দীপ বলল, “ওকে ম্যাম। তাই হোক।”
কলিং বেল বাজল।
ঋতি বলল, “দ্যাখো কে এল। পুলিশ না তো?”
দীপ বলল, “ধুস! পুলিশ কেন হবে? এত ভয় পাও কেন? দাঁড়াও দেখি।”
দীপ উঠল। জামাটা পরে কি-হোলে চোখ রেখে বলল, “হোটেলের বয়।”
ঋতি শ্বাস ছাড়ল, “উফ! ভয় পেয়ে গেছিলাম সত্যি।”
দীপ দরজা খুলল, “কী চাই?”
ছেলেটা বলল, “স্যার রিসেপশনে লাঞ্চের জন্য বলেছিলেন। কিছু লাগবে?”
দীপ বলল, “আমি ফোন করছি। নক করার দরকার নেই, ওকে?”
ছেলেটা বলল, “ওকে স্যার।”
ছেলেটা যেতে ঋতি বলল, “এই চলো তো। আমার একদম টেনশন পোষায় না। কলকাতা এখনও যথেষ্ট সেফ না আনম্যারেড কাপলদের জন্য।”
দীপ কাঁধ ঝাঁকাল, “আমার আচ্ছা খাসা ল্যাদটা নষ্ট হল। ঠিক আছে। তাই হোক, আমি ওয়াশরুম যাই। তুমি যাবে আগে?”
ঋতি উঠল, “না, যাও রেডি হয়ে নাও। আমিও যাই। ফালতু দেরি করে লাভ নেই।”
দীপ ওয়াশরুমে ঢুকল। ঋতি তৈরি হচ্ছিল, এমন সময় দীপের ফোনটা ভাইব্রেট হতে শুরু করল। ফোনটা ঋতির চোখের সামনেই ছিল। ঋতি দেখল “চিত্রলেখা” নামটা ভেসে উঠছে। সে ফোনটা ধরল না।
দীপ বেরোলে বলল, “চিত্রলেখা কে?”
দীপ ঋতির দিকে তাকিয়ে একটু থতোমতো খেয়ে বলল, “কলিগ। কেন বলো তো?”
ঋতি বলল, “টোটাল কাব্যিক নাম তো! ফোন করেছিল।”
দীপ মুখে ছদ্ম বিরক্তি ফুটিয়ে বলল, “উফ, এঁরা একদিন ছুটি নিতেও দেবে না। অফিস জুনিয়র, বুঝলে তো? একেবারে কিছুই কাজ জানে না। ক্ষণে ক্ষণে শুধু বিরক্ত করতে জানে।”
ঋতি হাসল, “বিরক্ত না, ওরম বলে না। এমন হ্যান্ডু সিনিয়র থাকলে একটু জ্বালানো তো হক বনতা হ্যায় বস। জানো তো, আমারও এরকম একজন সিনিয়র ছিল অফিসে। আমি খুব বোকা সেজে তাকে ফোন করতাম। একদিন সানডেতে তাকে ফোন করেছিলাম। তার বউ ধরে সে কী ঝাড়! কেন অফিস আওয়ারসের বাইরে ফোন করেছি এটসেট্রা এটসেট্রা। বোঝো! আমি তখন জাস্ট কয়েকদিন হল জয়েন করেছি। ট্রেনিং পিরিয়ড শেষ হয়েছে আর নতুন প্রোজেক্ট দিয়েছে। আমি কী করে বুঝব ব্যাটার বউ অমন সন্দেহ করে। ইনফ্যাক্ট উনি যে ম্যারেড সেটাই জানতাম না। খুব কেঁদেছিলাম।”
দীপ বলল, “হুঁ। ক্রাশ ছিল তাহলে।”
ঋতি চোখ নাচাল, “জ্বলল?”
দীপ ঠোঁট ওলটাল, “সুন্দরী বউ হবে। আরও কত জ্বলা বাকি!”
