ঠিকই বলছি।
না না।
এছাড়া কোনও উপায় নেই ভাইয়া।
তোর কি মাথা খারাপ হয়েছে? একটা মানুষ খুন করে ফেলবি?
আমি নিজে করব না।
তাহলে?
একজন প্রফেসনাল মার্ডারার ঠিক করব। দুচার লাখ টাকার বিনিময়ে কাজটা সে করে দেবে। এমনভাবে করবে, কেউ কিছু বুঝতেই পারবে না।
মামুন ভয়ার্ত গলায় বলল, না না, এসব করা ঠিক হবে না।
স্বপন বলল, তুমি আমাকে বাধা দিও না ভাইয়া। তুমি চুপচাপ থাক। দেখ কী সুন্দরভাবে ব্যাপারটা আমি ম্যানেজ করি। সাপ মারা এবং লাঠি না ভাঙার কাজটা আমি খুব ভাল জানি।
স্বপন আর দাঁড়াল না।
.
লালু খুবই কায়দার সানগ্লাস পরতে পছন্দ করে।
সানগ্লাস পরে মোটর সাইকেল চালাবার সময় সে যতটা না মাস্তান তার চেয়েও বড় মাস্তান মনে হয়। পেছনে দিলুকে সে রাখেই। লালুর সর্বক্ষণের চামচা দিলু। লালুর সঙ্গে দিলুর নামেরও খুব মিল। খুঁজে পেতে চামচাটা লালু ভালই যোগাড় করেছিল।
সেই চামচা নিয়ে লালু এখন মোটর সাইকেল চালাচ্ছে। মাঝারি ধরনের স্পিডে মোটর সাইকেল চালাবার অভ্যেস তার। ফলে ঠিক সময়ের মিনিট দশেক পরে মামুন স্বপনের অফিসের সামনে এসে পৌঁছাল সে। মোটর সাইকেল লক করে অফিসে ঢুকল এই বিল্ডিংয়ের মালিকের ভঙ্গিতে। স্বপনের রুমে ঢুকল মহাভাব ধরে।
স্বপন রুমেই ছিল, লালুকে দেখে উৎফুল্ল হল। এস লালু, এস।
লালু কোনও কথা বলল না, স্বপনের মুখোমুখি একটা চেয়ারে বসল। দিলু দাঁড়িয়ে রইল তার পিঠের কাছে।
কোনও ভণিতা না করে স্বপন বলল, আমার একটা কাজ করে দিতে হবে লালু।
লালু নির্বিকার গলায় বলল, জানি।
শুনে চমকে উঠল স্বপন। কী করে জানো?
কাজ ছাড়া আপনাদের মতো লোকরা আমাদেরকে ডাকে না।
ও তাই বল।
কাজের সাইজ কেমন? হাঁড়ি না বোতল?
কথাটা বুঝতে পারল না স্বপন। বলল, মানে?
বড় না ছোট? কী ধরনের কাজ?
একটু সময় নিয়ে বলতে হবে।
তারপর দিলুর দিকে তাকাল, তোমার সঙ্গে কে?
জিনিসটার নাম দিলু। আমার চামচ।
চামচ মানে?
স্বপনকে একটা ধমক দিল লালু। ধুৎ মিয়া! আপনে তো আমার ল্যাংগুয়েজই বোঝেন না। খালি মানে মানে করেন। চামচ মানে হচ্ছে চামচা। লেজুড়, ট্যান্ডল। অর্থাৎ আমি যা বলব সেই কাজই করবে।
স্বপন আশ্বস্ত হল, বুঝেছি।
বোঝেন নাই। জিনিসটা দেখতে যোবার মতন। অর্থ হচ্ছে দিলু কথায় একদমই বিশ্বাস করে না। কাজ, শুধু কাজে বিশ্বাস করে। কথা বলার আগেই মার্ডার করে দেয়। খুবই চিকন হারামি জিনিস।
দিলুর গুণপনা শুনে স্বপন একেবারে মুগ্ধ হয়ে গেল। এরকম লোকই আমার দরকার। ব্যাপারটা তাহলে খুলে বলি তোমাদেরকে। তবে একেবারেই সিক্রেট ব্যাপার। তোমরা দুজন ছাড়া কাকপক্ষীটিও যেন টের না পায়।
কাকপক্ষী শব্দটা বুঝল না লালু। চিন্তিত চোখে স্বপনের দিকে তাকাল। কাকপক্ষী জিনিসটা কী?
