• আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • গোপনীয়তা নীতি
মঙ্গলবার, জুন 16, 2026
  • Login
BnBoi.Com
  • বাংলাদেশী লেখক
    • অতুলচন্দ্র গুপ্ত
    • অভিজিৎ রায়
    • আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    • আনিসুল হক
    • আবু ইসহাক
    • আবু রুশদ
    • আবুল আসাদ
    • আবুল খায়ের মুসলেহউদ্দিন
    • আবুল বাশার
    • আরজ আলী মাতুব্বর
    • আল মাহমুদ
    • আসাদ চৌধুরী
    • আহমদ ছফা
    • আহমদ শরীফ
    • ইমদাদুল হক মিলন
    • উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    • কাসেম বিন আবুবাকার
    • জসীম উদ্দীন
    • তসলিমা নাসরিন
    • দাউদ হায়দার
    • দীনেশচন্দ্র সেন
    • নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    • নিমাই ভট্টাচার্য
    • প্রফুল্ল রায়
    • প্রমথ চৌধুরী
    • ময়ূখ চৌধুরী
    • মহাদেব সাহা
    • মাহমুদুল হক
    • মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    • হুমায়ূন আহমেদ
  • ইন্ডিয়ান লেখক
    • অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়
    • অতুল সুর
    • অদ্রীশ বর্ধন
    • অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • অনীশ দেব
    • অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • অমিয়ভূষণ মজুমদার
    • আশাপূর্ণা দেবী
    • আশুতোষ মুখোপাধ্যায়
    • ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    • কাজী নজরুল ইসলাম
    • ক্ষিতিমোহন সেন
    • তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    • তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়
    • দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    • নারায়ণ সান্যাল
    • নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    • নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    • পাঁচকড়ি দে
    • পূর্ণেন্দু পত্রী
    • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • বিমল মিত্র
    • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    • হেমেন্দ্রকুমার রায়
  • বিভাগসমূহ
    • আত্মজীবনী
    • ইতিহাস
    • উপন্যাস
    • কবিতা
    • কল্পকাহিনী
    • কাব্যগ্রন্থ
    • খেলাধুলার বই
    • গল্পের বই
    • গোয়েন্দা কাহিনী
    • ছোট গল্প
    • জীবনী
    • দর্শন
    • ধর্মীয় বই
    • নাটকের বই
    • প্রবন্ধ
    • বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী
    • বৈজ্ঞানিক বই
    • ভূতের গল্প
    • মুক্তিযুদ্ধের-বই
    • রহস্যময় গল্পের বই
    • রোমাঞ্চকর গল্প
    • রোম্যান্টিক গল্পের বই
    • শিক্ষামূলক বই
    • সমগ্র
  • সিরিজ বই
    • মিসির আলী সমগ্র
    • হিমু সিরিজ
No Result
View All Result
  • বাংলাদেশী লেখক
    • অতুলচন্দ্র গুপ্ত
    • অভিজিৎ রায়
    • আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    • আনিসুল হক
    • আবু ইসহাক
    • আবু রুশদ
    • আবুল আসাদ
    • আবুল খায়ের মুসলেহউদ্দিন
    • আবুল বাশার
    • আরজ আলী মাতুব্বর
    • আল মাহমুদ
    • আসাদ চৌধুরী
    • আহমদ ছফা
    • আহমদ শরীফ
    • ইমদাদুল হক মিলন
    • উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    • কাসেম বিন আবুবাকার
    • জসীম উদ্দীন
    • তসলিমা নাসরিন
    • দাউদ হায়দার
    • দীনেশচন্দ্র সেন
    • নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    • নিমাই ভট্টাচার্য
    • প্রফুল্ল রায়
    • প্রমথ চৌধুরী
    • ময়ূখ চৌধুরী
    • মহাদেব সাহা
    • মাহমুদুল হক
    • মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    • হুমায়ূন আহমেদ
  • ইন্ডিয়ান লেখক
    • অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়
    • অতুল সুর
    • অদ্রীশ বর্ধন
    • অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • অনীশ দেব
    • অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • অমিয়ভূষণ মজুমদার
    • আশাপূর্ণা দেবী
    • আশুতোষ মুখোপাধ্যায়
    • ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    • কাজী নজরুল ইসলাম
    • ক্ষিতিমোহন সেন
    • তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    • তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়
    • দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    • নারায়ণ সান্যাল
    • নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    • নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    • পাঁচকড়ি দে
    • পূর্ণেন্দু পত্রী
    • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • বিমল মিত্র
    • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    • হেমেন্দ্রকুমার রায়
  • বিভাগসমূহ
    • আত্মজীবনী
    • ইতিহাস
    • উপন্যাস
    • কবিতা
    • কল্পকাহিনী
    • কাব্যগ্রন্থ
    • খেলাধুলার বই
    • গল্পের বই
    • গোয়েন্দা কাহিনী
    • ছোট গল্প
    • জীবনী
    • দর্শন
    • ধর্মীয় বই
    • নাটকের বই
    • প্রবন্ধ
    • বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী
    • বৈজ্ঞানিক বই
    • ভূতের গল্প
    • মুক্তিযুদ্ধের-বই
    • রহস্যময় গল্পের বই
    • রোমাঞ্চকর গল্প
    • রোম্যান্টিক গল্পের বই
    • শিক্ষামূলক বই
    • সমগ্র
  • সিরিজ বই
    • মিসির আলী সমগ্র
    • হিমু সিরিজ
No Result
View All Result
BnBoi.Com
No Result
View All Result

