আমি এ কথারও কোনও উত্তর দিলাম না।
৬৫ অমৃত
আত্রেয়ী কেমন পাগলের মতো করছে। আমি বুঝতে পারছি ও রাতে এমন কোনও স্বপ্ন দেখেছে, যেটা ওর মনে বড়ো কোনও প্রভাব ফেলেছে। আসলে যারা তাদের চারপাশে একটা কাঠিন্যের আবরণ দিয়ে রাখে, ভেতরে ভেতরে তারা যে কতটা ভেঙে থাকে সেটা সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝা অসম্ভব। একটা মেয়ে একটা ছেলের মধ্যে অনেক তফাত থাকে।
আর আত্রেয়ী তো একেবারেই আলাদা। জানি, যারা ভালোবাসে, তারা তাদের ভালোবাসার মানুষকে অন্যদের থেকে আলাদা ভাবতেই ভালোবাসে। কিন্তু নিরপেক্ষ জায়গা থেকে দেখলেও আত্রেয়ী বাকিদের মতো নয়।
আমি ওর ঠিক উলটো। একদিন কথা না বললে আমি পাগল হয়ে যাই, লাফ ঝাঁপ দিয়ে রিয়্যাক্ট করি। আত্রেয়ী রিয়্যাক্ট করে না। বোঝেই না হয়তো আমাকে মিস করছে। অবচেতনে জমতে থাকে আমাকে ছেড়ে থাকাটা। তারপর যখন সেটা ফেটে পড়ে, হাতের বাইরে চলে যায়।
এখন যেমন গেছে। অফিস ছুটি নেওয়াল, নিজে স্কুল গেল না। বাইকে করে বেরিয়েছি, পিঠে মুখ গুঁজে কেঁদে চলেছে।
আমি বেশ খানিকক্ষণ বাইক চালিয়ে বাইকটা দাঁড় করালাম। পিছন ফিরে বললাম, “এই যে সোনা, বুচি বুড়ি আমার, রাস্তার লোকজন কী ভাবছে বলো তো?”
আত্রেয়ী চোখ মুছে বলল, “ভাবতে দাও। আমার কিছু যায় আসে না।”
আমি বললাম, “মহা জ্বালা হল। আমার বাড়ি যাবে?”
আত্রেয়ী বলল, “তোমার বাড়িতে সবাই আছে তো। এখন যাব না। পরে নিয়ে যেয়ো, যাব। আজ শুধু তোমার সঙ্গে থাকব। আমি আদর খাব।”
আমি হেসে ফেললাম, “এরকম আদাড়েবাদাড়ে, রাস্তাঘাটে? হোটেলে যাবে?”
আত্রেয়ী মাথা নাড়ল, “না, আমার হোটেল ভয় লাগে। হোটেল পচা জায়গা। যাব না।”
আমি একটু ভেবে বললাম, “আচ্ছা, দাঁড়াও!”
সৌরভকে ফোন করলাম। আমার কলিগ। বালিগঞ্জে ফ্ল্যাটে একা থাকে। সৌরভ ফোন তুলল, “বল রে!”
আমি বললাম, “হ্যাঁ রে, তোর ফ্লাটের চাবিটা আজকের জন্য পাওয়া যাবে?”
সৌরভ কোনও প্রশ্ন করল না, বলল, “কোথায় নিবি বল?”
বললাম, “বেরিয়ে গেছিস তুই?”
সৌরভ বলল, “বেরোচ্ছি। রুবিতে থাকতে পারবি?”
আমি বললাম, “ঠিক আছে!”
ফোন রেখে আত্রেয়ীকে বললাম, “এবার শান্তি?”
আত্রেয়ী পিঠে মুখ গুঁজল, “হুঁ।”
আমি বললাম, “এরকম করছ কেন বাবু?”
আত্রেয়ী বলল, “জানি না। আজ আমার শুধু তোমাকে চাই। আর কিছু জানি না। জানতেও চাই না। আমার মাথা কাজ করছে না।”
আমি বললাম, “ঠিক আছে, বলতে হবে না!”
আত্রেয়ীকে নিয়ে রুবির বাস স্ট্যান্ডে দাঁড়ালাম। সৌরভ সেই বিরল প্রজাতির ছেলেদের মধ্যে একজন, যার কারও ব্যক্তিগত ব্যাপারে কখনও কোনও ইন্টারেস্ট থাকে না। আমাকে ওর ফ্ল্যাটের চাবি দিয়েও কোনও প্রশ্ন করল না।
আত্রেয়ীকে নিয়ে ওর ফ্ল্যাটে যখন পৌঁছোলাম, ঘড়ির কাঁটা এগারোটা ছুঁই ছুঁই।
ফ্ল্যাটের দরজা বন্ধ করতে আত্রেয়ী আমাকে জড়িয়ে ধরে বুকে মাথা রেখে বলল, “তুমি একা একা বাইক চালাবে না।”
আমি আত্রেয়ীর মাথায় হাত বুলিয়ে বললাম, “বেশ, আর?”
