তারা দ্বিতীয় হুগলি সেতুর টোল প্লাজায় চলে এসেছিল। টোল ট্যাক্স দিয়ে দীপ বলল, “বলুন মেমসাহেব, একদিকে যাইতেছে দিল্লি রোড, অপরদিকে মুম্বই। আপনি কোন দিকে যাইতে আগ্রহী?”
ঋতি বলল, “মুম্বই কদিনে পৌঁছোব, আর দিল্লি? বেশ একটা পথ যদি না শেষ হয় টাইপ ফিলিং আসছে কিন্তু।”
দীপ বলল, “ডিসিশন প্লিজ।”
ঋতি তার ডান হাতের তর্জনী আর মধ্যমা দীপের দিকে এগিয়ে দিয়ে বলল, “একটা আঙুল ধর।”
দীপ ঋতির তর্জনীটা ছুঁয়ে দিল। সামান্য স্পর্শেই একটা ম্যাজিক হল তার ভেতরে।
ঋতি বলল, “দিল্লি জিতল। দিল্লি চলো।”
দীপ বলল, “ওকে। তাই হোক।”
ঋতি বলল, “একটা কোথাও ফাঁকা দেখে একটু দাঁড় করানো গেলে দাঁড়িয়ো। একটা ইম্পর্ট্যান্ট কথা বলব।”
দীপ বলল, “ওকে।”
সাঁতরাগাছি পেরিয়ে, আরও কয়েকটা লোকালয় ছাড়িয়ে দীপ রাস্তার বাঁদিকে গাড়িটা দাঁড় করাল।
বলল, “ইয়েস। প্রসিড প্লিজ।”
ঋতি তাকে চমকে দিয়ে তার দিকে ঝুঁকে তার ঠোঁটে একটা চুমু খেল।
দীপ প্রথমে বুঝে উঠতে পারেনি। সেও ঋতিকে জড়িয়ে ধরল।
কয়েক মিনিট ধরে পরস্পরকে তারা পাগলের মতো চুমু খেল।
হাইওয়ের পাশের রাস্তা দিয়ে গাড়িগুলো প্রচণ্ড গতিতে চলে যাচ্ছে।
ঋতি একটু সময় নিয়ে নিজেকে সামলে বলল, “আই অ্যাম সরি। অনেক কষ্টেও নিজেকে আটকাতে পারলাম না, বিলিভ মি।”
দীপ কয়েক সেকেন্ড পর বলল, “সরির কিছু নেই। আমারও খুব ভালো লাগছে।”
বেশ কিছুক্ষণ নীরবতা। দুজনে নিজেদের সামলে নিচ্ছিল।
ঋতি বলল, “তো?”
দীপ বলল, “লং ড্রাইভ?”
ঋতি বলল, “অ্যাজ ইউ উইশ। রাস্তাঘাটে তো…”
দীপ ঋতিকে কথাটা শেষ করতে দিল না। আবার ঋতির ঠোঁটে চুমু খেল।
ঋতি আটকাল, “এখানে আর দাঁড়িয়ো না। লোকে দেখলে বাজে ব্যাপার হয়ে যাবে। চলো।”
দীপ বলল, “আমি তোমাকে পুরোটা পেতে চাই ঋতি। এভাবে রাস্তাঘাটে না।”
ঋতি দীপের চোখের দিকে তাকিয়ে বলল, “কোথায়?”
দীপ বলল, “যেখানে সম্ভব।”
ঋতি বলল, “নিয়ে চলো। তুমি যেখানে নিয়ে যাবে, আমি চোখ বন্ধ করে সেখানেই যাব।”
কয়েক মিনিট চুপ করে বসে দীপ গাড়ি ঘোরাল।
ঋতি বলল, “কোথায় যাচ্ছ?”
দীপ বলল, “তোমার কোনও আই কার্ড আছে তোমার সঙ্গে? আধার কার্ড বা ভোটার কার্ড?”
ঋতি বলল, “দুটোই আছে।”
দীপ বলল, “দেন বুক আ রুম। আনম্যারেড কাপলদের জন্য অ্যাপস আছে। ডাউনলোড করো।”
ঋতি বলল, “হোটেল?”
দীপ বলল, “হুঁ। সেফ। আমার অনেক কলিগই যায়।”
ঋতি বলল, “আর কোনও অপশন নেই?”
দীপ বলল, “মন্দিরে গিয়ে বিয়ে করবে পুরোনো বাংলা সিনেমার মতো?”