উপন্যাস সমগ্র ১ – অভীক দত্ত

Uponash Somogro 1 by Abhik Dutta

কল ব্যাক করল সে। দীপ্ত ফোন তুলে বলল, “বিজি ছিলে?”

অলকা বলল, “শ্যুট ছিল তো। তুমি ফিরেছ?”

দীপ্ত বলল, “আমি ভেবেছিলাম স্টুডিও হয়ে ফিরব, কিন্তু খুব টায়ার্ড ছিলাম। হ্যাঁ, ফিরেছি খানিকক্ষণ হল।”

অলকা বলল, “আচ্ছা। বেশিক্ষণ লাগবে না, চলে এসেছি প্রায়।”

দীপ্ত হাসল, “এসো, একটা সারপ্রাইজ আছে তোমার জন্য।”

অলকা হাই তুলতে তুলতে বলল, “আবার একটা নেকলেস কিনে এনেছ?”

দীপ্ত বলল, “না না, সেসব না। এসো।”

অলকা বলল, “আচ্ছা। আসছি।”

ফোনটা রেখে অলকা জানলার কাচ দিয়ে বাইরের দিকে তাকাল।

রাতের কলকাতা আর সকালের কলকাতার মধ্যে অনেক তফাত। একটা কাচের নিরাপত্তার আবরণীর মধ্যে থাকা আর বাইরে থাকার মধ্যে কতটা তফাত সেটা একটা মেয়ে না হলে বোঝা সম্ভব না। একটা রাস্তার ওপরে ঝলমলে পোশাক পরা মেয়েরা দাঁড়িয়ে থাকে। ট্যাক্সিতে কয়েকটা ছেলে। মেয়েটাকে ডাকল, মেয়েটা কেমন নেশাগ্রস্তের মতো হাসতে হাসতে ট্যাক্সিতে উঠে পড়ে। কোন এক অজানা গন্তব্যে চলে যায় তারা।

অলকা রোজ দ্যাখে দৃশ্যগুলো। মন দিয়ে। শরীর কেনা বেচা কেমন অবলীলায় হয়ে যায়। মেকআপে ঢেকে থাকে মেয়েগুলোর অতীত, বাড়ির অবস্থা।

দীপ্ত ছুড়ে ফেলে দিলে কী করত সে? এই মেয়েগুলোরই একজন হয়ে যেতে হত তাকে। মাথাজোড়া অস্বস্তি মেঘের মতো এসে ধীরে ধীরে গ্রাস করতে শুরু করে তাকে প্রতিদিন।

