অলকা বলল, “তোমার যখন ইচ্ছা করে না তখন তুমি কী করো?”
রিমি বলল, “আমার ইচ্ছা অনিচ্ছার উপরে তো কিছু হয় না। ইচ্ছা করতেই হবে। নইলে অনেক ব্যবস্থা আছে।”
অলকা বলল, “অভিনয় করো?”
রিমি আবার হাসল, “হ্যাঁ। অনেকটা তাই।”
অলকা বলল, “তাহলে তো তুমি খুব ভালো অভিনেত্রী। আমার থেকেও ভালো।”
রিমি বলল, “কেন, তুমি অভিনয় করো না?”
অলকা বলল, “আমি ভাবতাম আমি একাই বোধহয় অভিনয়টা পারি। তোমার অভিনয়টা তো আরও কঠিন। আরও চ্যালেঞ্জিং।”
রিমি বলল, “চ্যালেঞ্জিং কিছুই না। অভ্যাস হয়ে গেছে। যদিও এসকর্ট সার্ভিস তবু অনেক ভালো। রাস্তায় রং মেখে দাঁড়াতে হচ্ছে না। কোনও দিন সেটাও করতে হতে পারে। আচ্ছা আমাকে শ্যুটিং দেখাবে? আমার অনেক দিনের ইচ্ছা।”
অলকা বলল, “আমার সঙ্গে যেয়ো।”
রিমি একটু সংকুচিত হল, “উনি যদি রাগ করেন?”
অলকা বলল, “ওঁকে বলেই যেয়ো নাহয়। ফেরার সময় উনি তোমাকে নিয়ে ফিরবেন। আমার তো ফিরতে ফিরতে মাঝরাত হয়।”
রিমি বলল, “আচ্ছা, তোমার বর কোথায় থাকে?”
অলকা রিমির দিকে কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে বলল, “ওর বাড়িতে।”
রিমি বলল, “দেখা হয়?”
অলকা বলল, “নাহ, অনেক দিন হয়নি।”
রিমি বলল, “দেখা হলে কী বলবে?”
অলকা অবাক হল, “কী বলব?”
রিমি বলল, “অনেক কিছুই তো বলা যায়।”
অলকা একটু ভেবে বলল, “কিছুই বলব না।”
রিমি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, “তাও তোমার একটা লোক ছিল। আমার জন তো ফ্রড। মাঝে মাঝে মনে হয় এখনও যদি এসে কেঁদে বলে চলো আমরা সংসার করি, তাহলে হয়তো এখনও লোকটাকে বিশ্বাস করে চলে যাব। আমার তো বেশ কিছুদিন ধারণা ছিল ওকে হয়তো কেউ মেরেধরে লুকিয়ে রেখেছে। দার্জিলিংয়ে দেখার পরে ধারণাটা ভেঙেছিল। ওর চোখ দেখেই বুঝতে পেরেছিলাম, সব কিছুর পিছনে আসলে ও-ই ছিল। কী বোকাই না ছিলাম। কতবার বাবা বলেছে মানুষকে বিশ্বাস করিস না, আমি তখন বাবাকেই বিশ্বাস করিনি।”
অলকা উঠল, “চলো, তোমার সঙ্গে তোমার বাড়ি যাই।”
রিমি বলল, “তুমি খেপেছ? এই শরীরে কোথায় যাবে?”
অলকা বলল, “কোন শরীর? অত ভাবলে হবে না। আমি ঠিকই আছি।”
রিমি বলল, “বাড়ি গিয়ে কী হবে? ঢুকতে তো পারব না।”
অলকা বলল, “বাইরে থেকে দেখিয়ে দাও। আমি ছুতোনাতা করে ঘুরে আসি।”
রিমি বলল, “খুব বাজে আইডিয়া। তার চেয়ে ঘরেই থাকি। এই ভালো। বৃষ্টি দেখি।”
অলকা বলল, “এভাবে ঘরে বসে থাকতে ভালো লাগে?”
রিমি বলল, “হ্যাঁ। আমাকে সারাদিন ঘরে বসে থাকতে বললে আমি তাই থাকব। আমার কোনও অসুবিধা হবে না।”
অলকা বলল, “আজ আমার শ্যুটিং নেই। খুশি হবার কথা। হতে পারছি না।”
রিমি বলল, “মনখারাপ হচ্ছে?”