আত্রেয়ী কেঁদে ফেলল আবার। বলল, “আমি তোমাকে ছেড়ে কোথাও যাব না। আমি তোমার কাছে থাকব।”
আমি বললাম, “বিয়ে অবধি?”
আত্রেয়ী বলল, “হুঁ, আর তুমি ছোটো ছোটো ব্যাপারে আমাকে সন্দেহ করে পাগল করবে ততদিন, তাই না? আমি পারব না অতদিন অপেক্ষা করতে!”
আত্রেয়ীকে নিয়ে সোফায় বসিয়ে বললাম, “আমি তো তুমি রিপ্লাই করছিলে না বলে অমন করছিলাম সোনা। এই আমি তোমাকে কথা দিলাম, আর অবিশ্বাস করব না সারাজীবন।”
আত্রেয়ী আমাকে জড়িয়ে ধরল। ওর নিঃশ্বাসের শব্দ, চোখের জল আমাকে অদ্ভুত অসহায় করে দিচ্ছিল। আমার চোখও ভিজে গেল কখন বুঝতে পারলাম না। আত্রেয়ী আমাকে চুমু খেতে শুরু করল পাগলের মতো। আমি ওকে জড়িয়ে ধরে বসে রইলাম। আমার কাম জাগছিল অস্বীকার করব না, কিন্তু তার থেকেও বেশি কষ্ট হচ্ছিল। আত্রেয়ী বলল, “আমাকে আদর করো। আমাকে আদর করো।”
আমি ওর ঠোঁটে চুমু খেলাম অনেকক্ষণ ধরে। আত্রেয়ী আমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরল।
চুমু খাওয়া শেষে আমি ওর চোখের জল মুছিয়ে দিয়ে বললাম, “চলো বিয়ে করি। আজ থেকেই একসাথে থাকি। অনুষ্ঠান পরে হোক। রাজি?”
আত্রেয়ী আমার হাত ওর ঠোঁটে নিয়ে চুমু খেয়ে বলল, “রাজি।”
৬৬ অনিরুদ্ধ
অনিন্দিতা বেশ ভেঙে পড়েছিল। সারারাত আদর করলাম। ওর প্রেগনেন্সি সেলিব্রেট করলাম। চুমুতে চুমুতে ভরিয়ে দিলাম অনিন্দিতার সারা শরীর। ওর পেটে হাত রেখে আমাদের সন্তানের দিব্যি দিয়ে বললাম, এরকম আর কোনও দিন হবে না।
এসব যখন করতে হয়, ভীষণ সিরিয়াস মুখে করতে হয়। মেয়েরা ন্যাকা জাত। তারা ন্যাকামি পছন্দ করে। চোখে জল এনে আবেগের কথা বললে, ভিক্টিম প্লে করলে ওরা গলে যায়।
অনিন্দিতাকে বললাম, ছোটোবেলাটা আমার ভালো যায়নি। আমার এক আত্মীয় আমাকে রেগুলার সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট করত। তাই মানসিকভাবে আমি একাকিত্বে ভুগি। এই কারণেই বিভিন্ন মেয়ের সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ি। কিন্তু আর নয়। আমার নিজের সন্তান আসছে। এখন থেকে আমি আর কারও কথা শুনব না। কারও দিকে তাকাব না।
আমি, অনিন্দিতা আর আমাদের সন্তান ছাড়া আমি আর কাউকে চাই না।
আমার এখনকার একটা রোগের কথাও বললাম। দুবার অজ্ঞান হয়ে যাবার নাটকও করলাম। তাতে অনিন্দিতা ঘাবড়ে গেছিল। আমাকে জড়িয়ে ধরল। আমি ওকে সে সুযোগে বেশি করে সিডিউস করলাম। যৌনতার সুযোগে আরও ব্রেন ওয়াশ করে দিলাম। ঘুম থেকে উঠে দেখলাম অনিন্দিতা আমাকে জড়িয়ে ধরে ঘুমোচ্ছে। আমি মনে মনে হাসলাম। মেয়েদের বোকা বানানো কত সহজ! একটু ভালো ভালো কথা বললেই এরা কাত হয়ে যায়।