বড়ো বড়ো শপিং মল, দোকানপাট, সব বন্ধ, শুধু বিজ্ঞাপনের আলো জ্বলছে। শহরের রাস্তায় দাপিয়ে বেড়ায় কয়েকজন যুবকের বাইক, অলকা দেখতে পায় ছেলেগুলোর মধ্যে কী অদ্ভুত উন্মাদনা কাজ করে যায় প্রতিদিন। একে অপরকে হারানোর তীব্র নেশা, প্রবল গতিতে উল্লাস করতে করতে তাদের যাওয়া দেখতে দেখতে অলকার মনখারাপ হয়ে যায়। মেয়ে হয়ে জন্মানো বোধহয় একটা অভিশাপ। এটা কোরো না, সেটা কোরো না, ওখানে যেয়ো না, এখানে যেয়ো না, সন্ধের পরে তো বাইরে বেরোনোর প্রশ্নই নেই। নাচা যাবে না সবার সামনে, তা নাকি আসলে অঙ্গ প্রদর্শনী। অলকার মাঝে মাঝে জীবনের প্রতি তীব্র বৈরাগ্য জন্মায়।

অ্যাপার্টমেন্টের লিফটে যখন উঠল তখন তার ঘুমে চোখ বুজে আসছিল। কোনওমতে ফ্ল্যাটের সামনে গিয়ে বেল বাজাল। দীপ্ত দরজা খুলল। সিগারেট খাচ্ছিল। অলকা জুতো খুলতে খুলতে বলল, “ঘুমিয়ে পড়েছিলে?”

দীপ্ত বলল, “নাহ।”

অলকা ড্রয়িং রুমে ঢুকে অবাক হল। একটা মেয়ে চুপচাপ বসে ছিল। তাকে দেখে উঠে দাঁড়াল। সে অবাক চোখে দীপ্তর দিকে তাকাল। দীপ্ত বলল, “সারপ্রাইজ।”

অলকা মেয়েটাকে দেখল। কেমন একটা উগ্র সাজ, কিন্তু চোখ মুখে এক অদ্ভুত সারল্য খেলা করছে। সে দীপ্তকে বলল, “বুঝলাম না এখনও।”

দীপ্ত সিগারেটে একটা টান মেরে বলল, “তেমন কিছু না, ওর নাম রিমি, শিলিগুড়ি থেকে ওকে নিয়ে এসেছি। এখানে কদিন থাকবে।”

অলকা বলল, “থাকবে মানে?”

দীপ্ত হাসল, “ওই যে তোমায় বলেছিলাম না খুব প্রভাবশালী একজনের সঙ্গে মিটিং ছিল, তিনিই রিমিকে গিফট দিয়েছেন আমাকে কয়েকদিনের জন্য।”

অলকার মাথা কাজ করছিল না। সে বলল, “তাহলে আমি এখন কী করব? চলে যাব?”

দীপ্ত বলল, “তুমি চলে যাবে কেন? কদিন অন্য বেডরুমটায় শোবে। বা আমরা একটা খাটেই তিনজন শোব। খুব কষ্ট হবে?”

অলকা কয়েক সেকেন্ড দীপ্তর দিকে হতবাক হয়ে তাকিয়ে থাকল।

দীপ্ত বলল, “চেঞ্জিং সেক্স পার্টনার ইজ নেসেসিটি অলকা। এর মধ্যে অবাক হবার কী আছে। তুমি আবার টিপিক্যাল বাঙালি বউদের মতো রিঅ্যাক্ট করছ কেন?”

অলকা সোফায় গিয়ে বসল মেয়েটার পাশে। মেয়েটা কী একটা পারফিউম দিয়েছে। গন্ধটা মিষ্টি। অলকা বলল, “তুমি কি এই একটা ড্রেস পরেই এসেছ?”

মেয়েটা বলল, “আমার আরও ড্রেস আছে।”

অলকা বলল, “আমার কিছু শাড়ি আছে, চাইলে পরতে পারো।”

মেয়েটা মাথা নাড়ল।

অলকা দীপ্তকে বলল, “আমি অন্য বেডরুমে শিফট করে যাচ্ছি।”

দীপ্ত কয়েক সেকেন্ড অলকার দিকে তাকিয়ে বলল, “তুমি রাগ করেছ?”

অলকা ম্লান হাসল, “রাগ করার অধিকার প্রসদের নেই। আমারই ভুল ছিল। অনেকদিন আয়নার দিকে তাকিয়ে আমি প্রস আমি প্রস বলা হয়নি। খুব ভুল করে ফেলেছি। তাহলে এখন এই শকটা লাগত না হয়তো।”

দীপ্ত বলল, “তুমি আবার সেই বস্তাপচা সেন্টিমেন্ট আঁকড়ে বসে আছ?”

অলকা বলল, “খিদে পেয়েছে। খেয়ে নিই। তুমি খেয়ে এসেছ?”