ঋতি বলল, “সুন্দরী না ছাই। তুমিও তো কম হ্যান্ডু না বাপু। তোমাকেও আমি চোখে চোখে রাখব দেখে নিয়ো। একদম অন্য মেয়েদের দিকে তাকাবে না, চোখ গেলে দেব।”
বলেই ঋতি হাসতে শুরু করল।
দীপ কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল, আবার ফোনটা বেজে উঠল।
ঋতি বলল, “এই, ফোনটা রিসিভ করো। নইলে বারবার ফোন করবে।”
দীপ বিরক্ত গলায় বলল, “ছাড়ো তো। রিসিভ করলেও হ্যাজ দিতে শুরু করবে। অত হ্যাজ এখন নিতে পারব না। চেক আউট করি চলো।”
ঋতি বলল, “এক কাজ করি? আমি রিসিভ করি? ঝাড়ব না, বিলিভ মি। ভালো করে কথা বলি।”
দীপ আঁতকে উঠেও সামলে নিল, “না না, কোনও দরকার নেই। চলো চলো বেরোই।”
ঋতি অবাক হয়ে বলল, “তুমি এত রিঅ্যাক্ট করে ফেলছ কেন?”
দীপ নিজেকে সামলে নিল, “আরে সেটা না, অফিসে শরীর খারাপ বলেছি না, এখন যদি তুমি ধরো তখন অন্য ঝামেলা হতে পারে। ভেবে নেবে অ্যাপো মারছি। বুঝলে তো?”
ঋতি মাথা নাড়ল, “পয়েন্ট। ওকে। চলো বেরোই।”
দীপ বলল, “তোমার ইচ্ছাই থাকল। তবে হাইওয়েতে ধাবায় পৌঁছোতে পৌঁছোতে খিদে পাবে না তো?”
ঋতি হাসল, “পাবে না। এত চুমু খেয়েছ পেট ভরে গেছে।”
২২
মানালি ঘুমাচ্ছিল।
ঘুম ভাঙল ফোনের শব্দে।
মানালি কোনও মতে হাত বাড়িয়ে ফোনটা রিসিভ করল, “হ্যালো।”
“কি রে, এটা কী নিউজ করেছিস?!” বিতস্তার উত্তেজিত গলা ভেসে এল ওপাশ থেকে।
মানালি ঘুমচোখে বলল, “রাখ এখন। পরে করছি।”
বিতস্তা বলল, “শোন শোন শোন। রাখিস না প্লিজ।”
মানালি বিরক্ত গলায় বলল, “বল। কাল সাড়ে এগারোটায় বাড়ি ফিরেছি সব কাজ সেরে। আজকে যাওয়ার কথা ছিল না তো নিউজটা। চলে গেছে?”
বিতস্তা বলল, “সেটাই তো বলছি। পেজ থ্রি নিউজ এত প্রম্পট বেরোয় এই প্রথম দেখলাম। আর তার ওপর এ তো পাতাজোড়া কেচ্ছা রে! কেচ্ছা নামানো তাও যুদ্ধকালীন তৎপরতায়! ইম্প্রেসিভ!”
মানালি বলল, “দেখিনি নিউজপেপার এখনও। রাখ দেখছি।”
বিতস্তা বলল, “ওকে, দেখা মাত্র কলব্যাক করিস। অফিস আসছিস কখন?”
মানালি বলল, “দেখি।”
ফোনটা কেটে দিল সে।
সকাল সাড়ে আটটা বাজে। মানালি উঠে বাইরের ঘরে গিয়ে বসল। মা তাকে দেখে বলল, “বাবা ফিরছে আজ। ছুটি পাবি?”
মানালি বলল, “দেখছি তাড়াতাড়ি চলে আসা যায় নাকি। কাগজ এসেছে?”
মা বলল, “হ্যাঁ, টিভির টেবিলে দেখ। কী এমন রাজকাজ আছে আজ যে ছুটি পাবি না?”
মানালি উত্তর না দিয়ে ড্রয়িং রুমে গেল। মা গজগজ করতে লাগল।
বহুদিন পরে তার এমন পাতাজোড়া একটা স্টোরি বেরিয়েছে। বেশ খানিকক্ষণ নিজের নামটা দেখল মানালি। তারপর নিউজটা পড়তে শুরু করল। গত রাতে বিশ্বরূপদার সঙ্গে বসে যতটা লেখা হয়েছিল তেমনটাই বেরিয়েছে। ঈপ্সিতা বাগচীর একটা ছবিও বেরিয়েছে কাগজে।
শ্রীপর্ণা ঘোষালের সঙ্গে ধ্রুবর একটা ছবি বেরিয়েছে।
“কী কারণে বিবাহ বিচ্ছেদ ধ্রুবর? শ্রীপর্ণা, নাকি অন্য কেউ? পর্দার আড়ালে কে? খুঁজলেন মানালি।”
হেডলাইনটা এই। কাগজটা নিয়ে নিজের ঘরে গেল সে।