অলকা ম্লান হেসে বলল, “শুভর সঙ্গে বসে কত প্ল্যানিং করতাম। ছেলে হলে কী নাম রাখব, মেয়ে হলে কী, আমি তো জানতেই পারলাম না যাকে নষ্ট করলাম সে ছেলে ছিল না মেয়ে।”
বেল বাজল। অলকা বলল, “যাও। দীপ্ত এসে গেছে হয়তো। দরজা বন্ধ করে যেয়ো।”
১৪
এয়ারপোর্টে সিকিউরিটি চেকিং হয়ে গেছিল। তথাগত বলল, “কফি খাবে?”
প্রীতিকা বলল, “আমার ফ্লাইটে ওঠার আগে খুব টেনশন হয়। মনে হয় যদি ক্র্যাশ করে যায়! হাইজ্যাকিং-এর ভয়ও পাই।”
তথাগত বলল, “ধুস, এক ঘণ্টার ফ্লাইট। শুরু হবে আর শেষ হয়ে যাবে।”
প্রীতিকা বলল, “তোমার হঠাৎ কালিম্পং যাবার ইচ্ছা হল কেন? এবার তো সত্যিটা বলো। শুধুই সারপ্রাইজ হানিমুন ছিল মাথায়?”
তথাগত বলল, “দীপ্তানুজ আজকেই পৌঁছে গেছে তো। তোমাকে বললাম না একটা হরর ফিল্ম করার কথা ভাবছি।”
প্রীতিকা চোখ নাচাল, “ওহ, এক ঢিলে দুই পাখি মারবে। হানিমুনও হল, আবার লোকেশনও দেখা হল।”
তথাগত বলল, “আর-একটা পাখি কাউন্ট করো।”
প্রীতিকা অবাক হল, “কী?”
তথাগত বলল, “স্ট্রেসটা আর নিতে পারছিলাম না।”
প্রীতিকা বলল, “ওহ, বুঝেছি, বুবকা আসার পর, তাই তো?”
তথাগত মুখ বিকৃত করল, “বুবকাকে আমি কেন ভয় পেতে যাব?”
প্রীতিকা বলল, “সেটা তুমিই ভালো জানো।”
তথাগত বলল, “তোমাকে ভূতের গল্পটা বলেছি? মানে যেটা দীপ্তানুজ লিখেছে?”
প্রীতিকা বুঝল তথাগত এই প্রসঙ্গটা এড়িয়ে যেতে চাইছে, সে বলল, “না তো।”
তথাগত বলল, “এক কাজ করব, গল্পটা লোকেশনে গিয়েই শুনব। সাহেবের ভূত বাংলো, পাহাড়ের বৃষ্টি, সঙ্গে কফি, কী বলো?”
প্রীতিকা বলল, “আমার কোনও চাপ নেই। আমি ভূতের ভয়-টয় পাই না। তার থেকে টেক অফের টাইমে ঢের বেশি ভয় পাই। আর এয়ারপকেটে পড়লে তো কথাই নেই। শুধু মনে হয় এই বুঝি ইঞ্জিন বন্ধ করে দিল। এর থেকে ট্রেন অনেক ভালো।”
তথাগত বলল, “ট্রেনেও কিন্তু অ্যাক্সিডেন্ট হয়। সেটা খেয়াল আছে তো?”
প্রীতিকা বলল, “দ্যাখো, ট্রেনে অ্যাক্সিডেন্ট হলেও সেটা ডাঙায় চলে। অ্যাটলিস্ট বাঁচার পারসেন্টেজটা বেশি। আকাশপথে হলে তো সেটুকুও নেই।”
তথাগত বলল, “অত কিছু ভাবলে হয় না। বৈভবীও তো ডাঙায় ছিল।”
প্রীতিকা অবাক গলায় বলল, “এর মধ্যে বৈভবী এল কোত্থেকে?”
তথাগত বলল, “কেন আসবে না? ইন ফ্যাক্ট ওর একজ্যাম্পল এর মধ্যে না এলে অবাক হতাম না বেশি?”
প্রীতিকা বলল, “আমার কেন জানি না বৈভবীকে ঠিক সহ্য হয় না। বুবকা সেই কথাটা বলার পর থেকে।”
তথাগত বলল, “কোনটা?”
প্রীতিকা তথাগতর চোখের দিকে তাকাল, “সেই যে ও বলেছিল না, বৈভবীর সঙ্গে নাকি তোমার কিছু ছিল।”