দীপ্ত বলল, “না। রিমিও খাবে কিন্তু।”

অলকা উঠল, “হয়ে যাবে।”

অলকার হাসি কান্না কিছুই পাচ্ছিল না। সে রোবটের মতো খাবার সার্ভ করছিল। মেয়েটা কেমন ভয় ভয় চোখে তার দিকে তাকিয়ে ছিল।

অলকার হঠাৎ মেয়েটার জন্য এক অদ্ভুত মায়া হল। কেন হল, সে নিজেও বলতে পারবে না হয়তো।

৬

খাসির চর্বি আনা হয়েছে। সেটাকে ঝাল ঝাল করে পেঁয়াজ দিয়ে বড়া বানানো চলছে। এক-একটা ইনস্টলমেন্টে চারটে করে বড়া দিয়ে যাচ্ছে শেফালি। কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে সেটা শেষ হয়ে যাচ্ছে।
পিকলু পেগ বানাচ্ছে। ওল্ড মংক। একটা সাড়ে সাতশোর বোতল আনা হয়েছে।
সেটা থেকে একটু একটু করে মদ ঢেলে দিচ্ছে সে।
বুবকা চুপচাপ খেয়ে যাচ্ছে। শুভ পিকলুর চৌকিতে টানটান হয়ে শুয়ে আছে। টিভিতে বাংলা সিনেমার গান চলছে। বুবকা মাঝে মাঝে সেদিকে তাকাচ্ছে আর বিড়বিড় করে গালাগাল করছে।
ঘরটা ছোটো। পাশেই রান্নাঘর। খানিকক্ষণ পরে খাসির মাংস বসবে।
শুভ বলল, “কে খাওয়াচ্ছে আমায় আমিই জানি না। পিকলু তোর খাতায় কত টাকা হল বল তো?”
পিকলু বলল, “তুই খা ভাই। কেন এসব কথা তুলিস। বুবকাদা যতদিন আছে, এই ঠেকে টাকার অভাব নেই।”
শুভ বলল, “বুবকাদা, আপনি আমার সেলাম নেবেন। উইথ সংগ্রামী অভিনন্দন।”
বুবকা বলল, “ওরকম শুয়ে না থেকে বসে খাও না। এভাবে জমে নাকি?”
শুভ বলল, “কী করব গুরু, মদ খেলেই আমার হেব্বি ঘুম পায়। কিছুতেই জেগে থাকতে ইচ্ছা করে না।”
বুবকা বলল, “তুমি শালা আমার মতোই মরা মাল। বেঁচে থাকলেও হয় না থাকলেও হয়।”
শুভ বলল, “তা যা বলেছ। আমার বউ দীপ্ত রায় তুলে নিয়ে গেছে আর তোমার বউ মরেই গেছে।”
পিকলু শুভকে ইশারায় এই নিয়ে কিছু বলতে বারণ করল, শুভ তাতে রেগে গিয়ে বলল, “তুই আবার আমাকে ইশারা করছিস কেন ভাই? মালের ঠেকে আবার সেন্সর বসাবি নাকি? তুই জানিস বউ চলে যাবার পর আমার বাড়িতে কী অশান্তি রোজ! রাস্তায় বেরোতে পারি না, পাড়ায় কোথাও যেতে পারি না। সব বানচোদ এমনভাবে আমার দিকে তাকায় মনে হয় পায়ের জুতো খুলে মারি সবকটাকে। বাঁড়া বউ সামলাতে পারি না, সবাই সন্দেহের দৃষ্টিতে পারলে আমার বাঁড়াটাকে পরীক্ষা করে। বউকে ঠান্ডা করতে পারে না নিশ্চয়ই যন্তরটা!”
পিকলু সন্ত্রস্ত হয়ে বলল, “আহ, কী সব বলছিস ভাই।”
বুবকা চর্বির বড়া খেতে খেতে হাত দিয়ে পিকলুকে ঠেকাল, “ওকে বলতে দে। বললে কষ্ট কমে।”
শুভ উঠে বসল, “কী বললে? কষ্ট? কষ্ট কোথায়? ও খানকি গেছে, আমার কোনও কষ্ট নেই। হ্যাঁ, মাঝে মাঝে সারাদিন খুব গরমের পর বৃষ্টি নামলে মনটা ওর জন্য খারাপ হয় বটে, কিন্তু ওই পর্যন্তই। তখন তো পিকলুর থেকে টাকা ধার নিয়ে ওই নেপালি মেয়েটার কাছে চলে যাই। কিন্তু ভাবো, কত বড়ো অপমান! বাঁড়া বর আছে ওদিকে মাগি অন্য লোককে লাগাতে চলে যাচ্ছে!”
