তাই নাকি!
হ্যাঁ। গলা শুনে কেমন যেন নার্ভাস মনে হল। বোধহয় কোনও ঝামেলা হয়েছে।
ঝামেলা শব্দটা শুনে মুখ শুকিয়ে গেল শুভর। কী ঝামেলা?
তা আমাকে বলেনি। কাল যোগাযোগ করিস।
নিশ্চয় করব। তুমি না বললেও করব।
একথায় মনটা একটু খারাপ হল সুরমার। স্নান গলায় বলল, আমার দায়িত্ব ছিল তোকে জানানো, জানালাম। কী করবি না করবি তোর ব্যাপার।
বেডরুমের দিকে পা বাড়িয়েই থমকে দাঁড়াল সুরমা। টেবিলে খাবার রাখা আছে, খেয়ে নিস।
কথাটা যেন শুনতেই পেল না শুভ। তার কেবল সেতুর কথা মনে পড়ছে।
.
হঠাৎ এভাবে বিয়ে ঠিক করে ফেলল, মানে কী?
খুবই বিরক্ত হয়ে দোলনের দিকে তাকাল সেতু। মানে আবার কী? ভাল পাত্র পেয়েছে, ঠিক করেছে।
সেতুর বিরক্তিটা খেয়াল করল না দোলন। দুশ্চিন্তায় লম্বা নাকটা যেন আরেকটু লম্বা হয়ে গেল তার। এখন কী করবি?
কিছুই বুঝতে পারছি না।
আগে শুভ ভাইর সঙ্গে কথা বল।
ওকে আমি টেলিফোনে পাইনি। ভাবীকে বলেছিলাম…
সেতুর কথা শেষ হওয়ার আগেই দোলন বলল, ঘণ্টাখানেক আগে শুভ ভাই ফোন করেছিলেন। বললাম তুই আসবি, শুনে বললেন, আমিও আসছি। এক্ষুনি হয়তো চলে আসবেন।
তাহলে ভালই হয়।
শুভ এল মিনিট দশেকের মধ্যে। তাকে দেখেই উঠল দোলন। আপনারা প্রেম করেন, আমি যাচ্ছি। চা পাঠিয়ে কি ডিস্টার্ব করব?
শুভ হাসল। দরকার নেই। আমি চা খাব না। সেতু, তুমি খাবে?
না।
দোলন বলল, ও যে খাবে না, তা আমি জানি। এই অবস্থায় চা খাওয়া যায় না।
শুভ অবাক হল। এই অবস্থা মানে?
ওর কাছ থেকেই শুনুন।
দোলন বেরিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেতুর পাশে বসল শুভ। কী হয়েছে?
অন্যদিকে তাকিয়ে সেতু বলল, বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে।
কার বিয়ে?
খরচোখে শুভর দিকে তাকাল সেতু। অন্যের বিয়ের খবর তোমাকে আমি দেব?
শুভ একেবারে হকচকিয়ে গেল। না না তা দেবে কেন! কিন্তু তোমার বিয়ে! বল কী? কবে ঠিক হল? কোথায়?
ব্যাপারটা শুভকে খুলে বলল সেতু। শুনে শুভ একেবারে স্তব্ধ হয়ে গেল। বল কী!
হ্যাঁ, এভাবে বিয়ে ঠিক হয়ে যাবে, কল্পনাই করিনি।
আমার বিশ্বাসই হচ্ছে না।
দুহাতে শুভর একটা হাত ধরল সেতু। এখন আমি কী করব?
শুভ দিশেহারা গলায় বলল, কিছুই বুঝতে পারছি না।
তোমাদের বাড়িতে আর কেউ না জানুক তোমার ভাবী জানেন। একজন মানুষ অন্তত তোমার পক্ষে আছেন। আমার পক্ষে কেউ নেই।
কী করে থাকবে? তুমি তো কাউকে জানাওনি।
কেন জানাইনি তুমি জানো না? আমার ভাইদের আমি চিনি। এসব জানলে আরও অনেক আগেই জোর করে আমার বিয়ে দিয়ে দিত। আমার মুখ তুমি আর কখনও দেখতে পেতে না।
বুঝলাম, কিন্তু এখন তো না জানিয়ে উপায় নেই।
শুভর চোখের দিকে তাকিয়ে সেতু বলল, এখনও জানাব না।
শুভ অবাক। তাহলে?
