অমৃতা বলল, “আমার না ভীষণ এক্সাইটমেন্ট হচ্ছে, ট্রুথ হাউস, ওয়াও, হোয়াট আ কনসেপ্ট। দ্যাখো আজ তো আমাদের কারও ঘুম হবে না, একটা কাজ তো করতে পারি, আমরা ট্রুথ অ্যান্ড ডেয়ার খেলতে পারি।”
প্রস্তাবটা শুনে রিমঝিম লাফিয়ে পড়ল, “ইয়েস ইয়েস, দারুণ মজা হবে।”
অনন্তবাবু বললেন, “সে আবার কী? অন্ত্যাক্ষরী ভালো ছিল না?”
সুলগ্না বললেন, “নিয়মটা বোঝাও, ভালো লাগলে ট্রাই করা যাবে।”
অমৃতা উৎসাহ নিয়ে বোঝাতে লাগল। যেটা ঠিক হল, গোল করে তিনটে ফ্যামিলির লোক বসবে। একটা বোতল ঘোরানো হবে। বোতলের মুখ যার দিকে থাকবে সে ভিক্টিম। শুধুমাত্র প্রথম জনই ট্রুথ নেবে না ডেয়ার নেবে সেটা ঠিক করবে। তারপর অল্টারনেটিভভাবে ব্যপারটা এগোবে। প্রত্যেকেরই ফ্যামিলির লোক ট্রুথ অর ডেয়ারের সাবজেক্ট ঠিক করবে।
সবাই গোল করে বসল। বোতল ঘোরানো হল। সবার আগে বোতল রিমঝিমের দিকে গেল।
সবাই জিজ্ঞেস করল, ট্রুথ অর ডেয়ার?
রিমঝিম বলল, “ডেয়ার।”
রিমঝিমের মা বলল, “একটা গান কর।”
রিমঝিম একটা ইংরেজি গান গাইল।
গান শেষ হলে অমিত সরকার একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, “কী যে দিনকাল পড়ল। কোন দুঃখে যে মেয়েকে ইংলিশ মিডিয়ামে দিয়েছিলাম। ওরে মা, এত বাংলা গান আছে, একটা তো করতে পারিস।”
রিমঝিম বিরস মুখে বসে থাকল।
আবার বোতল ঘুরল। এবার রাহুলের দিকে বোতল থামল।
অমৃতা বলল, “এই তো সোনা, ট্রুথ তোমাকে বলতেই হবে। বলো দেখি আমার বন্ধু সুনন্দাকে তুমি আমাকে লুকিয়ে টেক্সট করো কি না?”
সবাই হেসে উঠল।
রাহুল বলল, “আগে করতাম। রিসেন্টলি করছি না।”
সবাই আবার হেসে উঠল। অমৃতা রাহুলকে একটা চিমটি কাটল।
আবার বোতল ঘুরল। এবার সুলগ্নার কাছে গিয়ে বোতল থামল। স্বাভাবিকভাবেই ডেয়ার। অনন্তবাবু বললেন, “বেশি কিছু করতে হবে না, তুমি একটু নেচে দেখাও। মা রিমঝিম, ওই ইংরেজি গানটা আবার কর তো।”
সুলগ্না কটমট করে অনন্তবাবুর দিকে তাকালেন। মেয়েরা রে রে করে উঠল, “না না, একবার বেরিয়ে গেছে আন্টি, এটাই করতে হবে।”
সুলগ্না উঠে দাঁড়ালেন। রিমঝিম গানটা শুরু করল।
খানিকটা নাচার পর সবাই হইহই করে উঠল। সুলগ্না বসে অনন্তবাবুর দিকে কটমট করে তাকালেন।
বোতল আবার ঘুরল। এবার অমিতবাবুর দিকে। ট্রুথ।
বিদিশা বললেন, “তুমি কি সারাজীবন শুধু আমাকেই ভালোবেসেছ?”