শেফালি বড়া নিয়ে এসেছিল। শুভ ঠোঁটে আঙুল দিল। শেফালি বড়াগুলো প্লেটে ঢালতে ঢালতে বলল, “শুভদা, তুমি বরং একটা বিয়ে করে নাও। এভাবে একা একা কতদিন ঘুরবে বলো তো?”
শুভ বলল, “কে বিয়ে করবে আমায় বউদি? চাকরি নেই বাকরি নেই, নিজের খাওয়া জোটানোর ক্ষমতা নেই। বউয়ের টাকায় খেতাম। আমায় কেউ মেয়েও দেবে না, কোনও মেয়ে বিয়েও করবে না।”
শেফালি বলল, “এ কেমন কথা বল তো! পুরুষমানুষ, এত পরের উপর তাকিয়ে থাকলে চলে? কত দিন লাগবে তোমার নিজের পায়ে দাঁড়াতে?”
শুভ হাসতে লাগল। হাসিটা সুস্থ মানুষের নয়। হাসতে হাসতে বলল, “পা ভেঙে গেছে আমার। নিজের পায়ে আর দাঁড়ানো হবে না।”
শেফালি রান্নাঘরে চলে গেল। শুভ বলল, “ভাই পিকলু, ওই টিভিটা বন্ধ কর তো। এই টিভিটাই সব কিছু খেয়ে নিচ্ছে। মানুষের ঘর সংসার সব খেয়ে নিল হারামজাদা।”
বুবকা বলল, “হ্যাঁ বন্ধ করে দে। ও চলার দরকার নেই। আমারও বিরক্ত লাগছে।”
পিকলু টিভি বন্ধ করে দিল। শুভ বলল, “বুবকাদা, তুমি বরং একটা বিয়ে করে নাও।”
বুবকা শুভর দিকে তাকিয়ে বলল, “বিয়ে করে কী করব?”
শুভ বলল, “কেন? সংসার করবে! তোমার কী গেছে? কিছুই যায়নি। মেয়ে আসে, মেয়ে যায়। এই বয়সে ওইসব ভাবলে হবে বলো?”
বুবকা কিছুক্ষণ জ্বলন্ত চোখে শুভর দিকে তাকিয়ে থাকল। কয়েক সেকেন্ড পর তার দৃষ্টি নরম হয়ে এল। পিকলু ভয়ে ভয়ে বুবকার দিকে তাকিয়ে বলল, “ওর কথায় কিছু মনে কোরো না গুরু, খ্যাপা তো একটা।”
বুবকা হাসল, “সবাই আমাকে জ্ঞান দেবার সময় এই একই কথা বলে কেন?”
শুভ বলল, “কথাটা সত্যি বলে। আমি তো তোমার জায়গায় থাকলে বিয়ে করে নিতাম।”
বুবকা বলল, “আমি যদি তোমাকে একটা চাকরির ব্যবস্থা করে দি, পেট চালানোর ব্যবস্থা করে দি, তাহলে তুমি অন্য কাউকে বিয়ে করবে?”
শুভ চোখ পিটপিট করে বুবকার দিকে তাকিয়ে বলল, “এই তো কঠিন প্রশ্ন করে দিলে।”
বুবকা গ্লাসে চুমুক দিতে দিতে বলল, “বলো বলো, কঠিন প্রশ্ন কেন হবে। সোজা প্রশ্ন তো। সলিউশনটা তো তুমিই বলেছিলে ভুলে গেলে?”
শুভ বলল, “আমি যেদিন ওই দীপ্ত রায়ের মাথা ফাটাব, শুয়োরের বাচ্চাকে ধরে রাস্তায় ফেলে গাঁড় ক্যালানি দেব, তারপর আমার শান্তি হবে। তার আগে না।”
বুবকা বলল, “আহ, তুমি অন্য প্রসঙ্গে চলে যাচ্ছ তো। প্রশ্নটা তো এটা ছিল না। শুধু বলো বিয়ে করবে, না করবে না?”
শুভ কয়েক সেকেন্ড বুবকার দিকে তাকিয়ে হাসতে হাসতে বলল, “তুমি গুরু জাতে মাতাল তালে ঠিক। একদম যন্তর পিস আছ।”
বুবকা বলল, “করবে না করবে না?”
শুভ বলল, “ভেবেছিলাম ওর গয়নাগুলো বিক্রি করব। রোজ আলমারি খুলি, মনে পড়ে যায় কোথাও বিয়েবাড়ি থাকলে কী যত্ন করে সেগুলো পরত। আবার লকারে রেখে দি সেগুলো। চুরি হয়ে যাক বরং। আমি আর ওগুলো বিক্রি করতে পারব না!”
বুবকা হাসতে হাসতে উঠল। পিকলু অবাক হয়ে বলল, “কোথায় যাচ্ছ? মাংস খেয়ে যাবে না?”
বুবকা বলল, “আগে যাবার জায়গা ছিল। এখন নিজেই জানি না কোথায় যাব!”

