কপালের বাবা মাঝে মাঝেই স্কুলে এসে কাঙালের মতো দাঁড়িয়ে থাকেন। আমাদের অনুরোধ করেন, “বলুন না মেয়েটাকে। আমরা অনুতপ্ত বিশ্বাস করুন। ওর মা সারাদিন কাঁদে ওর জন্য। ওকে বলুন না বাড়ি ফিরে যেতে।”
আমরাও বোঝাই। কপালকুণ্ডলা কিছুতেই শুনতে রাজি নয়। ওর একটাই জেদ। আগে নিজের পায়ে দাঁড়াবে। তারপর বাড়ি ফিরবে। আমার ওকে দেখে শক্তি আসে।
অনিন্দিতাদি চোখ মুখ শক্ত করে বসে থাকতে থাকতে মাঝে মাঝে কেঁদে ফ্যালে। বলে এরকমই নাকি হয়। অনিরুদ্ধদার মতো মানুষদের যখন অনুতাপ আসে, তখন এভাবেই ওরা নিজেদের শেষ করে দেয়। একদিকে ভালোই হয়েছে হয়তো। কিছু কিছু মানুষ আর সংশোধিত হবার জায়গায় থাকে না। যখন বুঝতে পারে, আর কিছু অবশিষ্ট থাকে না।
আমরা সবাই মিলে অনিন্দিতাদিকে আগলে রাখি। এ ছাড়া তো আমরা আর কিছু করতে পারি না।
অমৃত চেঁচিয়ে বলল, “এই তুমি ফুচকা খাবে?”
আমি বললাম, “বাইক চালাতে চালাতে কথা বোলো না দয়া করে। চুপ করে চালাও।”
অমৃত বাইক থামায়। আমাকে জড়িয়ে ধরে।
আমি ছিটকে উঠি, “এই, রাস্তার মধ্যে এসব কী?”
অমৃত বলে, “বেশ করেছি। আমার নিজের বিয়ে করা বউকে আদর করেছি। কার বাবার কী?”
আমি জোরে জোরে মাথা নাড়ি, “একদম না। ঈশ! আমার লজ্জা লাগে না?”
অমৃত আমার নাকে আলতো করে আদর করে বলে, “ঠিক আছে, চলো সূর্যাস্ত দেখি।”
দুজনে মিলে গঙ্গার তীরে গিয়ে নৌকায় উঠি।
গোধূলির মায়াবী হলদে আলো গঙ্গাকে সোনায় রূপান্তরিত করে। আমরা সেই মায়াবী আলোয় পরস্পরের হাত ধরে বসে থাকি। অমৃত আমার কানে কানে বলে, “ভালোবাসি, ভালোবাসি, ভালোবাসি।”
আমি বলি, “আজীবন বেসো।”
অমৃত ফিসফিসিয়ে বলে, “বাসব সোনা। আমার আতুবুড়ি, আমার বুচি সুন্দরী। বাসব।”
