আদিত্য বলল, “ঠিক আছে।”
লাল আলো সবুজ হতে সতর্ক হাতে আদিত্য গাড়ির গতি বাড়াল। সুমোটা দূরত্ব বজায় রেখে চলছে। সায়েন্স সিটির কাছে এসে আদিত্য সুমোটাকে ট্র্যাক করে সুশোভনের কথামতো থানায় ঢুকিয়ে দিল।
বেশ কয়েকজন পুলিশ বিরক্ত মুখে তার দিকে এগিয়ে এল।
আদিত্য সুশোভনের পরিচয় দিতে কেউ আর কিছু বলল না। সুমোটা থানার খানিকটা দূরে দাঁড়িয়ে আছে। আদিত্য গাড়ির ভেতরে বসে মোবাইলটা হাতে নিল। গাড়ি থেকে নেমে সোজা সুমোটার দিকে হাঁটতে শুরু করল।
সুমোটা দাঁড়িয়ে ছিল। আদিত্য চুপ করে গাড়িটার কাছে গিয়ে একটা সিগারেট ধরাল।
গাড়ির ছেলেগুলো তাকে সন্দেহজনক দৃষ্টিতে দেখছে। ওরা ভাবতে পারেনি আদিত্য তাদের কাছে চলে আসবে। কী করবে বুঝে উঠতে পারছে না।
আদিত্য ছেলেগুলোর দিকে বেশ কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে রিন্টুর নম্বরে ফোন করল। একবার রিং হতেই রিন্টু ধরল, “হ্যালো।”
আদিত্য ছেলেগুলোকে শুনিয়ে শুনিয়ে রিন্টুকে বলল, “তোমার অনেক টাকা? একটা সুমোসুদ্ধ লোক পাঠিয়েছ আমাকে কড়কে দেওয়ার জন্য? এত ম্যানপাওয়ার নষ্ট করছ একটা লাভ জিহাদের জন্য? কাজ নেই? সিরিয়াসলি?”
ছেলেগুলো আদিত্যর দিকে কড়া চোখে তাকাচ্ছে এবার। আদিত্য একবার থানার দিকে আড়চোখে দেখে নিল। ঠিক করে নিয়েছে ছেলেগুলো কিছু করলেই থানায় ঢুকে যাবে। তারপর যা হবে দেখা যাবে।
রিন্টু বলল, “আমার বউকে ছেড়ে দিন। আপনাদের আর কোনও জ্বালাতন হবে না। একদম উপরওয়ালার দিব্যি বলছি।”
আদিত্য সিগারেটে লম্বা টান দিয়ে বলল, “আমি তো উলটো কাজ করতে এলাম। আমাদের বাড়ির মেয়েকে গুম করে এখন সিন ক্রিয়েট করছ বলে তোমার এগেনস্টে চার্জ আনতে এসেছি থানায়।”
ওপাশটা স্তব্ধ হতেই আদিত্য ফোনটা কেটে দিল। রিন্টু ফোন করা শুরু করেছে। আদিত্য ধরল না ফোনটা। সুমোর ছেলেগুলোর দিকে তাকিয়ে হিন্দিতে বলল, “কাম কাজ কিছুই করো না তোমরা? সারাদিন এদিক সেদিক গুন্ডাগিরি করে কত টাকা কামাই হয়?”
ড্রাইভারের পাশে যে ছেলেটা বসেছিল সে ড্রাইভারকে কিছু একটা বলল। সুমোটা স্টার্ট নিয়ে বেরিয়ে গেল।
আদিত্য সেদিকে কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে নিজের গাড়িতে গিয়ে বসল। গাড়িটা স্টার্ট নিতে গিয়েও নিল না। ফোন বের করে ঝুমকির ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলল। বেশ কয়েকজন বন্ধু ঝুমকিকে মেসেজ করেছে। অনধিকার চর্চা জেনেও আদিত্য মেসেজগুলো পড়তে শুরু করল। তিতলি নামে একটা মেয়ের মেসেজে এসে থমকে গেল আদিত্য। ঝুমকিকে লিখেছে, “কাজটা ভালো করলি না ঝুমকি। সমস্যা হতে পারে।”
আদিত্য তিতলির প্রোফাইল খুলল। ঝুমকি মেয়েটার সব প্রোফাইল পিকচারেই লাইক করে। অনেক চ্যাটও হয়েছে দেখা যাচ্ছে।
কয়েক সেকেন্ড ঠোঁট কামড়ে বসে থেকে আদিত্য তিতলিকে মেসেজ করল, “আমার ফোনে সব নাম্বার উড়ে গেছে। তোর নাম্বারটা একটু দে তো।”
তিতলি অনলাইনই ছিল। নিজের নাম্বারটা দিয়ে লিখল, “কোথায় তুই? কী করছিস? রিন্টুদাকে ফোন কর শিগগির! এসব কী করছিস তুই?”