৭

নতুন সিরিয়ালের প্লট খোঁজা হচ্ছে। একজন নতুন গল্পকার সম্প্রতি রিক্রুট হয়েছে। তথাগত তার সঙ্গে বসেছে। অফিসে তার একটা চেম্বার হয়েছে।
ছেলেটা নতুন এসেছে লাইনে। তথাগত বলল, “তাহলে তুমি পারিবারিক গল্প ভাবছ না?”
ছেলেটা বলল, “না। পারিবারিক গল্প বা এই লাইনের বাইরে নতুন কিছু ভাবলে হয়তো ব্যাপারটা ভালো দাঁড়াবে। একঘেয়ে হয়ে যাচ্ছে এই ডেইলি সোপের গল্পগুলো।”
তথাগত উৎসাহিত হল, “কেমন লাইনে ভাবছ একটু বলো তো।”
ছেলেটা বলল, “আমি একটু ইংলিশ টিভি সিরিজগুলোর থেকে ইনস্পিরেশন নিয়ে নতুন কিছু কাজ করার কথা ভাবছি।”
তথাগত চোখ বড়ো বড়ো করল, “গেম অফ থ্রোনস?”
ছেলেটা হাসল, “না না, খেপেছেন? লোক হাসাতে কে চায়? আমি ভাবছি ধরুন টু অ্যান্ড হাফ মেন সিরিজটা। বিপত্নীক বাবার সঙ্গে থাকে ছেলে, আর কাকা। বাবা, কাকার দুজনেরই ছুকছুক আছে। এদিকে ছেলেও ধীরে ধীরে বড়ো হচ্ছে। এই কনসেপ্টে গল্পটা এগোবে।”
তথাগতর মুখে হাসি ফুটল, “সাউন্ডস রিয়েলি ইন্টারেস্টিং। আমার বেশ ভালো লাগছে। তুমি একটা পার্ট আমাকে লিখে দেখাতে পারবে?”
ছেলেটা মোবাইল বের করে বলল, “বলছি।”
তথাগত বলল, “হ্যাঁ বলো।”
দরজায় কে নক করল। তথাগত বলল, “কে?”
তরুণ দাস। ডিরেক্টর। তথাগত খুশি হল, “ওহ, কাকু, ভালো সময়ে এসেছ। বসো বসো, একটা নতুন গল্প শোনো।”
তরুণবাবু ছেলেটিকে দেখতে দেখতে বসলেন। তথাগত বলল, “দ্যাখো কাকু, অনেক তো ফ্যামিলি ড্রামা হল। ওর নাম দীপ্তানুজ, একটা দারুণ আইডিয়া নিয়ে এসেছে। বলছে অনেক তো ফ্যামিলি ড্রামা হল, এবার নতুন কিছু হোক।”
তরুণ বললেন, “নতুন কিছু মানে?”
তথাগত বলল, “মানে ফ্যামিলি না। ধরো এই যে ও যে কনসেপ্টটা বলছে। একজন বিপত্নীক বাবা এবং তার ছেলে, ভদ্রলোকের ভাই, এই নিয়ে একটা পরিবার। এবার বাবা কাকা দুজনে প্রেমে পড়বে, ছেলে সেই প্রেমগুলোর বারোটা বাজাবে, এরকম কনসেপ্টে একটা সিরিজ চালু করার কথা ভাবা হচ্ছে।”
