না, না, অসম্ভব, আমি পারতাম না, হিউবার্ট বললো বটে তবে জন যখন রৌপ্য মুদ্রাগুলো ওকে দিলেন খুশি মনেই সে গ্রহণ করলো সেগুলো।
এরপর যখন আবার জন ললির খোঁজ করলেন কোথাও দেখতে পেলেন না তাকে। ভীড়ের ভেতর অদৃশ্য হয়েছে সে।
.
টুর্নামেন্টের সমাপ্তি ঘোষণা করলেন জন। তারপর নেমে এলেম আসন থেকে। সহচর বন্ধুদের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, এবার?
এক্ষুনি ইয়র্ক-এ সৈন্য সমাবেশ করতে হবে, বললেন ওয়ান্ডেমার। আমি রওনা হয়ে যাচ্ছি। কিছু টাকা পয়সার ব্যবস্থা করে আপনি আসুন।
বিশ্বস্ত এক রক্ষীকে ডেকে পাঠালেন জন।
এক্ষুণি অ্যাশবিতে যাও, বললেন তিনি। ইহুদী আইজাককে খুঁজে বের করে বলবে, আজ সূর্যাস্তের আগেই যেন দশ হাজার স্বর্ণমুদ্রা পৌঁছে দেয় আমার কাছে।
১০. অ্যাশবি ছাড়লেন ওয়ান্ডেমার
সন্ধ্যার আগেই অ্যাশবি ছাড়লেন ওয়ান্ডেমার। ইয়র্কে যাওয়ার আগে আশপাশের এলাকাগুলো থেকে কিছু সৈন্য সংগ্রহের চেষ্টা চালালেন তিনি। কাজটা খুব সহজ হলো না। রাজপুত্র জনকে পছন্দ করে এমন লোকের সংখ্যা নিতান্তই কম। তার পক্ষ হয়ে রাজা রিচার্ডের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর মতো মানুষের সংখ্যা আরো কম।
ভীতি এবং প্রলোভন দুটোই দেখাতে হলো ওয়ার্ল্ডেমারকে। যারা রাজপুত্রের পক্ষে যোগ দেবে তাদেরকে জমি জমা দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেন। প্রতিশ্রুতিতে যারা ভুললো না, তাদের ভয় দেখালেন, রাজপুত্রকে সাহায্য না করলে জমিজমা যা আছে সব নিয়ে নেয়া হবে। যেখানে বুঝলেন জমির লোভ দেখিয়ে লাভ হবে না সেখানে দেখালেন নগদ অর্থের লোভ; রিচার্ড পরাজিত হলে তার পক্ষের লোকদের ধন সম্পদ যা লুঠ করা হবে তার ভাগ দেয়া হবে তাদের। এইভাবে ছোট একটা বাহিনী তিনি গঠন করতে পারলেন, যেটা অবিলম্বে ইয়র্কের পথে রওনা হয়ে যাবে। ওয়াল্ডেমার সিদ্ধান্ত নিলেন বাকি সৈন্য ইয়র্ক ও তার আশপাশের এলাকাগুলো থেকে সংগ্রহের চেষ্টা চালাবেন। আর রিচার্ড দেশে ফিরে আসার আগেই রাজপুত্র জনকে রাজার আসনে অভিষিক্ত করা হবে।
এরপর ওয়াল্ডেমার অ্যাশবির দুর্গে ফিরে এলেন।
তখন গভীর রাত। ভীষণ ক্লান্ত তিনি। দুর্গের বড় হল কামরায় ঢুকতেই দেখা হয়ে গেল দ্য ব্রেসির সঙ্গে। অবাক হয়ে ওয়ান্ডেমার দেখলেন, আইন বিরোধী ডাকাতদের মতো পোশাক পরে আছে দ্য ব্রেসি। হাতে একটা ধনুক, কোমরে তৃণীর ভর্তি তীর। নিজের চোখকেও যেন বিশ্বাস করতে পারছেন না ওয়ার্ল্ডেমার।
নাটুকে পালা করার সময় এটা নয়, দ্য ব্রেসি, কঠোরকণ্ঠে বললেন তিনি। আমাদের সামনে এখন কঠিন সময়। আমার, তোমার, রাজপুত্র জনের–সবার! এর ভেতর তুমি কি খেলা শুরু করেছো? কেন অমন পোশাক পরেছো?
