প্রীতিকা বলল, “ইয়েস। গো অ্যাহেড।”
তথাগত বলল, “হ্যাভ ইউ এভার ফ্যান্টাসাইজড অ্যাবাউট বুবকা?”
প্রীতিকা চোখ বড়ো বড়ো করল, “এটা কী ধরনের প্রশ্ন হল? তুমি এসব ভাবো নাকি? শিট!”
তথাগত বলল, “জাস্ট আস্কড। আমি ভাবি না ভাবি না বড়ো কথা না, তুমি প্রশ্ন করতে বললে আমি করলাম। তুমি চাইলে উত্তর নাও দিতে পারো। আমার মাথায় এই মুহূর্তে এটাই এল।”
প্রীতিকা বলল, “আমি জাস্ট ভাবতে পারছি না, তুমি এমন প্রশ্ন করবে। উত্তরটা অবভিয়াসলি নো। ইয়েস, আমার শাহরুখ খানকে নিয়ে ফ্যান্টাসি আছে। ওই একজনই। ইওর ব্রাদার ইজ এ স্পয়েল্ড ব্র্যাট। ওকে নিয়ে ভাবতে যাব কেন?”
তথাগত বলল, “শাহরুখ খান এখন ঘরের মধ্যে এলে আমাকে বের করে দেবে?”
প্রীতিকা বলল, “হ্যাঁ। যদিও একটা কোয়েশ্চেনের উত্তরে সত্যি বলতে হত, আমি এটারও সত্যিটা বলে দিলাম।”
তথাগত হাসতে লাগল, “নাও ইটস ইওর টার্ন। বলো।”
প্রীতিকা বলল, “বিয়ের আগে তুমি ভার্জিন ছিলে?”
তথাগত বিরক্তি প্রকাশ করল, “উফ। সেই…”
প্রীতিকা বলল, “তোমার প্রশ্নটার থেকে অনেক সোজা প্রশ্ন করেছি। বলো বলো।”
তথাগত বলল, “নাহ।”
প্রীতিকা বলল, “কে? বৈভবী?”
তথাগত বলল, “নো। বৈভবীকে নিয়ে তোমার সন্দেহটা একেবারেই ভিত্তিহীন।”
প্রীতিকা বলল, “তবে কে?”
তথাগত বলল, “কলেজের গার্লফ্রেন্ড। চিনবে না। এখন বিয়ে হয়ে গেছে। এনআরআই বর।”
প্রীতিকা বলল, “ফেসবুকে আছে?”
তথাগত বলল, “আছে।”
প্রীতিকা বলল, “দেখাও।”
তথাগত মোবাইলটা বের করতে করতে বলল, “একটা প্রশ্নের কথা ছিল, এবার র্যাাপিড ফায়ার শুরু হয়েছে। এইজন্য আমি এই খেলাটা খেলতে চাইনি।”
প্রীতিকা থমথমে মুখে বলল, “লিভ ইট। দেখাতে হবে না।”
তথাগত বলল, “না, না, দ্যাখো দ্যাখো। দেখতে চেয়েছ, দেখে নাও।”
ফোনে ফেসবুকের আইকনে ট্যাপ করতে যাচ্ছিল তথাগত, ঠিক সেই সময় ফোনটা বেজে উঠল। মিনিটখানেক কথা বলে ফোনটা রেখে বলল, “অলকানন্দা মুখার্জি, মিসিং।”
প্রীতিকা বলল, “অলকানন্দা মুখার্জি মানে? দীপ্ত রায়ের…?”
তথাগত মাথা নাড়ল। প্রীতিকা বলল, “মিসিং মানে কী?”
তথাগত বলল, “মিসিং মানে মিসিং। পাওয়া যাচ্ছে না কাল থেকে। আজ আমাকে ইদ্রিশ এখন জানাচ্ছে। বাল একটা!”
প্রীতিকা বলল, “নিউজ দেখা হচ্ছে না আসলে আমাদের। যার ফলেই এই ল্যাগ। ইদ্রিশ ভেবেছিল হয়তো তুমি দেখে নিয়েছ।”
তথাগত বলল, “সবাই সব কিছু ভেবে নিয়ে বসে থাকলে কী করে হবে?”
প্রীতিকা বলল, “তুমি এত এক্সাইটেড হচ্ছ কেন?”
