হাদীস নং ২৩৫৩
মূসা ইবনে মাসউদ রহ……..আসমা বিনতে আবু বকর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সূর্যগ্রহণের সময় গোলাম আযাদ করার নির্দেশ দিয়েছেন। আলী রহ. দরাওয়ারদী রহ. সূত্রে হিশাম রহ. হাদীস বর্ণনায় মূসা ইবনে মাসউদ রহ.-এর অনুসরণ করেছেন।
হাদীস নং ২৩৫৪
মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর রহ……….আসমা বিনতে আবু বকর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সূর্যগ্রহণের সময় আমাদেরকে গোলাম আযাদ করার নির্দেশ দেওয়া হত।
হাদীস নং ২৩৫৫
আলী ইবনে আবদুল্লাহ রহ……….সালিমের পিতা (ইবনে উমর রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যে ব্যক্তি দু’জনের মালিকানাধীন গোলাম আযাদ করে, সে সচ্ছল হলে প্রথমে গোলামের মূল্য নির্ধারণ করা হবে, তারপর আযাদ করবে।
হাদীস নং ২৩৫৬
আবদুল্লাহ ইবনে ইউসুফ রহ……….আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : কেউ যদি কোন গোলাম থেকে নিজের অংশ আযাদ করে আর গোলামের মূল্য পরিমাণ অর্থ তার কাছে থাকে, তবে তার উপর দায়িত্ব হবে গোলামের ন্যয্যমূল্য নির্ণয় করা। তারপর সে শরীকদের কে তাদের প্রাপ্য অংশ পরিশোধ করবে এবং গোলামটি তার পক্ষ থেকে আযাদ হয়ে যাবে, কিন্তু (সে পরিমাণ অর্থ) না থাকলে তার পক্ষ থেকে ততটুকুই আযাদ হবে। যতটুকু সে আযাদ করেছে।
হাদীস নং ২৩৫৭
উবায়দ ইবনে ইসমাঈল রহ………ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : কেউ কোন (শরীকী) গোলাম থেকে নিজের অংশ আযাদ করলে ঐ গোলামের সম্পূর্ণটা আযাদ কার তার জন্য অপরিহার্য হয়ে পড়বে, যদি তার কাছে সেই গোলামের মূল্য পরিমাণ অর্থ থাকে। আর যদি তার কাছে কোন অর্থ না থাকে তাহলে তার দায়িত্ব হবে আযাদ কৃত (গোলামের) ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ করা এতে আযাদকারীর পক্ষ থেকে ততটুকুই আযাদ হবে, যতটুকু সে আযাদ করেছে। মুসাদ্দাদ রহ. বিশর ইবনে মুফাদ্দাল রহ. সূত্রে উবায়দুল্লাহ রহ. উক্ত হাদীসটি সংক্ষিপ্ত বর্ণিত আছে।
হাদীস নং ২৩৫৮
আবু নুমান রহ………ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : কেউ কোন (শরীকী) গোলাম থেকে নিজের অংশ বা হিসসা আযাদ করে দিলে এবং তার কাছে সেই গোলামের মূল্য পরিমাণ অর্থ থাকে তাহলে ঐ গোলামের সম্পূর্ণটা আযাদ হবে যাবে। নাফি রহ. বলেন, আর যদি তার কাছে কোন অর্থ না থাকে তাহলে তার দায়িত্ব হবে আযাদ কৃত (গোলামের) ন্যায্যমূল্য নির্ধারণ করা এতে আযাদকারীর পক্ষ থেকে ততটুকুই আযাদ হবে, রাবী আইউব রহ. বলেন, আমি জানি না, এটা কি নাফি রহ. নিজ থেকে বলেছেন না এটাও হাদীসের অন্তর্ভূক্ত।
হাদীস নং ২৩৫৯
আমহদ ইবনে মিকদাম রহ………ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি শরীকী গোলাম বা বাঁদী সম্পর্কে ফাতওয়া দিতেন যে, শরীকী গোলাম শরীকদের কেউ নিজের অংশ আযাদ করে দিলে তিনি বলতেন, সম্পূর্ণ গোলামটাই আযাদ করা তার উপর ওয়াজিব হয়ে গেছে। যদি আযাদকারীর কাছে গোলামের মূল্য পরিমাণ অর্থ থাকে, তাহলে সে অর্থ থেকে গোলামের ন্যায্যমূল্য নির্ণয় করা হবে এবং শরীকদের কে তাদের প্রাপ্য হিসসা পরিশোধ করা হবে, আর আযাদকৃত গোলাম পূর্ণ আযাদ হয়ে যাবে। বক্তব্যটি ইবনে উমর রা. নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বর্ণনাক করেন, এবং লায়ছ, ইবনে আবু যিব, ইবনে ইসহাক জওয়াইরিয়া, ইয়াহইয়া ইবনে সাঈদ ও ইসমাঈল ইবনে উমাইয়া রহ. নাফি রহ.-এর মাধ্যমে ইবনে উমর রা. সূত্রে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদীসটি সংক্ষিপ্ত ভাবে বর্ণনা করেছেন।
হাদীস নং ২৩৬০
আহমদ ইবনে আবু রাজা রহ. ও মুসাদ্দাদ রহ………..আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, কেউ শরীকী গোলাম থেকে নিজের ভাগ বা অংশ (রাবীর দ্বিধা) আযাদ করে দিলে নিজ অর্থ ব্যয়ে সেই গোলামাকে রেহাই করা তার উপর কর্তব্য, যদি তার কাছে প্রয়োজনীয় অর্থ থাকে। অন্যথায় তার ন্যায্যমূল্য নির্ধারন করা হবে এবং তাকে অতিরিক্ত কষ্ট না দিয়ে উপার্জন করতে বলা হবে। হাজ্জাজ ইবনে হাজ্জাজ, আবান ও মূসা ইবনে খালাফ রহ. কাতাদা রহ. থেকে হাদীস সাঈদ ইবনে আবু আরুবা রহ.-এর অনুসরণ করেছেন। হাদীসটি শুবা রহ. সংক্ষিপ্তভাবে বর্ণনা করেছেন।
হাদীস নং ২৩৬১
হুমাইদী রহ………আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : (আমার বরকতে) আল্লাহ আমার উম্মতের অন্তরে উদিত ওয়াসওয়াসা (পাপের ভাব ও চেতনা) মাফ করে দিয়েছেন। যতক্ষণ পর্যন্ত না সে তা কাজে পরিণত করে অথবা মুখে বলে।
হাদীস নং ২৩৬২
মুহাম্মদ ইবনে কাছীর রহ……….উমর ইবনে খাত্তাব রা. থেকে বর্ণিত, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : আমলসমূহ নিয়্যতের সাথে সম্পৃক্ত। আর মানুষ তাই পাবে, যা সে নিয়্যত করবে। কাজেই কেউ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে হিজরত করে থাকলে তার সে হিজরত আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উদ্দেশ্যে বলেই গণ্য হবে। আর যার হিজরত হবে দুনিয়া হাসিলের উদ্দেশ্য অথবা কোন নারীকে বিয়ে করার মতলবে; তার হিজরত সে উদ্দেশ্যে বলেই গণ্য হবে।
