বিতস্তা বলল, “মেয়েরা তো একটু বেশি বয়সের পুরুষই পছন্দ করে। সেদিন তুই-ই তো বলছিলি!”
মানালি বলল, “তা বলে বিশ্বরূপদা?”
বিতস্তা বলল, “তাহলে কে? চাওয়ালা ন্যাপলা?”
মানালি বলল, “আমাকে খেপিয়ে লাভ নেই। এমনিতেই প্রচুর খেপে আছি আজ। স্যাচুরেশন লেভেলে চলে গেছি। একদিকে ধ্রুব বাগচী, একদিকে সম্বন্ধ… উফ।”
বিতস্তা বলল, “ছেলেটা কেমন ছিল?”
মানালি বলল, “লাভ নেই। ছেলেটার গার্লফ্রেন্ড আছে।”
বিতস্তা বলল, “তাতে কী? তোর যদি ছেলেটাকে পছন্দ থাকে তাহলে তোর মায়াজাল ইন্দ্রজাল আরও কী সব আছে সেসব ছড়িয়ে ছেলেটাকে জিতে নিবি। সিম্পল।”
মানালি চোখ ছোটো ছোটো করে মাথা নাড়তে নাড়তে বলল, “তোর অবস্থা খুব খারাপ। বোঝাই যাচ্ছে আজকাল কেউ দিচ্ছে না তোকে।”
বিতস্তা চোখ মারল, “না না, সৌরভ ভালোই দিচ্ছে।”
মানালি বলল, “প্রেগন্যান্ট হয়ে যাস না দেখিস। হাজার ঝামেলা কিন্তু।”
বিতস্তা বলল, “হয়ে গেলে হয়ে যাব। সৌরভ ডিনাই করলে একা একা বাচ্চা মানুষ করব। কী চাপ?”
মানালি অবাক হল, “তুই সিরিয়াস?”
বিতস্তা বলল, “হ্যাঁ। হান্ড্রেড পারসেন্ট!”
মানালি বলল, “এরকম কিছু ঘটিয়ে ফেলেছিস নাকি অলরেডি?”
বিতস্তা হেসে ফেলল, “ধ্যাত। জাস্ট কথার কথা বলছি।”
মানালি বলল, “দেখিস বাপু। যা করবি ভেবেচিন্তে করবি।”
বিতস্তা বলল, “হ্যাঁ হ্যাঁ। অত চিন্তা করিস না। যুদ্ধে নামিবার পূর্বে সকলরকম অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হইয়াই যুদ্ধে নামা হয়। তুই একটা প্রেম কর না জমিয়ে। এই অ্যাডভেঞ্চারগুলো খারাপ লাগবে না। লাস্ট মান্থেই তো সৌরভের ফ্ল্যাটের দরজায় কলিং বেল টিপেছি, আর ঠিক সেই সময় ওর পাশের ফ্ল্যাটের ভদ্রলোক দরজা খুলে আমার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে আছেন। আমি ওঁকে দেখেই বললাম চন্দনের গন্ধওয়ালা ধূপকাঠি নেবেন দাদা? একটা কিনলে একটা ফ্রি। ভদ্রলোক সঙ্গে সঙ্গে দরজা বন্ধ করে দিলেন।”
মানালি হেসে গড়িয়ে পড়তে পড়তে বলল, “সিরিয়াসলি? মানে এটা তুই করতে পারলি? তোর মাথায় এল? যদি সত্যিই ধূপকাঠি চাইত তাহলে কী করতি?”
বিতস্তা বলল, “ধূপকাঠি ছিল তো। কিছুক্ষণ আগেই কিনেছিলাম বাস থেকে নেমে। সেইজন্যই তো মাথায় এসে গেছিল। বেচে দিতাম।”
মানালি মাথা নাড়তে নাড়তে বলল, “তুই শিওর কেস খাবি।”
বিতস্তা বলল, “কেস খাবার কিছু নেই। দুজন অ্যাডাল্ট পাবলিক কী করবে না করবে, সেটা পাশের ফ্ল্যাটের লোকজন ঠিক করে দেবে নাকি?”
মানালি বলল, “সৌরভ কী বলে?”
বিতস্তা বলে, “ও তো আরও কুল। বলে, অত কিছু করার কী দরকার ছিল? পাত্তাই দিতে না। কী এমন হত?”
মানালি বলল, “বিয়ের কথা ভাবছিস না তোরা?”
বিতস্তা বলল, “নাহ। এখন কী?”
