পরক্ষণেই আমার চোয়াল শক্ত হল। ঋতুজার বর, কী নাম যেন শুয়োরের বাচ্চাটার, ওর এবার একটা ব্যবস্থা করতে হবে। এমনভাবে মারতে হবে যাতে একটা বা দুটো পা চিরকালের মতো খোঁড়া হয়ে যায়। বাসে মেট্রোতে উঠলে প্রতিবন্ধী সিটে বসার সুযোগ পায়।
অনিরুদ্ধ রাউতের সঙ্গে এত বাজে ভাবে কথা বলার সাহস যখন পেয়েছে, তখন তার ফলও ওকে ভুগতে হবে।
কাকে বলব? আপাতত দুজনকে চিনি। খিদিরপুরের মুস্তাক আর রাজাবাজারের ইমানুল। ইমানুলের সমস্যা হল, মারতে গিয়ে ওর তালজ্ঞান থাকে না। হাত পা ভাঙতে গিয়ে খুন করে বসতে পারে। সেটা করলে হবে না। এ ছেলেকে বাঁচিয়ে রেখে সারাজীবন পুড়িয়ে মারতে হবে। এই বানচোদকে হুইলচেয়ারে বসিয়ে রেখে আমি ঋতুজাকে আদর করব।
কতদিন ঋতুজাকে চুমু খাওয়া হয় না। ঋতুজা আবেগপ্রবণ। আমাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদে। সে সময়টাই আদর করতে বেশি মজা লাগে।
ঘুমের ঘোরে অনিন্দিতা আমাকে জড়িয়ে ধরল। আমি চোখ বন্ধ করলাম। কল্পনা করলাম অনিন্দিতা না, ঋতুজা আমাকে জড়িয়ে ধরে আছে। শক্ত হচ্ছিলাম, অনিন্দিতাকে ঘুমের ঘোরে চুমু খেলাম। অনিন্দিতা জাগল। আমাকে জড়িয়ে ধরল। অনেকক্ষণ ধরে ওকে আদর করলাম।
আদর শেষে অনিন্দিতা বলল, “তোমার শরীর এখন ঠিক আছে?”
আমি বললাম, “হ্যাঁ।”
অনিন্দিতা আমাকে জড়িয়ে ধরে বলল, “ডাক্তার চৌধুরীর কাছে নিয়ে যেয়ো। বাচ্চা নষ্ট করব বলে রেগে গেছিলেন। এখন খুশি হবেন।”
আমি ওর কপালে চুমু খেয়ে বললাম, “নিয়ে যাব সোনা। তুমি তৈরি হও। স্কুল যাবে না?”
অনিন্দিতা আমার থুতনিতে চুমু খেয়ে বলল, “যাব না। ইচ্ছা করছে না। আজ সারাদিন তোমাকে জড়িয়ে ধরে থাকি।”
প্রমাদ গুনলাম। খিদিরপুর যেতে হবে তো! বললাম, “আচ্ছা, আমি শুধু একবার বেরোব আজ।”
অনিন্দিতা জোরে জোরে মাথা নেড়ে বলল, “না। আজ তুমি কোথাও যাবে না। আমি পায়েস রাঁধব। তুমি খাবে।”
আমি ওকে জড়িয়ে ধরে আরও আদর করলাম।
শুয়ে থাকলাম অনেকক্ষণ। শ্বাস ছাড়লাম।
যাক! অনিন্দিতাকে ঠিক করে নিয়েছি মানে আর চিন্তা নেই। একমাত্র ওর পক্ষেই আইনিভাবে আমাকে সমস্যায় ফেলা সম্ভব ছিল।
এবার ঋতুজাকে ব্যাক টু প্যাভিলিয়ন করিয়ে নিতে পারলেই শান্তি।
করুক, কলকাতায় ফিরে নিশ্চয়ই ফোন করবে ও।
অধীর আগ্রহে সেদিকেই তাকিয়ে থাকতে হবে।
কতদিন ঋতুজাকে চুমু খাই না, আহ!
