মানালি বলল, “দেখিস, আর যাই হোক হেডলাইন হোস না, তবেই হবে।”
বিতস্তা আক্রমণাত্মক হল, “আসুক না, বুঝে নেব। আমার রিলেশন, কীভাবে হ্যান্ডেল করব আমি বুঝে নেব। পাড়ার জেঠিমা কাকিমার মতো বিহেভ করবে আর আমরা কি ঘাসে মুখ দিয়ে চলব?”
মানালি হেসে ফেলল, “এত ডেসপারেট হয়ে গেছিস কেন? সেরকম হলে বিয়ে বা লিভ টুগেদার কিছু একটা করে নিলেই তো পারিস! সপ্তাহে একদিন দুদিন খেপ খেলতে হয় না।”
বিতস্তা বলল, “করব। সৌরভ আর আমি আর-একটু সেটল হলেই করব। দ্যাখো বস, ভিতরে খিদে থাকবে, আর থার্টিজের নির্বাক সিনেমার নায়ক নায়িকার মতো চোখ দিয়ে চু কিত কিত খেলতে পারলাম না জাস্ট।”
মানালি বলল, “বাড়িতে বলেছিস সৌরভের ব্যাপারে?”
বিতস্তা বলল, “বলেছি। বাবা গাঁইগুঁই করছে।”
মানালি অবাক হল, “কেন?”
বিতস্তা বলল, “সৌরভ ব্রাহ্মণ না। বাবার জাত্যাভিমানে লাগছে।”
মানলি চোখ কপালে তুলল, “সে কী রে! তাহলে কী করবি?”
বিতস্তার চাউ শেষ হয়ে গেছিল। সে আঙুল চাটতে চাটতে বলল, “বাবাকে বলে দিয়েছি, মানুষ মঙ্গলগ্রহে ক্রিকেট খেলবে দুদিন পরে। তুমি এখন ব্রাহ্মণ মুচি মেথর দেখে বেরিয়ো না। বাবা শুনে হালকা খচেছে, তবে ক্যাজ করে নেব। চাপ নেই।”
মানালি বলল, “আর আন্টি?”
বিতস্তা বলল, “মা? মা হল জাতির, থুড়ি, আমার বিবেক। শুধু বলে বিয়ে কর বিয়ে কর।”
মানালি দীর্ঘশ্বাস ফেলল, “ঘর ঘর কি কাহানি ভাই। কী আর করবি।”
ইন্টারকমের ফোনটা বাজছে, বিতস্তা বলল, “নে, তোরই হবে। বিশ্বরূপদা নিশ্চয়ই।”
মানালি ধরল, “হ্যালো।”
“চলে আয়।”
ফোনটা কেটে গেল।
বিতস্তা বলল, “ঠিক গেস করেছিলাম তো?”
মানালি বলল, “আর কী! কপাল!”
বিতস্তা বলল, “মুখটা ধুয়ে যা। বাচ্চাদের মতো খাস এখনও। ঠোঁটের কোনায় চাউ লেগে আছে। তোর একটা বয়ফ্রেন্ড দরকার ছিল। এই সময় ঠোঁট দিয়ে চাউটা টুক করে খেয়ে নিত।”
মানালি বাঁ হাত দিয়ে বিতস্তাকে ঘুসি মারল, “সব সময় এক জিনিস ভেবে যাচ্ছিস। ভাক।”
বিতস্তা চোখ মারল, “জওয়ানি কা জোশ বেটা, তুম নেহি সমঝোগে রমেশ বাবু।”
মানালি রেগে গেল, “কেন বে? আমার কি জওয়ানি নেই? সব শিলা কি জওয়ানি তোরই আছে?”
বিতস্তা হাসতে হাসতে হাত নাড়ল, “ব্যাপারটা তো তাই দাঁড়াচ্ছে, তোকে দেখে তো মনে হয় এসব নিয়ে তোর কোনও ইন্টারেস্টই নেই। হাউ ক্যান ইউ বি সো কাম মা? হাউ?”
মানালি বলল, “থাম। তোর সঙ্গে এত ভাট বকতে থাকলে বিশ্বরূপদা খচে যাবে। আমি যাই।”
বিতস্তা বলল, “যা যা। দেরি না, যা।”
মানালি ওয়াশরুমে মুখ ধুয়ে মুখ-টুখ মুছে বিশ্বরূপদার চেম্বারে ঢুকল।
বিশ্বরূপদা ল্যাপটপে কাজ করছিল। তাকে দেখে বলল, “পেজ ফোর না, ওটা পেজ থ্রি-ই বানা।”
মানালি বুঝল না, “মানে?”
