আত্রেয়ী বলল, “কাফেতে কী করছ?”
আমি বললাম, “একাকিত্ব উদযাপন করছি। তুমি তো আমাকে ভুলেই গেছ।”
আত্রেয়ী বলল, “আমি তোমাকে ভুলে গেছি? এই কথাটা তুমি বলতে পারলে?”
আমি বললাম, “একবার ফোন করে দু-চারটে চুমু খেলেই হত। সেটা যখন করোনি, মন তো খারাপ হবেই বলো।”
আত্রেয়ী বলল, “তুমি জানো না আমি মানসিকভাবে কতটা ডিস্টার্বড হয়ে গেছি। আমার মুডটা ভীষণ অফ হয়ে গেছে। আর এরকম যখন হয়, তখন সেটা থেকে রিকভার করতে অনেক সময় লাগে আমার।”
আমি বললাম, “হুঁ। ঠিক আছে। সময় নাও। আমি একা বোকা হয়ে ঘুরে বেড়াই। রাখলাম।”
আত্রেয়ী বলল, “রাগ করলে?”
আমি বললাম, “নাহ। রাখি।”
আত্রেয়ী কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল, আমি না শুনে ফোনটা কেটে দিলাম।
রাগ দেখাতে গিয়ে মন খারাপটা আরও বেড়ে গেল।
মহা জ্বালা বালের প্রেম করে!
৫৩ আত্রেয়ী
আমার আজকাল মনে হয়, অমৃতর সঙ্গে সম্পর্কটা আমাকে হঠাৎ করে বড়ো করে দিয়েছে। আমার থেকে অমৃত বয়সে বড়ো হলে কী হবে, ওর শৈশব এখনও কাটেনি।
এরকম করবে কেন নইলে? আমি তো রোজই দেখা করি। দু তিন দিন করতে পারছি না বলে এরকম পাগলামি করার কী আছে? আমার যদি মনে হয় আমি কাউকে বিশ্বাস করতে পারছি না, সেটা বললেও এরকম উত্তেজিত হয়ে পড়লে তো ভারী বিপদ!
ফোনটা রাখার পর বেশ কিছুক্ষণ চুপ করে ছিল পাগলটা। তারপর হোয়াটসঅ্যাপ করল, “তুমি কি আমার সঙ্গে ব্রেক আপ করতে চাও আত্রেয়ী?”
আমি মেসেজটা দেখে বিরক্ত হয়ে ফোন করলাম। ফোন তুলল না।
লিখলাম, “ফোন তুলছ না কেন?”
অমৃত লিখল, “তুলব না। মেসেজে উত্তর দাও। তুমি কি আমার সঙ্গে ব্রেক আপ করতে চাও?”
আমি লিখলাম, “এরকম উদ্ভট কথা মনে হল কেন তোমার?”
“এই তো, তুমি যে বললে…”
“কী? কী বললাম?”
“এই যে বললে তুমি ছেলেদের বিশ্বাস করতে পারছ না। কী যেন ওই লোকটা… ওর জন্য।”
আমি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললাম, “আমার মনে হয়েছিল হঠাৎ করে বলে ফেলেছি। এর মানে ব্রেক আপ করা কেন হবে?”
“ও। আচ্ছা।”
“তুমি এখনও কাফেতে বসে আছ?”
“হুঁ।”
“বাড়ি যাও। বাইক চালিয়ে সাবধানে ফিরবে।”
“যাব না। তোমার কোনও কথা শুনব না।”
“এ কেমন পাগলামি?”
“পাগলামি বললে পাগলামি। আমার ভালো লাগছে না কিছু।”
“কী চাও? চুমু? এ নাও।” একগাদা চুমুর স্মাইলি পাঠালাম।
“লাগবে না। তুমি আমাকে অ্যাভয়েড করছ। আমি বুঝে গেছি। কী হয়েছে? বাবা কোনও সম্বন্ধ দেখেছে নাকি?”
আমি রাগি ইমোজি দিলাম কয়েকটা। দিয়ে লিখলাম, “এসব কী বলছ? আচ্ছা আমার কি মুড অফ হতে নেই?”
“হতে আছে। তুমি আমাকে ভালোবাস তো আত্রেয়ী?”
