ নামে?
হ্যাঁ, খুবই ঘনিষ্ঠ বন্ধু। কী হয়েছে শুভর?
আপনি বলতে পারবেন কি না জানি না, আমার অফিসের দুই মালিক মামুন সাহেব, স্বপন সাহেব….
আলীর কথা শেষ হওয়ার আগেই উত্তেজিত হল নাহিদ। হ্যাঁ, হ্যাঁ শুভর সঙ্গে ওরা রিলেটেড।
এবার আলীও উত্তেজিত হল। তাহলে ঠিক ধারণাই করেছি আমি। ঠিক জায়গাতেই এসেছি।
কী হয়েছে বল আমাকে।
আপনার বন্ধুর জন্য খুব খারাপ একটা খবর আছে। কিন্তু এরকম খোলামেলা জায়গায় বসে ওসব কথা আমি বলতে চাই না।
সঙ্গে সঙ্গে উঠে দাঁড়াল নাহিদ। তাহলে আমার রুমে চল।
চলুন।
ওরা দুজন সিঁড়ির দিকে এগিয়ে গেল।
.
নাহিদের কথা শুনে লাফিয়ে উঠল শুভ, কী? মেরে ফেলবে আমাকে? মাস্তান লাগিয়েছে আমার পেছনে?
নাহিদ বেশ নার্ভাস। কাঁপা কাঁপা গলায় বলল, তাই তো শুনলাম। তিনদিন হল ঢাকায় এসেছি। আজ বিকেলের ট্রেনে চলে যাওয়ার কথা। এসব শুনে আর যেতে পারলাম না।
কিন্তু তুই শুনলি কার কাছে?
শুভর বিছানায় বসল নাহিদ। এও এক অদ্ভুত যোগাযোগ। সেতুর ভাইদের অফিসে আমার একটা পরিচিত ছেলে পিয়নের কাজ করে। এক সময় ছেলেটাকে আমি একটু সাহায্য করেছিলাম। সে জানে তুই আমার বন্ধু। সেতুর ছোট ভাইর রুমে চা দিতে ঢুকে তোর নাম এবং মার্ডার শব্দ দুটো সে শুনে ফেলেছে। ব্যাপারটা পুরোপুরি বোঝেনি। কিছু একটা অনুমান করে আমার হোটেলে এসেছে, আমাকে বলেছে। এইটুকু শুনেই যা বোঝার বুঝে গেছি আমি।
শুভ গম্ভীর গলায় বলল, ওরা আমাকে খুবই আন্ডারএস্টিমেট করেছে।
মানে?
বাড়ি এসে ডিভোর্সের জন্য ধমক দিয়ে গেছে। এখন লাগিয়েছে মাস্তান। ভেবেছে মাস্তান ফাস্তানদের কথা শুনে ভয়ে সেতুকে আমি ছেড়ে দেব। কোন মাস্তান লেগেছে আমার পেছনে, তাদেরকে আমি একটু দেখতে চাই।
মাথা গরম করিস না। এই ধরনের পরিস্থিতিতে মাথা ঠাণ্ডা রেখে কাজ করতে হয়।
মাথা বোধহয় আমি আর ঠাণ্ডা রাখতে পারব না।
কেন?
সীমাহীন বাড়াবাড়ি করছে ওরা। সেতুকে বাড়িতে আটকে রেখেছে। নিশ্চয় খুব মেন্টাল প্রেসারে রেখেছে ওকে। তার ওপর আমার পেছনে লাগিয়েছে মাস্তান। আমি ওদেরকে ছাড়ব না, আমি ওদেরকে দেখে নেব।
কী কাজে শুভর রুমের সামনে দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন মা, শুভর উত্তেজিত গলা শুনে কী রকম সন্দেহ হল তার। আড়াল থেকে শুভর শেষ দিককার কথা কিছুটা শুনে ফেললেন, শুনে সুরমাকে খুঁজতে ডাইনিং স্পেসের দিকে চলে এলেন। নিজের রুমের দিকে হেঁটে যাচ্ছিল সুরমা। মা ডাকলেন, বউমা, শোন।
সুরমা এসে তার সামনে দাঁড়াল, জ্বি মা।
মা ভয়ার্ত গলায় বললেন, আমার খুব ভয় করছে বউমা, খুব টেনশন হচ্ছে।
সুরমা অবাক হল। কেন? হঠাৎ কী হল আপনার?
শুভর পেছনে কারা নাকি মাস্তান লাগিয়ে দিয়েছে।
শুনে সুরমাও ভয় পেল। কী?
হ্যাঁ।
কে বলল আপনাকে?
আমি নিজ কানে শুনেছি। শুনেই আমার হাত পা কাঁপতে শুরু করেছে। নিশ্চয় শুভ কোথাও কিছু একটা ঝামেলা করেছে। কিছুদিন ধরে ওকে বেশ চিন্তিত দেখি। সেদিন কারা যেন ওর কাছে এসেছিল।
সুরমা চিন্তিত গলায় বলল, আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না। কারা মাস্তান লাগাবে শুভর পেছনে? কী করেছে ও?
আমি জিজ্ঞেস করলে কোনও কথাই ও আমাকে বলবে না। তুমি ওর সঙ্গে কথা বল বউমা, সব জেনে আমাকে জানাও। আমি তারপর শাহিনের সঙ্গে কথা বলি।
মাকে সাহস দিয়ে সুরমা বলল, আপনি এত টেনশন করবেন না। আমি শুভর সঙ্গে কথা বলব।
শুভর সঙ্গে সুরমা কথা বলল, রাতেরবেলায়।
শুভ বলল, ভেবেছিলাম চুপচাপ থাকব। আস্তেধীরে ব্যাপারটা ঠিক হয়ে আসবে। কিন্তু ওরা আমাকে চুপচাপ থাকতে দিচ্ছে না। আমিও দেখব কোন মাস্তান কী করে আমার।
সুরমা বলল, সেতুর ভাইরা এই ধরনের কাজ করবে এ আমি ভাবতেই পারছি না।
কাজটা ওর ছোট ভাই করেছে। সে নিজেও মাস্তান টাইপের।
এসব তোর আগেই ভাবা উচিত ছিল।
শুভ অবাক হল। কী বলছ ভাবী? ঠিকই বলছি।
না ঠিক বলছ না। কার ভাই মাস্তান, কার কত টাকা আছে ওসব ভেবে কেউ কারও সঙ্গে প্রেম করে? ভালবাসার সাথে এসব বিষয়ের কী সম্পর্ক?
কিন্তু এখন সামলাবি কী করে?
দেখি।
মাস্তানরা তোর যদি কোনও ক্ষতি করে?
কী ক্ষতি করবে?
আজকাল কত রকমের কাণ্ড হয়।
কিছু হবে না। কেউ কিছুই করতে পারবে না আমার। সেতু আমার বিয়ে করা বউ। আইন আমার পক্ষে, দরকার হলে আইনের সাহায্য নেব আমি।
এদিকে বাড়িতেও তো সমস্যা আছে, মা এখনও ব্যাপারটা জানেনই না। তাঁকে ম্যানেজ করাও তো কম ঝামেলার কাজ না।
শুভ নির্বিকার গলায় বলল, নিজেদের বাড়ি নিয়ে এখন আমি আর ভাবছিই না। ওসব তুমি বুঝবে।
সুরমা চিন্তিত চোখে শুভর মুখের দিকে তাকিয়ে রইল।
