রূপম বলল, “একটা নিরপরাধ লোককে ডেকে জেরা করতে শুরু করেছেন, অ্যাগ্রেসিভ হব না তো কী করব একটু বলবেন?”
মাইতিবাবু বললেন, “আপনি নিরপরাধ সেটা কে ঠিক করবে? আমরাই তো, না?”
রূপম বলল, “এই অঞ্চলে একটার পর একটা রেপ, মার্ডার হয়ে চলেছে, তার প্যাটার্নও এক, আপনার কথা অনুযায়ী আমি চাকরিবাকরি ছেড়ে এসে এসব করে আবার চলে যাচ্ছি?”
মাইতিবাবু হাসলেন, “এরকমও তো হতে পারে রূপমবাবু, আপনি আগের খুনগুলোর প্যাটার্ন দেখে, আপনার বান্ধবীর সঙ্গে পুরোনো কোনও স্কোর সেটল করার জন্য ব্যাপারটা করে মার্কেট গরম করার জন্য সেদিন হম্বিতম্বি করে বেরিয়েছেন?”
রূপম খানিকক্ষণ স্থির চোখে মাইতিবাবুর দিকে তাকিয়ে বলল, “আপনারাও খুব ভালোভাবে জানেন, আমি এখানে ইনভলভড নই, এই অকারণ হ্যারাসমেন্টের কারণটা অনুগ্রহ করে বলবেন?”
মাইতিবাবু বললেন, “ফিজিক্যাল রিলেশনশিপ ছিল নাকি আপনার রিলেশনশিপে? আপনি তো বিবাহিত, বউকে লুকিয়ে মেলামেশা করতেন? অনেকরকম প্রোবাবিলিটি আছে জানেন তো? বডির মোবাইল ফোনের কল ডিটেলস দেখা হচ্ছে আপনাকে বলে রাখি, কোনওরকম সন্দেহজনক কিছু পেলে কিন্তু আপনি রেহাই পাবেন না।”
রূপম বলল, “দেখুন, আপনারা যতরকম তদন্ত করার করতে পারেন, কিন্তু রিলেশনশিপ অকারণে টানাহ্যাঁচড়া করবেন না অনুগ্রহ করে। আমার ফ্যামিলির যথেষ্ট সম্মান আছে এই এলাকায়। অকারণ কাদা ছোঁড়াছুড়ি করবেন না আশা করি।”
মাইতিবাবু বললেন, “আপাতত একমাস স্টেশন লিভ করবেন না।”
রূপম চমকাল, “মানেটা কী? আমার অফিস আছে। চাকরি চলে যাবে তো!”
মাইতিবাবু বললেন, “সেটা আপনি বুঝবেন কী করবেন। আপাতত যা বললাম তাই করুন।”
রূপম একটু চুপ থেকে বলল, “বেশ, এবার কি আমি যেতে পারি?”
মাইতিবাবু বললেন, “পারেন। তবে তদন্তের স্বার্থে যে-কোনও সময় ডাকতে হতে পারে।”
রূপম উঠল, বলল, “ডাকবেন, আসব, তবে বৃথা হ্যারাসমেন্ট হলে আমিও কিন্তু ছাড়ব না।”
রূপম বেরিয়ে যাওয়ার পর মাইতিবাবু একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন, “ছেলের তেজ আছে।”
৩৮
“আরে গুরু, তোকে নাকি থানায় ডেকেছিল?”
এক শাগরেদকে নিয়ে বাপ্পা বাইকে করে যাচ্ছিল।
রূপমকে দেখে দাঁড়িয়ে প্রশ্নটা ছুঁড়ে দিল।
রূপম বলল, “হ্যাঁ। ওখান থেকেই আসছি।”
বাপ্পা বলল, “কী বলছে?”
রূপম বলল, “স্টেশন লিভ করা যাবে না। একমাস। নিজেরা ওখানে বসে বসে ছিঁড়বে আর আমাকে স্টেশন লিভ করতে দেবে না।”
বাপ্পা পেছনের ছেলেটাকে বলল, “তুই বেরিয়ে যা। কাজ আছে এখন।”
ছেলেটা বেরিয়ে যেতে বাপ্পা বলল, “তুই বাইকে ওঠ।”
রূপম বলল, “কোথায় যাবি?”
