ঋতুজা হারটা তুলে পরে নিয়ে বলল, “তোমার দ্বিতীয় বউ লাকি হবে। তুমি বদরাগি হলেও মানুষ ভালো।”
আমি বললাম, “সে সার্টিফিকেট আমার তোমার কাছ থেকে নিতে হবে না। তৈরি হয়ে বেরোও।”
ঋতুজা বলল, “তাড়াবার জন্য এত ব্যস্ত হচ্ছ কেন বলো তো? কোনও মেয়ে আছে নাকি?”
আমি বললাম, “না। তুমি একাই গোটা নারীসমাজের প্রতি বিতৃষ্ণা জাগাতে কাফি। আর কাউকে চাই না আমার। একা থাকব।”
ঋতুজা কয়েক সেকেন্ড আমার দিকে তাকিয়ে বলল, “ফাইন। বেরোলাম।”
ব্যাগ নিয়ে মিনিট দু-একের মধ্যে ঋতুজা ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।
কিছুক্ষণ চুপ করে বসে রইলাম।
মাথা কাজ করছিল না।
কয়েক মিনিট পরে দরজা কে নক করল।
দেখলাম ঋতুজা এসে দাঁড়িয়েছে। আমার দিকে তাকিয়ে বলল, “রাতে ঘুম না এলে আমাদের বাড়ি আসতে পারবে? আচ্ছা, একবার তো বলা যেত। আজকের রাতটা যদি বাড়ি না গিয়ে এখানে থাকি তবে তুমি কি খুব রাগ করবে?”
৭৯ অনিরুদ্ধ
মুস্তাক আমার দিকে তাকিয়ে বলল, “স্যার টাকা কিন্তু ফুল পেমেন্ট করে দিতে হবে প্রথমে৷ আমি পরে টাকা নিই না। আর কোনওরকম বিলা হলে আমার দায় নেই। আমি শুধু বাইকে মালটার দুটো পা পিষে দেব৷ রাস্তায় ফেলে দিয়ে চলে যাব। তাই তো?”
আমি বললাম, “হ্যাঁ।”
মুস্তাক বলল, “টাকা দিন৷ ছবি দিন।”
আমি ঋতুজার বিয়ের ছবি থেকে ছেলেটার ছবিটা বের করে রেখেছিলাম। মুস্তাকের হাতে দিয়ে বললাম, “টার্গেট কলকাতায় আছে কি না আমার কাছে এখনও খবর আসেনি। এলে তোমাকে লোকেশন দিয়ে দেব।”
মুস্তাক মাথা নেড়ে বলল, “পেমেন্ট ক্যাশে করবেন না পেটিএমে?”
আমি দশটা দুহাজার টাকার নোট নিয়ে এসেছিলাম। মুস্তাকের হাতে দিলাম। মুস্তাক টাকা নিয়ে বলল, “ঠিক আছে। ফোন করে দেবেন। আর অ্যাডভ্যান্স কিন্তু ফেরত হবে না। পরে যদি বলেন ডিসিশন চেঞ্জ করেছেন, টাকা ব্যাক পাবেন না।”
আমার চোয়াল শক্ত হল, “ডিসিশন কোনও অবস্থাতেই চেঞ্জ হবে না। ডিসিশন ফাইনাল।”
মুস্তাক সেলাম দিল।
আমি বেরোলাম।
রুবি আমার একজন বাঁধা মেয়েছেলে। কিছু টাকা দি কলকাতা এলে। ফোন করে জানা গেল দুপুরটা ফাঁকা আছে।
রুবির ফ্ল্যাট বালিগঞ্জে। পৌঁছোলাম যখন, তখন দুপুর হয়েছে। কলিং বেল বাজাতে দরজা খুলল। আমাকে দেখে জড়িয়ে ধরে বলল, “ভালো আছ?”
আমি ঘরে ঢুকে বললাম, “আছি। তোমার লাঞ্চ হয়ে গেছে?”
রুবি বলল, “এই খেতে যাচ্ছিলাম। বসো। তুমিও খাও।”
খেতে বসলাম।
রুবি ভাত বেড়ে আমার সামনে বসে বলল, “আমার কিছু টাকা লাগবে।”
আমি বললাম, “কত?”
রুবি বলল, “লাখ দেড়েক।”
আমি অবাক হয়ে রুবির দিকে তাকিয়ে বললাম, “এত?”
