আর একটা কথাও না বলে সে ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।
বিশ্বরূপদা কী বলে শোনার জন্য দাঁড়াল না।
২১
“তোমার অপরাধবোধ হচ্ছে না তো?” প্রশ্ন করল দীপ।
দীপ সোফায় বসে ছিল। ঋতি খাটে শুয়ে। অনাবৃত। গায়ে কেবল একটা চাদর।
ঋতি দীপের দিকে তাকিয়ে হাসল, “একটু ব্যথা আর ছাড়া কোনও বোধ হচ্ছে না।”
দীপ বলল, “ব্যথা? কোথায়? মনে?”
ঋতি বলল, “তোমার কী মনে হয়?”
দীপ বলল, “হুঁ। ইট হার্টস।”
“তুমি ওই গানটা জানো? তুমি নরম ঠোঁটে স্বেচ্ছা ব্যথার নীল?”
দীপ ঋতির দিকে তাকাল, “চন্দ্রবিন্দু?”
ঋতি হাসল, “ইয়েস।”
দীপ বলল, “ইয়েস।”
ঋতি বলল, “করো তাহলে।”
দীপ বলল, “আমি গান জানি না।”
ঋতি বলল, “আমি জানি না। করতেই হবে।”
দীপ বলল, “বেসুরো? শুনলে পালাবে না তো?”
ঋতি বলল, “না করলে পালাব। প্লিজ।”
দীপ একটু গুনগুন করে বলল, “ধুস। হচ্ছে না।”
ঋতি হেসে বলল, “জীবন কত অদ্ভুত না? দিন দু-এক আগেও আমরা দুজন দুজনকে চিনতাম না। সেক্টর ফাইভেই হয়তো পাশাপাশি গেছি, কিন্তু কোনও দিন মুখোমুখি হইনি।”
দীপ সোফা থেকে উঠল। ঋতির পাশে বসে ঋতির চুলে আদর করতে করতে বলল, “আর একমাস পরে সবটাই লং ডিসট্যান্স রিলেশনশিপ হয়ে যাবে।”
ঋতি বলল, “প্লিজ মনে করিয়ে দিয়ো না। তবে তুমি যদি চাও…”
দীপ বলল, “তুমি যদি চাও সূর্যকে নিয়ে যাব তোমাদের বাড়ি?”
ঋতি বলল, “জানি। এটা নচিকেতার গান। আমি সিরিয়াস দীপ। তুমি যদি চাও আমি যাওয়াটা ক্যান্সেল করে দেব।”
দীপ বলল, “চাকরি চলে যায় যদি?”
ঋতি বলল, “যাক না। ক্ষতি কী?”
দীপ বলল, “তোমার অনুশোচনা হবে না কোনও দিন?”
ঋতি অধৈর্য হল, “আজ থেকে এক বছর পরে কোনও এক অচেনা শহরে একা একা থাকার চেয়ে আমি আমার প্রিয়জনের কাছে থাকাটা বেশি প্রেফার করব দীপ।”
দীপ বলল, “জীবনটা সত্যিই অদ্ভুত ঋতি, দিন কয়েক আগে আমিও স্টক মার্কেট ছাড়া আর কিছু বুঝতাম না। আজ আমি একবারও দেখিনি সেনসেক্সের কী হাল। আমার ফান্ডগুলো কোন পজিশনে আছে। ইউ চেঞ্জড মি। ইউ চেঞ্জড মি আ লট।”
ঋতি দীপের হাতটা নিয়ে চুমু খেল, “আমাকে একজন বলেছিল প্রেম এমন একটা জিনিস যেখানে কারও সঙ্গে দেখা হবার পরে অদ্ভুত ভাবে সব কিছু তার দিকে টেনে নিয়ে যায়। আমি জানি না দীপ, তোমার মধ্যে কী আছে। কিন্তু কাল থেকে কী যে হয়েছে, তুমি যাবার পর থেকে আমি অন্য কিছু নিয়ে ভাবতেই পারছি না। আমি জানি, আর পাঁচটা লোক আমাকে খারাপ মেয়ে ভাববে… কিন্তু…”
দীপ ঋতির কথা শেষ করতে না দিয়ে ঋতিকে কাছে টেনে অনেকক্ষণ ধরে চুমু খেল।
বলল, “আর পাঁচটা লোক আমরা কী করব সেটা ঠিক করবে না ঋতি। আমরা কী করব সেটা আমি আর তুমি ঠিক করব।”
ঋতি বলল, “সো দীপবাবু? অফিশিয়ালি আজ থেকে তুমি আর আমি আজ ভার্জিনিটি হারালাম, বলো?”