আদিত্য ব্রাউজার বন্ধ করে তিতলিকে ফোন করল।
একটা রিঙেই ধরল তিতলি, “হ্যালো।”
আদিত্য খানিকটা ঝোঁকের মাথাতেই ফোনটা করেছিল। কী বলবে বুঝতে না পেরে বলল, “অর্ণব আছে?”
তিতলি “রং নাম্বার” বলে ফোনটা কেটে দিল।
আদিত্য ঠোঁট কামড়াল। ঝোঁকের মাথায় ফোনটা তার করা উচিত হয়নি। সে গাড়ি স্টার্ট দিয়ে শ্বশুরবাড়ির উদ্দেশে রওনা দিল।
উলটোডাঙার জ্যামের সুবাদে পৌঁছোতে দেরি হল।
আদিত্য পৌঁছে দেখল বাড়ি থেকে সিকিউরিটি তুলে নিয়েছে।
অবাক হয়ে সুশোভনকে ফোন করল। সুশোভন বললেন, “বল রে।”
আদিত্য বলল, “সিকিউরিটি তুলে নিয়েছে রে।”
সুশোভন হেসে বললেন, “সঙ্গে আমাকেও। ট্রান্সফার করে দিয়েছে, সন্দেশখালি!”
আদিত্য বলল, “সে কী! এবার কী হবে?”
সুশোভন বললেন, “কী আর হবে? লড়াইটা কঠিন হবে। জামান সাহেবের সঙ্গে যোগাযোগ করিস। ভদ্রলোক নিশ্চয়ই কিছু একটা হেল্প করবেন।”
আদিত্য মাথায় হাত দিল। রুমকি গাড়ির শব্দ শুনেছিল। বাইরে বেরিয়ে দেখল আদিত্য ফোনে কথা বলছে। তাকে দেখে এগিয়ে এসে বলল, “সিকিউরিটি তুলে নিয়েছে, দেখেছ? সুশোভনকে ফোন করো না!”
আদিত্য রুমকিকে ঠোঁটে আঙুল দিয়ে চুপ করতে বলে সুশোভনকে বলল, “জামান সাহেবের নাম্বারটা পাঠা একবার। হারিয়েছি মনে হয়।”
সুশোভন বললেন, “পাঠাচ্ছি। আর শোন, ঝুমকিকে এখনও সামনে আনার সময় হয়নি। বি কেয়ারফুল।”
আদিত্য আড়চোখে রুমকির দিকে তাকিয়ে সুশোভনকে বলল, “আচ্ছা। থ্যাংকিউ রে।”
৩৩
সন্ধেবেলা।
ইজাজ মল্লিক গম্ভীর মুখে বসে ছিলেন। রিন্টু ঘরে ঢুকল।
ইজাজ বললেন, “মেয়েটার কোনও খোঁজ পেলি?”
রিন্টু মাথা নাড়ল।
ইজাজ বিরক্ত বললেন, “তোদের আর কীভাবে শেখাতে হবে বল তো? মেয়েটাকে নিয়ে ঘুরে এসে, বাঁধিয়ে দেওয়ার পর যা ইচ্ছা করতে পারতিস! শুরুতেই এত জোরাজুরি করার কী ছিল? এখন ফেসবুক এসে গেছে, শুধু মিডিয়া সব কাজ করতে পারে না। মানুষ চাইলে ফেসবুক ব্যবহার করে মিডিয়ার সঙ্গে পাঙ্গা নিয়ে নিতে পারে। যেটা মেয়েটা নিচ্ছে।”
রিন্টু বলল, “আমি বুঝতে পারিনি ধানবাদ থেকে ওভাবে পালিয়ে যেতে পারবে।”
ইজাজ রেগে গেলেন, বললেন, “ধানবাদেই কেন করার দরকার ছিল? আদৌ করারই বা কী দরকার ছিল? ওর পেটে যে বাচ্চা হত সে হিন্দু হত?”
