রিমি উঠে কাপড়টা পরতে যাচ্ছিল, দীপ্ত বলল, “কাপড় পরার দরকার নেই। তুমি এভাবেই যাও। তোমার কি এখনও লজ্জাবোধ আছে? রাস্তার মাঝখানে এভাবে যেতে বললে যেতে পারবে না? রিমেম্বার অলওয়েজ, ইউ আর আ প্রস্টিটিউট, আই শ্যাল বি হ্যাপিয়ার ইফ ইউ বিহেভ লাইক আ প্রস্টিটিউট ইন মাই হাউস।”
রিমি এবারও কোনও উত্তর দিল না। চুপচাপ দরজা খুলে পাশের ঘরে গেল। মিনিটখানেক পরে এসে বলল, “দিদি তো নেই।”
দীপ্ত রিমির দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে বলল, “নেই? ওয়াশরুম চেক করেছ?”
রিমি বলল, “হ্যাঁ। দরজা খোলা। বাইরের দরজাও খোলা।”
দীপ্ত উঠল। দরজা খুলে বাইরে গিয়ে দেখল পাশের ঘরটা ফাঁকা। সে রান্নাঘরটাও দেখল। কেউ নেই। ফোন বের করে অলকাকে ফোন করল।
রিং-এর শব্দ আসছিল। দীপ্ত অলকার ঘরে গিয়ে দেখল অলকার ফোনটা খাটের ওপরেই রাখা।
সে বলল, “স্ট্রেঞ্জ। কোথায় গেল?”
রিমি বলল, “ঘরেই তো ছিল।”
দীপ্ত টিশার্ট আর শর্টস পরা ছিল। ওই অবস্থাতেই লিফটে নিচে নেমে গেল। ফ্ল্যাটের সিকিউরিটিকে জিজ্ঞেস করে জানতে পারল কিছুক্ষণ আগে অলকা বেরিয়ে গেছে।
সে প্রবল রাগে ডান হাত দিয়ে নিজের বাঁ হাতে একটা ঘুসি মারল।
ফোনটা বের করল, “হ্যালো, রাজু, শোন, অলকা সম্ভবত ওর বাড়ি গেছে। তুই ইমিডিয়েটলি গিয়ে ওকে বল আমাকে যেন ফোন করে।”
ফোনটা রেখে দীপ্ত নিচেই হাঁটাহাঁটি করতে লাগল। উদ্দেশ্যহীনের মতো বিভিন্ন জায়গায় ফোন করতে শুরু করল।
লিফট ধরে নিজের ফ্ল্যাটে ফিরে এল। রিমি ততক্ষণে শাড়ি পরে নিয়েছিল।
দীপ্ত রিমির দিকে তাকিয়ে গম্ভীর গলায় বলল, “তুই জানিস ও কোথায় গেছে?”
রিমি সভয়ে মাথা নাড়ল, “বিশ্বাস করুন, আমি কিচ্ছু জানি না।”
দীপ্ত আবার রাজুকে ফোন করল, রাজু জানাল অলকা শুভর বাড়ি যায়নি। দীপ্ত বলল, “ওখানেই থাকো। অন্তত দু ঘণ্টা নজর রাখো। তারপর ওখান থেকে যাবে।”
রিমি বলল, “আপনি চা খাবেন?”
দীপ্ত চেঁচিয়ে উঠল, “তোর এখন চায়ের কথা মনে পড়ছে? খানকি মাগি, শোয়া ছাড়া কিছু বুঝিস তুই? যা, সামনে থেকে যা, ওই ঘরে গিয়ে শুয়ে থাক।”
রিমি চুপচাপ দীপ্তর বেডরুমে চলে গেল।
দীপ্ত কিছুক্ষণ ভেবে ট্রাউজারটা পরে আবার নিচে নামল। গাড়িটা বের করে স্টুডিও রওনা দিল।
অফিসে পৌঁছে নিজের ঘরে গিয়ে আবার রাজুকে ফোন করল, “হ্যাঁ রাজু, গেছে ওখানে?”
রাজু বলল, “না দাদা। এখনও তো আসেনি।”
দীপ্তর জোরে জোরে শ্বাস পড়ছিল।
সে অফিসের সবাইকে ডেকে ডেকে বকাঝকা করা শুরু করে দিল।
১৭
“একটা ট্রুথ হাউস থাকলে কত ভালো হত না?”
