অনিন্দিতাদি ফোনটা বের করে নাম্বারটা দিলাম।
আমি মিসড কল মারলাম।
সঙ্গে সঙ্গে ফোন এল। “হ্যালো, কে বলছেন?”
আমি বললাম, “রং নাম্বার।”
ওপাশ থেকে ভেসে এল, “রং নাম্বারই তো? হ্যান্ডসাম ছেলেদের নাম্বারে মেয়েদের মিসড কল মারা স্বভাব আছে কিন্তু।”
আমি মিষ্টি গলায় বললাম, “আচ্ছা? আপনার নাম্বার কী করে পেলাম বলুন তো?”
অনিরুদ্ধদা বলল, “পেয়ে যায়। আপনিও নিশ্চয়ই কোথাও থেকে পেয়েছেন। মে বি টিন্ডার? আমরা দেখা করেছি কি কোনও দিন?”
আমি বললাম, “কই না তো। তবে ইচ্ছা আছে।”
অনিরুদ্ধদা বলল, “করলেই হয়। সিঙ্গল মানুষ, সুন্দরীরা দেখা করতে চাইলে কেন করা যাবে না? এই উইকএন্ড ফ্রি আছেন?”
ফোন স্পিকারে চলছিল। আমি দেখতে পেলাম অনিন্দিতাদির দু চোখ দিয়ে জলের ধারা পড়েই চলেছে।
৩৮ জীমূতবাহন
আগের রাতে ঘুম হয়নি বলে এ রাতে বিছানায় পড়তেই ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। মাঝরাতে টের পেয়েছিলাম বউ আমার গায়ে পা তুলে দিয়েছে, বাধা দিইনি আর। ঘুম থেকে উঠে দেখলাম গলা জড়িয়ে ঘুমাচ্ছে। ওকে হালকা ঠেলে উঠলাম।
বউ ঘুম ভেঙে আমাকে ঘুমজড়ানো গলায় বলল, “ওহ, আমার ঘুমটা খুব খারাপ। তোমাকে জড়িয়ে ধরেছিলাম?”
আমি বললাম, “কাকে জড়িয়ে ধরলে খুশি হতে? অনিরুদ্ধকে?”
বউ বলল, “ঘুম থেকে উঠেই তুমি ছয় হাঁকাতে শুরু করে দিলে যে। একটু অপেক্ষা করতে পারতে তো!”
আমি বললাম, “এমনিই ইচ্ছা হল। রেডি হয়ে নাও, সাইট সিয়িং করে আসি।”
বউ বলল, “কোথায় নিয়ে যাবে? ঘুমালে হত না?”
আমি বললাম, “কত ঘুমাবে? একটু ঘুরে নাও। খিদে পাবে ভালো।”
বউ বলল, “স্নান করে নি। তুমি আগে বাথরুমে গেলে যাও। আমার স্নানে টাইম লাগে।”
আমি বললাম, “পেট পরিষ্কার করে বেরিয়ো। মাঝরাস্তায় হাগা পেয়েছে বলবে না।”
বউ রেগে গেল, “আমি কি একবারও হাগা পেয়েছে বলে গাড়ি দাঁড় করিয়েছি? এরকম কথা মনে হল কেন হঠাৎ? আর আমার পেট ক্লিয়ারই হয়। তোমাকে দেখে যেরকম কোষ্ঠকাঠিন্যের রুগি বলে মনে হয়, আমি সেরকম নই। আমার স্কিন দেখেছ, একটা পিম্পল পর্যন্ত নেই।”
আমি বললাম, “আমারও ক্লিয়ার হয়। আগে থেকে বয়ফ্রেন্ড থাকা মেয়ের সঙ্গে বিয়ে হলে সব পুরুষের কোষ্ঠকাঠিন্য কেন, পাইলস, ফিশার সব হতে পারে।”
বউ চ্যাঁচাল, “সবাই কি তোমার মতো নাকি? ফ্রাস্ট্রু পাবলিক। জীবনেও গার্লফ্রেন্ড জোটাতে না পারা লোকগুলো আজীবন ফ্রাস্ট্রেশনেই মরে যায়।”
আমি বললাম, “তাও ভালো করে, তোমার মতো কাউকে ঠকিয়ে যেতে হয় না।”
বউ রাগি চোখে আমার দিকে তাকিয়ে বলল, “আমি কাউকে ঠকাইনি।”
আমি বললাম, “তুমি নিশ্চিত?”