কাক, কাক।
বুঝেছি, কাউয়া।
তারপর একটু থেমে বলল, তবে কথা শুরুর আগে দুই প্যাকেট বেনসন আনান। চা আমি আজকাল খাই না। দুই বোতল ঠাণ্ডা আনান। আর কিছু ক্যাশ মাল টেবিলের ওপর রাখেন। তারপর বলেন মার্ডারটা কবে করতে হবে?
এবারও স্বপন খুব অবাক হল। মার্ডার করতে হবে বুঝলে কী করে?
কথার সাইজে বোঝা যায়।
ঠিক তখুনি ট্রেতে করে তিন কাপ চা আর বিস্কুট নিয়ে স্বপনের রুমের সামনে এসেছে পিয়ন আলী। বন্ধ দরজা ঠেলে মাত্র ঢুকবে, ভেতর থেকে লালুর গলা শুনতে পেল। যাকে মার্ডার করতে হবে তার নাম কী?
মার্ডার শব্দটা শুনে পাথর হয়ে গেল আলী। ভেতরে না ঢুকে দরজার সামনে দাঁড়িয়ে রইল সে। ভেতরের সব কথা শুনতে লাগল।
স্বপন বলল, ছোকরাটির নাম শুভ।
থাকে কোথায়?
সব তোমাকে চিনিয়ে দেব।
ঠিক আছে, এখন ঠাণ্ডা আর বেনসন আনান।
স্বপন বেল বাজাল, সেই শব্দে দরজার সামনে দাঁড়ান আলী চমকে উঠল। প্রায় সঙ্গে সঙ্গে দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকে গেল। স্বপন অবাক হল, বেল বাজাবার সঙ্গে সঙ্গে তুই ঢুকলি কী করে? কোথায় ছিলি?
চট করেই ব্যাপারটা মনে করল আলী। লালু এবং দিলুকে দেখিয়ে হাসিমুখে বলল, স্যারদের দেখলাম আপনার রুমে ঢুকতে, দেখেই চা বিস্কুট নিয়ে আসছিলাম। আপনার রুমের দরজায় মাত্র এসেছি, বেলটা বাজল।
শীতল চোখে আলীর দিকে তাকাল লালু। তোমার মাথায় ঘিলুটা একটু বেশি।
জ্বি?
বেশি ঘিলু থাকা ভাল না। হিঙ্গুল চেন, হিঙ্গুল? সর্দি হলে মানুষের নাক দিয়ে পড়ে। যাদের মাথায় ঘিলু বেশি তাদের মাথায় ভাল করে একটা কিল দিলে ঘিলুটা হিঙ্গুলের মত নাক দিয়ে বেরিয়ে আসে। আমার এখন ইচ্ছে করছে তোমার মাথায় একটা কিল দিই?
কেন স্যার?
চা বিস্কুট নিয়ে আসার আগে তোমার বোঝা উচিত ছিল এই মাল সবাই খায় না।
তারপর ধমকের সুরে বলল, যাও ঠাণ্ডা নিয়া আস। আর দুই প্যাকেট বেনসন।
সঙ্গে সঙ্গে স্বপন বলল, হ্যাঁ, এজন্যই তোকে ডেকেছিলাম, যা, তাড়াতাড়ি যা।
হাতে ধরা চা বিস্কুটের ট্রে নিয়েই বেরিয়ে যাচ্ছিল আলী, স্বপন বলল, আমার চাটা দিয়ে যা। আমি চা ই খাব।
বিনীত ভঙ্গিতে স্বপনের সামনে এককাপ চা নামিয়ে রাখল আলী।
.
হোটেল লবিতে আলীকে বসে থাকতে দেখে খুবই অবাক হল নাহিদ। কী রে আলী, তুই এলি কোত্থেকে?
আলী উঠে দাঁড়াল। আপনার খোঁজে এসেছি।
কী করে জানলি আমি এই হোটেলে থাকি?
কার কাছে যেন শুনেছিলাম ঢাকায় এলে এই হোটেলেই থাকেন আপনি।
ঠিকই শুনেছিস।