তথাগত প্রীতিকার দিকে তাকিয়ে ধীরে ধীরে বলল, “শি নোজ সামথিং। শি নোজ সামথিং। উই কান্ট লুজ হার।”
প্রীতিকা বলল, “নোজ হোয়াট? ট্রুথ অ্যাবাউট বৈভবী?”
তথাগত কথাটা ঘোরাতে চাইল, “আমি কী করে জানব?”
প্রীতিকা অবাক হয়ে বলল, “তাহলে কথাটা বললে কেন! কী জানে ও?”
তথাগত বলল, “ফাক ইয়ার, ফাক, কী বুলশিট বকে যাচ্ছ তখন থেকে। শি ওয়াজ প্রেগন্যান্ট অ্যান্ড দীপ্ত রায় ট্রায়েড টু ফোর্সড হার টু অ্যাবর্ট হার চাইল্ড। এটা নিউজ হলে আমাদের কতটা লাভ হত বুঝতে পারছ?”
প্রীতিকা হাল ছেড়ে দিল, “আমি কিছুই জানি না। তুমি কিছুই বলছ না আমাকে আজকাল। এত কথা পেটে চেপে রাখো কীভাবে?”
তথাগত বলল, “কারণ আমি কাজে মন দিতে চেয়েছিলাম। নাও সব কিছু আবার ঘেঁটে গেল। শিট!”
১৮
“দীপ্ত রায়ের দুটো প্রোজেক্টের কাস্ট চেঞ্জ করতে হচ্ছে মাঝপথে”, রিখিয়া বলল।
বাণী বললেন, “তাতে আমাদের লাভ?”
রিখিয়া বলল, “আমাদেরই তো লাভ। টিআরপি ফল করবে ওদের।”
বাণী হাত দিয়ে কথাটা ওড়ানোর ভঙ্গি করে বললেন, “ওসব তো শর্ট টার্ম লাভ। টিআরপি দু-তিনটে উইক এফেক্টেড হবে। তারপর?”
রিখিয়া একটু ভেবে বলল, “সেটা তো ভেবে দেখিনি।”
বাণী বললেন, “দীপ্ত রায়ের লাভ লোকসান চিন্তা করলে হবে না রিখিয়া। আমরাও খুব একটা কমফরটেবল পজিশনে নেই এখন।”
রিখিয়া বলল, “বুবকাকে নিয়ে টেনশন করছ? ও কিন্তু শ্যুটের সময় যথেষ্ট সিরিয়াস থাকছে। এবং ঠিকঠাক কথাও শুনছে।”
বাণী বললেন, “চিন্তাটা বুবকাকে নিয়ে আমার সর্বক্ষণ থাকে। কিন্তু বুবকার থেকেও আমার বেশি চিন্তা ওর দাদাকে নিয়ে। হি ইজ স্ট্রাগলিং। এবং সেটা চোখে লাগছে।”
রিখিয়া বাণী মিত্রের দিকে তাকাল। কিছু বলবে নাকি একটু ভাবল। তারপর চুপ করে গেল।
বাণী বললেন, “অলকার কোনও খবর পাওয়া গেছে?”
রিখিয়া মাথা নাড়ল। তারপর একটু হেসেই সিরিয়াস হয়ে গেল।
বাণীর সেটা চোখে পড়ল। বললেন, “হাসলি কেন?”
রিখিয়া মাথা নাড়ল, “না না, তেমন কিছু না।”
বাণী বললেন, “গাঁট্টা খাবি রিখিয়া। নিশ্চয়ই কোনও কারণ আছে। বল।”
রিখিয়া এবার হেসে ফেলল। হাসতে হাসতে বলল, “দীপ্ত রায়ের ফ্ল্যাটে মিডিয়া গেছিল। দীপ্ত রায় সেখানে কাউকে ঢুকতে দেয়নি। কোন মিডিয়া আবার বাজারে খবর ছেড়ে দিয়েছে, দীপ্ত নাকি অন্য কোনও মেয়েকে ফ্ল্যাটে নিয়ে এসেছিল। তা নিয়েই অলকার রাগ।”
বাণী বললেন, “ছিল নাকি অন্য কোনও মেয়ে? এটা কি সত্যি? খবরটা অবশ্য আমিও পাব অমিতকে ফোন করলেই। টিভিতে তো চ্যানেলগুলো খোলা যাচ্ছে না। সব চ্যানেলেই দীপ্ত অলকার রগরগে সব গল্প বেরোচ্ছে। বৈভবীর সময়েও বেরিয়েছিল।”
বাণী থেমে গেলেন।