৬৭ জীমূতবাহন
টাকা বেঁচে গেছিল। বাগডোগরায় চলে এসেছি। প্লেনে ফিরব। তাহলে আর ট্রেনের ধকলটা নিতে হয় না। সময়ও বাঁচে। তাড়াহুড়োয় সেবক থেকে শিলিগুড়ি যাবার রাস্তার দৃশ্যটা প্রাণভরে উপভোগ করতে পারলাম না।
বউ… না থাক, ঋতুজাকে যত তাড়াতাড়ি ওর বাড়ি দিয়ে আসতে পারব তত ভালো। অনিচ্ছুক মানুষকে জীবনে টেনে নিয়ে যাবার কোনও মানে হয় না।
পাহাড়ের মনোরম আবহাওয়া থেকে সমতলে নামার পর গরম লাগছিল। ঘাম হচ্ছে। এয়ারপোর্টে গিয়ে টিকেট কেটে এয়ারপোর্টের ভিতরে ঢুকলাম। চারটেয় ফ্লাইট। তার কিছুক্ষণ পরেই ও নিজের বাড়ি গিয়ে অনিরুদ্ধর সাথে দেখা করবে৷
যা করে করুক। পরের মেয়ে পরমানন্দ, যত গোল্লায় যায় ততই আনন্দ।
ঋতুজা চুপ করে আছে। বোর্ডিং পাস নিয়ে সিকিউরিটি পেরিয়ে এয়ারপোর্টের লাউঞ্জে বসলাম। ছোটো এয়ারপোর্ট। লোক গিজগিজ করছে। চেয়ারে বসে হেলান দিলাম।
ঋতুজা বলল, “আমি একটা ফোন করে আসছি।”
আমি বললাম, “অনিরুদ্ধকে করবে তো? আমার ফোন নাও। এটা থেকেই করো।”
ঋতুজা মাথা নেড়ে বলল, “অনিরুদ্ধকে না। বাবাকে ফোন করব। এ কদিন একবারও ফোন করিনি বাবাকে।”
আমি ফোন এগিয়ে দিলাম। ঋতুজা ওর বাবার সঙ্গে বেশ খানিকক্ষণ কথা বলে আমার দিকে ফোনটা এগিয়ে দিল।
আমি শ্লেষাত্মক গলায় বললাম, “যাকে ফোন করতে ইচ্ছা করছে তাকে করো, লজ্জা পাচ্ছ কেন? আমি তো কিছু বলব না। তোমার ওপর আমার তরফ থেকে কোনওরকম রেস্ট্রিকশন নেই। চিন্তা কোরো না।”
ঋতুজা বলল, “আমি জানি না ও কোথায় আছে, ওর বউ আছে নাকি। না জেনে তো ফোন করি না।”
আমি বললাম, “তা বটে। লুচ্চামি করলে তো বউকে না জানিয়েই করতে হয়। তবে এখন চিন্তা কোরো না, ওর বউ সব জেনে গেছে। ময়দানে অবাধে খেলতে সমস্যা হবে। আচ্ছা, তুমি কতবার ওর সঙ্গে সেক্স করেছ?”
ঋতুজা চমকে চারদিকে তাকাল। সবাই নিজের নিজের কাজ করছে। আমার গলার স্বরও কম ছিল। তবু ও চমকাল। বলল, “আস্তে কথা বলো। সবাই শুনবে তো!”
আমি বললাম, “শুনলে শুনবে। এক কাজ করি, চেঁচিয়ে চেঁচিয়ে সবাইকে তোমাদের কথা বলি। দেখা যাক কজন তোমার পক্ষে আছে আর কজন বিপক্ষে।”
ঋতুজার বিষ অনেক আগেই ঝরে গেছিল। এখন দৃশ্যত ওকে ক্লান্ত লাগছিল। আমার দিকে তাকিয়ে নিচু গলায় বলল, “আমি একটু বাড়ি যেতে চাই। আমি কি কোনওরকম ঝামেলা ছাড়া সেটা যেতে পারি?”
আমি বললাম, “আমার তো ইচ্ছা করছে পায়ের জুতোটা খুলে তোমাকে আগাপাশতলা জুতোতে, কিন্তু সমস্যা হল ভদ্রতা জিনিসটা আমার একটু বেশি, তাই বেঁচে গেলে। আচ্ছা অনিরুদ্ধ রাউত যদি ওর বউয়ের পাশে তোমাকে নিয়ে এক খাটেই শোয় তাহলে শোবে? একসঙ্গে সেক্স করবে?”
এই কথাটা একটু জোরে বলে ফেলেছিলাম। পাশের সিট থেকে এক ভদ্রমহিলা চমকে তাকালেন।
ঋতুজা কোনও উত্তর দিল না।
