ঝুমকির মাথা ধরেছিল। সে চোখ বন্ধ করে বসে থাকার চেষ্টা করল।
গভীর রাতে একটা বেশ বড়ো বাড়িতে তারা পৌঁছল। বাড়িভর্তি লোক গিজগিজ করছে। রিন্টু ঝুমকিকে নিয়ে নামতেই চারদিক থেকে লোক এসে তাদের ঘিরে ধরল।
রিন্টুর বড়ো চাচা দুহাজার টাকার নোট দিয়ে ঝুমকিকে আশীর্বাদ করল। ঝুমকির বোরখাতে গরম লাগছিল। রিন্টু বলেছিল চাচাদের সামনে বোরখা খোলা চলবে না। রাত দেড়টার সময় একটা ছোটো ঘরে তারা ঢুকল। রিন্টু দরজা বন্ধ করে বসল।
ঝুমকি পাশ ফিরে শুয়ে ছিল।
রিন্টু ঝুমকিকে ঠেলে বলল, “বোরখা খোল।”
ঝুমকি বলল, “থাক। ভালো লাগছে না।”
রিন্টু ঝুমকির ঘাড়ে চুমু খেল। ঝুমকি সিঁটিয়ে বলল, “প্লিজ, ছাড়ো আজকে।”
রিন্টু সরাসরি ঝুমকির বুকে হাত দিয়ে বলল, “ছাড়ার জন্য নিয়ে এসেছি তোকে? আজ আমাদের সুহাগ রাত। চল ওঠ।”
ঝুমকি চমকে উঠল। এই রিন্টুকে তো সে চেনে না। এই ছেলেটাকে তো সে ভালোবাসত না!
সে শক্ত হয়ে শুয়ে রইল।
রিন্টু সজোরে ঝুমকির পিঠে লাথি মারল। “ওঠ শালি, বিয়ে করেছি যখন, তখন কোনওরকম ন্যাকামি বরদাস্ত করব না।”
ঝুমকি ককিয়ে উঠল।
পরের আধঘণ্টা রিন্টু রীতিমতো ধর্ষণ করল ঝুমকিকে। শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঁচড়ের দাগ নিয়ে আধা অচেতন অবস্থায় ঝুমকি পড়ে রইল।
৭
“দেখুন, আপনার মেয়ে তো মাইনর নয়। যদি নিজের ইচ্ছায় গিয়ে থাকে, ইনফ্যাক্ট এই নোটটা তাই বলছে, সেক্ষেত্রে তো আমাদের কিছু করার নেই।”
সোফায় বসে ইন্সপেক্টর সুশোভন রায় বাড়ির সবার দিকে তাকিয়েই কথাগুলো বললেন। আদিত্যর দিকে তাকিয়ে বললেন, “তুই বুঝতে পারছিস তো সমস্যাটা?”
আদিত্য মাথা নাড়ল।
বিকাশ তপনের দিকে তাকিয়ে বললেন, “কি রে, দেখলি? আমি কী বলেছিলাম?”
তপন সুশোভনের দিকে তাকিয়ে বললেন, “দ্যাখো বাবা, তুমি আমার জামাইয়ের বন্ধু। তোমাকে তুমি করেই বলছি।”
সুশোভন মাথা নাড়লেন, “নিশ্চয়ই।”
তপন বললেন, “কিছুই কি করা যাবে না? মানে মেয়েটা কোথায় আছে, কী করছে, অন্তত সেটুকু তো জানা দরকার। পরে নাহয় কোনওভাবে বুঝিয়েসুঝিয়ে যদি…”
সুশোভন বললেন, “আপাতত ফোন ট্র্যাক করার চেষ্টা করছি। দেখা যাক কোনও লাভ হয় নাকি। আর যেভাবে শুধু সার্টিফিকেট নিয়ে গেছে তাতে মনে হচ্ছে আজকের দিনের প্ল্যানটা আরও অনেক দিন আগে থেকেই করা হয়েছিল। আপনার মেয়ের ঘরটা একটু দেখব।”
সুশোভন উঠলেন। আদিত্যই নিয়ে গেল সুশোভনকে। পিছন পিছন রুমকি গেল।
সুশোভন ঘরের চারদিকে দেখল। বললেন, “ব্যাগ-ট্যাগগুলো?”