বাপ্পা বলল, “থানায় চ। মাইতিবাবু আমার চেনাজানা। তুই চ।”
রূপম আপত্তি করল, “আরে ছাড় না। আপাতত যা বলছে তাই শুনি। দেখি, তদন্তটা আমাকে ভিক্টিম করেই বা কীভাবে করে।”
বাপ্পা বলল, “তুই অফিস না গিয়ে এখানে পড়ে থাকবি? তোর কথা ভেবেই তো বলছি রে।”
রূপম একটু ভাবল। তারপর বলল, “আচ্ছা। চ, দেখি তোর রিকোয়েস্ট শোনে।”
বাপ্পা খুশি হল, “তবে? চ ওঠ।”
রূপম বাপ্পার বাইকে উঠে পড়ল। মিনিট পাঁচেকের মধ্যে তারা আবার থানায় প্রবেশ করল।
মাইতিবাবু কারও সঙ্গে ফোনে কথা বলছিলেন, রূপমকে বাপ্পার সঙ্গে ঢুকতে দেখে ফোনটা রেখে খানিকটা বাঁকা সুরে বললেন, “কী ব্যাপার রূপমবাবু, আবার পলিটিক্যাল ইনফ্লুয়েন্স করার ইচ্ছা হল নাকি?”
বাপ্পা বলল, “এরকম করে বলছেন কেন স্যার। আমরা ছোটোবেলার বন্ধু। ওর প্রয়োজনে তো আসতে হতেই পারে।”
মাইতিবাবু বললেন, “হ্যাঁ বলুন কী বলবেন?”
বাপ্পা বলল “দেখুন স্যার, ও তো প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করে, ওর এতদিন ঘরে বসে থাকলে চাকরি নিয়ে টানাটানি পড়ে যাবে। আমি তো ওর গ্যারান্টি নিচ্ছি। ওকে পারমিশন দিয়ে দিন স্যার স্টেশন লিভ করার।”
মাইতিবাবু কয়েক সেকেন্ড বাপ্পার দিকে তাকিয়ে বললেন, “আপনি জানেন তো আপনি কী বলছেন?”
বাপ্পা বলল, “কেন জানব না? দাদার সঙ্গে কথা বলিয়ে দেব আপনাকে?”
মাইতিবাবু হাসলেন, “বলান। নিন থানার ফোন থেকেই ফোন করুন।”
বাপ্পা একবার রূপমের দিকে তাকিয়ে থানার ফোন থেকে ফোন করল। একটা রিং হতেই ওপাশ থেকে দাদার গলা ভেসে এল, “মাইতিবাবু?”
বাপ্পা বলল, “না দাদা, আমি বাপ্পা বলছি।”
“তুই থানায় কী করতে গেলি আবার? কোনও মাতালকে ধরে নিয়ে গেছে নাকি বড়োবাবু? আমাকে ফোন করছিস কেন তার জন্য? নিজেই বলে দে।”
“না দাদা, ওইজন্য না।”
“তবে?”
“আরে এই রেপ কেসটায় আমার বন্ধুকে বড়োবাবু থানায় ডেকে এনে বলে দিয়েছেন একমাস স্টেশন লিভ করতে পারবে না, নিরীহ নির্বিরোধী ছেলে একটা। প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করে। ওর তো চাকরিই চলে যাবে। তুমি একটু বলে দাও না।”
“তুই কি গান্ডু?”
বুঝল না বাপ্পা। দাদা হঠাৎ রেগে গেল কেন। বলল, “মানে?”
“মানে বোঝো না? এলাকাটা কয়েক মাস ধরে উত্তপ্ত হয়ে আছে, একটা রেজাল্ট নেই কিছু নেই, সবাই আমাদের উপর খেপে বোম হয়ে আছে, আর তুই বলছিস সাসপেক্টকে ছেড়ে দিতে?”
“সাসপেক্ট? কী বলছ? ও সাসপেক্ট হতে যাবে কেন?”
“তুই কে বাঁড়া? তুই কি গোয়েন্দা গিন্নি? নাকি সিআইডি? বাল সুরকি বালি সাপ্লাই করে আর আমাদের দল করে নিজেকে বড়ো হনু ভেবে ফেলেছিস? পুলিশ কীভাবে তদন্ত করবে তুই ঠিক করে দিবি?”