দীপ হাসল “ইয়েস। অফিশিয়ালি। অ্যান্ড ইট ফিলস লাইক হেভেন।”
ঋতি বলল, “আমরা এবার বেরোতে পারি না? আমার কেমন ভয় ভয় লাগছে। যদি পুলিশ রেইড হয়?”
দীপ বলল, “আমার মনে হয় না এত ভালো হোটেলে পুলিশ আসবে। ওসব সস্তার হোটেলে হয়। তা ছাড়া অ্যাপটা যথেষ্ট রিলায়েবল।”
ঋতি বলল, “আইডিগুলো নিয়ে রেখে দিয়েছে। ওগুলো দিয়ে কী করবে?”
দীপ বলল, “সেটা তো সিকিউরিটি পারপাস। রিসেপশনে বলল, শুনলে না? বেরোনোর সময় ফেরত দিয়ে দেবে।”
ঋতি বলল, “হোটেল যতই সেফ হোক, আমরা এর পর অন্য কিছু খুঁজি বরং।”
দীপ বলল, “তাই হোক। চলো লেটস ম্যারি।”
ঋতি ব্যাজার মুখে বলল, “ধুস! তুমি একেবারেই রোম্যান্টিক নও! এটা কোন ধরনের প্রোপোজ হল?”
দীপ বলল, “তুমি কোন ধরনের প্রোপোজ চাও?”
ঋতি বলল, “অ্যাটলিস্ট জ্যোৎস্না রাত হবে, ক্যান্ডেল লাইট ডিনার হবে। এই দুটো ক্রাইটেরিয়া তো থাকতেই হবে। আর হ্যাঁ, ব্যাকগ্রাউন্ডে ভায়োলিন না, বাজবে ‘তুমি যে আমার’।”
দীপ বলল, “তথাস্তু। লেকিন, পূর্ণিমা কব হ্যায়? আরে ও সাম্বা, পূর্ণিমা কব হ্যায়?”
ঋতি হেসে ফেলল, “এক কাজ করো, রুম সার্ভিসে ফোন করে একটা ক্যালেন্ডার আনাও।”
দীপ বলল, “ভালো মনে করালে, রুম সার্ভিসের কথায় মনে পড়ল। লাঞ্চ অর্ডার করে দি?”
ঋতি বলল, “এখানে খাবে?”
দীপ বলল, “তাহলে কোথায় খাবে?”
ঋতি বলল, “হাইওয়ের কোনও ধাবায়?”
দীপ খাটে শুয়ে পড়ল, “পারলাম না। জাস্ট আর ড্রাইভ করতে পারলাম না বস। আমি ল্যাদ খেয়ে গেছি। আজ থেকে আমি সংসারী মানুষ। ভুঁড়ি বাগিয়ে সংসার করব, ব্যস।”
ঋতি বলল, “তাহলে আমিও ছেড়ে চলে যাব। ভুঁড়ি আমার দু চোখের বিষ। ইয়াক। আমি কল্পনাও করতে পারছি না তোমার ভুঁড়ি!”
দীপ বলল, “আর-একটু দূর কি শোচো। আমার একটা বড়ো টাক হয়েছে। বারান্দার মতো। ইয়াব্বড়ো একটা ভুঁড়ি। তুমি অফিস যাওয়ার আগে আমাকে একটা ইয়াব্বড়ো টিফিনকৌটো ধরিয়ে দিলে। আমি অফিস গিয়ে সে টিফিন খুললাম। টিপিক্যাল বাঙালি টিফিন। ভাত। ট্যালট্যালে ডাল। মাছের ঝোল।”
ঋতি বলল, “ঈশ!!! ছিঃ! আমি দূর কেন, কোনও ভাবেই এত কিছু ভাবতে পারছি না। আমাকে দিয়ে দয়া করে এসব ভাবিয়ো না। তোমার পায়ে পড়ি।”
দীপ বলল, “জিম পাঠানোর ট্রাই নেবে নাকি?”
ঋতি বলল, “সে যা ইচ্ছা করো, কিন্তু ভুঁড়ি যেন না হয়। ওর থেকে বড়ো টার্ন অফ আর কিছু হয় না আমার কাছে।”