তরুণ ছেলেটার দিকে একবার, তথাগতর দিকে একবার তাকিয়ে গম্ভীর গলায় বললেন, “ফ্যামিলি এস্টাব্লিশ না করতে পারলে বাঙালি মা বোন ওই জিনিস দেখবেই না। মনে রেখো আমাদের দর্শক ওরাই। ওই একই মেলোড্রামার বাইরে যখনই তুমি যাবে, তারা চ্যানেল ঘুরিয়ে দেবে। কত সিরিয়াল চলে রোজ। ওই একই সময়। তারা কেন তোমার চ্যানেল দেখবে?”
তথাগত বলল, “দেখবে মানে? আমরা তো একই জিনিস দেখিয়ে দেখিয়ে তাদেরও হেজিয়ে দিচ্ছি। চেষ্টা তো একটা করতেই পারি।”
তরুণ বললেন, “চেষ্টা করতে গিয়ে মার্কেটটা যদি হাত থেকে চলে যায়? কই, বাকি কোনও প্রোডাকশন হাউজ কি এই চেষ্টা করছে? দীপ্ত রায় এখন তোমার মতো রিস্ক নেবে? মনে তো হয় না!”
তথাগত বলল, “যদি হিট করে যায়? তখন?”
তরুণ মাথা নাড়লেন, “কিছুতেই হিট করবে না। পাবলিক ওই প্যানপ্যানানিই খাবে। চেষ্টা তো একটা হয়েছিল কমেডি শো-র। তুমি তো নতুন কিছু করছ না। দাঁড়াল কই? এক মাসও চালানো গেল না। কেউ দেখলও না। মানুষ যতক্ষণ না নিজের সঙ্গে রিলেট করতে পারে, ততক্ষণ সে জিনিস দ্যাখে না। কারা তোমার দর্শক সেটা তো তোমাকে আগে ঠিক করতে হবে।”
তথাগত বলল, “অন্য সময় দেখাব। ধরো রাত দশটায়। বাড়ির সবাই মিলে টিভির সামনে তখন।”
তরুণ হাসলেন, “তুমি চাইলেই যে-কোনো সময় স্লট পেয়ে যাবে?”
তথাগত আমতা আমতা করতে করতে বলল, “চেষ্টা করব।”
তরুণ বললেন, “তোমার মার সঙ্গে কথা বলো বুঝলে? এখন এসব রিস্ক নিতে যেয়ো না। সেই একই গল্প, বাড়িতে বিয়ে করে নিয়ে এসেছে আর দেওর ননদ সব চেষ্টা করছে সে রান্না নষ্ট করতে, ওই গল্পই চালিয়ে যাবার গল্প লিখতে বলো। আমারও বোর লাগে, আমারও বিরক্তি আসে। কিন্তু আমিও জানি, ওর বাইরে গেলেই হাতের রিমোটটি নিয়ে ঠিক চ্যানেল চেঞ্জ করে দেবে দর্শক। আচ্ছা আমি যাই, ফ্লোর রেডি হয়ে গেছে এতক্ষণে।”
তরুণ আর বসলেন না। তথাগত তরুণের যাওয়ার পথের দিকে তাকিয়ে থাকল গম্ভীর মুখে।

