শুভ বলল, “নেতাগুলোও কম হারামি না গুরু। আমাকে রোজ টোন করত। মাথা গরম করাত। যেই দীপ্ত রায়ের ফ্ল্যাটে ঝামেলাটা করলাম, শালা যেতেই তাড়া দিয়ে দিল। গরিবদের জন্য কোনও নেতা আসে না আসলে। সব টাকার ভক্ত।”
বুবকা গাড়ি স্টার্ট দিল।
শুভ বলল, “কোথায় যাবে? বোতল তো ফাঁকা হতে বহু দেরি!”
বুবকা বলল, “দীপ্ত রায়ের ফ্ল্যাটে যাব।”
শুভ শুয়ে ছিল। উঠে বসল, “কী করতে?”
বুবকা বলল, “কথা বলব। তুমি শুধু মাথা গরম না করে চুপচাপ বসে থাকবে। একটা কথাও বলবে না।”
শুভ বলল, “মাথা গরম হয়ে গেলে ঝামেলা হয়ে যাবে তো! তার চেয়ে এক কাজ করো, আমি গাড়িতে বসি, তুমি কথা বলো। তবে মালটা এখন ঘুমাচ্ছে তো। ওই ফ্ল্যাটে ঢুকতে তো দেবে না। তা ছাড়া, নিচে সিকিউরিটি আছে।”
বুবকা বলল, “অ্যাপার্টমেন্টের পিছনের দেওয়াল টপকাব। ওদিকটার দেওয়াল নিচু। সিকিউরিটি বুঝবে না কিছু। তুমি গাড়িতে থেকো।”
শুভ বলল, “ওরে বাবা, সে তো কঠিন ব্যাপার। যদি ধরা পড়ো?”
বুবকা হাসল, “দেখাই যাক না।”
২০
সকাল সাড়ে এগারোটা। চা খেয়ে মুখ বিকৃত করলেন বরাট। থানার চা খেয়ে সুখ নেই। রোজই ভাবেন বাড়ি থেকে আসার সময় ফ্লাস্কে চা নিয়ে আসবেন, কিন্তু কোনও দিনই হয় না। তাড়াহুড়োয় ঠিক গোলমাল হয়ে যায়।
ফোনটা বাজছে। আননোন নম্বর, বরাট ফোন তুললেন, “কে বলছেন?”
“রনি বলছি স্যার থ্রি নিউজ থেকে। ভুলে গেলেন? সেদিন জাকারিয়া স্ট্রিটে কাবাব খাওয়ালেন?”
বরাটের ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটল, “এটা আবার কোন নাম্বার থেকে ফোন করছ?”
“স্যার এটা জিও নাম্বার। ফ্রি পেয়েছি, যদ্দিন কথা বলা যায়।”
“উফ, তোমাদের এই জিও নাম্বারের জ্বালায় অবস্থা খারাপ হয়ে গেল। সবাই শুধু আননোন নাম্বার থেকে ফোন করে।”
“তা যা বলেছেন স্যার। আমারও এক অবস্থা।”
“এবার ঝোলা থেকে বেড়ালটা বের করো তো বাওয়া। ফোন করলে কেন? কোন খবর বের করতে চাও?”
“স্যার দুটো ব্যাপারে ফোন করছি।”
“হুঁ। বলে ফ্যালো।”
“এক, অলকানন্দা মুখার্জির কী হল?”
“ওহ, বুঝেছি, সকাল থেকে তুমি তিন নম্বর।”
“সে কী স্যার, সবাই সব কিছু জেনে গেল নাকি?”
“তোমার চিন্তার কোনও কারণ নেই। কেউই কিছু জানতে পারেনি। কারণ আমিও অন্ধকারে এখনও।”
“একটাও কোনও ক্লু পাননি? কল লিস্ট চেক করেছিলেন ফোনের?”
“হ্যাঁ। আর পাঁচটা দিনের মতোই স্বাভাবিক। ইন ফ্যাক্ট সেদিন কাউকে ফোনই করেনি দেখছি।”
“স্যার, আর-একটা প্রশ্ন করি?”
“হুঁ।”
“দীপ্ত রায়ের ফ্ল্যাটে একজন মহিলা ছিল। কে সে?”
