ভদ্রলোক বললেন, “বাড়ি থেকে বুঝি?”
দীপ বলল, “হ্যাঁ। ওই আর কি!”
ভদ্রলোক বললেন, “স্বাভাবিক। কত দূরে দূরে চলে যাচ্ছে সব ছেলেমেয়েরা। বাড়ির লোক চিন্তা করবে না?”
গাড়ি রাজারহাটের রাস্তায় ঢুকে গেছিল। ভদ্রলোক বললেন, “তুমি কলেজ মোড়ে নামবে?”
দীপ লুকিং গ্লাসে ঋতির চোখের দিকে তাকাল, “হ্যাঁ।”
ভদ্রলোক তাকে বললেন, “তুমি লাঞ্চ করবে তো?”
দীপ বলল, “হ্যাঁ। লাঞ্চ করেই অফিসে যাব।”
ভদ্রলোক খুশি হয়ে বললেন, “তাহলে তো আমরা লাঞ্চ করেই যেতে পারি।”
ভদ্রমহিলা রেগে গেলেন, “একদম না। ওসব লাঞ্চ-টাঞ্চ একদম না। অনেক খেয়েছ। বাড়ি গিয়ে খাবে।”
ভদ্রলোক মুষড়ে পড়লেন, “উফ। তোমার জ্বালায়… আচ্ছা, ছেলেটা লাঞ্চ করবে না?”
ঋতি হঠাৎ বলল, “আমি আজাদ হিন্দে নেমে যাব। উনি চাইলে নামতে পারেন। ওখানে লাঞ্চটা হয়ে যাবে।”
ভদ্রলোক কিছু বলার আগেই ভদ্রমহিলা বলে উঠলেন, “তাই কর। তোরা দুজন নেমে যা। তোর বাবাকে একদম নামতে বলবি না। জানিস না কী লেভেলে খাওয়াদাওয়া করেছে পুরীতে।”
দীপ একটু অবাক হল। মেয়েটা এতক্ষণ অ্যাটি নিচ্ছিল। হঠাৎ ইনডাইরেক্টলি লাঞ্চের প্রপোজাল দিচ্ছে। ব্যাপারটা মন্দ না।
বাকি রাস্তাটা ভদ্রলোক বিভিন্ন খাবারের গল্প করে গেলেন। দীপ কিছু বলছিল না। গাড়িটা তাদের নামিয়ে দেবার পরে ভদ্রলোক বললেন, “অবশ্যই এসো ভাই আমাদের বাড়িতে। আমার মেয়ের কাছ থেকে অ্যাড্রেসটা নিয়ে নিয়ো। খুব ভালো লাগল তোমার সঙ্গে দেখা হয়ে।”
দীপ প্রত্যুত্তরে বলল, “নিশ্চয়ই। আমারও খুব ভালো লাগল।”
গাড়িটা চলে গেলে ঋতি তার দিকে তাকিয়ে বলল, “কী ব্যাপার বলুন তো?”
দীপ বলল, “কী?”
ঋতি বলল, “বাবা কাউকে এয়ারপোর্ট থেকে লিফট দেয় না। হঠাৎ কী এমন করলেন যে একবারে লিফট দিয়ে দিল?”
দীপ হাসল, “এমন কিছুই তো করলাম না। জানি না, ওঁর কেন এত ভালো লেগে গেল!”
ঋতি তার দিকে তাকিয়ে রহস্যময়ীর মতো হাসল, “ইম্প্রেসিভ। আপনার মধ্যে একটা ইনোসেন্ট ব্যাপার আছে। আপনি সেটা বুঝতে পারেন?”
দীপ এবার অবাক হল। মেয়েটা এতক্ষণ এত ঘ্যাম নিচ্ছিল। এখন হঠাৎ করে মাঝরাস্তায় এত ভালো ভালো কথা বলছে কেন? সে বলল, “লাঞ্চ করবেন না?”
ঋতি বলল, “নাহ। আমি যাই। আপনার বোধহয় আমাকে ভালো লাগছে না বলুন?”
দীপ বুঝতে পারল না কী বলবে। সে বলল, “না না, কী যে বলেন, আপনার মতো, কী যেন বলে, একজন সুন্দরীকে ভালো না লাগাটাই তো অদ্ভুত ব্যাপার। লাঞ্চ কিন্তু করতেই হবে, আমার খিদে পাচ্ছে।”
ঋতি হাসল “থ্যাংকস ফর ইওর কমপ্লিমেন্ট। চলুন।”
লাঞ্চ ব্রেক অফিসগুলোতে শুরু হয়নি বলে রেস্তোরাঁ ফাঁকাই ছিল। তারা দুজন একটা টেবিলে বসল।
দীপ বলল, “আপনি কবে যাচ্ছেন?”