বিশ্বরূপদা বলল, “পেজ থ্রি নিউজ বানা অ্যাবাউট ধ্রুব বাগচী অ্যান্ড ঈপ্সিতা বাগচী। স্টোরিটা এভাবে বানা যে ফেমাস ডাইরেক্টর ধ্রুবর ঘর ভাঙল কেন? শ্রীপর্ণা ঘোষাল, নাকি অন্য কেউ? ঈপ্সিতা বাগচী কেন এত দূরে গিয়ে জনসেবা করে যাচ্ছেন? এর পিছনে কী কারণ থাকতে পারে?”
মানালি হাঁ করে বিশ্বরূপদার দিকে তাকিয়ে বলল, “তোমার কি মাথা খারাপ হয়ে গেছে?”
বিশ্বরূপদা বলল, “না। সব ঠিক আছে।”
মানালি বলল, “তাহলে এরকম একটা ডিসিশন নিলে কেন হঠাৎ করে?”
বিশ্বরূপদা কাঁধ ঝাঁকাল, “আমার ইচ্ছে। একটা লোক ফালতু অ্যাটিটিউড নিয়ে যাবে, আর আমরা তাকে খোলা বাজারে ফ্রি স্পেস দিয়ে দেব, তা আর হবে না। অনেক হয়েছে লুকোচুরি। ধ্রুব বাগচীকে এক্সপোজ করার টাইম এসে গেছে। নিউজ হিসেবেও পাবলিক খাবে। আমাদের এক্সক্লুসিভ নিউজ থাকবে। একটা গোটা পাতা জুড়ে।”
মানালির নার্ভাস লাগছিল। বলল, “সব আমার নামে যাবে?”
বিশ্বরূপদা বলল, “হোয়াই নট? তোর আবার কী প্রবলেম হল?”
মানালি বলল, “তুমি বুঝতে পারছ এই নিউজের ফলে ঠিক কী কী ঘটতে পারে? তা ছাড়া… আমি ঈপ্সিতা ম্যামকে কথা দিয়েছিলাম, ওঁর রিলেশন সম্পর্কিত কোনও কিছু এক্সপোজ করব না।”
বিশ্বরূপদা মানালির দিকে কয়েক সেকেন্ড তাকিয়ে বলল, “ওকে, নিউজটা এমনভাবে বানা তুই ঈপ্সিতাকে মিট করিসনি। তাহলে হবে তো?”
মানালি উশখুশ করে বলল, “তোমার আবার কী হল? ধ্রুব বাগচীর সঙ্গে কি তোমার কোনও ইগো ক্ল্যাশ হল?”
বিশ্বরূপদা পেপারওয়েটটা হাতে নিয়ে নাচাতে নাচাতে বলল, “হতেই পারে। একটা লোক ঘরে বসে বিশ্বসুদ্ধ লোককে তুচ্ছ প্রমাণ করে যাবে, আর তার সিরিয়াস প্রবলেমগুলো দেখাতে গেলে সে ইনফ্লুয়েন্স খাটিয়ে ফেলবে, আমি তো তা হতে দিতে পারি না। লিখে ফেল।”
মানালি মাথা নিচু করে কয়েক সেকেন্ড বসে থেকে বলল, “আমার এথিক্সে আটকাবে। তুমি লেখো বরং। আমাকে তো এই হাউসে চাকরি করতে হবে বিশ্বরূপদা। তুমি বাইরে চলে যাবে বা অন্য চাকরি পেয়ে যাবে তোমার যা এক্সপেরিয়েন্স আছে। আমার কী হবে?”
বিশ্বরূপদা বিরক্ত চোখে তার দিকে তাকিয়ে বলল, “তোকে হাতে ধরে কাজ শেখাচ্ছি আমি। বাকিদের মধ্যে তুই-ই একটু কমজোরি, সেটা তুইও জানিস। সব কিছুর মধ্যে ইনভলভড হয়ে যাস, রিঅ্যাক্ট করে ফেলিস বলে এখনও তোকে যতটা পারি আমিই গার্ড দি। এবারও দেব। আর কিছু?”
মানালি উঠল, “ওকে। লিখছি। দেখে দিয়ো। তবে নিজের ইচ্ছায় আমি কাজটা করব না। তোমার কথাতেই করব। এটা মনে রেখো।”