“বাসি। কীভাবে প্রমাণ করব বলো? প্রমাণ দিচ্ছি।”
“প্রমাণ করলে হবে না। আমাকে বললেই হবে। আমার ভালো লাগছে না কিছু বিশ্বাস করো। তুমি না থাকলে আমার মনে হয় সব শেষ হয়ে যাচ্ছে। কেমন একটা অসহ্য কষ্ট হচ্ছে।”
“আচ্ছা। তুমি যদি ভাবো আমার এরকম কিছু হয় না তাহলে ভুল ভাবো। তুমি বাড়ি যাও। এসব দয়া করে ভেবো না।”
“কাল দেখা করবে বলো।”
“তুমি আজই এসো। বাড়ি চলে এসো। খুশি?”
“না বাড়ি যাব না। আমার এক হাজারটা চুমু লাগবে আমার আত্রেয়ী বউয়ের থেকে।”
হেসে ফেললাম। লিখলাম, “ঠিক আছে। দুহাজারটা চুমু দেব। এবার বাড়ি যাবে?”
“যাচ্ছি।”
“ভালো থেকো। গিয়ে মেসেজ করবে। পাগলামি কোরো না দয়া করে।”
“আমি তো পাগলই সোনা। তোমার জন্য।”
“হুঁ। হয়েছে। এবার যাও।”
“যাচ্ছি। ভালোবাসি।”
“ভালোবাসি।”
ফোনটা রাখলাম। ঠোঁটের কোণে হাসি এল একটা।
অবুঝ ভালোবাসার একটা অদ্ভুত শক্তি আছে। কেমন সব মন খারাপ দূর করে দেয়। আমার মনে হচ্ছিল অমৃত আমাকে জড়িয়ে ধরে আছে। চোখে বন্ধ করে ওর চোখ দুটো, নাক, ঠোঁট মনে করতে লাগলাম। সব সময় ছটফট করছে যেন। প্রেম পেতে শুরু করল হঠাৎ করেই।
আরও কিছু ভাবতে যাচ্ছিলাম, কলিং বেল বাজল। বাবা হাঁটতে বেরিয়েছে। আমি দরজা খুলে দেখলাম অনিন্দিতাদি দাঁড়িয়ে আছে।
বললাম, “কী গো, কী খবর?”
অনিন্দিতাদি চোখ মুখ শক্ত করে বলল, “ও বারবার ক্ষমা চাইল। আমাকে বাড়ি নিয়ে যেতে চাইছে।”
আমি কয়েক সেকেন্ড অনিন্দিতাদির দিকে তাকিয়ে বললাম, “আচ্ছা। তুমি কী বললে?”
অনিন্দিতাদি বলল, “ক্যাবে বসে আছে বাইরে। আমি ব্যাগ নিতে এলাম।”
আমার চোখের দিকে না তাকিয়েই কথাগুলো বলল অনিন্দিতাদি।
আমি বললাম, “আচ্ছা। তুমি কী করছ, ভেবে নিয়েছ তো?”
অনিন্দিতাদি আমার দু হাত ধরে বলল, “আর কটা দিন দেখি। তুই রাগ করলি না তো?”
আমি মাথা নাড়লাম, “না না ছি ছি, রাগ করব কেন? তুমি দেখতে চাইলে দেখো। কোনও অসুবিধা নেই। ভালো থাকো।”
কয়েক মিনিটের মধ্যে অনিন্দিতাদি ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে গেল।
অনিরুদ্ধদা ক্যাবেই বসে ছিল। নামল না।
আমার প্রবল অস্বস্তি হচ্ছিল। মনে হচ্ছিল এত সহজে সব কিছু মিটে যায় না।
যেতে পারে না।
৫৪ জীমূতবাহন
আমি দেখেছি সাইট সিয়িং জিনিসটা আমার সঙ্গে যায় না।
মানে কোথাও বেড়াতে গিয়ে পাগলের মতো চরকি ঘোরার মানে কী? অফিস করে ক্লান্ত হয়ে হয়েই তো লোকে বেড়াতে যায় রে বাবা! সেখানে আবার নতুন করে ক্লান্ত হবার দরকারটা কী?
ঘণ্টাখানেক নিম্নচাপ সামলে রাস্তায় গাড়ি যখন ছাড়ল, ড্রাইভারকে বলে বলে একটা পেট্রোল পাম্পে গাড়ি দাঁড় করানো গেল।