ঋতি বলল, “এই তো। আর এক মাস।”
দীপ বলল, “পার্মানেন্ট?”
ঋতি বলল, “প্রথমবারে ছ-মাসের জন্য। তারপর ফিরে আবার যাওয়া। সেটা ক-বছর জানি না।”
দীপ বলল, “গ্রেট। বয়ফ্রেন্ড আছে?”
ঋতি মাথা নাড়ল, “না। আপনার?”
দীপ বলল, “না, আমার কোনও বয়ফ্রেন্ড নেই। আমি স্ট্রেট।”
ঋতি হাসিতে ফেটে পড়ল, “ওরে বাবা, আপনাকে দেখে যতটা ইনোসেন্ট মনে হয় আপনি তো তা নন। যাক গে, গার্লফ্রেন্ড আছে?”
দীপের মোবাইলটা বাজতে শুরু করেছিল। চিত্রলেখা আবার। দীপ সেটার রিংটোনটাকে আবার মিউট করে দিয়ে বলল, “নাহ।”
ঋতি বলল, “বাহ। এনি এক্স?”
দীপ বলল, “নাহ, আপনার?”
ঋতি বলল, “সেরকম কেউ নেই।”
দীপ ঋতির দিকে তাকিয়ে বলল, “সেটা কি বিশ্বাসযোগ্য!”
ঋতিও তার চোখের দিকে তাকাল, “কেন নয়?”
দীপ বলল, “আপনি এত সুন্দরী!” মনে মনে বলল, আর সেক্সি তো বটেই।
ঋতি বলল, “বারবার না বললেও চলবে। তবে কী জানেন, সবারই ধারণা আমার বয়ফ্রেন্ড আছে। অফিসেরও অনেকে তাই মনে করে। আমি কারও ভুল ভাঙাই না আজকাল। কেরিয়রটাই আসল যখন, তখন অতটা না ভাবলেও চলবে।”
দীপ বলল, “তা ঠিক। আমি কিন্তু পাতি ভাত আর চিকেনের কোনও প্রিপারেশন খাব। কেন জানি না খুব ভাত খেতে ইচ্ছে করছে।”
ঋতি বলল, “ওকে। একটা করেই নিন। শেয়ার করে নেওয়া যাবে। আমি খুব একটা ফুডি না।”
দীপ সঙ্গে সঙ্গে ঘাড় নাড়ল, “আমিও না।”
ঋতি বলল, “গুড, শেয়ারিং ইজ কেয়ারিং। বাই দ্য ওয়ে, আমাকে খুব গায়ে পড়া মেয়ে মনে হচ্ছে, না?”
দীপ বলল, “কেন বলুন তো?”
ঋতি বলল, “এই যে নিজে থেকেই লাঞ্চ করার ইচ্ছা প্রকাশ করলাম। আগে থেকেই বলে নি, আমি আমার বাবাকে চিনি। বাড়ি ফিরে আমাকে শুনতে হত ফ্লাইটে একটা দারুণ ছেলের সঙ্গে আলাপ হল, মিট কর, সেই ফেজটাকে কাটাবার জন্য আগে থেকেই দেখা করে নিলাম।”
দীপ অবাক হয়ে বললাম, “বাবা! আপনি তো আলোর থেকেও দ্রুতবেগে ভাবতে পারেন দেখছি।”
ঋতি বলল, “তা বটে। আচ্ছা, আর ইউ ভার্জিন?”
দীপ হাঁ করে ঋতির দিকে তাকাল। বলল, “কেন বলুন তো?”
ঋতি বলল, “আমার কেন জানি না মনে হচ্ছে আপনি ভার্জিন নন। আপনি অত্যন্ত হ্যান্ডু। এত হ্যান্ডু ছেলে ভার্জিন হয়ে ঘুরে বেড়ালে আমার পৃথিবীর উপর বিশ্বাস উঠে যাবে।”
দীপ হেসে ফেলল, “আনফরচুনেটলি।”
ঋতি হাসতে লাগল। আশেপাশে যে কটা কাপল ছিল, দীপ পরিষ্কার বুঝতে পারছিল ছেলেগুলো ঈর্ষান্বিত হয়ে ঋতিকেই দেখছে। দীপ বলল, “আপনি ভার্জিন তো?”
ঋতি হাসতে হাসতেই বলল, “ইয়েস, আনফরচুনেটলি।”