ঋতি হেসে ফেলল।
ঘণ্টাখানেক বাদে তারা পার্ক স্ট্রিটের একটা হোটেলে চেক ইন করল।
২০
সকালে সাত তাড়াতাড়ি বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় টিফিন নিয়ে আসা হয়নি।
মানালি ভেবেছিল বাইরে গিয়ে লাঞ্চ করবে। বিতস্তাই বারণ করল।
বিতস্তা লাঞ্চে চাউ এনেছিল। পরিমাণে অনেকটাই ছিল। আশেপাশের ডেস্কগুলো ফাঁকা। বেশিরভাগই অফিসের নিচের খাবারের স্টল থেকে খেতে গেছে।
বিতস্তা খেতে খেতে বলল, “তোর মনে হচ্ছে না এই ধ্রুব বাগচীর ব্যাপারটা নিয়ে বিশ্বরূপদা একটু বেশিই তেতেপুড়ে রয়েছে?”
মানালি বলল, “সেটা তো দেখতেই পাচ্ছি। আমার ওপর দিয়ে জাস্ট ঝড় চলছে। আমি আর পারছি না বিশ্বাস কর।”
বিতস্তা কাঁধ ঝাঁকাল, “তো সেটা নিয়ে খোলাখুলি ডিসকাস তো কর। বলে দে বিশ্বরূপদাকে।”
মানালি মাথা নাড়ল, “নাহ। বলব না। আমিও শেষ দেখতে চাই। দেখ আমি একটা জিনিস ক্লিয়ারলি বুঝতে পারছি। বিশ্বরূপদা চাকরি ছাড়বে বা যাই করবে, যাওয়ার আগে ধ্রুব বাগচীর সঙ্গে একটা বড়োসড়ো পাঙ্গা নিয়ে যেতে চাইছে।”
বিতস্তা বলল, “সেটাই তো বলছি। কানাঘুষো শুনছিলাম বাইরের কোন ইউনিভার্সিটিতে নাকি আরও কী সব পড়ার জন্য যেতে পারে। যদি সেটাই হয় তাহলে বোঝাই যাচ্ছে যাওয়ার আগে কোনও স্কোর সেটল করতে চায়।”
মানালি বলল, “যা পারে করুক। বাদ দে তো। এখন লাঞ্চ টাইমে এসব বালের কথা বাদ দে। তোর কথা বল। তোর স্কোর কেমন চলছে?”
মানালি চোখ মারল।
বিতস্তা বলল, “অ্যাপটা সুপার ভাই। কখনও ট্রাই করে দেখিস।”
মানালি অবাক হল, “কোন অ্যাপটা?”
বিতস্তা বলল, “রুম ফর আনম্যারেড কাপল। জাস্ট সার্চ কর, হোটেলে আই কার্ড দিয়ে চেক ইন করে যা।”
মানালি চোখ বড়ো বড়ো করল, “হোটেলে?”
বিতস্তা বলল, “ইয়েস। হোটেলে। আমি আর সৌরভ তো একদিন হোটেলেই মিট করলাম। রেটটা যদিও একটু হায়ার সাইডে থাকে, কিন্তু গোটা ব্যাপারটাই ভেরি স্মুদ।”
মানালি বলল, “সৌরভের ফ্ল্যাটে যেতিস যে, সেসব?”
বিতস্তা মুখ ব্যাঁকাল, “আরে সে আর বলিস না, অতিথি তুম কব যাওগে কেস। ওর এক মামার ছেলে এসেছে। সে ব্যাটা তিন দিন থাকব বলে সাত দিন থেকে গেল। কী করব বল? আমাদেরও তো কিছু একটা জুগাড় করতেই হবে, তাই না?”
মানালি বলল, “দেখিস বাবা, পুলিশের ঝামেলায় পড়িস না।”
বিতস্তা বলল, “দেশের তো কোনও আইনে বলে না হোটেলে আনম্যারেড কাপল থাকতে পারে না। তবে কীসের ঝামেলা?”
মানালি বলল, “তাহলে হোটেলগুলোতে রেইড হয় কেন?”
বিতস্তা বলল, “আই কার্ড ছাড়া থাকলে রেইড তো হতেই পার। সিকিউরিটি ইস্যুসও তো আছে। তবে সমস্যা হল, যে কারণে হেলমেট থাকলেও তোকে রাস্তাঘাটে পুলিশ ধরতে পারে, হোটেলগুলো ঠিক সে কারণেই রেইড হতে পারে। একটু স্ট্যান্ডার্ড হোটেলে অবশ্য এই ঝামেলা হয় না। আর-একটা ব্যাপার কী জানিস, শহরে গুচ্ছ গুচ্ছ হোটেল আছে, পুলিশ কি আর সব রুমে গিয়ে নক করে করে দেখবে যে ভিতরে কী চলছে?”
