দীপ অবাক গলায় বলল, “কী কথা? খুব জরুরি কিছু?”
চিত্রলেখা বলল, “আমার মনের মধ্যে বারবার এই কথাগুলো ঘুরপাক খাচ্ছে, কিন্তু বলব বলব করেও বলা হয়ে উঠছে না।”
দীপ বলল, “বলো।”
চিত্রলেখা একটু থেমে বলল, “আমার যে এক্স ছিল, একটা সময় খুব খেপে উঠেছিল।”
দীপ বলল, “কী নিয়ে?”
চিত্রলেখা বলল, “ফিজিক্যাল রিলেশন নিয়ে।”
দীপ বাধা দিল, “এই ব্যাপারটা নিয়ে বোধহয় ডিসকাস না করলেই ভালো হয়। ইনফ্যাক্ট এসব আমাকে না বললেও চলবে।”
“না, প্লিজ শোনো। বলতে দাও। আসলে আমাদের মধ্যে একটা সময় এমন হয়ে গেছিল, কথা হলেই শুধু আমাকে কৈফিয়ত দিয়ে যেতে হত। এখানে গেছি কেন, এর সঙ্গে কথা বলেছি কেন, কেন বাজারে একা একা গেছি… মানে আমি পাগল হয়ে যেতাম।”
দীপ বলল, “হ্যাঁ, এই কথাটা তো তুমি আমাকে বলেছ।”
চিত্রলেখা বলল, “বলেছি। আরও কিছু বলিনি।”
দীপ বলল, “সেগুলো এখনই ফোনে বলতে হবে?”
চিত্রলেখা বলল, “হ্যাঁ, ফোনেই বলতে হবে। শুনে যাও শুধু। ওকে এই কৈফিয়ত দিয়ে যাচ্ছি, রোজ রোজ কিছু না কিছু নিয়ে প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরু হয়ে যায়, ঠিক এমন পরিস্থিতিতে একদিন আমাকে বলে বসল ওর কোন বন্ধুর ফ্ল্যাট ফাঁকা, আমাকে নিয়ে যেতে চায়।”
দীপ উত্তর দিল না। চিত্রলেখা বলল, “হ্যালো, শুনতে পাচ্ছ?”
দীপ বলল, “হ্যাঁ, বলো।”
চিত্রলেখা বলল, “ওর ধারণা হয়েছিল ফিজিক্যাল রিলেশন একবার হয়ে গেলে আমি ওকে আর ছাড়তে পারব না। আমি কিছুতেই রাজি হইনি ওর প্রস্তাবে, যার ফলে ও আমার উপর ভীষণ রেগে গেল। যত রকম অসভ্যতা সম্ভব হয়, সব করতে লাগল।”
দীপ বলল, “এটুকুই বলতে?”
চিত্রলেখা বলল, “হ্যাঁ। তোমার মনে হতেই পারে আদৌ আমি ভার্জিন কি না, সেটা আমি তোমায় ক্লিয়ার করে দিলাম।”
দীপ বলল, “দ্যাখো, আমি তোমাকে বারবার বলেছি তোমার পাস্ট নিয়ে আমার কোনও ইন্টারেস্ট নেই, তবু তুমি অনেক কিছু আমায় বলে যাচ্ছ। আমার কেন জানি না মনে হচ্ছে তুমি কিছু একটা ভয় পাচ্ছ, ঠিক কী ব্যাপারে সেটা পাচ্ছ আমাকে কি একটু খোলসা করে বলা যায়?”
চিত্রলেখা একটু ইতস্তত করে বলল, “ছেলেটা একটু একরোখা। ভাংচি দেওয়া স্বভাব আছে। কিছুদিন আগে আমার একটা সম্বন্ধ এসেছিল, কোত্থেকে জেনেশুনে ওদের বাড়িতে ফোন করে আমার নামে যা নয় তাই বলেছে। স্বাভাবিকভাবেই বিয়েটা ভেঙে যায়। আমার ভয় হচ্ছে তোমায় যদি আবার ফোন করে…”
দীপ বলল, “বেশ তো, তুমি আমাকে ছেলেটার ফোন নাম্বার দাও, আমি এখন থেকেই ছেলেটার নাম্বার ব্লক করে রেখে দিচ্ছি।”
চিত্রলেখা বলল, “ব্লক করে দেবে?”