বউ জোগাড় করার জন্যে, শান্ত, শীতল কণ্ঠে জবাব দিলো দ্য ব্রেসি।
কী।
বউ জোগাড় করার জন্যে, আবার বললো দ্য ব্রেসি। সেড্রিক আর তার দলের পেছন পেছন যাবো আমি। ওরা বনে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে হামলা চালিয়ে সুন্দরী রোয়েনাকে উঠিয়ে নিয়ে আসবো।
তুমি পাগল হয়ে গেছ নাকি, দ্য ব্রেসি? চিৎকার করে উঠলেন ওয়াল্ডেমার। সেড্রিক লোকটা স্যাক্সন হলেও অসম্ভব ধনী। এবং ক্ষমতাশালীও। খোদ রাজপুত্রই এ সময়ে ওকে ঘাটানোর সাহস পাবেন না, আর তুমি! রাজপুত্র শুনলে ভয়ানক রেগে যাবেন তোমার ওপর।
না, না, আমার পরিকল্পনাটা আগে শুনুন, তাহলে বুঝতে পারবেন, রাজপুত্র একটুও রাগবেন না। আমরা যখন হামলা চালাবো তখন থাকবো ডাকাতদের পোশাকে। সেড্রিক ভাববে ডাকাতরাই হামলা চালিয়েছে। পরে আমি আমার পোশাক পরে গিয়ে ডাকাতদের আস্তানা থেকে উদ্ধার করবো রোয়েনাকে। তারপর ওকে নিয়ে তুলবো ফ্ৰঁত দ্য বোয়ফের দুর্গে। যদি দেখি পরিস্থিতি ঘোরালো হয়ে উঠছে তাহলে ফ্রান্সেও চলে যেতে পারি। যতদিন না ও মরিস দ্য ব্রেসির বউ হয় ততদিন কেউ আর ওর চেহারা দেখবে না!
চমৎকার পরিকল্পনা! ব্যঙ্গ করে বললেন ওয়ার্ল্ডেমার। কার মাথা থেকে বেরিয়েছে? সেড্রিক এত বোকা মনে করেছো? প্রথমে ডাকাত হিশেবে, পরে উদ্ধারকর্তা হিশেবে যাবে, আর ও চিনতে পারবে না।
ডাকাতির সময় আমি সঙ্গে থাকবো, শুধু। একান্ত প্রয়োজন না হলে সামনে যাবো না।
লোকজন পাচ্ছো কোথায়? তোমার হাতে তো দুটো লোকও নেই।
আঁ, আপনি যদি জানতেই চান তাহলে বলবো…।
হ্যাঁ, বলো, আমি জানতে চাইছি, ফেটে পড়লেন ওয়ান্ডেমার।
টেম্পলার বোয়া-গিলবার্ট দেবেন লোক। ওঁর সাঙ্গপাঙ্গরাই ডাকাতি করবে। আমি আড়ালে থেকে খেয়াল রাখবো শুধু।
ওহ! তারপর বোয়া-গিলবার্টের খপ্পর থেকে ওকে উদ্ধার করবে কিভাবে?
সেটা কোনো সমস্যা হবে না, বোয়া-গিলবার্ট টেম্পলার, সুতরাং বিয়ে করতে পারবে না। যাহোক, আমি এখন যাই, আমার ঘোড় আর লোকজন। অপেক্ষা করছে। বিদায়, স্যার ওয়াল্ডেমার, সত্যিকারের একজন নাইটের মতো আমি আমার মনের মানুষকে জিতে নেবো।
তুমি একটা গর্দভ, দ্য ব্রেসি। রাজপুত্রের যখন সাহায্য দরকার তখন তুমি যাচ্ছে গাধামি করতে। ঠিক আছে যাচ্ছে যখন যাও, কিন্তু যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ইয়র্কে চলে এসো। সঙ্গে যত জন পারো লোক নিয়ে আসবে।
কিছু না বলে দ্রুত পায়ে বেরিয়ে গেল দ্য ব্রেসি। বিরক্ত মুখে ওর চলে যাওয়া দেখলেন ওয়ার্ল্ডেমার। তারপর একটা দীর্ঘ নিশ্বাস ফেলে বিড়বিড় করলেন, গর্দভ! বোকা গাধা!