ডাইনিং হল থেকে খেয়ে বেরিয়ে হাঁটছিল তারা।
প্রীতিকার প্রশ্নের উত্তরে তথাগত অন্যমনস্ক ভাবে বলল, “হুঁ। আজকের চিকেনটা ভালো ছিল। কিন্তু ননভেজ বলতে কি এরা চিকেন ছাড়া কিছু বোঝে না? ভেজ মানেও পনির। ব্যাপারটা একটু একঘেয়ে হচ্ছে না?”
প্রীতিকা বলল, “তুমি কি আমার কথাটা শুনতে পেলে না?”
তথাগত বলল, “খাবারের কথা জিজ্ঞেস করলে তো?”
প্রীতিকা বলল, “না। আমি বলছিলাম ট্রুথ হাউসের কথা। এখানের খাবার ভালো। কস্টলি, কিন্তু ভালো। ফ্রেশ খাবার।”
তথাগত বলল, “ট্রুথ হাউস? কী বলছিলে ট্রুথ হাউসের ব্যাপারে?”
প্রীতিকা বলল, “বললাম একটা ট্রুথ হাউস থাকলে কত ভালো হত। আমরা নিজেরাই বুঝে নিতাম কে সত্যি বলছে, কে মিথ্যে বলছে। নারকো টেস্টেরও দরকার পড়ত না। পুলিশ সাসপেক্টদের ট্রুথ হাউসে নিয়ে এলেই সত্যিটা বেরিয়ে যেত।”
তথাগত বলল, “পুলিশ যে সবসময় সত্যি কথা বলে সেটা তোমায় কে বলল? পুলিশও তো মানুষ।”
প্রীতিকা বলল, “তুমি কী বলতে চাও, পুলিশকে কেনা যায়?”
পাহাড়ের উপরের দিকে তাদের ঘর। সিঁড়ি ভেঙে উঠতে হয়। তথাগত সিঁড়ি ভাঙতে ভাঙতে দাঁড়িয়ে পড়ে বলল, “আমি কোথায় বললাম সেটা?”
প্রীতিকা বলল, “কথাটা তো সেদিকেই যায়।”
তথাগত হাঁটা শুরু করল, “এসব কথা বিতর্কিত। কিছু না বলাই ভালো।”
প্রীতিকা বলল, “এখানে তুমি আমি ছাড়া আছেটাই বা কে?”
তথাগত বলল, “তবু। বিতর্কিত কথা বলার অভ্যাসটা ছাড়তে হবে। কাজে দেয় সেটা।”
প্রীতিকা বলল, “ট্রুথ হাউস থাকলে সবার আগে তোমাকে ঢোকাতাম। মাঝে মাঝে ভীষণ সন্দেহ হয় আমার।”
তথাগত বলল, “সম্পর্কে সন্দেহ থাকাটা হেলদি।”
প্রীতিকা বলল, “একটা কথা, এখানে কিন্তু তোমাকে অনেকটা ফ্রেশ লাগছে। কলকাতায় থাকলে তোমাকে মাঝে মাঝে দেখলে ভয় লাগে। কেমন দুমড়ে মুচড়ে যাও মাঝে মাঝে। মে বি দ্যাট ইন্ডাস্ট্রি ইজ নট ফর ইউ।”
তারা তাদের রুমে চলে এসেছিল। তথাগত চাবি দিয়ে ঘর খুলে আলো জ্বালাতে জ্বালাতে বলল, “ছেড়ে পালিয়েও যাব না। কয়েকদিন দেখি আগে।”
প্রীতিকা বলল, “লিভ দিস ইস্যুস। ভাবলেই মজাটা কেমন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তুমি বলো এমন একটা প্রশ্ন, যেটার আমি সত্যি উত্তর দিতে বাধ্য।”
তথাগত বলল, “উফ, এসব আবার কী শুরু করলে?”
প্রীতিকা বলল, “বলো বলো। জাস্ট একটা একটা করে প্রশ্ন হবে। তুমি আমাকে একটা প্রশ্ন করবে, আমি তোমাকে একটা প্রশ্ন করব।”
তথাগত বলল, “ওকে। প্রশ্ন করছি, কিন্তু কীভাবে বুঝব আমরা ঠিক বলছি কি না?”
প্রীতিকা বলল, “সেই বিশ্বাসটা তো রাখা উচিত, না? আফটার অল কিছু ট্রাস্ট তো করিই আমরা একে অপরকে।”
তথাগত সোফায় বসল, “ওকে, তা আমি আগে প্রশ্ন করব?”