মানালি কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল, এমন সময় বিশ্বরূপদা চেম্বার থেকে বেরিয়ে এসে বলল, “মানালি, শুনে যা তো একবার।”
বিতস্তা বলল, “নাও। হয়ে গেল।”
মানালি বলল, “হ্যাঁ রে, কাল বলছিলি বিশ্বরূপদার নামে কী সব রিউমার ছড়িয়েছে?”
বিতস্তা বলল, “হুঁ, রেজিগনেশন দেবে শুনছি শিগগিরি। অলমোস্ট দেড়গুণ বেশি সিটিসি পাবে সিথ্রি মিডিয়ায়।”
মানালি বলল, “যাহ্! তাহলে আমাদের কী হবে?”
বিতস্তা বলল, “আসবে আর-একটা ঝাঁটু কেউ।”
মানালি বলল, “ঠিক আছে। শুনে আসি কী বলছে। আজ বেশি কিছু বললে জাস্ট খুন করে ফেলব। আমি বাড়ি যাব তাড়াতাড়ি।”
বিতস্তা বলল, “আবার সম্বন্ধ দেখতে আসবে নাকি তোর?”
মানালি মাথা চাপড়ে বলল, “উফ! ঠিকই বলেছিস। আজ তাড়াতাড়ি বাড়ি গিয়েও শান্তি নেই। মার ইমোশনাল অত্যাচারের পাল্লায় পড়তে হবে।”
বিতস্তা হাসল, “যা যা, দেখ বিশ্বরূপদা কী বলছে।”
বিশ্বরূপদা ল্যাপটপ নিয়ে বসেছিল। মানালিকে দেখে বলল, “অফিসে এত গ্যাজালে চাকরি থাকবে না কিন্তু।”
মানালি বলল, “কী করব? দুজনে একটু হালকা ছিলাম।”
বিশ্বরূপদা বলল, “ধ্রুব বাগচীর ইন্টারভিউটা লেখা হয়ে গেছে?”
মানালি ঠোঁট কামড়াল, “না।”
বিশ্বরূপদা বলল, “তাহলে হালকা ছিলি কী করে?”
মানালি বলল, “আমি কাল লিখব। আজ একটু তাড়াতাড়ি বাড়ি যাব।”
বিশ্বরূপদা ল্যাপটপের দিকে তাকিয়ে ছিল এতক্ষণ। এবার তার চোখের দিকে তাকিয়ে বলল, “চাকরিটাকে টেকেন ফর গ্র্যান্টেড ভাবাটা বন্ধ কর।”
মানালি বুঝল বিশ্বরূপদা রেগে গেছে। সে কিছু বলল না। মাথা নিচু করে নিজের জুতো দেখতে লাগল।
বিশ্বরূপদা বলল, “অডিও ক্লিপটা শুনলাম। তোর প্রবলেমটা কী, সেটা তুই ধরতে পারিস?”
মানালি বলল, “কী?”
বিশ্বরূপদা বলল, “তুই যে প্রশ্নগুলো করবি বলে প্রিপেয়ার হয়ে গেছিস, তার বাইরে আর বেরোতে পারিস না। তুই ভাবছিস কতগুলো প্রশ্ন তৈরি করে গেছিস, সেগুলো বলে ফেললেই হয়ে যাবে। তোকে আমি আগেও বলেছি, যে ওপেনিংগুলো পাবি, তাতে ঢুকে যা। ধ্রুব বাগচী তোকে বেশ কয়েকটা ভালো সিটার দিয়েছিল, তুই মিস করে গেলি।”
মানালি বলল, “ওকে। পরের বার ট্রাই করব। কিন্তু এই লোকটা ভীষণ অসভ্য। শুরুতেই ইন্টারকোর্স ইত্যাদি বলে আমার ফোকাসটাই নাড়িয়ে দিয়েছিল।”
বিশ্বরূপদা বলল, “সেটাই তো করবে। ধ্রুব বাগচী তো শুধু মুখে বলে, কেউ কেউ আছে যারা চোখে বলে। তাদের ক্ষেত্রে তুই কী করবি?”
মানালি বলল, “চড় মেরে দেব।”
বিশ্বরূপদা হেসে বলল, “না। চোখে বলার মতো জায়গায় যেন না যায়, সেই পারসোনালিটিটাও তোকে তৈরি করতে হবে। ক্যাজুয়ালি একটা ট্রেনি মেয়ের মতো গেলে এসব লোক এভাবেই তোকে চেটে রেখে দেবে। ধ্রুব বাগচীর একটা ভালো ব্যাপার আছে যদিও।”