অমিতবাবু বললেন “নিশ্চয়ই। আর কারও দিকে চোখ তুলেও তাকাইনি।”
বলার সঙ্গে সঙ্গে অমিতবাবু তীব্র ব্যথায় আর্তনাদ করে উঠলেন, বললেন, “উফ, কী ব্যথা শুরু হল হঠাৎ করে।”
অমৃতা বোর্ডের দিকে হাত দিয়ে দেখাল, “ও মাই গড, ইট মিনস ইট ইজ ফলস। আঙ্কেল আপনি শিগগিরি সত্যিটা বলুন।”
অমিতবাবু কোনওমতে বললেন, “না না, আমি অন্তরাকেও ভালোবাসি, ওর সঙ্গে আমার সম্পর্কটা দশ বছর হতে চলল।”
সঙ্গে সঙ্গে অমিতবাবুর ব্যথাটা কমে গেল। তিনি হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন। বিদিশা দেবী গম্ভীর হয়ে গেলেন। রাহুল গম্ভীর গলায় বলল, “মাই গড। ইট হ্যাজ টার্নড ইনটু আ ডেঞ্জারাস গেম নাও।”
দীপ্তানুজ এই অবধি গল্পটা বলেছিল। হোম স্টে-র ঘরে দীপ্তানুজের গল্প শুনছিল প্রীতিকা আর তথাগত। বাইরে অঝোরে বৃষ্টি পড়ছে।
প্রীতিকা হাততালি দিয়ে উঠল, “ওয়াও, হোয়াট আ স্টোরি।”
তথাগত স্কচে চুমুক দিয়ে বলল, “রিয়েলি দীপ্তানুজ, ইউ হ্যাভ মেড ইট। এই সাসপেন্সটা যে তুমি ক্রিয়েট করতে পেরেছ এটাই তো অসাধারণ। তবে একটা প্রবলেম আছে।”
দীপ্তানুজ বলল, “কী, বলুন।”
তথাগত বলল, “এটা তো এনসেম্বল কাস্টের মুভি হবে। এত স্টার কোথায় পাবে? সবাই তো বলবে এ বলে আমায় দেখ ও বলে আমায়। কস্টটা হাই হয়ে যাবে না?”
দীপ্তানুজ বলল, “দেখুন, এই গল্পে কাস্টটা বড়ো কথা না। আপনি মুভির লোক না নিয়ে সিরিয়ালের লোক কাস্ট করুন না। সাসপেন্সটা তো একই থাকবে।”
তথাগত বলল, “গুড। আমি সিকোয়েন্সগুলো সাজাচ্ছি। নাও তুমি পরের পার্টটা বলো তো। এত উত্তেজনা আর রাখতে পারছি না বস। অনেক দিন পর বাংলা সিনেমা একটা ভালো গল্প পেতে চলেছে।”
১৬
“মেয়েমানুষ কোথায় সুন্দর বলো তো?”
দীপ্ত সিগারেট ধরিয়ে রিমিকে জিজ্ঞেস করল।
রিমি বলল, “কোথায়?”
দীপ্ত খালি গায়ে ছিল। উঠে একটা টিশার্ট গায়ে চড়িয়ে আবার খাটে এসে বসল, “খাটে। পৃথিবীতে মেয়েদের সবথেকে বেশি মানায় খাটে।”
রিমি কিছু বলল না। সে চুপচাপ শুয়ে ছিল।
দীপ্ত বলল, “আর খাটে কোন মেয়েদের ভালো লাগে জানো?”
রিমি বলল, “কাদের?”
দীপ্ত বলল, “ভদ্রঘরের মেয়েদের। প্রস্টিটিউট তো টাকা দিলেই শুয়ে পড়বে।”
রিমি বলল, “আপনি আমাকে কতদিন রাখবেন এখানে?”
দীপ্ত উত্তর না দিয়ে সিগারেটটা শেষ করল। বলল, “খারাপ লাগল কথাটা? বাট ইটস আ ফ্যাক্ট। যারা সহজলভ্য, তাদের ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জিং তো কোনও ব্যাপার নেই, আই হার্ড অ্যাবাউট ইওর হিস্ট্রি, কোয়াইট ইন্টারেস্টিং। ইউ আর গুড। বাট নট দ্য বেস্ট। তোমার এখনও অনেক শেখা বাকি। আমি কিন্তু তোমার ফেক অরগ্যাজম বুঝতে পারি।”
দীপ্তর আঙুল রিমির শরীরে খেলতে শুরু করল, “ইউ হ্যাভ ডিসেন্ট কার্ভস অ্যান্ড ইউ আর বিউটিফুল অলসো, বাট স্টিল, ইউ ল্যাক সামথিং, মে বি ইউ ডোন্ট হ্যাভ দ্য এক্স ফ্যাক্টর। আই উইল শো ইউ দ্য ডিফারেন্সেস। একটা কাজ করো, কল অলকা।”