রুবি ভাত দিয়ে ডাল মাখতে মাখতে বলল, “একটা নেকলেস কেনার আছে।”
আমি বললাম, “এখন সম্ভব না। পরে দেব।”
রুবি বলল, “বেশ তো। অনিন্দিতা রাউতের স্কুলটা আমি চিনি।”
আমি একটুও না চমকে বললাম, “ইউ আর ফ্রি টু ডু এনিথিং। কিন্তু কোনও লাভ হবে না এটুকু বলতে পারি।”
আমি উঠে পড়লাম টেবিল থেকে। রুবি খাওয়া থামিয়ে বলল, “পুলিশে যাব। তোমার কপালে দুঃখ আছে।”
আমি কাঁধ ঝাঁকিয়ে বললাম, “করতে পারো৷ তবে এরপরে লাশ শেয়াল কুকুরে খেতেও আসবে না তোমার, আমি সে ব্যবস্থা করে রাখব তোমার জন্য। একটা চিপ কলগার্লের এত বাড়াবাড়ি ভালো না রুবি। আমাকে ছাড়া আর কারও সাথে শোও না তুমি?”
রুবি বসে বসে হাসতে লাগল।
আমি অবাক হয়ে বললাম, “কী হল? হাসছ কেন?”
রুবি বলল, “বসো বসো। খাও। আমি দেখছিলাম তুমি কী করো। ইয়ার্কি মারছিলাম। এ দ্যাখো, আমার বুবস দ্যাখো। ঠিক আছে না?”
রুবি ব্লাউজ ফাঁক করল। আমার অস্বস্তি হচ্ছিল। রুবি কোনও দিন এরকম করে না তো! আমি ওর দিকে তাকিয়ে বললাম, “কী হয়েছে তোমার?”
রুবি বলল, “কিচ্ছু না। এমনি। তোমাকে একটু ঘাবড়ে দিতে ইচ্ছা করল। তুমি তো জানো তোমাকেই আমি সবথেকে বেশি ভালোবাসি। আমার ইচ্ছা হয় না বুঝি তোমার সঙ্গে ঠাট্টা করতে? খেয়ে নাও।”
আমি খেতে বসলাম। রুবি আমার প্লেটে অনেকটা মাংস দিয়ে বলল, “আগের সপ্তাহে তাজপুর নিয়ে গেছিল এক স্কুলটিচার৷ স্কুলে পড়ায়, অথচ এসবের কী ইচ্ছা। সারারাত জাগিয়ে রেখেছিল।”
আমি অন্যমনস্কভাবে বললাম, “আচ্ছা। তোমার নেকলেস হবে। কিন্তু এখন না। একটু অপেক্ষা করো। আমি ঠিক দেব তোমায়।”
রুবি হেসে বলল, “আচ্ছা আমি কি লেগ পুল করতে পারব না তোমার? আমি তো জানি তুমি এরকমই। বিশ্বাস করে আমাকে সব বলেছ। আমি কেন তার ফায়দা নিতে যাব? ভেবো না।”
আমি আশ্বস্ত হলাম।
রুবি বিভিন্ন কথা বলে চলল। আমি চুপচাপ খেয়ে চললাম৷ আমার মনটা রুবির কাছে ছিল না। ঋতুজাকে কতদিন আদর করি না। এখন তো ও বিবাহিত। জানোয়ারটার সামনে আমরা মিলিত হব। অদ্ভুত এক আনন্দে ঠোঁটের কোণে হাসি ফুটল আমার। আজ ঋতুজাকে ভেবে রুবির সঙ্গে মিলিত হব।
খাওয়া শেষ হলে রুবি বলল, “বেডরুমে গিয়ে শোও৷ আমি চেঞ্জ করে আসছি। তোমার পছন্দের ড্রেস পরে। কন্ডোম এনেছ?”
আমি বললাম, “সেসব আবার কবে থেকে লাগে আমার?”
রুবি বলল, “ঠিক আছে। অপেক্ষা করো। আসছি।”
আমি উত্তেজিত হচ্ছিলাম। আমার ভেতরের জন্তুটা জাগছিল। এক-একটা মানুষের যৌন ক্ষুধা এক-এক রকম হয়। আমার বেশি। মারাত্মক বেশি।
রুবির বেডরুমটা ছোটো, কিন্তু অদ্ভুত একটা সুগন্ধ আছে ঘরটায়। আমি খাটে বসলাম। ফোন বের করে দেখলাম অনিন্দিতা মেসেজ করেছে, লাঞ্চ করেছি নাকি। ওকে জানিয়ে দিলাম করেছি।
