ঝুমকি নখের দিকে তাকিয়ে বলল, “ও কী করবে বলো। আমার জন্য বাড়িতে এত বড়ো একটা সমস্যা তৈরি হয়ে গেল।”
আদিত্য বলল, “হুঁ। সে তো বুঝতেই পারছি। তবে ব্যাপারটাকে সমস্যা না ভেবে আমাদের এবার সলিউশনের দিকে যাওয়া উচিত। সমস্যা জিইয়ে রেখে কোনও পক্ষেরই কোনও লাভ হবে না।”
ঝুমকি বলল, “ও খুব ডেসপারেট, না?”
আদিত্য বলল, “হ্যাঁ। তোকে ভালোবাসে কি না বুঝতে পারছি না।”
ঝুমকি ম্লান হেসে বলল, “ধুস, ভালোবাসা না। গোটাটাই ইগো। কনভার্ট করতে চেয়েছিল, পারেনি। ব্যস। এর মানেই হল এবার ও মরিয়া হয়ে আমার ক্ষতি করতে চাইছে।”
আদিত্য রিমোটটা হাতে নিয়ে চ্যানেল চেঞ্জ করে খবরের চ্যানেল দিল। ব্রেকিং নিউজে দেখাচ্ছে রাজ্যে আবার ভিন ধর্মে বিয়ে করায় যুবতিকে নিখোঁজ করল যুবতির পরিবার। টিভিতে ঝুমকির মুখ দেখাচ্ছে।
আদিত্য আর ঝুমকি পরস্পর চমকে দুজনের মুখ দেখল। আদিত্য বলল, “প্রেস হয়ে গেল? এভাবে একপেশে খবর দেখাচ্ছে কেন?”
ঝুমকি অধৈর্য হয়ে বলল, “জানি না। কিন্তু দ্যাখো, এমনভাবে দেখাচ্ছে যেন আমার বাড়ির লোকই অপরাধী। ঘটনাটা তো পুরো উলটো আসলে!”
আদিত্য বলল, “এরকমই তো হয়। মিডিয়ার কাজই হল সোজা জিনিসকে বাঁকাভাবে ঘুরপথে দেখিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করা। তুই এসব নিয়ে বেশি ভাবিস না তো। ভুলে যা।”
ঝুমকি বলল, “কেন ভাবব না? আমার মুখ দেখিয়ে দিল কেন? এ আবার কী ধরনের অসভ্যতা?”
আদিত্য বলল, “খবরটাই তো এমনভাবে প্রেজেন্ট করছে ওরা। দাঁড়া, সুশোভনকে ফোন করি।”
আদিত্য ফোন নিয়ে সুশোভনকে ফোন করল।
সুশোভন ফোন ধরে বললেন, “কি রে, কখন ট্রিট দিবি জানাতে ফোন করলি?”
আদিত্য অবাক হয়ে বলল, “মানে?”
সুশোভন বললেন, “এই যে তোদের সবাইকে বারবার টিভিতে দেখাচ্ছে। সবই তো আমার দৌলতে!”
আদিত্য বলল, “ছাড় তো। আসল কথা বল। আমরা এবার কী করব?”
সুশোভন বললেন, “কী করব সেটা বলাই তো সবচেয়ে কঠিন ব্যাপার। উপরমহল থেকে ফোন আসা শুরু হয়েছে। তোরা নাকি আমার সহায়তায় ঝুমকিকে লুকিয়ে রেখেছিস। মারাত্মক ব্যাপার হয়ে গেছে। একদিকের কমিউনিটি থেকে হুমকি ফোন আসা শুরু হয়েছে। বুদ্ধিজীবীদের মোমবাতি মিছিল এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।”
আদিত্য বলল, “মোমবাতি মিছিলকে গুলি মারি। জামান সাহেবের সঙ্গে কথা হল?”
সুশোভন বললেন, “আমি এখনও কারও সঙ্গে এই নিয়ে আলোচনা করিনি। কেসটা অনেক উপরের লেভেলে চলে গেছে। ন্যাশনাল মিডিয়া কভারেজ শুরু করে দিয়েছে। ঝুমকি কেন পালিয়েছে সেটা বলার থেকে এদের ঝুমকির উপর করা বাপের বাড়ির অত্যাচার নিয়ে আগ্রহ বেশি। তোর শ্বশুরবাড়িতে ঝুমকির খবরটা দিলি?”