আগে বিয়ে করে ফেলব তারপর জানাব।
শুনে বুকটা ধ্বক করে উঠল শুভর। না না তা ঠিক হবে না। কেলেংকারি হয়ে যাবে। তুমি তোমার ভাবীদেরকে আমার কথা বল। ভাবীরা বলুক ভাইদেরকে। এভাবে সব ম্যানেজ কর।
সেতু গম্ভীর হল। তুমি বেশ ভাল করেই জানো আমার ভাইরা কিছুতেই রাজি হবে না।
না হলে তখন দেখা যাবে।
কী দেখা যাবে তখন? আমার ভাইরা যেমন ভাল তেমন খারাপ। রেগে গেলে যা ইচ্ছে তাই করতে পারে। যদি আমাকে তারা বাড়ি থেকে বেরুতে না দেয়, যদি ঘরে আটকে রেখে জোর করে বিয়ে দিয়ে দেয়?
শুভ বিরক্ত হল। সিনেমা নাকি! এসব এত সোজা না। একটা মেয়ে যদি বিয়ে করতে না চায়, জোর করে তাকে বিয়ে দেয়া যায় না।
এবার বেশ রাগল সেতু। কে বলেছে যায় না? গার্জিয়ানদের চাপে পড়ে মতের বিরুদ্ধে হাজার হাজার মেয়ের বিয়ে হচ্ছে বাংলাদেশে।
ওসব হয় অশিক্ষিত শ্রেণীর মধ্যে।
শিক্ষিত শ্রেণীর মধ্যেও প্রচুর হয়। তুমি জানো না।
সত্যি আমি জানি না।
জেনে তর্ক করছ কেন?
সরি।
সেতু একটু নরম হল। স্বাভাবিক গলায় বলল, এই রিসকটা আমি নেব না। আমি বিয়ে করে ফেলব। বিয়ে হয়ে গেলে শক্তিটা আমার থাকে। বাড়িতে সবার সঙ্গে ফাঁইট করতে পারব। জোর গলায় বলব, আমার বিয়ে হয়ে গেছে। এখন আর কিছু করার নেই।
সেতুর কথা শুনে হতাশায় একেবারে ডুবে গেল শুভ। এভাবে বিয়ে করব?
শুনে খুবই অভিমান হল সেতুর। তোমার ইচ্ছে না হলে করো না। আমি আমার ভাইদের পছন্দ মেনে নিই।
সেতুর চোখের দিকে তাকাল শুভ। পারবে?
সঙ্গে সঙ্গে দুহাতে শুভর গলা জড়িয়ে ধরল সেতু। পারব না বলেই তো এভাবে ভাবছি। মরে যেতে হলে যাব কিন্তু তোমাকে ছাড়া আর কাউকে বিয়ে করব না। আর কারও সঙ্গে সংসার করব না।
কিন্তু শুভর বুকটা তখন চিব ঢিব করছে।
.
রাতেরবেলা নিচতলার ড্রয়িংরুমে এসে বসছে মামুন এবং শিলা।
কিছুক্ষণ পরে এল রেখা এবং স্বপন। কোনও বিষয়ে বড় রকমের সিদ্ধান্তের সময় এই রুমে এসে একত্রিত হয় সবাই।
স্বপনের মুখের দিকে তাকিয়ে মামুন বলল, কবে এনগেজমেন্ট করতে চায় ওরা?
স্বপন বলল, আমরা যেদিন করব। ওদের কোনও অসুবিধা নেই। ওরা বলছে এনগেজমেন্টেরই দরকার নেই। মানে এনগেজমেন্টের জন্য কোনও অনুষ্ঠানের দরকার নেই। সরাসরি বিয়ে।
না তা করব না। আমাদের একমাত্র বোন। যত রকমের অনুষ্ঠান ইত্যাদি আছে সবই করব।
তাহলে এনগেজমেন্টের ডেটটা ফিক্সড কর।
শিলা বলল, ডেট ফিক্সড করার আগে সেতুর সঙ্গে একটু কথা বলা উচিত না।
মুখ ঘুরিয়ে ভাবীর দিকে তাকাল স্বপন। কী কথা?