বউ বলল, “হ্যাঁ।”
আমি সোফায় বসে পড়ে ঠান্ডা গলায় বললাম, “তোমার অনিরুদ্ধের বউ আমার ক্লাসমেট ছিল। ওকে সব বলে দিয়েছি।”
বউ আমার দিকে কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে বলল, “তারপর?”
আমি কাঁধ ঝাঁকালাম, “তারপর তোমার অনিরুদ্ধর এখন পাপড় সেঁকা হচ্ছে মে বি, আমার কী?”
বউ বলল, “তোমার কী? তুমি কেন বলতে গেলে?”
আমি বললাম, “তোমারই বা কী? তুমি ওর বউকে কেন ঠকাবে? আমার বলার ইচ্ছা হয়েছে, আমি বলে দিয়েছি। তুমি অনিরুদ্ধকে ফোন করবে? সান্ত্বনা দেবে? ওদের ডিভোর্স হয়ে যাবে নিশ্চয়ই এবারে, তখন তোমরা নিশ্চিন্তে সংসার করতে পারবে।”
বউ আমার দিকে ছোটো ছোটো চোখ করে তাকিয়ে বলল, “তুমি আমাকে ডিভোর্স দিয়ে দেবে সহজে?”
আমি হাসলাম, “না। সহজে দেব না। তোমার ওই অনিরুদ্ধকে বলবে একদিন একটা একলা জায়গায় আমার সামনে একা আসতে। ওর স্পেশাল জায়গায় কিছু স্পেশাল লাল পিঁপড়ে ছেড়ে দেওয়ার প্রবল ইচ্ছা আছে আমার।”
বউ রেগে গিয়ে বলল, “যে তোমার কোনও ক্ষতি করেনি, তার সম্পর্কে এরকম মানসিকতা রাখার মানে কী?”
আমি বললাম, “ক্ষতি করেনি কে? অনিরুদ্ধ? মানে তুমি সিরিয়াসলি বলছ? একটা স্বাভাবিক ছেলে, যে কিনা খুব ভালো ছিল, তাকে একটা ডিসপুটেড ম্যারেজের মধ্যে জড়িয়েছ তোমরা, তথ্যপ্রমাণ জোগাড় করছি, এমন হাল করব তোমাদের, দুটোকেই জেলের ঘানি টানাব।”
আমি রেগে গেছিলাম।
বউ সেটা দেখে হাই তুলে শুয়ে পড়ে চোখ বন্ধ করে বলল, “জেলে পাঠালে পাঠাবে। মানুষের সব এক্সপেরিয়েন্স হওয়া দরকার চিতায় ওঠার আগে। সঞ্জু দেখে আমার জেল লাইফের প্রতি একটা ইন্টারেস্ট এসেছে। জেল তো ভালো জায়গা।”
আমি বললাম, “জেল ভালো জায়গা? মোটাসোটা চেহারার মহিলারা যখন জায়গামতো বেগুন ঢুকিয়ে দেবে তখন বুঝতে পারবে।”
বউ বলল, “ধ্যাত। ফালতু কথা যত।”
আমি বললাম, “ফালতু কথা হলে ফালতু কথা। আমি শুনেছি বলেই বললাম।”
বউ বলল, “যাহ্, কী বলো তুমি? সত্যি নাকি?”
আমি বললাম, “হ্যাঁ, আরও অনেক কিছু হয়। আমি গুগল সার্চ করে দেখে বলব তোমায়।”
বউ সিরিয়াস মুখে বলল, “তাহলে জেলে যাব না। তুমি ডিভোর্স চেয়ো, দিয়ে দেব। খামোখা কেস খাইয়ো না। শোনো না, সকালে আলুপরোটা বলে দাও না। ডিভোর্সের কথায় খিদে পেয়ে গেল।”
আমার প্রবল সন্দেহ হল এই মেয়ে মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছে।
৩৯ আত্রেয়ী
টিচার ইন-চার্জকে জানিয়ে স্কুল থেকে তাড়াতাড়ি বেরিয়ে অনিন্দিতাদিকে ওর বাড়ি নিয়ে গেলাম।
বাড়ি বলতে ওর শ্বশুরবাড়ি। অনিন্দিতাদি গোটা রাস্তা চোখ মুখ শক্ত করে বসে থাকল। আমাকে বাড়ি ঢোকার সময় বলল, “আমার ব্যাগ গোছাতে বেশিক্ষণ লাগবে না, তুই আমাকে হেল্প করিস শুধু।”