আদিত্য বলল, “দেব কীভাবে? ওর বাবা ভীষণ রিজিড লোক। ওর মা, ওর বাবাকে ছাড়া আর কিছু বোঝে না। আমার বউয়ের তো কিছু বোঝার বুদ্ধিই নেই। আমি খবরটা দিলে উলটে তুলকালাম লেগে যাবে। এই নিয়ে এখন যত কম চর্চা করা যায় তত ভালো। ঝুমকির সেফ থাকাটা অনেক বেশি জরুরি এখন।”
সুশোভন বলল, “তুই চিন্তা করিস না। তোর বাড়ির সামনে সাদা পোশাকে পুলিশ থাকবে, আমি ব্যবস্থা করেছি।”
আদিত্য বলল, “কেউ বুঝবে না তো ওরা পুলিশ? জানলেই তো বিপদ।”
সুশোভন বলল, “কোনও বিপদ না। এ তো আর যন্তর মন্তর ঘর না যে আমরা কিছু বুঝতে পারব না? আমরা নজর রাখব। তোদের নিরাপত্তার ব্যাপারটা দেখব। চিন্তার কোনও কারণ নেই।”
আদিত্য বলল, “ঠিক আছে। রাখি এখন।”
ফোনটা রাখল আদিত্য। সোফায় ঝুমকি শুয়েছিল।
নিজেকে অসহ্য লজ্জায় রেখে আদিত্যর হঠাৎ করে ঝুমকির প্রতি প্রবল যৌন আকর্ষণ হল। পরক্ষণেই জিভ কাটল সে।
চরিত্র জিনিসটাই সুতোয় হাঁটার মতো।
একটু পিচ্ছিল রাস্তা হলেই সব গেল।
২৫
মেহজাবিন রাধাকে সাজিয়ে দিচ্ছিল।
বাদশাহ হারেমে আসবেন খানিকক্ষণ পরে। রাধা কাঠের পুতুলের মতো চুপ করে বসে ছিল।
মেহজাবিন নিজের মনে বকবক করে যাচ্ছিল, “এক মেয়ের জন্য বাদশাহ যা শুরু করেছেন, সেটা কি তাঁকে মানায়? হারেমের মেয়ে তো। বিবি বানাতে কী হয়েছিল? তা করবেন না। ওদিকে হাজার খোঁজখবর নিয়ে যাবেন। যত্তসব।”
রুকসানা এসে রাধাকে কয়েক সেকেন্ড মুগ্ধ চোখে দেখে মেহজাবিনকে বলল, “মেয়ে কিন্তু বহুত খুবসুরত, যাই বলো বিবি।”
মেহজাবিন খিঁচিয়ে উঠল, “খুবসুরত? শাহি হারেমে যেন আর খুবসুরত আওরত নেই? কাবুলের শাহ যাকে পাঠিয়েছেন, সে এই মেয়ের থেকে হাজার গুণে সুন্দর।”
রুকসানা রাধার কাছে ঘনিষ্ঠ হয়ে বসে রাধাকে চমকে দিয়ে রাধার একটা স্তনে হাত দিয়ে বলল, “তা বললে হবে? এ মেয়ের যেন সব কিছু সুন্দর। সাধে বাদশাহ হারেমে এসে শুধু এর ঘরেই যাবেন?”
রাধা রুকসানার হাত সরিয়ে দিল।
মেহজাবিন বিরক্ত গলায় রুকসানাকে বকল, “কী শুরু করলি? হাতে সময় কম আর তোর বেত্তমিজি শুরু। বেশি ইচ্ছা করলে রাবেয়ার কাছে গিয়ে শো।”
রুকসানা ফিচেল হাসি হেসে বলল, “রাবেয়ার কাছে তুমি যাও। আমি তো এই মেয়ের কাছেই থাকব। চোখ দেখেছ? এই মেয়েকে নাচ শেখাও বিবি, বাদশাহ আরও খুশি হবেন।”
মেহজাবিন বলল, “হ্যাঁ রে, সব দায় তো আমার, আমি সাজিয়ে দেব। নাচ শিখিয়ে দেব। সাজিয়ে দেব, সব আমিই করি।”
রুকসানা ফলের রেকাবি থেকে একটা আঙুর তুলল। রাধার পেটে বুলিয়ে মুখে দিয়ে বলল, “তা শেখাবে। তুমিই তো নিয়ে এসেছিলে একে। তোমার তো একটা দায়িত্ব আছে বিবিজান। তা সে ছেলের খবর কী, যে এ মেয়েকে বিয়ে করবে বলে নিয়ে এসেছিল?”