৮

অলকার ঘুম ভাঙল দীপ্ত দরজা নক করার পর। তখন সকাল নটা বেজে গেছে। অনেকদিন একা শোয়ার অনভ্যাসে প্রথম দিকে ঘুম আসছিল না। শেষরাতে ঘুম এল। ঘুমচোখে উঠে দরজা খুলে দেখল দীপ্ত বাইরে তৈরি হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, অলকা দরজা ছেড়ে দাঁড়াল। আফটারশেভ লোশনের সুগন্ধ ভেসে আসছিল। দীপ্ত ঘরে ঢুকে বলল, “দিস রুম নিডস প্রপার ক্লিনিং। অনেক দিন আসা হয় না।”

Page 46 of 127
Prev1...454647...127Next
Previous Post

বিকল্প বিপ্লব : যে ভাবে দারিদ্র কমানো সম্ভব – অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়

Next Post

উপন্যাস সমগ্র ২ – অভীক দত্ত

Next Post

উপন্যাস সমগ্র ২ - অভীক দত্ত

এবং মার্কেট ভিজিট - অভীক সরকার

মন্তব্য করুন জবাব বাতিল

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সাম্প্রতিক প্রকাশনাসমূহ

  • তিন গোয়েন্দা ভলিউম ১১৫: ভূমিকম্প – শামসুদ্দীন নওয়াব
  • তিন গোয়েন্দা ভলিউম ১১৮: বিভীষিকার প্রহর – রকিব হাসান
  • তিন গোয়েন্দা ভলিউম ১১৭: বড়দিনের ছুটি – রকিব হাসান
  • তিন গোয়েন্দা ভলিউম ১১৭: আলাস্কা অভিযান – রকিব হাসান
  • তিন গোয়েন্দা ভলিউম ১১৭: আমিই কিশোর – রকিব হাসান

বিভাগসমূহ

  • আত্মজীবনী
  • ইতিহাস
  • উপন্যাস
  • কবিতা
  • কাব্যগ্রন্থ
  • গল্পের বই
  • গোয়েন্দা কাহিনী
  • ছোট গল্প
  • জীবনী
  • দর্শন
  • ধর্মীয় বই
  • নাটকের বই
  • প্রবন্ধ
  • বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী
  • বৈজ্ঞানিক বই
  • ভূতের গল্প
  • রহস্যময় গল্পের বই
  • রোমাঞ্চকর গল্প
  • রোম্যান্টিক গল্পের বই
  • শিক্ষামূলক বই
  • আমাদের সম্পর্কে
  • যোগাযোগ
  • গোপনীয়তা নীতি

© 2023 BnBoi - All Right Reserved

No Result
View All Result
  • বাংলাদেশী লেখক
    • অতুলচন্দ্র গুপ্ত
    • অভিজিৎ রায়
    • আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
    • আনিসুল হক
    • আবু ইসহাক
    • আবু রুশদ
    • আবুল আসাদ
    • আবুল খায়ের মুসলেহউদ্দিন
    • আবুল বাশার
    • আরজ আলী মাতুব্বর
    • আল মাহমুদ
    • আসাদ চৌধুরী
    • আহমদ ছফা
    • আহমদ শরীফ
    • ইমদাদুল হক মিলন
    • উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    • কাসেম বিন আবুবাকার
    • জসীম উদ্দীন
    • তসলিমা নাসরিন
    • দাউদ হায়দার
    • দীনেশচন্দ্র সেন
    • নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    • নিমাই ভট্টাচার্য
    • প্রফুল্ল রায়
    • প্রমথ চৌধুরী
    • ময়ূখ চৌধুরী
    • মহাদেব সাহা
    • মাহমুদুল হক
    • মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    • হুমায়ূন আহমেদ
  • ইন্ডিয়ান লেখক
    • অক্ষয়কুমার মৈত্রেয়
    • অতুল সুর
    • অদ্রীশ বর্ধন
    • অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • অনীশ দেব
    • অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • অমিয়ভূষণ মজুমদার
    • আশাপূর্ণা দেবী
    • আশুতোষ মুখোপাধ্যায়
    • ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    • কাজী নজরুল ইসলাম
    • ক্ষিতিমোহন সেন
    • তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    • তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়
    • দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    • নারায়ণ সান্যাল
    • নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    • নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    • পাঁচকড়ি দে
    • পূর্ণেন্দু পত্রী
    • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    • বিমল মিত্র
    • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    • হেমেন্দ্রকুমার রায়
  • বিভাগসমূহ
    • আত্মজীবনী
    • ইতিহাস
    • উপন্যাস
    • কবিতা
    • কল্পকাহিনী
    • কাব্যগ্রন্থ
    • খেলাধুলার বই
    • গল্পের বই
    • গোয়েন্দা কাহিনী
    • ছোট গল্প
    • জীবনী
    • দর্শন
    • ধর্মীয় বই
    • নাটকের বই
    • প্রবন্ধ
    • বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী
    • বৈজ্ঞানিক বই
    • ভূতের গল্প
    • মুক্তিযুদ্ধের-বই
    • রহস্যময় গল্পের বই
    • রোমাঞ্চকর গল্প
    • রোম্যান্টিক গল্পের বই
    • শিক্ষামূলক বই
    • সমগ্র
  • সিরিজ বই
    • মিসির আলী সমগ্র
    • হিমু সিরিজ

© 2023 BnBoi - All Right Reserved

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In