রুমকিই দেখাল ঝুমকির ব্যাগগুলো। বলল, “ব্যাগের শখ ছিল। গড়িয়াহাট থেকে কত যে ব্যাগ কিনেছে!”
সুশোভন বললেন, “ব্যাগগুলোতে যা আছে সব খাটের ওপর ফেলে দিন। আমি একটু দেখি যদি ছাই পাওয়া যায় কোনও।”
রুমকি ব্যাগগুলো খাটের ওপর খালি করে দিল।
সুশোভন খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে সব দেখতে থাকলেন। বেশ কিছুক্ষণ পরে একটা গ্রিটিংস কার্ডের দিকে নজর গেল তাঁর। গ্রিটিংস কার্ডটা খুলে দেখলেন লেখা, “টু মাই লাভ, ফ্রম রিন্টু।”
সুশোভনের মুখে হাসি ফুটে উঠল। বললেন, “রিন্টু ছেলেটি কে?”
রুমকি বলল, “জানি না। মানে ঝুমকির সঙ্গে তো আমার সব ব্যাপারে কথা হত, কিন্তু ইদানীং আমাকে কিছুই বলত না।”
সুশোভন বললেন, “আপনার বোনের ক্লাসমেটদের নাম্বার দিতে পারবেন? কাল সকাল অবধি অপেক্ষা করতে চাইছি না আসলে। মেয়ে বাড়ি ছেড়ে কারও সঙ্গে গেছে বোঝা যাচ্ছে, এবার কোথায় গেছে, সেটা বের করা খুব একটা সমস্যা হবার কথা না।”
রুমকি বলল, “পাড়ার একটা মেয়ে আছে, সহেলি নাম। ঝুমকির কলেজে না পড়লেও ওর সঙ্গে বন্ধুত্ব ছিল। ওকে জিজ্ঞেস করে দেখা যেতে পারে। সহেলি চিনতে পারে কলেজের কাউকে।”
রাত সাড়ে এগারোটার মধ্যে ঝুমকির কলেজের এক বন্ধুর থেকে রিন্টুর ব্যাপারে জানা গেল। কলেজে দেখা করতে আসত ছেলেটা । দেখে ভালো ফ্যামিলির বলে মনে হয়।
সুশোভন তপনকে বললেন, “যা বোঝা যাচ্ছে আপনার মেয়ে বিয়ে করেছে। কার সঙ্গে করেছে, কেমন পরিবার, কী বৃত্তান্ত, কালকের মধ্যে জেনে যাবেন।”
বিকাশ বললেন, “অন্য ধর্মে বিয়ে করলে কোনও স্টেপ নেওয়া যাবে না? ফুসলিয়ে নিয়ে যাওয়া ইত্যাদি?”
সুশোভন বিকাশের দিকে তাকিয়ে বললেন, “মেয়েটা স্বেচ্ছায় গেলে কিছুই করা যাবে না। তার লাইফ, তার সম্পূর্ণ অধিকার আছে নিজের মতো করে বাঁচার।”
বিকাশ বললেন, “শুনুন না অফিসার, আপনি বুঝতে পারছেন না, ব্রাহ্মণ বাড়ির মেয়ে, মুসলমান বিয়ে করলে কী হতে পারে বুঝতে পারছেন?”
সুশোভন আদিত্যর দিকে তাকালেন, “আমি এলাম রে। কাল তোকে সবটা দেখে বলব। ফোন ট্র্যাক করা যায় নাকি দেখছি।”
#
পরের দিন সকাল দশটা। আদিত্য রাতটা শ্বশুরবাড়িতেই ছিল। অফিস থেকে ছুটি নিয়েছে।
রুমকি মাকে সামলাচ্ছে। তপন গম্ভীর মুখে কাগজ পড়ছিলেন।
আদিত্যর ফোন এল, দেখল সুশোভন।
ধরল, “হ্যাঁ বল।”
“শোন, ছেলেটার নাম রুবেল খান। খিদিরপুরের ছেলে। কাল ওরা কলকাতা ছেড়েছে। এখন ধানবাদে আছে। আমরা যেটুকু করার করলাম। বুঝতেই পারছিস, বিয়েটা স্বেচ্ছায় হয়েছে। আমাদের হাত পা বাঁধা। সুতরাং…”
আদিত্য বলল, “বুঝেছি। থ্যাংক ইউ রে।”
ফোনটা রেখে আদিত্য রুমকিকে বলল, “একটু ও ঘরে চলো।”