দীপ বলল, “হ্যাঁ, ও আমাকে ফোনে পাবেই না। ফোন একবার জাস্ট রিং হয়ে অটোমেটিক ডিসকানেক্ট হয়ে বিজি টোন শুনিয়ে দেবে। দাও নাম্বারটা।”
চিত্রলেখা বলল, “সেটা দিচ্ছি, কিন্তু যদি অন্য নাম্বার থেকে ফোন করে?”
দীপ বলল, “ফোন কেটে দেব। এত চিন্তা করার তো কিছু নেই।”
চিত্রলেখা বলল, “আমি ওর দুটো নাম্বারই হোয়াটসঅ্যাপে পাঠাচ্ছি। তাহলে তাই করো।”
দীপ ফোনটা রাখল। একা একা বসে মদ খেতে লাগল।
চিত্রলেখা নাম্বার দুটো হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়েছে। দীপ কয়েক সেকেন্ড সেদিকে তাকিয়ে কোনও কিছু না ভেবেই একটা নাম্বারে ফোন করে দিল। কয়েকটা রিং হতেই ওপাশ থেকে একজন বলে উঠল, “হ্যালো।”
দীপ বলল, “কে বলছেন?”
“আপনিই তো ফোন করলেন? জানেন না কে বলছি?”
দীপ বলল, “আপনি চিত্রলেখার এক্স?”
ওপাশে কয়েক সেকেন্ড স্তব্ধতা। তারপর খানিকটা সতর্ক গলা, “আপনি কে?”
দীপ বলল, “আমি ওর বন্ধু।”
“বন্ধু? ওর ছেলে বন্ধু কোনও কালেই ছিল না। ইদানীং উন্নতি হয়েছে দেখছি।”
দীপ বলল, “তা হয়েছে। কয়েক দিন পরে তো চিত্রলেখার বিয়ে। জানেন তো?”
“বিয়ে? ওহ, ওর আবার বিয়ে হয়েছে? তা যা হবার হোক, আমার যা করার আমি তো করে নিয়েছি।”
“কী করেছেন?” দীপের মাথায় একটু একটু করে আগুন জ্বলছিল।
“যা করে। একটা প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে মেয়ে একসঙ্গে একটা ফ্ল্যাটে থাকলে যা করে। আপনি তো ওর বন্ধু, আপনাকে বলেনি কিছু ওকে কতটা আনন্দ দিয়েছি?”
দীপ আর নিতে পারল না। ফোনটা কেটে দিল।
১২
টালিগঞ্জ মেট্রোতে নেমে মানালির খেয়াল হল লাঞ্চ করা হয়নি। রাস্তা পেরিয়ে রেস্তোরাঁয় বসে রুটি পনির খাচ্ছিল। ঋপণ মাটন দিয়ে পরোটা খেতে খেতে বলল, “কী করে পারিস তুই জানিস।”
মানালি বলল, “কী পারি?”
ঋপণ বলল, “এই যে মাটন চিকেন ছেড়ে পনির খাচ্ছিস। এককালে মুনি ঋষিরা যে লেভেলের কন্ট্রোল করতেন, তোর মধ্যে তার ছায়া দেখতে পাচ্ছি।”
মানালি খেতে খেতে বলল, “দয়া করে মনে করিয়ে দিস না। বহু কষ্টে কন্ট্রোল করছি।”
ঋপণ বলল, “শ্রীপর্ণা ঘোষালের ইন্টারভিউ আগে করেছিস?”
মানালি মাথা নাড়ল, “না। খুব মুডি ভদ্রমহিলা শুনেছি। হুটহাট বসের কাছে কমপ্লেইন করে দেন জার্নালিস্টদের নামে।”
ঋপণ বলল, “যৌবনোত্তীর্ণা নায়িকাদের সবার একই অবস্থা। এককালে লোকজন পাগলের মতো পিছনে দৌড়োত, এখন পাত্তাও দেয় না। কিছুদিন আগে একটা চাইনিজ রেস্তোরাঁয় দেখা। কেউ চেনে না। নিজেই অকারণ চ্যাঁচামেচি করে লোক ডাকাডাকি শুরু করে দিলেন। তাতেও কেউ দ্যাখে না। মুড অফ করে বেরিয়ে গেলেন। বুঝতেই পারছিস তুই ওঁর কাছে ধ্রুব বাগচীকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে যাচ্ছিস, ব্যাপারটা বুঝতে পারলে তোর খবর আছে।”