“আরে ভাই, দীপ্ত রায় তো আমাদের বোন বলে পরিচয় করাল। দূর সম্পর্কের বোন, শিলিগুড়িতে থাকে নাকি!”
“হা হা। দেখেছেন স্যার, ঠেলায় পড়লে লোকে বেশ্যাকেও নিজের বোন বানিয়ে দেয়। মেয়েটা এসকর্ট সার্ভিসে কাজ করে।”
বরাট একটু নড়েচড়ে বসলেন, “তুমি এত জানলে কী করে?”
“স্যার আমাদের কাজই তো জানা। ইনফরমেশন টেকনোলজি।”
বরাট বললেন, “হুঁ, সে জেনেছ ভালো করেছ, কিন্তু অলকানন্দা মিসিং-এর সঙ্গে এর সম্পর্ক আছে নাকি প্রশ্ন সেটাই। না হবার সম্ভাবনাই বেশি, কারণ এই সার্চে সবথেকে বেশি জোর আমায় দীপ্ত রায়ই দিচ্ছে। খুব আপসেট হয়ে পড়েছে।”
“ফেক নয় তো?”
“না। হলে বুঝতাম। ইয়ে পেকে গেল ভাই এই কাজ করতে করতে।”
“আচ্ছা স্যার, এবার সেকেন্ড কোয়েশ্চেনটা করি?”
“ও বাবা, এতক্ষণে শুধু প্রথম প্রশ্নটা করলে?”
“স্যার, আপনি আমার জীবনের দেখা প্রথম এবং শেষ পুলিশ যে রিপোর্টারকে নিজের টাকা খরচ করে কাবাব খাওয়ায়। আপনার ওপর তো একটু বেশি আশা থাকবেই।”
“থাক থাক, আর বার খাইয়ে আকাশে তুলতে হবে না। বলো কী জানতে চাও।”
“বলছি স্যার, বৈভবী আর আগরওয়ালের গাড়িকে যে ট্রাকটা ঠুকেছিল, তার ড্রাইভার এখন পুলিশ কাস্টডিতে আছে না জামিন পেয়ে গেছে?”
বরাট চায়ে চুমুক দিচ্ছিলেন, প্রশ্নটা শুনে চা-টা গিলতে পারলেন না, উঠে বেসিনে গিয়ে পুরোটা ফেলে দিলেন, বললেন, “হঠাৎ এই প্রশ্ন কেন?”
“স্যার কেউ কেউ মনে করছে অলকার হারিয়ে যাওয়া আর বৈভবীর অ্যাক্সিডেন্টটা ইন্টারলিংকড।”
“কে মনে করছে?”
“অনেকেই স্যার। মিডিয়া মনে করছে, পুলিশেও কেউ কেউ মনে করছে, এই কেসের চার্জ আপনার থেকে সরিয়ে নেওয়া হবে সেরকমও একটা খবর শুনছিলাম।”
বরাটের কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম জমছিল, বললেন, “কে বলল? নাকি আমাকে ব্লাফ মারছ?”
“ওই যে বললাম স্যার, আপনাকে আমি অন্য চোখে দেখি। আপনাকে ব্লাফ মারতে যাব কেন বলুন?”
বরাট বললেন, “ড্রাইভারটা তো এখন জেলে আছে। আলিপুরে সম্ভবত। জামিন হয়েছে কি না বলতে পারব না।”
ওপাশ থেকে হাসির শব্দ এল, “আগের উইকে জামিন হয়েছে স্যার। আপনি জানেন না দেখে অবাক হলাম।”
২১
রিমি খাটে শুয়ে নিঃশব্দে কাতরাচ্ছিল। তার হাত আর পা দড়ি দিয়ে বাঁধা। মুখে কাপড় গুঁজে দেওয়া। পরনে একটা সুতোও নেই। তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় সিগারেটের ছ্যাঁকার দাগ।
অফিস থেকে ফিরে একগাদা মদ খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিল দীপ্ত। রিমিও ঘুমিয়েছিল।
মাঝরাতে উঠে দীপ্ত হঠাৎই রিমির মাথার চুল ধরে ঘুম থেকে তুলে হিসহিস করে বলল, “আমি জানি, তুই ঠিক জানিস অলকা কোথায় গেছে। খুব পিরিত দেখেছি আমি তোদের মধ্যে। বল কোথায় গেছে।”
